alt

সাময়িকী

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

আরণ্যক শামছ

: সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

“আমি ভারতের ভূখণ্ডকে নিজের আয়ুরেখার মতো চিনি।”-বুদ্ধদেব গুহ

অতিমারির এই ভয়াল থাবা গ্রাস করে নিল বাংলা সাহিত্যের আরেক নক্ষত্র-সম্রাট, আরেক অমৃতের সন্তান। বিষাক্ত পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ না ফেরার দেশে।

রেখে গেলেন ঋজুদাকে প্রতিটি বাঙালি কিশোর কিশোরীর মননে, মগজে, চিন্তায়, চেতনায়।? রেখে গেলেন লালাদাকে আমাদের অন্তরে, ভাবনার স্তরে, মনের গভীরে। তাই ঋজুদার, লালাদার মৃত্যু হয় না। বুদ্ধদেব গুহের তাই মৃত্যু হয়নি। কিছু মানুষের কাঁধে সওয়ার হয়েছিলেন কিছুক্ষণ কথা রাখবেন বলে। গুস্তাকি করবেন বলে। উনি নিজেই তো বলেছিলেন:

“গুস্তাকি তো ম্যায় স্রিফ করেঙ্গে একবার

যব সব পায়দল চলেঙ্গে ম্যায় স্কন্ধে পার সওয়ার।”

উনি কথা রেখেছেন। বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন, আছেন, থাকবেন আমাদের মাঝে। তাঁর অমৃত বাণীতে। তাঁর লেখায়। বাংলার পাঠকদের মন পাওয়া না পাওয়ার চেয়ে হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত ও মূহ্যমান। কোথাও যেন এক বিচ্ছেদ বেদনার রস মিশে আছে। তাই তো বলতে ইচ্ছে করে:

“সুখ নেইকো মনে

নাকছাবিটি হারিয়ে গেছে হলুদ বনে বনে।”

তাই দিগন্ত প্লাবিত জোৎস্নার সবুজ অন্ধকারে ভেঙ্গে গেছে আমাদের মন, আমরা রোদন করছি বসে হাজার মানুষের ভিড়ে। এ যেন:

“রৌদ্রালোকিত কিন্তু অন্ধকার। মানুষে ভরা কিন্তু খাঁ খাঁ।”

এক বিষণ্নতার চাদর ঘিরে রেখেছে বাংলার আকাশ। সাহিত্যের অরণ্যে কুর্চি, রুশা আজ এক হয়ে গেছে পৃথুর বিচ্ছেদে।

‘মাধুকরী’খ্যাত এই অসাধারণ লেখকের বহুমাত্রিক ও সার্বজনীন লেখা স্থান-কাল-পাত্র, আচার-অনাচার-দুরাচার-এর প্রাচীর ডিঙিয়ে, প্রথাগত সমাজের অচলায়তন ভেঙে সৃষ্টি করেছিল এক নতুন ভাবধারার। বাঁচতে হলে বাঁচতে হবে পৃথু ঘোষের মতো। বড় বাঘের মতো। কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে নয়। না নারী, না পুরুষ, না সংসার, না সমাজ। চেয়েছিলেন স্বরাট ও স্বয়ংবর সিংহ পুরুষ হয়ে সমাজ ও সংস্কারের বেদীমূলে কঠোর আঘাত হানতে। সক্ষমও হয়েছিলেন। পাঠক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উপন্যাসটির উপর। বেস্ট সেলিং উপন্যাস হিসেবে বহুকাল বাজার দখল করে রেখেছিল। ‘মাধুকরী’ শুধু একটি উপন্যাসই ছিলো না। পৃথু ঘোষ চরিত্রের এক আলোড়ন-তোলা কাহিনীর মধ্য দিয়ে তার নিজ জীবনের গভীরতম অনুধাবন, সুবিশাল ও বর্ণময় জীবনেরই বিচিত্র অভিজ্ঞতা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পেরেছেন সফলভাবে। নারী স্বাধীনতার এক বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করলো পাঠক সমাজ। নতুন ভাষায়। নতুন আঙ্গিকে। আর তাই তো এ-কালজয়ী উপন্যাসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন ‘একবিংশ শতাব্দীর নারী ও পুরুষদের’। এই ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস-এর কাহিনী, ভাষা, স্টাইল, জীবনদর্শন, শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা- সবই ছিল পাঠকের নিকট আনকোরা। বড় বড় চরিত্রগুলোকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে, জীবনের প্রতি মানুষের সহজাত লোভ, আসক্তি, অনুরাগ ও ভালোবাসার মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপ্রচ্ছন্ন বিতৃষ্ণাকে এক অসাধারণ ও চমকপ্রদ কৌশলে বুদ্ধদেব গুহ ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন পাঠকের হৃদয়ের অন্ধরমহলে।

বুদ্ধদেব গুহ প্রায়ই বলতেন, এই পৃথিবীতে কয়েকটি জিনিস বিলুপ্তপ্রায়। শিংওয়ালা গণ্ডার, প্রণম্য মানুষ, ডোডো পাখি আর চিঠি। আমরা দেখতে পাই তার চিঠিনির্ভর উপন্যাস ‘চানঘরে গান’, ‘অবরোহী’, ‘সবিনয় নিবেদন’, ‘একটু উষ্ণতার জন্য’, ‘কোয়েলের কাছে’, প্রকাশের সাথে সাথে আলোড়ন সৃষ্টি হয় পাঠকসমুদ্রে। কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই বইগুলো পড়া হয়নি এমন ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা খুবই বিরল।

বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন এক ভার্সেটাইল জিনিয়াস। একটি জার্মান শব্দ দিয়েই তাঁর আত্মাকে চেনা যায়। তা হলো- পারোজিয়াস্ত। স্পষ্টবাদী, সত্য বলতে ভয় পান না, পুরস্কার ও পদের মোহ দূরে সরিয়ে তিনি একা হেঁটে গিয়েছেন। সাহিত্যের অনেক রথী-মহারথীরা তাঁকে হিংসে করতেন তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার জন্য। একাধারে কবি, লেখক, বিখ্যাত চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট আর চোস্ত ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে পারা এমন ভার্সেটালিটি ছিল অনেক বড় বড় লেখকের গাত্রদাহের কারণ।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস ও অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: মাধুকরী, একটু উষ্ণতার জন্য, কোজাগর, অববাহিকা, আয়নার সামনে, জঙ্গল মহল, পারিজাত, বাসনা কুসুম, হাজার দুয়ারী ইত্যাদি। ‘বাবলি’ উপন্যাসটি বিক্রি হয়েছিল দেড় লক্ষ কপি। ‘জঙ্গল মহল’ বুদ্ধদেব গুহের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।

সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন এক ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার অধিকারী। তাকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার সাহিত্য সাধনার সালোকসংশ্লেষের মূল উপাদান কী?

প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন: আমি বলব অরণ্য ও মানুষ। আমি তো জঙ্গলেরই লোক। অরণ্য আমার জীবনে এক গভীর ছাপ রেখে যায়, ছাপ রেখে যায় সেখানকার মানুষ ও জীবনধারা।

বিভূতিভূষণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা দেখতে পাই কত বিনয়ী ও বড় মাপের মানুষ তিনি ছিলেন। তিনি বলেছিলেন :

“সে কথা অনেকেই বলেন। কিন্তু বিভূতিভূষণ তো একটাই জন্মান। জীবনে আফ্রিকা না গিয়েও লিখে ফেলেন ‘চাঁদের পাহাড়’। আমি কি একশোবার গিয়েও পারব? আমি এ কথা বারবার বলেছি যে, বিভূতিভূষণ প্রকৃতিকে দেবীরূপে পুজো করেছেন। আর আমি তাঁকে প্রেমিকারূপে রমণ করেছি।”

১৯৩৬ সালে বাংলাদেশের রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব গুহ। তিনি মূলত বন, অরণ্য এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখার জন্য সুপরিচিত। তাঁর স্ত্রী প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ঋতু গুহ। তিনি ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সব দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্ব আফ্রিকা ভ্রমণ করেছেন। পূর্ব ভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও বনের মানুষের সঙ্গেও তাঁর সুদীর্ঘকালের নিবিড় ও অন্তরঙ্গ পরিচয়।

বুদ্ধদেব গুহর মতে যৌনতা একটি অনুভূতি। খারাপ হলে ঈশ্বর তা সৃষ্টিই করতেন না। সৃষ্টির মূলেও তো যৌনতা! চৈত্রের শুকনো বনকে আমি তুলনা করেছি বৃদ্ধা ভিখারিণীর শুকিয়ে যাওয়া স্তনের সঙ্গে। এবার কেউ যদি তাকে অশ্লীল বলে, তবে সেটা তার বোধ।

শ্রী বুদ্ধদেব গুহর পছন্দের দু’এক পঙ্ক্তি-

“পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্ত জল ছলছল করে/নৌকার গলুই ভেঙে উঠে আসে কৃষ্ণা প্রতিপদ/জলজ গুল্মের ভারে ভরে আছে সমস্ত শরীর / আমার অতীত নেই, ভবিষ্যৎ নেই কোনোখানে।”

(পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, শ্রী শঙ্খ ঘোষ)

আজ দু’জনেই অনন্ত পথের পথিক-

‘মাধুকরী’ উপন্যাসে? দত্তের কণ্ঠ দিয়ে বলিয়ে ছাড়লেন:

“মানুষ যখন একেবারে একা থাকে তখন সে যে মানসিক স্তরে থাকে, সে আসলে ঠিক সেই স্তরেরই মানুষ। অর্থাৎ, যে মানুষ একা হলেই ঈশ্বরচিন্তা করে সে ধার্মিক। যে প্রেমিকার কথা ভাবে, সে প্রেমিক। যে ছেলেমেয়ে স্ত্রীর কথা ভাবে সে সংসারী। যে খাওয়ার কথা ভাবে সে পেটুক। টাকার চিন্তা যে করে, সে বৈষয়িক। যে বলাৎকারের কথা ভাবে সে বলাৎকারী। আর যদি কেউ লেখক হবার কথা ভাবে, সে লেখকই। মানুষের বাইরের আবরণ, তার পেশা, তার বাহ্যিক ব্যক্তিত্ব যাই-ই হোক না কেন, নির্জনের অবকাশের একাকী ব্যক্তিত্বটাই তার আসল ব্যক্তিত্ব।”

স্থান সংকুলানের জন্য উপন্যাসভিত্তিক তার গভীর পর্যবেক্ষণ ও জীবন সংক্রান্ত কিছু জরুরি ভাবনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম:

(১)

‘আমি ওকে ডাকলাম, ছুটি; আমার সোনা।

ছুটি যেন কোন ঘোরের মধ্যে, কত দূরের জঙ্গল পাহাড় পেরিয়ে, কত শিশিরভেজা উপত্যকার ওপাশ থেকে আমার ডাকে সাড়া দিল, অস্ফুটে বলল, উঁ, আরামে বলল উঁ- উষ্ণতার আবেশে বলল, উঁ...।

আর কোনো কথা হলো না। (একটু উষ্ণতার জন্য)

(২)

কাউকে সম্পূর্ণতায় পাওয়া এক রকমের আনন্দ, আবার টুকরো করে, ভাগ করে এবং হয়তো চুরি করে পাওয়াও অন্য রকমের আনন্দ। দুটো আনন্দ দুরকমের। (মহুলসুখার চিঠি)

(৩)

চুরি করে ভাল না বাসলে বোধহয় ভালবাসাটা আর ভালবাসা থাকে না। পরকীয়া প্রেম বা অনাঘ্রাত প্রেম হচ্ছে চাঁদের আলো আর বিবাহিত প্রেম বা খোলামেলা বাধাহীন শরীরী সম্পর্ক বোধহয় সূর্যালোক। প্রখর সূর্যতাপে, ধুলায়, আওয়াজে ভালবাসার ফুল বোধহয় শুকিয়েই যায়। (মাধুকরী)

(৪)

কাউকে সম্পূর্ণতায় পাওয়া এক রকমের আনন্দ, আবার টুকরো টুকরো করে ভাগ করে এবং হয়তো চুরি করে পাওয়া ও অন্য রকম আনন্দ। দুটো আনন্দ দুরকমের। (মহুল সুখার চিঠি)

(৫)

চুরি করে ভালো না বাসলে বোধহয় ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকে না। পরকীয়া প্রেম বা অনাঘ্রাত প্রেম হচ্ছে চাঁদের আলো আর বিবাহিত প্রেম হচ্ছে বা খোলামেলা বাঁধাহীন শরীরী সম্পর্ক বোধহয় সূর্যালোক। প্রখর সূর্যতাপে, ধুলায়, আওয়াজে ভালোবাসার ফুল বোধহয় শুকিয়েই যায়। (মাধুকরী)

(৬)

এদিকে বেলাশেষের ডাক মাঝে মাঝেই কানে আসে, চৈত্র বনের ঝরাপাতার ঝরঝরানিতে, চাঁদের বনে হঠাৎ পাতা খসার গা ছমছম শব্দে। বুঝি, এই সুন্দর পৃথিবীতে চিরদিন কারোরই থাকার অধিকার নেই। ভাড়া বাড়ি এ। কেউ ভদ্রলোকের মতো বিনা ঝামেলায় তাড়াতাড়ি ছেড়ে যায়, কেউ বা বাড়িওয়ালার সঙ্গে হুজ্জোত-হাঙ্গামা করে কিছু বেশিদিন থাকে। কিন্তু ছেড়ে যখন যেতেই হবে তখন আর ঝামেলা করে লাভ কী? হাসিমুখেই যাওয়া ভালো। (জঙ্গলের জার্নাল)

আর এভাবেই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল নীরবে। খবর পাওয়ার দু’ঘণ্টা আগে কবি সরকার আমিনের গাওয়া বিখ্যাত গানলামি শুনছিলাম:

“সে চলে গেছে

বৃষ্টির জলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে সাগরে

সে চলে গেছে...”

খবর পেয়ে লাইনগুলো হু হু করে কেঁদে উঠলো বুকের ভেতর। অদ্ভুত রহস্যময় প্রাসঙ্গিকতা। বৃষ্টির জলের মতো গড়িয়ে গড়িয়েই তিনি পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে।

কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন:

“হয়তো সহজ কাছে আসা তাই কাছে আসি,

হয়তো সহজ ভালোবাসা তাই ভালোবাসি।

যখন সহজে কিছু পাই, ভাবি,

হয়তো সহজ ছিল পাওয়া,

যখন হারাই ভাবি,- হায়,

এমন সহজে চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ।”

- আর এভাবেই চলে গেলেন প্রিয় লেখক।

Reginald Connelly-এর বিখ্যাত গানের কথাগুলো উনার অনেক উপন্যাসে প্রায়ই ব্যবহার করতেন:

“Show me the way to go

I’m tired and I wanna go to bed.”

সত্যি সত্যি অনন্তের পথে পাড়ি দিলেন। নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন।

সুজান ভেগার একটি গান ছিল উনার ভীষণ পছন্দের। আজ হৃদমৃত্যুর রক্তক্ষরণ উপেক্ষা করে প্রিয় গানের পংক্তিতে সাজিয়ে প্রিয় লেখককে বিদায় জানাচ্ছি।? বিদায় হে নক্ষত্র।

“Words are too solid

They don’t move fast enough to catch the blur in the brain

That flies by and is gone

Gone

Gone

Gone

I’d like to meet you

In a timeless

Placeless place

Somewhere when out of the context

And beyond all consequences.”

ছবি

শিকিবু

ছবি

কবিতায় যখন অন্ত্যজ মানুষের কথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

ছলম

ছবি

তারাশঙ্করের ‘কবি’ এবং উত্তরহীন অনন্ত জিজ্ঞাসা

ছবি

রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা

ছবি

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

ছবি

একটি পূর্ণাঙ্গ কোষগ্রন্থ

ছবি

সুবেদার রাজ্জাকের বীরত্বগাথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

লরেন্স ফারলিঙ্ঘেতির কবিতা

ছবি

অলকানন্দা

ছবি

মুখের দিকে না দেখে

ছবি

সোনা-মোড়া কথাশিল্প শহীদুল জহির

সাময়িকী কবিতা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

তাপস গায়েনের কবিতা

ছবি

চির অন্তরালে বশীর আলহেলাল

ছবি

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

ছবি

শোকার্ত পুষ্পাঞ্জলি

ছবি

মনন-মেধা আর বিনোদনের ত্রিবেণী সঙ্গম

ছবি

বিস্ময় না কাটে

ছবি

বিশ্বসাহিত্যে এক অপার বিস্ময়

ছবি

কাজী নজরুল ও কাজী আব্দুল ওদুদ প্রসঙ্গ

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

লকডাউন

সাময়িকী কবিতা

ছবি

রাজবন্দি নজরুল

ছবি

তাঁর তৃতীয় জীবন

ছবি

নজরুল ইসলাম ও উন্মুক্ত পথ

ছবি

শহরের শেষ রোদ

ছবি

একজন মায়াতরুর গল্প

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

tab

সাময়িকী

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

আরণ্যক শামছ

সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

“আমি ভারতের ভূখণ্ডকে নিজের আয়ুরেখার মতো চিনি।”-বুদ্ধদেব গুহ

অতিমারির এই ভয়াল থাবা গ্রাস করে নিল বাংলা সাহিত্যের আরেক নক্ষত্র-সম্রাট, আরেক অমৃতের সন্তান। বিষাক্ত পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ না ফেরার দেশে।

রেখে গেলেন ঋজুদাকে প্রতিটি বাঙালি কিশোর কিশোরীর মননে, মগজে, চিন্তায়, চেতনায়।? রেখে গেলেন লালাদাকে আমাদের অন্তরে, ভাবনার স্তরে, মনের গভীরে। তাই ঋজুদার, লালাদার মৃত্যু হয় না। বুদ্ধদেব গুহের তাই মৃত্যু হয়নি। কিছু মানুষের কাঁধে সওয়ার হয়েছিলেন কিছুক্ষণ কথা রাখবেন বলে। গুস্তাকি করবেন বলে। উনি নিজেই তো বলেছিলেন:

“গুস্তাকি তো ম্যায় স্রিফ করেঙ্গে একবার

যব সব পায়দল চলেঙ্গে ম্যায় স্কন্ধে পার সওয়ার।”

উনি কথা রেখেছেন। বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন, আছেন, থাকবেন আমাদের মাঝে। তাঁর অমৃত বাণীতে। তাঁর লেখায়। বাংলার পাঠকদের মন পাওয়া না পাওয়ার চেয়ে হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত ও মূহ্যমান। কোথাও যেন এক বিচ্ছেদ বেদনার রস মিশে আছে। তাই তো বলতে ইচ্ছে করে:

“সুখ নেইকো মনে

নাকছাবিটি হারিয়ে গেছে হলুদ বনে বনে।”

তাই দিগন্ত প্লাবিত জোৎস্নার সবুজ অন্ধকারে ভেঙ্গে গেছে আমাদের মন, আমরা রোদন করছি বসে হাজার মানুষের ভিড়ে। এ যেন:

“রৌদ্রালোকিত কিন্তু অন্ধকার। মানুষে ভরা কিন্তু খাঁ খাঁ।”

এক বিষণ্নতার চাদর ঘিরে রেখেছে বাংলার আকাশ। সাহিত্যের অরণ্যে কুর্চি, রুশা আজ এক হয়ে গেছে পৃথুর বিচ্ছেদে।

‘মাধুকরী’খ্যাত এই অসাধারণ লেখকের বহুমাত্রিক ও সার্বজনীন লেখা স্থান-কাল-পাত্র, আচার-অনাচার-দুরাচার-এর প্রাচীর ডিঙিয়ে, প্রথাগত সমাজের অচলায়তন ভেঙে সৃষ্টি করেছিল এক নতুন ভাবধারার। বাঁচতে হলে বাঁচতে হবে পৃথু ঘোষের মতো। বড় বাঘের মতো। কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে নয়। না নারী, না পুরুষ, না সংসার, না সমাজ। চেয়েছিলেন স্বরাট ও স্বয়ংবর সিংহ পুরুষ হয়ে সমাজ ও সংস্কারের বেদীমূলে কঠোর আঘাত হানতে। সক্ষমও হয়েছিলেন। পাঠক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উপন্যাসটির উপর। বেস্ট সেলিং উপন্যাস হিসেবে বহুকাল বাজার দখল করে রেখেছিল। ‘মাধুকরী’ শুধু একটি উপন্যাসই ছিলো না। পৃথু ঘোষ চরিত্রের এক আলোড়ন-তোলা কাহিনীর মধ্য দিয়ে তার নিজ জীবনের গভীরতম অনুধাবন, সুবিশাল ও বর্ণময় জীবনেরই বিচিত্র অভিজ্ঞতা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পেরেছেন সফলভাবে। নারী স্বাধীনতার এক বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করলো পাঠক সমাজ। নতুন ভাষায়। নতুন আঙ্গিকে। আর তাই তো এ-কালজয়ী উপন্যাসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন ‘একবিংশ শতাব্দীর নারী ও পুরুষদের’। এই ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস-এর কাহিনী, ভাষা, স্টাইল, জীবনদর্শন, শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা- সবই ছিল পাঠকের নিকট আনকোরা। বড় বড় চরিত্রগুলোকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে, জীবনের প্রতি মানুষের সহজাত লোভ, আসক্তি, অনুরাগ ও ভালোবাসার মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপ্রচ্ছন্ন বিতৃষ্ণাকে এক অসাধারণ ও চমকপ্রদ কৌশলে বুদ্ধদেব গুহ ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন পাঠকের হৃদয়ের অন্ধরমহলে।

বুদ্ধদেব গুহ প্রায়ই বলতেন, এই পৃথিবীতে কয়েকটি জিনিস বিলুপ্তপ্রায়। শিংওয়ালা গণ্ডার, প্রণম্য মানুষ, ডোডো পাখি আর চিঠি। আমরা দেখতে পাই তার চিঠিনির্ভর উপন্যাস ‘চানঘরে গান’, ‘অবরোহী’, ‘সবিনয় নিবেদন’, ‘একটু উষ্ণতার জন্য’, ‘কোয়েলের কাছে’, প্রকাশের সাথে সাথে আলোড়ন সৃষ্টি হয় পাঠকসমুদ্রে। কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই বইগুলো পড়া হয়নি এমন ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা খুবই বিরল।

বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন এক ভার্সেটাইল জিনিয়াস। একটি জার্মান শব্দ দিয়েই তাঁর আত্মাকে চেনা যায়। তা হলো- পারোজিয়াস্ত। স্পষ্টবাদী, সত্য বলতে ভয় পান না, পুরস্কার ও পদের মোহ দূরে সরিয়ে তিনি একা হেঁটে গিয়েছেন। সাহিত্যের অনেক রথী-মহারথীরা তাঁকে হিংসে করতেন তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার জন্য। একাধারে কবি, লেখক, বিখ্যাত চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট আর চোস্ত ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে পারা এমন ভার্সেটালিটি ছিল অনেক বড় বড় লেখকের গাত্রদাহের কারণ।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস ও অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: মাধুকরী, একটু উষ্ণতার জন্য, কোজাগর, অববাহিকা, আয়নার সামনে, জঙ্গল মহল, পারিজাত, বাসনা কুসুম, হাজার দুয়ারী ইত্যাদি। ‘বাবলি’ উপন্যাসটি বিক্রি হয়েছিল দেড় লক্ষ কপি। ‘জঙ্গল মহল’ বুদ্ধদেব গুহের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।

সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন এক ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার অধিকারী। তাকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার সাহিত্য সাধনার সালোকসংশ্লেষের মূল উপাদান কী?

প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন: আমি বলব অরণ্য ও মানুষ। আমি তো জঙ্গলেরই লোক। অরণ্য আমার জীবনে এক গভীর ছাপ রেখে যায়, ছাপ রেখে যায় সেখানকার মানুষ ও জীবনধারা।

বিভূতিভূষণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা দেখতে পাই কত বিনয়ী ও বড় মাপের মানুষ তিনি ছিলেন। তিনি বলেছিলেন :

“সে কথা অনেকেই বলেন। কিন্তু বিভূতিভূষণ তো একটাই জন্মান। জীবনে আফ্রিকা না গিয়েও লিখে ফেলেন ‘চাঁদের পাহাড়’। আমি কি একশোবার গিয়েও পারব? আমি এ কথা বারবার বলেছি যে, বিভূতিভূষণ প্রকৃতিকে দেবীরূপে পুজো করেছেন। আর আমি তাঁকে প্রেমিকারূপে রমণ করেছি।”

১৯৩৬ সালে বাংলাদেশের রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব গুহ। তিনি মূলত বন, অরণ্য এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখার জন্য সুপরিচিত। তাঁর স্ত্রী প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ঋতু গুহ। তিনি ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সব দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্ব আফ্রিকা ভ্রমণ করেছেন। পূর্ব ভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও বনের মানুষের সঙ্গেও তাঁর সুদীর্ঘকালের নিবিড় ও অন্তরঙ্গ পরিচয়।

বুদ্ধদেব গুহর মতে যৌনতা একটি অনুভূতি। খারাপ হলে ঈশ্বর তা সৃষ্টিই করতেন না। সৃষ্টির মূলেও তো যৌনতা! চৈত্রের শুকনো বনকে আমি তুলনা করেছি বৃদ্ধা ভিখারিণীর শুকিয়ে যাওয়া স্তনের সঙ্গে। এবার কেউ যদি তাকে অশ্লীল বলে, তবে সেটা তার বোধ।

শ্রী বুদ্ধদেব গুহর পছন্দের দু’এক পঙ্ক্তি-

“পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্ত জল ছলছল করে/নৌকার গলুই ভেঙে উঠে আসে কৃষ্ণা প্রতিপদ/জলজ গুল্মের ভারে ভরে আছে সমস্ত শরীর / আমার অতীত নেই, ভবিষ্যৎ নেই কোনোখানে।”

(পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, শ্রী শঙ্খ ঘোষ)

আজ দু’জনেই অনন্ত পথের পথিক-

‘মাধুকরী’ উপন্যাসে? দত্তের কণ্ঠ দিয়ে বলিয়ে ছাড়লেন:

“মানুষ যখন একেবারে একা থাকে তখন সে যে মানসিক স্তরে থাকে, সে আসলে ঠিক সেই স্তরেরই মানুষ। অর্থাৎ, যে মানুষ একা হলেই ঈশ্বরচিন্তা করে সে ধার্মিক। যে প্রেমিকার কথা ভাবে, সে প্রেমিক। যে ছেলেমেয়ে স্ত্রীর কথা ভাবে সে সংসারী। যে খাওয়ার কথা ভাবে সে পেটুক। টাকার চিন্তা যে করে, সে বৈষয়িক। যে বলাৎকারের কথা ভাবে সে বলাৎকারী। আর যদি কেউ লেখক হবার কথা ভাবে, সে লেখকই। মানুষের বাইরের আবরণ, তার পেশা, তার বাহ্যিক ব্যক্তিত্ব যাই-ই হোক না কেন, নির্জনের অবকাশের একাকী ব্যক্তিত্বটাই তার আসল ব্যক্তিত্ব।”

স্থান সংকুলানের জন্য উপন্যাসভিত্তিক তার গভীর পর্যবেক্ষণ ও জীবন সংক্রান্ত কিছু জরুরি ভাবনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম:

(১)

‘আমি ওকে ডাকলাম, ছুটি; আমার সোনা।

ছুটি যেন কোন ঘোরের মধ্যে, কত দূরের জঙ্গল পাহাড় পেরিয়ে, কত শিশিরভেজা উপত্যকার ওপাশ থেকে আমার ডাকে সাড়া দিল, অস্ফুটে বলল, উঁ, আরামে বলল উঁ- উষ্ণতার আবেশে বলল, উঁ...।

আর কোনো কথা হলো না। (একটু উষ্ণতার জন্য)

(২)

কাউকে সম্পূর্ণতায় পাওয়া এক রকমের আনন্দ, আবার টুকরো করে, ভাগ করে এবং হয়তো চুরি করে পাওয়াও অন্য রকমের আনন্দ। দুটো আনন্দ দুরকমের। (মহুলসুখার চিঠি)

(৩)

চুরি করে ভাল না বাসলে বোধহয় ভালবাসাটা আর ভালবাসা থাকে না। পরকীয়া প্রেম বা অনাঘ্রাত প্রেম হচ্ছে চাঁদের আলো আর বিবাহিত প্রেম বা খোলামেলা বাধাহীন শরীরী সম্পর্ক বোধহয় সূর্যালোক। প্রখর সূর্যতাপে, ধুলায়, আওয়াজে ভালবাসার ফুল বোধহয় শুকিয়েই যায়। (মাধুকরী)

(৪)

কাউকে সম্পূর্ণতায় পাওয়া এক রকমের আনন্দ, আবার টুকরো টুকরো করে ভাগ করে এবং হয়তো চুরি করে পাওয়া ও অন্য রকম আনন্দ। দুটো আনন্দ দুরকমের। (মহুল সুখার চিঠি)

(৫)

চুরি করে ভালো না বাসলে বোধহয় ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকে না। পরকীয়া প্রেম বা অনাঘ্রাত প্রেম হচ্ছে চাঁদের আলো আর বিবাহিত প্রেম হচ্ছে বা খোলামেলা বাঁধাহীন শরীরী সম্পর্ক বোধহয় সূর্যালোক। প্রখর সূর্যতাপে, ধুলায়, আওয়াজে ভালোবাসার ফুল বোধহয় শুকিয়েই যায়। (মাধুকরী)

(৬)

এদিকে বেলাশেষের ডাক মাঝে মাঝেই কানে আসে, চৈত্র বনের ঝরাপাতার ঝরঝরানিতে, চাঁদের বনে হঠাৎ পাতা খসার গা ছমছম শব্দে। বুঝি, এই সুন্দর পৃথিবীতে চিরদিন কারোরই থাকার অধিকার নেই। ভাড়া বাড়ি এ। কেউ ভদ্রলোকের মতো বিনা ঝামেলায় তাড়াতাড়ি ছেড়ে যায়, কেউ বা বাড়িওয়ালার সঙ্গে হুজ্জোত-হাঙ্গামা করে কিছু বেশিদিন থাকে। কিন্তু ছেড়ে যখন যেতেই হবে তখন আর ঝামেলা করে লাভ কী? হাসিমুখেই যাওয়া ভালো। (জঙ্গলের জার্নাল)

আর এভাবেই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল নীরবে। খবর পাওয়ার দু’ঘণ্টা আগে কবি সরকার আমিনের গাওয়া বিখ্যাত গানলামি শুনছিলাম:

“সে চলে গেছে

বৃষ্টির জলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে সাগরে

সে চলে গেছে...”

খবর পেয়ে লাইনগুলো হু হু করে কেঁদে উঠলো বুকের ভেতর। অদ্ভুত রহস্যময় প্রাসঙ্গিকতা। বৃষ্টির জলের মতো গড়িয়ে গড়িয়েই তিনি পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে।

কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন:

“হয়তো সহজ কাছে আসা তাই কাছে আসি,

হয়তো সহজ ভালোবাসা তাই ভালোবাসি।

যখন সহজে কিছু পাই, ভাবি,

হয়তো সহজ ছিল পাওয়া,

যখন হারাই ভাবি,- হায়,

এমন সহজে চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ।”

- আর এভাবেই চলে গেলেন প্রিয় লেখক।

Reginald Connelly-এর বিখ্যাত গানের কথাগুলো উনার অনেক উপন্যাসে প্রায়ই ব্যবহার করতেন:

“Show me the way to go

I’m tired and I wanna go to bed.”

সত্যি সত্যি অনন্তের পথে পাড়ি দিলেন। নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন।

সুজান ভেগার একটি গান ছিল উনার ভীষণ পছন্দের। আজ হৃদমৃত্যুর রক্তক্ষরণ উপেক্ষা করে প্রিয় গানের পংক্তিতে সাজিয়ে প্রিয় লেখককে বিদায় জানাচ্ছি।? বিদায় হে নক্ষত্র।

“Words are too solid

They don’t move fast enough to catch the blur in the brain

That flies by and is gone

Gone

Gone

Gone

I’d like to meet you

In a timeless

Placeless place

Somewhere when out of the context

And beyond all consequences.”

back to top