alt

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে তিনদিন ধরে একটানা বর্ষণ, ভূমি ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

চট্টগ্রামে তিন দিন ধরে একটানা বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় নগরীর কয়েকটি পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৯২টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২৭ জুলাই মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের টিম নগরীর পাহাড়ে অভিযান চালায়। চট্টগ্রামের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ছয় জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ অভিযানে ছিলেন।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামে গত তিন দিন ধরে কখনও হালকা থেকে মাঝারি, আবার মঙ্গলবার রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এ অবস্থায় ভূমিধসে হতাহতের আশঙ্কায় নগরীর বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, আকবরশাহ, হিল-১, হিল-২ এবং বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের টিম। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩১০ জনকে সরিয়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- বায়েজিদের আল হেরা মাদরাসা, রউফাবাদ রশিদিয়া মাদ্রাসা, ফিরোজ শাহ কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লালখান বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারিভাবে গঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি চট্টগ্রামে বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের তালিকা করেছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে। এর মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। বাকি সাতটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার। এসব সংস্থার মধ্যে আছে- রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ, বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের তালিকায় ১৭টি পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রায় ছয় কিলোমিটার বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ছোট-বড় ১৮টি পাহাড় কাটে। সেখানকার আটটি পাহাড়ে আছে কয়েক’শ অবৈধ বসতি। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম নগরী ও সংলগ্ন এলাকায় ২৫টি পাহাড়ে কয়েক হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে বলে ধারণা জেলা প্রশাসনের। এর আগে, ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে বড়ধরনের মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। ওই বছরের ১১ জুন নগরীর কুসুমবাগ, কাইচ্যাঘোনা, সেনানিবাসের লেডিস ক্লাব সংলগ্ন লেবুবাগান, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাপড়সহ সাতটি স্থানে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে মারা যায় শিশু-নারী ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের ১২৭ জন। পাহাড় ধসে ২০০৮ সালে মারা যায় ১২ জন। ২০১১ সালে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১৭ জন, ২০১২ সালে মারা যায় ২৩ জন। এভাবে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ছয়টি পাহাড় থেকে ৯২ পরিবারের ৩১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন পাহাড় পরিদর্শন করে দেখছি, কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। সবাইকে আমরা সরিয়ে নেব বলে তিনি জানান। অন্যদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আনা পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তাদের ভুনাখিচুড়ি ও ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাতের খাবারও দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের পাহাড় থেকে সরে যেতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে নিকলীর হাওরে দুই পর্যটক নিখোঁজ

বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রম উদ্বোধন

ছবি

বিচিত্র রূপে তিস্তা, সকালে পানি বিকেলে বালুচর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি ছড়া থেকে মৃত বন্যহাতি উদ্ধার

মাদারীপুরে দশ বছরেও শেষ হয়নি দুটি ব্রিজ নির্মাণ

ছবি

মমেকে ফের বেড়েছে মৃত্যু

গাজীপুরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আ.লীগের দুই গ্রুপের, গাড়ি ভাঙচুর

বসুর হাটে কারখানা গুঁড়িয়ে দিলেন কাদের মির্জা

ছবি

কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ

ছবি

মাতব্বররা আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন, নাস্তিক বানাচ্ছেন

ছবি

মুক্তির পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ঝুমন দাসের মা

মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী ও ধনাঢ্যরা

ছবি

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

ট্রলারডুবিতে বঙ্গোপসাগরে ২ জেলে নিহত

ছবি

সিআরবির বিষয়ে সিন্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী: রেলমন্ত্রী

ছবি

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের হাতে বোন খুন

ছবি

পোরশায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব উদযাপন

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাক চাপায় হত ১

ছবি

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল: পরিকল্পনামন্ত্রী

ছবি

ধর্মীয় বিদ্বেষ-সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ছবি

আরও ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র

ঝিনাইদহে সড়কে ঝরল বৃদ্ধা

নান্দাইলে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ

ছবি

ধোধরাই নদীর ভাঙা সেতু ২ বছরেও সংস্কার হয়নি!

ছবি

অভিজাত এলাকায় বিল-কর ‘বেশি’ চান এলজিআরডিমন্ত্রী

ছবি

চাঁদপুরে ৩ কলেজ শিক্ষার্থীর শরীরে করোনা!

ছবি

নোয়াখালীতে বরযাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু, আহত ১২

ছবি

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বন্ধের দাবি

ছবি

বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজির ৪ যাত্রী নিহত

ছবি

বিপ্লবীদের স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী

ছবি

হিন্দু আইন সংস্কারের দাবির বিরোধিতায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

ঘিওরের বড়টিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪ পদ শূন্য : বেহাল স্বাস্থ্যসেবা

অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় ৩৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা বঞ্চিত জনগণ!

২ জেলায় করোনায় নতুন শনাক্ত ১৪

ছবি

টাঙ্গাইলে তিন গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৩

ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ স্কুলছাত্রীর করোনা শনাক্ত, ক্লাস বন্ধ

tab

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে তিনদিন ধরে একটানা বর্ষণ, ভূমি ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

চট্টগ্রামে তিন দিন ধরে একটানা বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় নগরীর কয়েকটি পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৯২টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২৭ জুলাই মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের টিম নগরীর পাহাড়ে অভিযান চালায়। চট্টগ্রামের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ছয় জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ অভিযানে ছিলেন।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামে গত তিন দিন ধরে কখনও হালকা থেকে মাঝারি, আবার মঙ্গলবার রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এ অবস্থায় ভূমিধসে হতাহতের আশঙ্কায় নগরীর বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, আকবরশাহ, হিল-১, হিল-২ এবং বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের টিম। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩১০ জনকে সরিয়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- বায়েজিদের আল হেরা মাদরাসা, রউফাবাদ রশিদিয়া মাদ্রাসা, ফিরোজ শাহ কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লালখান বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারিভাবে গঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি চট্টগ্রামে বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের তালিকা করেছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে। এর মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। বাকি সাতটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার। এসব সংস্থার মধ্যে আছে- রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ, বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের তালিকায় ১৭টি পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রায় ছয় কিলোমিটার বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ছোট-বড় ১৮টি পাহাড় কাটে। সেখানকার আটটি পাহাড়ে আছে কয়েক’শ অবৈধ বসতি। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম নগরী ও সংলগ্ন এলাকায় ২৫টি পাহাড়ে কয়েক হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে বলে ধারণা জেলা প্রশাসনের। এর আগে, ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে বড়ধরনের মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। ওই বছরের ১১ জুন নগরীর কুসুমবাগ, কাইচ্যাঘোনা, সেনানিবাসের লেডিস ক্লাব সংলগ্ন লেবুবাগান, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাপড়সহ সাতটি স্থানে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে মারা যায় শিশু-নারী ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের ১২৭ জন। পাহাড় ধসে ২০০৮ সালে মারা যায় ১২ জন। ২০১১ সালে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১৭ জন, ২০১২ সালে মারা যায় ২৩ জন। এভাবে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ছয়টি পাহাড় থেকে ৯২ পরিবারের ৩১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন পাহাড় পরিদর্শন করে দেখছি, কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। সবাইকে আমরা সরিয়ে নেব বলে তিনি জানান। অন্যদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আনা পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তাদের ভুনাখিচুড়ি ও ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাতের খাবারও দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের পাহাড় থেকে সরে যেতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

back to top