alt

উপ-সম্পাদকীয়

ক্ষমতায় ফিরছে তালেবান?

মোহাম্মদ আবু নোমান

: শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

বড় কোন অঘটন না ঘটলে টুইন টাওয়ার হামলার ২০ বছর পূর্তির দিন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন তার ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান ছাড়ছে। ২০০১ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাসবাদ দমনের দোহাইয়ে আফগান আক্রমণের মধ্য দিয়ে ‘ওয়ার অন টেরর’ সূচনা করেছিল। একসময় ৯৩ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার উপস্থিতি ছিল আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় ছিল বিষাদের, জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না মোটেই। স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে মার্কিন জেনারেলদের ব্যর্থ কৌশলগুলো এখন ইতিহাসের অংশ, যারা বলেছিলেন, সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক চলছে। অন্যদিকে তালেবানরা বলেছিল, “ওদের হাতে রয়েছে ঘড়ি, আর আমাদের হাতে রয়েছে সময়।” শুধু তাই নয় সবশেষ বিদেশি সেনা ঠিক কখন বাগরাম বিমানঘাঁটি ছেড়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকা ইরাকেও যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। উভয় স্থানে তাদের বড় ব্যর্থতা নিজেদের পছন্দমতো কোনো টেকসই সরকার গড়তে না পারা। অন্যদিকে আমেরিকার বিদায়ে বিজয় উৎসবও নেই আফগানে। বরং কাবুলে এখন প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তার কালমেঘে ঢেকে আছে। দেশের সব দিকে ভ্রাতৃঘাতী হানাহানির শঙ্কা বাড়ছে প্রতিদিন। যে ঘটনা কয়েক দিন আগেও কেউ কল্পনা করেনি। রাতের অন্ধকারে চুপিসারে আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি ছেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। ছাড়ার আগে মার্কিনরা কিছুই জানায়নি। এমনকি বাগরামে পাঁচ হাজার তালেবান বন্দি বিনা বাধায় চলে গেছেন। যদিও এটা নিতান্তই আমেরিকার কৌশলগত বিষয়। কিন্তু একই সঙ্গে এ ঘটনা আফগান ও এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের অবসানে দেশটিতে যে নতুন সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে, তার একটা ধারণা করার চেষ্টা করাই যেতে পারে। কারণ, আফগানের একটি প্রাদেশিক রাজধানীতে তালেবান বড় ধরনের হামলা চালানোর পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মাদি বলেছেন, আমরা স্বীকার করছি যে যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক পরিস্থিতিতে আছি।

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কোনো বিজয় আনতে পারেনি। বরং এতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ গুরুত্ব হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। তেল আর পানি যেমন কখনো মিশে না। তেমনি ‘সর্প হয়ে দংশন আর ওঝা হয়ে ঝাড়ার’ পরিণতি কখনও ভালো হয় না। আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা মানে এই নয় যে, আমেরিকা শান্তিবাদী। আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের সময় থেকেই প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে আমেরিকা তালেবান তৈরি করে। একপর্যায়ে সর্বাধুনিক স্ট্রিংগার ক্ষেপনাস্ত্র, যেটি কাঁধে নিয়ে উৎক্ষেপণ করে বিমান ধ্বংস করা যায় সেটিও সরবরাহ করে আমেরিকা। পরে সোভিয়েত বাহিনীর পরাজয় হলে আমেরিকা ভোল পাল্টে, নানা ছলচাতুরতায় সেই তালেবানদেন বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ইতিহাস তার আপন পথেই চলে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে তাড়াতে আমেরিকার মদতে যে তালেবানি শক্তির উত্থান ঘটেছিল, আজ সে শক্তিই বড়ো মাথাব্যথার কারণ হয়ে আফগানিস্তান ছাড়তে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তান দুই জায়গা থেকেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরল আমেরিকা। ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছিল ১৮ বছর ৯ মাসে। আর আফগান যুদ্ধের ২০ বছর পর ফিরল আমেরিকা। বিশ্ব মানবিধকার রক্ষায় গলা ফাটানো আমেরিকা ভিয়েতনামের মতোই আফগানিস্তানেও পাহাড়সম মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষত রেখে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে ২০ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে তারা। কাকতালীয়ভাবে ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ ভিয়েতনামে যা ঘটেছিল, ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজকের আফগানিস্তানে। সে সময় দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে দ্রুত মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ফলে মার্কিন মিত্ররা অসহায় হয়ে পড়ে। এবারও মার্কিন প্রশাসনকে আফগানিস্তানে যারা সহযোগিতা করেছিল এবং যারা ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানের জাতীয় সরকারে অংশ নিয়েছেন, তারা এখন প্রমাদ গুনছেন।

বাইডেন প্রশাসনের আফগানিস্তান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি আবারও এই কথাই প্রমাণ করে যে, আমেরিকানরা আসলেই অবিশ্বস্ত মিত্র। ন্যাটোর সৈন্যরা যখন আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন, তখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে তাদের এত দিনের স্থানীয় সহযোগীরা। খুব শিগগির এরা যে পুরোনো প্রতিপক্ষদের রোষানলে পরবে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। আমেরিকা যাদি আফগানিস্তানে শান্তিই চাইতো তাহলে ফিরে যাওয়ার আগে আফগান সরকার ও তালেবানের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার একটি শান্তিপূর্ণ কৌশলপত্র তৈরি করতো। উভয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক রূপরেখা প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে আফগানিস্তানে শান্তি বিরাজ করতো। কিন্তু আমেরিকা তা করেনি, আর করবেও না। আর এ কারণেই আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে। পশ্চিমা সমর্থিত গনি সরকার এবং তালেবান বাহিনীর শেকড়ে অভ্যন্তরীণ জাতিগত বিদ্বেষ ছাড়াও রয়েছে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণার মধ্যে ব্যাপক ফারাক। আমেরিকা চলে যাওয়ার সঙ্গে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারত যদি দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হতো। কিন্তু আফগানিস্তানের প্রধান দুটি পক্ষ আশরাফ গনি এবং তালেবান সরকার জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন বা গৃহযুদ্ধের অবসানের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে এখনও রাজি হয়নি।

আফগানিস্তানে সোভিয়েতের দখলদারিত্বের সময় থেকে গত ফেব্রুয়ারির চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে প্রায় দুই দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ ছাড়াও প্রায় দুই হাজার ৫০০ সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৯ শতাংশ সাধারণ আফগান প্রাণ হারানোর সঙ্গে আফগান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২১ হাজার আহত যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের রক্ত ঝরেছে।

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় এমন এক যুদ্ধ হয়েছে, যেখানে যুদ্ধরত দলগুলো কেউই হারেনি। সবাই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় রাজনীতির নির্মম এই খেলায় হেরেছে কেবল নিরীহ জনসাধারণ। প্রায় ২০ বছরের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় কমপক্ষে ১০ লাখ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অর্ধকোটির বেশি।

এক সময় বাগরামে আঙুরের চাষ হতো। এরপর এখানকার অর্থনীতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বাগরাম বিমানবন্দরের ওপর, যা গত চার দশক ধরে দুটি পরাশক্তি (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র) ব্যবহার করেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত বিশাল এই বাগরাম ঘাঁটির অবস্থান কাবুলের ৪০ মাইল উত্তরে। বাগরাম বিমান ঘাঁটিটি গড়ে তুলেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যখন তারা ৮০-এর দশকে আফগানিস্তান দখল করে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনী সেখানে যায় ২০০১ সালের ডিসেম্বরে এবং এই ঘাঁটির পরিসর তারা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। সেখানে এখন ১০ হাজার সৈন্য থাকতে পারে। বাগরামে বিমান ওঠানামার জন্য রয়েছে দুটি রানওয়ে, এর মধ্যে নতুন রানওয়েটি এর ১২ হাজার ফুট রানওয়েতে যে কোন আকারের মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারে। ২০০৬ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচে এটি তৈরি করা হয়। বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত রয়েছে বিমান পার্ক করার ১১০টি সেøাট। নিরাপত্তা থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, বাগরামে তিনটি বড় হ্যাঙার, একটি কন্ট্রোল টাওয়ার ও অসংখ্য প্রয়োজনীয় ভবন তৈরি করা হয়েছে। এলাকার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, অস্ত্রোপচারের জন্য তিনটি অপারেটিং থিয়েটার এবং আধুনিক সরঞ্জামবিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসার ক্লিনিক। সেখানে আছে বন্দীদের জন্য কুখ্যাত এক কারাগার। এ কারাগার পরিচিত হয়ে উঠেছিল আফগানিস্তানের গুয়ানতানামো নামে।

আমেরিকান এবং ন্যাটো সেনারা চলে যাওয়ার পর আসন্ন রক্তপাত ঠেকাতে পারে কেবলই তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা। এ ধরনের উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে গৃহযুদ্ধ ঠেকানোর পথ নিশ্চিতভাবেই সীমিত। আমরা মনে করি আফগানিস্তানে একটি জাতীয় সমঝোতা জরুরি, যাতে থাকতে পারে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার ও তালেবানের ক্ষমতার ভাগাভাগির বিষয়। এ সমঝোতা হতে পারে আলোচনার টেবিলে, যুদ্ধে নয়। যদিও এ রকম আশাবাদ সুদূরপরাহত বলেই মনে হয়।

আফগানরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি যোদ্ধা জাতি। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে আফগানিস্তানের গুরুত্ব ব্যাপক। ১৮৩৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে ১৮৪২ সালে কাবুল ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়। এভাবে আফগান ভূমির ওপর দিয়ে অনেক শক্তিশালী বিজেতার আনাগোনা হয়েছে। আশপাশে অনেক শক্তিশালী সাম্রাজ্য ও শাসকের উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু ওই ভূমি কখনই স্থানীয়দের হাতছাড়া হয়নি। কেউই নিরঙ্কুশভাবে আফগানদের করতলগত করতে পারেনি। আফগানিস্তান একটি রুক্ষ অনুর্বর মরুসদৃশ পাহাড়-পর্বতসঙ্কুল দুর্গম দেশ হলেও তেল-গ্যাসসহ মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এ কারণেই মূলত সময়ে সময়ে বিদেশিদের কুদৃষ্টি পড়েছে দেশটির ওপর।

মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পরে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা কী হবে, তার ওপরে নির্ভর করছে সুড়ঙ্গের শেষে আলো কতটুকু। পাকিস্তান চাইবে তার প্রভাববলয় সংহত করার বাসনায় তাদের মদতপুষ্ট তালেবান সরকার কাবুলে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ভারত চাইবে পাকিস্তানি প্রভাবমুক্ত আফগানিস্তান। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য সর্বজনবিদিত। অন্যপক্ষে ভারতের যে প্রভাব এখন আফগান সরকারের ওপর রয়েছে, তা হ্রাস পাওয়ার যে কোন সম্ভাবনাকে ভারত কীভাবে মোকাবিলা করবে? এসবের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিপূর্বে আফগানিস্তানে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। আদর্শ বা মানবিক জায়গা থেকে ভারত আফগানিস্তানকে সহায়তা করেনি; বরং কাবুলে ইসলামাবাদের প্রভাব হ্রাসে নয়াদিল্লি সহায়তা করেছে।

আফগানিস্তানের দীর্ঘ যুদ্ধে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার। কিন্তু আমেরিকা একা দারভার ভোগ করবে কেন? প্রবাদে রয়েছে, ‘পাপি মরে দশ ঘর নিয়ে।’ আফগানিস্তানে আমেরিকা নাকানি-চুবানি খেয়ে চুক্তি অনুযায়ী সৈন্যবাহিনী উঠিয়ে নিলেও আফগান সরকারের ওপর তার যে প্রভাব রয়েছে, তলে তলে তা অব্যাহত রাখলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট চলতেই থাকবে। তাহলে আফগানিস্তানের শান্তির আশা সুদূর পরাহত।

উন্নত বাংলাদেশের কাণ্ডারি

সংশপ্তকের জন্য জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

অপার সম্ভাবনার পর্যটন

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

ধর্ম যখন বর্ম

ফল ও সবজি রপ্তানি এবং কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ও ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বে কারা আসছেন

বোনেরা প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হলে কী করবেন?

ছবি

তালেবানরা উদারপন্থি হচ্ছে কি

ছবি

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুর্বিনীত লোভের ফাঁদ

কিশোর শিক্ষার্থীদের কোভিড ভ্যাকসিন

সমাপনী পরীক্ষা এবার থেকেই বাদ নয় কেন

ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানা জরুরি

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ক্ষমতায় ফিরছে তালেবান?

মোহাম্মদ আবু নোমান

শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

বড় কোন অঘটন না ঘটলে টুইন টাওয়ার হামলার ২০ বছর পূর্তির দিন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন তার ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান ছাড়ছে। ২০০১ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাসবাদ দমনের দোহাইয়ে আফগান আক্রমণের মধ্য দিয়ে ‘ওয়ার অন টেরর’ সূচনা করেছিল। একসময় ৯৩ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার উপস্থিতি ছিল আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় ছিল বিষাদের, জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না মোটেই। স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে মার্কিন জেনারেলদের ব্যর্থ কৌশলগুলো এখন ইতিহাসের অংশ, যারা বলেছিলেন, সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক চলছে। অন্যদিকে তালেবানরা বলেছিল, “ওদের হাতে রয়েছে ঘড়ি, আর আমাদের হাতে রয়েছে সময়।” শুধু তাই নয় সবশেষ বিদেশি সেনা ঠিক কখন বাগরাম বিমানঘাঁটি ছেড়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকা ইরাকেও যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। উভয় স্থানে তাদের বড় ব্যর্থতা নিজেদের পছন্দমতো কোনো টেকসই সরকার গড়তে না পারা। অন্যদিকে আমেরিকার বিদায়ে বিজয় উৎসবও নেই আফগানে। বরং কাবুলে এখন প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তার কালমেঘে ঢেকে আছে। দেশের সব দিকে ভ্রাতৃঘাতী হানাহানির শঙ্কা বাড়ছে প্রতিদিন। যে ঘটনা কয়েক দিন আগেও কেউ কল্পনা করেনি। রাতের অন্ধকারে চুপিসারে আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি ছেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। ছাড়ার আগে মার্কিনরা কিছুই জানায়নি। এমনকি বাগরামে পাঁচ হাজার তালেবান বন্দি বিনা বাধায় চলে গেছেন। যদিও এটা নিতান্তই আমেরিকার কৌশলগত বিষয়। কিন্তু একই সঙ্গে এ ঘটনা আফগান ও এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের অবসানে দেশটিতে যে নতুন সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে, তার একটা ধারণা করার চেষ্টা করাই যেতে পারে। কারণ, আফগানের একটি প্রাদেশিক রাজধানীতে তালেবান বড় ধরনের হামলা চালানোর পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মাদি বলেছেন, আমরা স্বীকার করছি যে যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক পরিস্থিতিতে আছি।

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কোনো বিজয় আনতে পারেনি। বরং এতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ গুরুত্ব হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। তেল আর পানি যেমন কখনো মিশে না। তেমনি ‘সর্প হয়ে দংশন আর ওঝা হয়ে ঝাড়ার’ পরিণতি কখনও ভালো হয় না। আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা মানে এই নয় যে, আমেরিকা শান্তিবাদী। আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের সময় থেকেই প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে আমেরিকা তালেবান তৈরি করে। একপর্যায়ে সর্বাধুনিক স্ট্রিংগার ক্ষেপনাস্ত্র, যেটি কাঁধে নিয়ে উৎক্ষেপণ করে বিমান ধ্বংস করা যায় সেটিও সরবরাহ করে আমেরিকা। পরে সোভিয়েত বাহিনীর পরাজয় হলে আমেরিকা ভোল পাল্টে, নানা ছলচাতুরতায় সেই তালেবানদেন বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ইতিহাস তার আপন পথেই চলে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে তাড়াতে আমেরিকার মদতে যে তালেবানি শক্তির উত্থান ঘটেছিল, আজ সে শক্তিই বড়ো মাথাব্যথার কারণ হয়ে আফগানিস্তান ছাড়তে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তান দুই জায়গা থেকেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরল আমেরিকা। ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছিল ১৮ বছর ৯ মাসে। আর আফগান যুদ্ধের ২০ বছর পর ফিরল আমেরিকা। বিশ্ব মানবিধকার রক্ষায় গলা ফাটানো আমেরিকা ভিয়েতনামের মতোই আফগানিস্তানেও পাহাড়সম মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষত রেখে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে ২০ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে তারা। কাকতালীয়ভাবে ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ ভিয়েতনামে যা ঘটেছিল, ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজকের আফগানিস্তানে। সে সময় দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে দ্রুত মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ফলে মার্কিন মিত্ররা অসহায় হয়ে পড়ে। এবারও মার্কিন প্রশাসনকে আফগানিস্তানে যারা সহযোগিতা করেছিল এবং যারা ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানের জাতীয় সরকারে অংশ নিয়েছেন, তারা এখন প্রমাদ গুনছেন।

বাইডেন প্রশাসনের আফগানিস্তান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি আবারও এই কথাই প্রমাণ করে যে, আমেরিকানরা আসলেই অবিশ্বস্ত মিত্র। ন্যাটোর সৈন্যরা যখন আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন, তখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে তাদের এত দিনের স্থানীয় সহযোগীরা। খুব শিগগির এরা যে পুরোনো প্রতিপক্ষদের রোষানলে পরবে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। আমেরিকা যাদি আফগানিস্তানে শান্তিই চাইতো তাহলে ফিরে যাওয়ার আগে আফগান সরকার ও তালেবানের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার একটি শান্তিপূর্ণ কৌশলপত্র তৈরি করতো। উভয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক রূপরেখা প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে আফগানিস্তানে শান্তি বিরাজ করতো। কিন্তু আমেরিকা তা করেনি, আর করবেও না। আর এ কারণেই আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে। পশ্চিমা সমর্থিত গনি সরকার এবং তালেবান বাহিনীর শেকড়ে অভ্যন্তরীণ জাতিগত বিদ্বেষ ছাড়াও রয়েছে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণার মধ্যে ব্যাপক ফারাক। আমেরিকা চলে যাওয়ার সঙ্গে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারত যদি দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হতো। কিন্তু আফগানিস্তানের প্রধান দুটি পক্ষ আশরাফ গনি এবং তালেবান সরকার জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন বা গৃহযুদ্ধের অবসানের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে এখনও রাজি হয়নি।

আফগানিস্তানে সোভিয়েতের দখলদারিত্বের সময় থেকে গত ফেব্রুয়ারির চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে প্রায় দুই দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ ছাড়াও প্রায় দুই হাজার ৫০০ সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৯ শতাংশ সাধারণ আফগান প্রাণ হারানোর সঙ্গে আফগান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২১ হাজার আহত যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের রক্ত ঝরেছে।

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় এমন এক যুদ্ধ হয়েছে, যেখানে যুদ্ধরত দলগুলো কেউই হারেনি। সবাই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় রাজনীতির নির্মম এই খেলায় হেরেছে কেবল নিরীহ জনসাধারণ। প্রায় ২০ বছরের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় কমপক্ষে ১০ লাখ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অর্ধকোটির বেশি।

এক সময় বাগরামে আঙুরের চাষ হতো। এরপর এখানকার অর্থনীতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বাগরাম বিমানবন্দরের ওপর, যা গত চার দশক ধরে দুটি পরাশক্তি (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র) ব্যবহার করেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত বিশাল এই বাগরাম ঘাঁটির অবস্থান কাবুলের ৪০ মাইল উত্তরে। বাগরাম বিমান ঘাঁটিটি গড়ে তুলেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যখন তারা ৮০-এর দশকে আফগানিস্তান দখল করে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনী সেখানে যায় ২০০১ সালের ডিসেম্বরে এবং এই ঘাঁটির পরিসর তারা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। সেখানে এখন ১০ হাজার সৈন্য থাকতে পারে। বাগরামে বিমান ওঠানামার জন্য রয়েছে দুটি রানওয়ে, এর মধ্যে নতুন রানওয়েটি এর ১২ হাজার ফুট রানওয়েতে যে কোন আকারের মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারে। ২০০৬ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচে এটি তৈরি করা হয়। বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত রয়েছে বিমান পার্ক করার ১১০টি সেøাট। নিরাপত্তা থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, বাগরামে তিনটি বড় হ্যাঙার, একটি কন্ট্রোল টাওয়ার ও অসংখ্য প্রয়োজনীয় ভবন তৈরি করা হয়েছে। এলাকার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, অস্ত্রোপচারের জন্য তিনটি অপারেটিং থিয়েটার এবং আধুনিক সরঞ্জামবিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসার ক্লিনিক। সেখানে আছে বন্দীদের জন্য কুখ্যাত এক কারাগার। এ কারাগার পরিচিত হয়ে উঠেছিল আফগানিস্তানের গুয়ানতানামো নামে।

আমেরিকান এবং ন্যাটো সেনারা চলে যাওয়ার পর আসন্ন রক্তপাত ঠেকাতে পারে কেবলই তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা। এ ধরনের উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে গৃহযুদ্ধ ঠেকানোর পথ নিশ্চিতভাবেই সীমিত। আমরা মনে করি আফগানিস্তানে একটি জাতীয় সমঝোতা জরুরি, যাতে থাকতে পারে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার ও তালেবানের ক্ষমতার ভাগাভাগির বিষয়। এ সমঝোতা হতে পারে আলোচনার টেবিলে, যুদ্ধে নয়। যদিও এ রকম আশাবাদ সুদূরপরাহত বলেই মনে হয়।

আফগানরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি যোদ্ধা জাতি। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে আফগানিস্তানের গুরুত্ব ব্যাপক। ১৮৩৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে ১৮৪২ সালে কাবুল ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়। এভাবে আফগান ভূমির ওপর দিয়ে অনেক শক্তিশালী বিজেতার আনাগোনা হয়েছে। আশপাশে অনেক শক্তিশালী সাম্রাজ্য ও শাসকের উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু ওই ভূমি কখনই স্থানীয়দের হাতছাড়া হয়নি। কেউই নিরঙ্কুশভাবে আফগানদের করতলগত করতে পারেনি। আফগানিস্তান একটি রুক্ষ অনুর্বর মরুসদৃশ পাহাড়-পর্বতসঙ্কুল দুর্গম দেশ হলেও তেল-গ্যাসসহ মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এ কারণেই মূলত সময়ে সময়ে বিদেশিদের কুদৃষ্টি পড়েছে দেশটির ওপর।

মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পরে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা কী হবে, তার ওপরে নির্ভর করছে সুড়ঙ্গের শেষে আলো কতটুকু। পাকিস্তান চাইবে তার প্রভাববলয় সংহত করার বাসনায় তাদের মদতপুষ্ট তালেবান সরকার কাবুলে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ভারত চাইবে পাকিস্তানি প্রভাবমুক্ত আফগানিস্তান। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য সর্বজনবিদিত। অন্যপক্ষে ভারতের যে প্রভাব এখন আফগান সরকারের ওপর রয়েছে, তা হ্রাস পাওয়ার যে কোন সম্ভাবনাকে ভারত কীভাবে মোকাবিলা করবে? এসবের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিপূর্বে আফগানিস্তানে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। আদর্শ বা মানবিক জায়গা থেকে ভারত আফগানিস্তানকে সহায়তা করেনি; বরং কাবুলে ইসলামাবাদের প্রভাব হ্রাসে নয়াদিল্লি সহায়তা করেছে।

আফগানিস্তানের দীর্ঘ যুদ্ধে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার। কিন্তু আমেরিকা একা দারভার ভোগ করবে কেন? প্রবাদে রয়েছে, ‘পাপি মরে দশ ঘর নিয়ে।’ আফগানিস্তানে আমেরিকা নাকানি-চুবানি খেয়ে চুক্তি অনুযায়ী সৈন্যবাহিনী উঠিয়ে নিলেও আফগান সরকারের ওপর তার যে প্রভাব রয়েছে, তলে তলে তা অব্যাহত রাখলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট চলতেই থাকবে। তাহলে আফগানিস্তানের শান্তির আশা সুদূর পরাহত।

back to top