alt

উপ-সম্পাদকীয়

বাঁচতে হলে মানতে হবে

হাসান মাহমুদ শুভ

: মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১

উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাপিত হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন। কোথায়ও কেউ ভালো নেই! কোনভাবেই করোনাভাইরাসের লাগাম টানা যাচ্ছে না। জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই করোনা ভাইরাস মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ হয়ে দাড়াচ্ছে। ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে গোটা বিশ্ব। গত দেড় বছরে গোটা বিশ্বকে ওলট-পালট করে দিয়েছে এ অদৃশ্য ভাইরাস। প্রতিটি সেক্টরেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করা এবং স্বাস্থবিধি মেনে না চলার কারণেই আজ এ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রায় সময়ই অনিয়মের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার একটু নিম্নগামী হলেই আমরা বেপরোয়া হয়ে যাই। অন্যদিকে সরকার নানা বিধিনিষেধ দিয়ে ও আমাদের ঘরবন্দি করতে পারছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘোষণা করা হয় লকডাউন, সীমিত আকারে লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন, আঞ্চলিক লকডাউন। আরো কত ডাউন!

মাঠপর্যায়ে এসব লকডাউন কতটুকু কার্যকর? লকডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করা যাচ্ছে কি? দেশে লকডাউনের অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট দেখা যায়, লকডাউন দিয়ে আমরা তেমন ইতিবাচক আউটপুট পাইনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করে ও লকডাউন সফল করতে পারেনি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা না। লকডাউনের নীতিমালা নির্ধারণের মধ্যে মধ্যে ত্রুটি থাকার কারণে লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

লকডাউন ঘোষণা করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আাশা করব, এবারের লকডাউন যেন আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা খুব শীগ্রই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট। দেশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। ইতোমধ্যে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের রুপান্তরিত ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ ভ্যারিয়েন্টের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। যা আমাদের উদ্বেগের মাত্র বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

করোনার বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় ভ্যাকসিন নেয়ার বিকল্প নেই। ভ্যাকসিন নিলেই শতভাগ সুরক্ষিত না। ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অবশ্যই মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পরামর্শগুলো মেনে চলতে হবে। করোনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। দেশে করোনা প্রতিরোধে গণটিকার বিকল্প নেই। আবার গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ডব্লিউএইচ’র তথ্যমতে, কোন দেশে মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হলে মোট জনসংখ্যার কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে মাত্র দুই শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আসা শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা পরিক্ষার হার বাড়ানো এবং গণটিকা কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হবে। টিকা নেওয়া পর আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। আর অবশ্যই জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ‘বাঁচতে হলে, মানতে হবে’

[লেখক : শিক্ষার্থী, এমবিবিএস (২য় বর্ষ), ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ]

উন্নত বাংলাদেশের কাণ্ডারি

সংশপ্তকের জন্য জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

অপার সম্ভাবনার পর্যটন

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

ধর্ম যখন বর্ম

ফল ও সবজি রপ্তানি এবং কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ও ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বে কারা আসছেন

বোনেরা প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হলে কী করবেন?

ছবি

তালেবানরা উদারপন্থি হচ্ছে কি

ছবি

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুর্বিনীত লোভের ফাঁদ

কিশোর শিক্ষার্থীদের কোভিড ভ্যাকসিন

সমাপনী পরীক্ষা এবার থেকেই বাদ নয় কেন

ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানা জরুরি

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বাঁচতে হলে মানতে হবে

হাসান মাহমুদ শুভ

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১

উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাপিত হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন। কোথায়ও কেউ ভালো নেই! কোনভাবেই করোনাভাইরাসের লাগাম টানা যাচ্ছে না। জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই করোনা ভাইরাস মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ হয়ে দাড়াচ্ছে। ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে গোটা বিশ্ব। গত দেড় বছরে গোটা বিশ্বকে ওলট-পালট করে দিয়েছে এ অদৃশ্য ভাইরাস। প্রতিটি সেক্টরেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করা এবং স্বাস্থবিধি মেনে না চলার কারণেই আজ এ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রায় সময়ই অনিয়মের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার একটু নিম্নগামী হলেই আমরা বেপরোয়া হয়ে যাই। অন্যদিকে সরকার নানা বিধিনিষেধ দিয়ে ও আমাদের ঘরবন্দি করতে পারছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘোষণা করা হয় লকডাউন, সীমিত আকারে লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন, আঞ্চলিক লকডাউন। আরো কত ডাউন!

মাঠপর্যায়ে এসব লকডাউন কতটুকু কার্যকর? লকডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করা যাচ্ছে কি? দেশে লকডাউনের অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট দেখা যায়, লকডাউন দিয়ে আমরা তেমন ইতিবাচক আউটপুট পাইনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করে ও লকডাউন সফল করতে পারেনি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা না। লকডাউনের নীতিমালা নির্ধারণের মধ্যে মধ্যে ত্রুটি থাকার কারণে লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

লকডাউন ঘোষণা করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আাশা করব, এবারের লকডাউন যেন আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা খুব শীগ্রই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট। দেশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। ইতোমধ্যে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের রুপান্তরিত ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ ভ্যারিয়েন্টের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। যা আমাদের উদ্বেগের মাত্র বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

করোনার বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় ভ্যাকসিন নেয়ার বিকল্প নেই। ভ্যাকসিন নিলেই শতভাগ সুরক্ষিত না। ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অবশ্যই মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পরামর্শগুলো মেনে চলতে হবে। করোনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। দেশে করোনা প্রতিরোধে গণটিকার বিকল্প নেই। আবার গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ডব্লিউএইচ’র তথ্যমতে, কোন দেশে মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হলে মোট জনসংখ্যার কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে মাত্র দুই শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আসা শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা পরিক্ষার হার বাড়ানো এবং গণটিকা কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হবে। টিকা নেওয়া পর আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। আর অবশ্যই জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ‘বাঁচতে হলে, মানতে হবে’

[লেখক : শিক্ষার্থী, এমবিবিএস (২য় বর্ষ), ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ]

back to top