alt

উপ-সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিব বাহিনী

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১

ছয় ॥

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু তার লেখা-তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ বইতে জানিয়েছেন যে, স্বাধীন বাংলার যোদ্ধাবাহিনী বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) মানে মুজিব বাহিনীর জন্ম বস্তুত নিউক্লিয়াস থেকে। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদের হাতে এর সূচনা হয়; যা পরে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ, বিএলএফ ও মুজিব বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। হাসানুল হক ইনু তার বইতে লিখেছেন- ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দুইপক্ষ ছিলাম। যুদ্ধের কৌশলের প্রশ্নে- তথা জীবন, জাতি, দেশ, সরকার সব প্রশ্নেই দুই পক্ষ হয়ে গিয়েছিলাম। সেজন্য প্রবাসী সরকার ওপরে থাকলেও যুদ্ধের সশস্ত্র প্রস্তুতি এক কায়দায় হয়নি। জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক বাহিনী গড়ে তোলার পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধ, জনযুদ্ধের রণনীতি ও রণকৌশল সামনে নিয়েও যুদ্ধের জন্য ভিন্ন প্রস্তুতি চলেছে।’

তিনি আরও লিখেন- বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট জনযুদ্ধ ও স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করে। এপ্রিল মাসের শেষে ভারতে গিয়ে সরাসরি সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য ২২ মে ১৯৭১ উত্তর প্রদেশের দেরাদুন জেলার মূর্তিতে অবস্থিত হই। তিন দিনের মাথায় ওখান থেকে আরো ৭৫০০ ফুট উঁচু তান্দুয়াতে চলে যাই এবং সেখানে ভারতীয় অফিসার দ্বারা ৬ সপ্তাহের বিশেষ গেরিলা ট্রেনিং গ্রহণ করি। শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ দেশের ২৬০ জন ছাত্রনেতা এবং তরুণ আওয়ামী লীগ কর্মী, শ্রমিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের প্রথম প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়। জনাব ইনু জানান যে, পরবর্তীতে তাকে প্রশিক্ষণ শিবিরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ইনু আরও জানান যে, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয়দের সঙ্গে ক্ষণিক বিরোধ বাধে ও পরে তা সমঝোতায় পৌঁছায়। এ ক্যাম্প থেকে প্রায় দশ হাজার গেরিলার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাসানুল হক ইনু তার বইতে স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স কীভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা যাবে তার সব প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধকালে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী সংগঠিত করার সব বিবরণই তুলে ধরেন। এমনকি ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন ও তার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রস্তুতি গ্রহণের কথাও বলেন। সিরাজুল আলম খানের জবানিতে শামসুদ্দিন আহমেদের বইটিতে সিরাজুল খান বলেন যে, ১ মার্চ ১৯৭১ রাত থেকেই সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বদলে ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান। জনাব খান তার জবানিতে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করা ও সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ করার সামগ্রিক বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে এগিয়ে নেয়ার তথ্যটি প্রদান করেন। তিনি তার বইতে স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতি, জাসদ গঠন, বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনসহ বিবিধ বিষয় আলোচনা করেন। যে বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য সেটি হচ্ছে স্বাধীনতার পরপরই বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী আর বজায় থাকেনি। এমনকি নিউক্লিয়াসের তিন নেতার মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক ও অন্য দুজনের মতের গরমিল হয় এবং আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে যান ও অন্য দুজন জাসদ গঠন করেন। তিনি ৭ নভেম্বর ও তার পরবর্তী রাজনীতির বিবরণও তুলে ধরেন। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর কাছে ১৫ দফা কৌশলপত্র তুলে ধরেন যেটি তার মতে বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেননি। যদিও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি শহীদ হওয়ার এক মাস আগেও যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করেন এবং আগস্টে তাকে ভারত চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে দাবি করা হয় তবুও তিনি রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু নয় আওয়ামী লীগের বিরোধী ছিলেন বলে দাবি করেন। মূল বিরোধটা সমাজতন্ত্র বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের পরপরই নিউক্লিয়াস, বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ পথচলা বিভক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৯৭২ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মুজিব বাহিনী নামক পুরো শক্তিটি বিভক্ত-বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যহীনতায় পৌঁছে। মুজিব বাহিনীর যে মূল স্রোতটা যুদ্ধকালে বা তার আগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল তারা সিরাজুল আলম খানের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র স্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধী পক্ষে পরিণত হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যদি নিউক্লিয়াস, বিএলএফ ও মুজিব বাহিনীর স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়গুলো আলোচনা করি তখন স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুজিব বাহিনীর মূল স্রোতকে সহযোগী করে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক সংগঠন তৈরি হয় তা অনিবার্য ছিল কিনা সেটিও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সিরাজুল আলম খানের বক্তব্যের মূল বিষয়টি অনুধাবন করলে এটি অনুভব করা যায় যে, সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে অক্ষম ছিলেন। মূল বিরোধটা তিনিই বলেছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ নিয়ে। আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে কেবল একটি কাগুজে বিষয় হিসেবে গণ্য করে প্রথাগত রাজনৈতিক ধারায় চলতে চাইছিল না। তিনি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য স্থির করে রাজনৈতিক প্লাটফরম তৈরি করেন।

ইতিহাসের পাতায় যারা নজর রাখেন তারা সবাই জানেন যে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিসহ তার অঙ্গসংগঠনগুলোতে একাধিক ধারার রাজনীতি বহুকাল থেকেই প্রবহমান ছিল। আওয়ামী একটি গণসংগঠন-তাই নানা মতের মানুষ তাতে যুক্ত হয়েছেন। সেই সময়েই সিরাজুল আলম খান বিশেষত ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল স্রোতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলা সেøাগান, জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সংগীতসহ একটি সশস্ত্র লড়াইয়ের জন্য দলটিসহ পুরো দেশবাসীকে তার অনুসারীরা প্রভাবিত করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু কীভাবে তাদের কর্মকা-কে সহায়তা করেছেন ও প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করেছেন- তার বিবরণও এই নেতার বিবরণীতে পাওয়া যায়। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, জয়বাংলা স্লোগান থেকে শুরু করে বিএলএফ সদস্যরা কলকাতার কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সেটিও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমি বুঝি না সিরাজুল আলম খান কেন স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর ওপর সেই প্রমাণিত আস্থাটুকু রাখতে পারলেন না। এখন তো স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, একটি ভুলপথে যাত্রার ফলে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গড়ায় তাদের ভূমিকা তারা পালন করতে পারল না।

জাসদ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র স্লোগান দিয়ে যদি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সে তুং চিন্তাধারার সমাজতন্ত্রের কথা বুঝিয়ে থাকে তবে তারা গোড়াতেই ভুল করছে। বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন কিন্তু সেই সমাজতন্ত্র কোনভাবেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সে তুংয়ের চিন্তাধারা নয়। তিনি বরাবরই বলেছেন যে, তিনি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন কিন্তু তার মতো করে। স্বাধীনতার আগে ও ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তিনি সমাজতন্ত্রের নিজস্ব ধারার কথা প্রকাশ করেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের বিরোধিতা করে তার সঙ্গে সুদীর্ঘ সময়ের রাজনীতির প্রতি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতে পারেনি জাসদ। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে স্বাধীনতার আগে যেভাবে প্রতিকূলতাকে বিএলএফ মোকাবেলা করেছিল সেভাবে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর হাতকেই শক্তিশালী করতে পারত।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিসহ তার অঙ্গসংগঠনগুলোতে একাধিক ধারার রাজনীতি বহুকাল থেকেই প্রবহমান ছিল। আওয়ামী একটি গণসংগঠন-তাই নানা মতের মানুষ তাতে যুক্ত হয়েছেন

সবাই জানেন বঙ্গবন্ধু তার সমাজতান্ত্রিক ভাবনাকে ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করেন। সেই কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাই প্রবর্তন। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তকরা বস্তুত বিলুপ্ত হওয়ার অবস্থায় পৌঁছলেন। বিএলএফের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থাকলে তাকে আঘাত করার সাহসও পঁচাত্তরের ঘাতকদের হতো না। এরপরও জাসদ জিয়ার কাঁধে চড়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করে জিয়ার হাতে বিপন্ন হয়।

এরপর এরশাদ একটি জগাখিচুড়ি অবস্থায় দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে কোন তাল সামলাতে পারেননি। মুজিব বাহিনীর নেতা এবং জাসদের আ স ম আব্দুর রব এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কাজ করেন। শাজাহান সিরাজ বিএনপির মন্ত্রী হন। কেউ কেউ বেগম জিয়ার আঁচলের তলায়ও আশ্রয় নিতে চেয়েছেন। বেগম জিয়া কোনভাবেই মুজিব বাহিনীর প্রতি সদয় হবেন এমনটি ভাবা যায় না। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে যে, জাসদ-বাসদ কেউই এখন আর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা বলে না। ২০০৭ সালে সিরাজুল আলম খান একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন; তাতেও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নেই। জাসদ টুকরা হওয়া ছাড়াও জাসদ থেকে বহু টুকরো বাসদ গড়ে ওঠার ফলে বর্তমানে মুজিব বাহিনীর আশ্রয়স্থল কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক দলে বিরাজ করে না। প্রকৃতপক্ষে মুজিব বাহিনীর যেসব যোদ্ধা বা নেতা জিয়া এরশাদ-খালেদার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে তারা সবাই আঁস্তাকুড়েই নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরশাদের সঙ্গী রবের দুর্দশার কথা কে না জানে। ২০১৮ সালে ঐক্য ফোরামের নামে পচে যাওয়াটা তার সর্বশেষ পতন। শাজাহান সিরাজ থেকে মান্না পর্যন্ত সবাই বেগম জিয়ার পদতলে মাথা রেখেও নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারেনি। বস্তুত বেগম জিয়ার নিজের পায়ের তলাতেই মাটি নেই। জিয়া যে জাসদকে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছেন সেটাও নতুন করে আলোচনার কিছু নাই। ফলে অতীতে যারা যাই করুন এখন সময় হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিব যে ভাষা রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, সেই রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির শিখরে তুলে নিয়ে যাওয়া। মুজিব বাহিনী যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তা কেবল মুজিবের আদর্শেই রয়েছে। খুব সঙ্গত কারণেই এখন এটি ভাবতে হচ্ছে যে, মুজিব বাহিনীর নিজেদের সচেতন হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হবে। (সমাপ্ত)

ঢাকা। ২৬ মার্চ ২০১৯। আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান; সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক]

অপার সম্ভাবনার পর্যটন

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

ধর্ম যখন বর্ম

ফল ও সবজি রপ্তানি এবং কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ও ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বে কারা আসছেন

বোনেরা প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হলে কী করবেন?

ছবি

তালেবানরা উদারপন্থি হচ্ছে কি

ছবি

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুর্বিনীত লোভের ফাঁদ

কিশোর শিক্ষার্থীদের কোভিড ভ্যাকসিন

সমাপনী পরীক্ষা এবার থেকেই বাদ নয় কেন

ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানা জরুরি

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

হাঁস-মুরগির রোগ ও চিকিৎসা

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

ছবি

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

tab

উপ-সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিব বাহিনী

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১

ছয় ॥

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু তার লেখা-তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ বইতে জানিয়েছেন যে, স্বাধীন বাংলার যোদ্ধাবাহিনী বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) মানে মুজিব বাহিনীর জন্ম বস্তুত নিউক্লিয়াস থেকে। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদের হাতে এর সূচনা হয়; যা পরে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ, বিএলএফ ও মুজিব বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। হাসানুল হক ইনু তার বইতে লিখেছেন- ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দুইপক্ষ ছিলাম। যুদ্ধের কৌশলের প্রশ্নে- তথা জীবন, জাতি, দেশ, সরকার সব প্রশ্নেই দুই পক্ষ হয়ে গিয়েছিলাম। সেজন্য প্রবাসী সরকার ওপরে থাকলেও যুদ্ধের সশস্ত্র প্রস্তুতি এক কায়দায় হয়নি। জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক বাহিনী গড়ে তোলার পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধ, জনযুদ্ধের রণনীতি ও রণকৌশল সামনে নিয়েও যুদ্ধের জন্য ভিন্ন প্রস্তুতি চলেছে।’

তিনি আরও লিখেন- বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট জনযুদ্ধ ও স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করে। এপ্রিল মাসের শেষে ভারতে গিয়ে সরাসরি সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য ২২ মে ১৯৭১ উত্তর প্রদেশের দেরাদুন জেলার মূর্তিতে অবস্থিত হই। তিন দিনের মাথায় ওখান থেকে আরো ৭৫০০ ফুট উঁচু তান্দুয়াতে চলে যাই এবং সেখানে ভারতীয় অফিসার দ্বারা ৬ সপ্তাহের বিশেষ গেরিলা ট্রেনিং গ্রহণ করি। শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ দেশের ২৬০ জন ছাত্রনেতা এবং তরুণ আওয়ামী লীগ কর্মী, শ্রমিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের প্রথম প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়। জনাব ইনু জানান যে, পরবর্তীতে তাকে প্রশিক্ষণ শিবিরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ইনু আরও জানান যে, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয়দের সঙ্গে ক্ষণিক বিরোধ বাধে ও পরে তা সমঝোতায় পৌঁছায়। এ ক্যাম্প থেকে প্রায় দশ হাজার গেরিলার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাসানুল হক ইনু তার বইতে স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স কীভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা যাবে তার সব প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধকালে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী সংগঠিত করার সব বিবরণই তুলে ধরেন। এমনকি ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন ও তার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রস্তুতি গ্রহণের কথাও বলেন। সিরাজুল আলম খানের জবানিতে শামসুদ্দিন আহমেদের বইটিতে সিরাজুল খান বলেন যে, ১ মার্চ ১৯৭১ রাত থেকেই সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বদলে ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান। জনাব খান তার জবানিতে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করা ও সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ করার সামগ্রিক বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে এগিয়ে নেয়ার তথ্যটি প্রদান করেন। তিনি তার বইতে স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতি, জাসদ গঠন, বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনসহ বিবিধ বিষয় আলোচনা করেন। যে বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য সেটি হচ্ছে স্বাধীনতার পরপরই বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী আর বজায় থাকেনি। এমনকি নিউক্লিয়াসের তিন নেতার মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক ও অন্য দুজনের মতের গরমিল হয় এবং আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে যান ও অন্য দুজন জাসদ গঠন করেন। তিনি ৭ নভেম্বর ও তার পরবর্তী রাজনীতির বিবরণও তুলে ধরেন। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর কাছে ১৫ দফা কৌশলপত্র তুলে ধরেন যেটি তার মতে বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেননি। যদিও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি শহীদ হওয়ার এক মাস আগেও যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করেন এবং আগস্টে তাকে ভারত চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে দাবি করা হয় তবুও তিনি রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু নয় আওয়ামী লীগের বিরোধী ছিলেন বলে দাবি করেন। মূল বিরোধটা সমাজতন্ত্র বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের পরপরই নিউক্লিয়াস, বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ পথচলা বিভক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৯৭২ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মুজিব বাহিনী নামক পুরো শক্তিটি বিভক্ত-বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যহীনতায় পৌঁছে। মুজিব বাহিনীর যে মূল স্রোতটা যুদ্ধকালে বা তার আগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল তারা সিরাজুল আলম খানের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র স্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধী পক্ষে পরিণত হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যদি নিউক্লিয়াস, বিএলএফ ও মুজিব বাহিনীর স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়গুলো আলোচনা করি তখন স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুজিব বাহিনীর মূল স্রোতকে সহযোগী করে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক সংগঠন তৈরি হয় তা অনিবার্য ছিল কিনা সেটিও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সিরাজুল আলম খানের বক্তব্যের মূল বিষয়টি অনুধাবন করলে এটি অনুভব করা যায় যে, সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে অক্ষম ছিলেন। মূল বিরোধটা তিনিই বলেছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ নিয়ে। আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে কেবল একটি কাগুজে বিষয় হিসেবে গণ্য করে প্রথাগত রাজনৈতিক ধারায় চলতে চাইছিল না। তিনি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য স্থির করে রাজনৈতিক প্লাটফরম তৈরি করেন।

ইতিহাসের পাতায় যারা নজর রাখেন তারা সবাই জানেন যে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিসহ তার অঙ্গসংগঠনগুলোতে একাধিক ধারার রাজনীতি বহুকাল থেকেই প্রবহমান ছিল। আওয়ামী একটি গণসংগঠন-তাই নানা মতের মানুষ তাতে যুক্ত হয়েছেন। সেই সময়েই সিরাজুল আলম খান বিশেষত ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল স্রোতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলা সেøাগান, জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সংগীতসহ একটি সশস্ত্র লড়াইয়ের জন্য দলটিসহ পুরো দেশবাসীকে তার অনুসারীরা প্রভাবিত করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু কীভাবে তাদের কর্মকা-কে সহায়তা করেছেন ও প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করেছেন- তার বিবরণও এই নেতার বিবরণীতে পাওয়া যায়। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, জয়বাংলা স্লোগান থেকে শুরু করে বিএলএফ সদস্যরা কলকাতার কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সেটিও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমি বুঝি না সিরাজুল আলম খান কেন স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর ওপর সেই প্রমাণিত আস্থাটুকু রাখতে পারলেন না। এখন তো স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, একটি ভুলপথে যাত্রার ফলে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গড়ায় তাদের ভূমিকা তারা পালন করতে পারল না।

জাসদ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র স্লোগান দিয়ে যদি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সে তুং চিন্তাধারার সমাজতন্ত্রের কথা বুঝিয়ে থাকে তবে তারা গোড়াতেই ভুল করছে। বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন কিন্তু সেই সমাজতন্ত্র কোনভাবেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সে তুংয়ের চিন্তাধারা নয়। তিনি বরাবরই বলেছেন যে, তিনি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন কিন্তু তার মতো করে। স্বাধীনতার আগে ও ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তিনি সমাজতন্ত্রের নিজস্ব ধারার কথা প্রকাশ করেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের বিরোধিতা করে তার সঙ্গে সুদীর্ঘ সময়ের রাজনীতির প্রতি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতে পারেনি জাসদ। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে স্বাধীনতার আগে যেভাবে প্রতিকূলতাকে বিএলএফ মোকাবেলা করেছিল সেভাবে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর হাতকেই শক্তিশালী করতে পারত।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিসহ তার অঙ্গসংগঠনগুলোতে একাধিক ধারার রাজনীতি বহুকাল থেকেই প্রবহমান ছিল। আওয়ামী একটি গণসংগঠন-তাই নানা মতের মানুষ তাতে যুক্ত হয়েছেন

সবাই জানেন বঙ্গবন্ধু তার সমাজতান্ত্রিক ভাবনাকে ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করেন। সেই কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাই প্রবর্তন। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তকরা বস্তুত বিলুপ্ত হওয়ার অবস্থায় পৌঁছলেন। বিএলএফের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থাকলে তাকে আঘাত করার সাহসও পঁচাত্তরের ঘাতকদের হতো না। এরপরও জাসদ জিয়ার কাঁধে চড়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করে জিয়ার হাতে বিপন্ন হয়।

এরপর এরশাদ একটি জগাখিচুড়ি অবস্থায় দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে কোন তাল সামলাতে পারেননি। মুজিব বাহিনীর নেতা এবং জাসদের আ স ম আব্দুর রব এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কাজ করেন। শাজাহান সিরাজ বিএনপির মন্ত্রী হন। কেউ কেউ বেগম জিয়ার আঁচলের তলায়ও আশ্রয় নিতে চেয়েছেন। বেগম জিয়া কোনভাবেই মুজিব বাহিনীর প্রতি সদয় হবেন এমনটি ভাবা যায় না। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে যে, জাসদ-বাসদ কেউই এখন আর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা বলে না। ২০০৭ সালে সিরাজুল আলম খান একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন; তাতেও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নেই। জাসদ টুকরা হওয়া ছাড়াও জাসদ থেকে বহু টুকরো বাসদ গড়ে ওঠার ফলে বর্তমানে মুজিব বাহিনীর আশ্রয়স্থল কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক দলে বিরাজ করে না। প্রকৃতপক্ষে মুজিব বাহিনীর যেসব যোদ্ধা বা নেতা জিয়া এরশাদ-খালেদার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে তারা সবাই আঁস্তাকুড়েই নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরশাদের সঙ্গী রবের দুর্দশার কথা কে না জানে। ২০১৮ সালে ঐক্য ফোরামের নামে পচে যাওয়াটা তার সর্বশেষ পতন। শাজাহান সিরাজ থেকে মান্না পর্যন্ত সবাই বেগম জিয়ার পদতলে মাথা রেখেও নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারেনি। বস্তুত বেগম জিয়ার নিজের পায়ের তলাতেই মাটি নেই। জিয়া যে জাসদকে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছেন সেটাও নতুন করে আলোচনার কিছু নাই। ফলে অতীতে যারা যাই করুন এখন সময় হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিব যে ভাষা রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, সেই রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির শিখরে তুলে নিয়ে যাওয়া। মুজিব বাহিনী যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তা কেবল মুজিবের আদর্শেই রয়েছে। খুব সঙ্গত কারণেই এখন এটি ভাবতে হচ্ছে যে, মুজিব বাহিনীর নিজেদের সচেতন হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হবে। (সমাপ্ত)

ঢাকা। ২৬ মার্চ ২০১৯। আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান; সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক]

back to top