সাময়িকী কবিতা

বৃক্ষ উড়ে যায়
নাসরীন জাহান
এক।

ছায়ায় ঘুমাব বলে

বাতাসকে ডেকেছি।

তুমুল ঝড়ের সাথে বৃক্ষ উড়ে যায়।

দুই।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছুঁতে এগোই,

সামনে এলে ভবিষ্যৎ,

প্রাণ চলে যায়।

তিন।

চেহারায় বেশি সুন্দর দ্রুত একঘেয়ে লাগে।

মন সুন্দর ধীর প্রস্ফুটনে জাগে।

আজিজ স্যার
পুলিন রায়
থ্যাকারে টিলার পাশে

মুরারিচাঁদের লাগোয়া ভাস্কর ভবনে

বসে কল্পনায় দেখি রাস্তার ওপারেই

প্রিন্সিপালের চেয়ার বসা প্রজ্ঞাময় ‘হালকা পাতলা গড়নের চীনের প্রাচীর’সম আজিজ স্যার।

স্মৃতির দর্পণে ভাসে ক্যাম্পাসে সবুজ গালিচায় হেঁটে যাওয়া প্রগাঢ় সাধক একজন আব্দুল আজিজ।

ফিরে যাই ছত্রিশ বছর আগে। শান্ত-ধীর অথচ ব্যক্তিত্বের আলোয় উদ্ভাসিত আজিজ স্যারের অফিসে আদৃত হই স্নেহের বৃষ্টিধারায়।

আজো অমলিন স্মৃতি হয়ে কানে বাজে- ‘পুলিন, ডাক-এ তোমার রিপোর্টটি পড়লাম। খুব ভালো লিখেছো ঐদিনের কবিতাটি...’। ঝরে পড়ে বিমুগ্ধ ভালোবাসা আর ভালো লাগার অনুপম স্বেদ।

আজো প্রতি সকালে ক্যাম্পাসে যাই। কল্পনায় দেখি আজিজ স্যার মৃদুপায়ে আসছেন নেমে।

পথের দুধারের তরুলতা শ্রদ্ধায় অবনত হয়।

জ্ঞানের প্রদীপ্ত শিখা জ্বালিয়ে স্যার ঢুকে পড়েন অর্থনীতির গ্যালারিতে।

সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখি

বৃক্ষেরা তুমুল করতালিতে মেতে উঠেছে।

সমুদ্র অথবা তুমি
অঞ্জন মেহেদী
সমুদ্র অথবা তুমি

তুমি অথবা সমুদ্র

কিংবা সমুদ্রগামী তুমি

বিশাল সমুদ্রে কোনটা তুমি

আর কোনটা যে সমুদ্র আমি গুলিয়ে ফেলি!

নাবিকের কম্পাসে জাহাজের নিশানা

দূরবর্তী বাতিঘরের মতো তোমার মুখ

দু’হাতের জল যখন শূন্যে উড়াও

তখন পিঠের সোনালি চুল দুলে ওঠে

বালুকণা জেগে থাকে অনাদিকাল

তোমার পায়ের শব্দে জলতরঙ্গের সুর বাজে

সূর্যম্লান শেষে রোদের গরম হাওয়া

মাতাল হয়ে আসে তুমুল ঢেউ তুলে

ছুঁয়ে দেয় তোমার কুড়ি-একুশ বছরের গৌরব

ও সমুদ্রের মেয়ে,

জল কি জানে তুমি ওর বক্ষ ছুঁয়েছিলে?

সম্প্রতি