মীরসরাই (চট্টগ্রাম) : গাছের খন্ড নিয়ে যাচ্ছে কিছু উপজাতি শ্রমিক -সংবাদ
একদিকে বৈশ্বিক জলবায়ুর প্রভাবে পৃথিবী ব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে উষ্ণতা। যার জন্য আমাদের ঋতু বৈচিত্রময় স্বদেশ ও আর নেই যেন এখন। গত কয়েক বছর ধরে কমছে শীতের মাত্রা। এবছর ও এখনো দেখা নেই শীতের। আবার গ্রীস্মকালে তাপদাহের প্রবাহ বেড়েই চলেছে। এতে প্রতীয়মান বিপর্যয় খুব অত্যাসন্য আমাদের ভৌগলিক ঋতু পরিক্রমার।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো আমাদের বনভূমি দিনে দিনে নিশ্চিহই হতে চলেছে। মীরসরাইয়ের পাহাড়ী বনাঞ্চলে ও এক সময় ছিল গভীর অভয়ারণ্য। বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ ছিল। ছিল গহীন বনে নানান বৃক্ষরাজী। সবুজ এই বন যেমন আমাদের অক্সিজেনের যোগান দিত তেমনি রক্ষা করতো বৈশ্বিক জলবায়ু। দিনে দিনে এইসব বনাঞ্চলের অবশিষ্ট বন ও বিলীন হয়ে পুরো পাহাড় কি শেষে ধূ ধূ প্রান্তর হয়ে যাবে? এমনই প্রশ্ন সচেতন সমাজ সহ সকলের।
নির্বিচারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, বনে খাদ্য সংকটের কারণে বন্য প্রাণীর জীববৈচিত্রতা ও এখন হুমকির মুখে। খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে ছুটে আসে বন্যপ্রাণী। অথচ জীববৈচিত্রের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা চট্টগ্রামের মীরসরাই। পাহাড় ও উপকূলের বনে অবাধ বিচরণক্ষেত্র হারিয়েছে বন্যপ্রাণীরা। বনে ছিল বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী। কয়েক বছরের ব্যবধানে সে রূপ অনেকখানি বদলে গেছে। আগে যেখানে ছিল প্রাণীর বিচরণ, সেখানে এখন মানুষের পদচারণা, গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবসহ নানা কারণে খাবারের সংকট দেখা দেয়ায় সম্প্রতি বন ছেড়ে লোকালয়ে ও চলে আসছে বন্যপ্রাণীর দল।
মীরসরাই উপজেলা সদর সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস তথা বন দপ্তর। কিন্তু তার মাত্র এক কিলোমিটার উত্তর পূর্ব এলাকাই তালবাড়িয়া গ্রাম। সেই গ্রামের পাহাড় সংলগ্ন জমি দিয়ে গত বৃহস্প্রতিবার হাটতেই চোখে পড়ে লাইন ধরে একের পর এক গাছের খন্ড নিয়ে যাচ্ছে কিছু উপজাতি শ্রমিক। গাছগুলো কার জানতে চাইলে ওরা বলে এগুলো পাশ^বর্তি নুরজাহান কোম্পানীর বাগান থেকে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে সকাল থেকেই ওরা এভাবে সেখান থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল কয়েকদিন ধরে।
এই বিষয়ে উক্ত গাছের মালিক নুরুল আফছার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি আমার বাগান থেকেই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বন বিভাগের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনো অনুমতি নেই নাই, আগামীতে নিব। প্রকৃত অর্থে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে সম্প্রতি উক্ত আফছার কোম্পানী এই এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি ও বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অবাধে কয়েকটি পাহাড়ের গাছ সাফ করে দিয়েছে। পাশ্ববর্তি এলাকায়ও আরো অনেকে এই গাছ কাটার সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে মীরসরাই নারায়নহাট সংযোগ সড়ক দিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রায়ই অনুমতি বিহীন কাঠ, বাঁশ ও বালুর ট্রাক নির্ধারিত মাশোহারার বিনিময়ে নিয়মিত পাচার হচ্ছে। একদিকে পাহাড়ী সম্পদই হারাচ্ছে না আবার সামাজিক বনায়নের এই অঞ্চলের অনেক বাগানের কাঠই চোর চক্র কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে প্রায় রাতেই।
এই বিষয়ে বন বিভাগের মীরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, তালবাড়িয়ায় পাহাড় থেকে কাঠ কেটে নিয়ে যাবার খবর জেনে আমরা সেখানে টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আবার রাতের অন্ধকারে বন উজাড় করার বিষয়ে তিনি বলেন মীরসরাই নারায়নহাট সংযোগ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধ্বসে গিয়ে এখন প্রায় অচল তাই স্বাভাবিক গাড়ি ও তো চলতে পারে না পাচারের গাড়ী কিভাবে যাবে। এই বিষয়ে মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান মজুমদার এর কাছে জানতে চাইলে বন রক্ষার বিষয়টি বন বিভাগের এখতিয়ারাধিন, তবুও উনারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা অবশ্যই সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) : গাছের খন্ড নিয়ে যাচ্ছে কিছু উপজাতি শ্রমিক -সংবাদ
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
একদিকে বৈশ্বিক জলবায়ুর প্রভাবে পৃথিবী ব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে উষ্ণতা। যার জন্য আমাদের ঋতু বৈচিত্রময় স্বদেশ ও আর নেই যেন এখন। গত কয়েক বছর ধরে কমছে শীতের মাত্রা। এবছর ও এখনো দেখা নেই শীতের। আবার গ্রীস্মকালে তাপদাহের প্রবাহ বেড়েই চলেছে। এতে প্রতীয়মান বিপর্যয় খুব অত্যাসন্য আমাদের ভৌগলিক ঋতু পরিক্রমার।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো আমাদের বনভূমি দিনে দিনে নিশ্চিহই হতে চলেছে। মীরসরাইয়ের পাহাড়ী বনাঞ্চলে ও এক সময় ছিল গভীর অভয়ারণ্য। বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ ছিল। ছিল গহীন বনে নানান বৃক্ষরাজী। সবুজ এই বন যেমন আমাদের অক্সিজেনের যোগান দিত তেমনি রক্ষা করতো বৈশ্বিক জলবায়ু। দিনে দিনে এইসব বনাঞ্চলের অবশিষ্ট বন ও বিলীন হয়ে পুরো পাহাড় কি শেষে ধূ ধূ প্রান্তর হয়ে যাবে? এমনই প্রশ্ন সচেতন সমাজ সহ সকলের।
নির্বিচারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, বনে খাদ্য সংকটের কারণে বন্য প্রাণীর জীববৈচিত্রতা ও এখন হুমকির মুখে। খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে ছুটে আসে বন্যপ্রাণী। অথচ জীববৈচিত্রের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা চট্টগ্রামের মীরসরাই। পাহাড় ও উপকূলের বনে অবাধ বিচরণক্ষেত্র হারিয়েছে বন্যপ্রাণীরা। বনে ছিল বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী। কয়েক বছরের ব্যবধানে সে রূপ অনেকখানি বদলে গেছে। আগে যেখানে ছিল প্রাণীর বিচরণ, সেখানে এখন মানুষের পদচারণা, গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবসহ নানা কারণে খাবারের সংকট দেখা দেয়ায় সম্প্রতি বন ছেড়ে লোকালয়ে ও চলে আসছে বন্যপ্রাণীর দল।
মীরসরাই উপজেলা সদর সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস তথা বন দপ্তর। কিন্তু তার মাত্র এক কিলোমিটার উত্তর পূর্ব এলাকাই তালবাড়িয়া গ্রাম। সেই গ্রামের পাহাড় সংলগ্ন জমি দিয়ে গত বৃহস্প্রতিবার হাটতেই চোখে পড়ে লাইন ধরে একের পর এক গাছের খন্ড নিয়ে যাচ্ছে কিছু উপজাতি শ্রমিক। গাছগুলো কার জানতে চাইলে ওরা বলে এগুলো পাশ^বর্তি নুরজাহান কোম্পানীর বাগান থেকে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে সকাল থেকেই ওরা এভাবে সেখান থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল কয়েকদিন ধরে।
এই বিষয়ে উক্ত গাছের মালিক নুরুল আফছার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি আমার বাগান থেকেই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বন বিভাগের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনো অনুমতি নেই নাই, আগামীতে নিব। প্রকৃত অর্থে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে সম্প্রতি উক্ত আফছার কোম্পানী এই এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি ও বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অবাধে কয়েকটি পাহাড়ের গাছ সাফ করে দিয়েছে। পাশ্ববর্তি এলাকায়ও আরো অনেকে এই গাছ কাটার সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে মীরসরাই নারায়নহাট সংযোগ সড়ক দিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রায়ই অনুমতি বিহীন কাঠ, বাঁশ ও বালুর ট্রাক নির্ধারিত মাশোহারার বিনিময়ে নিয়মিত পাচার হচ্ছে। একদিকে পাহাড়ী সম্পদই হারাচ্ছে না আবার সামাজিক বনায়নের এই অঞ্চলের অনেক বাগানের কাঠই চোর চক্র কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে প্রায় রাতেই।
এই বিষয়ে বন বিভাগের মীরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, তালবাড়িয়ায় পাহাড় থেকে কাঠ কেটে নিয়ে যাবার খবর জেনে আমরা সেখানে টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আবার রাতের অন্ধকারে বন উজাড় করার বিষয়ে তিনি বলেন মীরসরাই নারায়নহাট সংযোগ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধ্বসে গিয়ে এখন প্রায় অচল তাই স্বাভাবিক গাড়ি ও তো চলতে পারে না পাচারের গাড়ী কিভাবে যাবে। এই বিষয়ে মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান মজুমদার এর কাছে জানতে চাইলে বন রক্ষার বিষয়টি বন বিভাগের এখতিয়ারাধিন, তবুও উনারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা অবশ্যই সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।