পলাশ (নরসিংদী) : ঘোড়াশাল রেলসেতুর পিলারের ফাটলের চিত্র -সংবাদ
গতকাল শুক্রবার ও পরদিন শনিবারের ভূমিকম্পের আতংক কাটতে না কাটতেই পলাশ-ঘোড়শালে গত বৃহস্পতিবার আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:১৫মি, এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এ নিয়ে পলাশে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যা অতীতে কখনোই হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:১৫মি, এ আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল পলাশের ঘোড়াশাল। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক সেন্টার থেকে এর কেন্দ্রের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওইদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে নরসিংদীর পলাশসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ঘোড়াশাল।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বিকেলে সবকিছু কেঁপে উঠতে লাগল। আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে যাই। এখনো ভয় কাটেনি। চার দফা ভূমিকম্পে খুবই আতংক ও উৎকণ্ঠায় আছি। ভূমিকম্প হলেই মনে হয় ঘরটা ভেঙে পড়বে। আবার বিদ্যুৎও নেই, মোবাইলে কোনো খবরও ঠিক মতো জানতে পারতেছি না। খুব ভয় লাগছে।
ঘোড়াশাল বাজারের কাপরের দোকানদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন ভূমিকম্প হইছে, বিদ্যুৎ নাই, দুই দিকেই আমরা অস্বস্তিতে। দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কে আছি।
ঘোড়াশাল স্টেশনের ব্যবসায়ী আল আমিন মিয়া বলেন, হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হলে দোকান রেখে বাহিরে চলে আসি। আমরা ভাবছিলাম, আরও বড় একটা কম্পন হয়তো আসবে। তাই অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বার বার পলাশে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় আমরা খুবই ভয়ে আছি।
গত ২১ তারিখের মাঝারি মানের ওই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত পলাশে দুইজন নিহত হয়েছে। ঘোড়াশাল রেলসেতুর দুটি পিলার, ঘোড়াশাল সরকারি খাদ্য গুদাম ভবন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্কুল ভবন, ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১১টি কোয়ার্টার, পলাশ উপজেলা পরিষদের নতুন অফিস ভবন, ঘোড়াশাল বাজারে এস.এ ভবন,পলাশ-ঘোড়াশাল সারকারখানা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দোকান গুলোতে ব্যাপক ফাটলের চিএ দেখা দিয়েছে
বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলাশের কয়েকটি স্থানে মাটিতে ফাটল ধরেছে। এর পরদিন গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০:৩৬মি, আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মৃদু ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীর পলাশে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩.৩। পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় আবারও দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অপরদিকে ২৩ তারিখ- রাতে কে বা কারা গুজব ছড়ায় রাত ১২ টা হতে ১২:৩০মি, এর মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। এতে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লোকজন, পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকশত পরিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্কুল মাঠে, শিল্পাঞ্চল কলেজ মাঠে ও খোলা রাস্তায় গভীর রাত পর্যন্ত হেঁটে বসে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সময় কাটায়। খবর পেয়ে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী নির্দেশে মাইকিং করে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার ও স্রষ্টার উপর ভরষা করতে আহবান জানান। পাশাপাশি পলাশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকীন মাশরুর খান খোলা মাঠে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফোর্স নিয়ে ভীত মানুষের সাথে অবস্থান করেন। এদিকে ঘোড়াশাল রেলসেতু ও তিনটা খাদ্য গুদামের ফাটল পরিদর্শনে আসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাস্টার সায়েন্স এ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এক টিম। ঘোড়াশাল তাপ বিদুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট)এর একটি বিশেষজ্ঞ দল। এতে কয়েকটি কোয়ার্টার পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। এদিকে গত তিনদিন আগে ঘোড়াশাল রেলসেতু মেরামতে কাজও শুরু করা হয়।
একের পর এক ভূমিকম্পে পলাশবাসী এখনো আতঙ্কগ্রস্ত দিন কাটাচ্ছে। প্রসাশন, পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ ও সচেতনমহল জনগণকে শান্ত থেকে মহান আল্লাহকে স্মরণ রাখতে অনুরোধ করছেন।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
পলাশ (নরসিংদী) : ঘোড়াশাল রেলসেতুর পিলারের ফাটলের চিত্র -সংবাদ
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
গতকাল শুক্রবার ও পরদিন শনিবারের ভূমিকম্পের আতংক কাটতে না কাটতেই পলাশ-ঘোড়শালে গত বৃহস্পতিবার আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:১৫মি, এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এ নিয়ে পলাশে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যা অতীতে কখনোই হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:১৫মি, এ আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল পলাশের ঘোড়াশাল। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক সেন্টার থেকে এর কেন্দ্রের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওইদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে নরসিংদীর পলাশসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ঘোড়াশাল।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বিকেলে সবকিছু কেঁপে উঠতে লাগল। আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে যাই। এখনো ভয় কাটেনি। চার দফা ভূমিকম্পে খুবই আতংক ও উৎকণ্ঠায় আছি। ভূমিকম্প হলেই মনে হয় ঘরটা ভেঙে পড়বে। আবার বিদ্যুৎও নেই, মোবাইলে কোনো খবরও ঠিক মতো জানতে পারতেছি না। খুব ভয় লাগছে।
ঘোড়াশাল বাজারের কাপরের দোকানদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন ভূমিকম্প হইছে, বিদ্যুৎ নাই, দুই দিকেই আমরা অস্বস্তিতে। দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কে আছি।
ঘোড়াশাল স্টেশনের ব্যবসায়ী আল আমিন মিয়া বলেন, হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হলে দোকান রেখে বাহিরে চলে আসি। আমরা ভাবছিলাম, আরও বড় একটা কম্পন হয়তো আসবে। তাই অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বার বার পলাশে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় আমরা খুবই ভয়ে আছি।
গত ২১ তারিখের মাঝারি মানের ওই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত পলাশে দুইজন নিহত হয়েছে। ঘোড়াশাল রেলসেতুর দুটি পিলার, ঘোড়াশাল সরকারি খাদ্য গুদাম ভবন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্কুল ভবন, ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১১টি কোয়ার্টার, পলাশ উপজেলা পরিষদের নতুন অফিস ভবন, ঘোড়াশাল বাজারে এস.এ ভবন,পলাশ-ঘোড়াশাল সারকারখানা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দোকান গুলোতে ব্যাপক ফাটলের চিএ দেখা দিয়েছে
বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলাশের কয়েকটি স্থানে মাটিতে ফাটল ধরেছে। এর পরদিন গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০:৩৬মি, আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মৃদু ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীর পলাশে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩.৩। পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় আবারও দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অপরদিকে ২৩ তারিখ- রাতে কে বা কারা গুজব ছড়ায় রাত ১২ টা হতে ১২:৩০মি, এর মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। এতে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লোকজন, পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকশত পরিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্কুল মাঠে, শিল্পাঞ্চল কলেজ মাঠে ও খোলা রাস্তায় গভীর রাত পর্যন্ত হেঁটে বসে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সময় কাটায়। খবর পেয়ে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী নির্দেশে মাইকিং করে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার ও স্রষ্টার উপর ভরষা করতে আহবান জানান। পাশাপাশি পলাশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকীন মাশরুর খান খোলা মাঠে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফোর্স নিয়ে ভীত মানুষের সাথে অবস্থান করেন। এদিকে ঘোড়াশাল রেলসেতু ও তিনটা খাদ্য গুদামের ফাটল পরিদর্শনে আসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাস্টার সায়েন্স এ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এক টিম। ঘোড়াশাল তাপ বিদুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট)এর একটি বিশেষজ্ঞ দল। এতে কয়েকটি কোয়ার্টার পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। এদিকে গত তিনদিন আগে ঘোড়াশাল রেলসেতু মেরামতে কাজও শুরু করা হয়।
একের পর এক ভূমিকম্পে পলাশবাসী এখনো আতঙ্কগ্রস্ত দিন কাটাচ্ছে। প্রসাশন, পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ ও সচেতনমহল জনগণকে শান্ত থেকে মহান আল্লাহকে স্মরণ রাখতে অনুরোধ করছেন।