নেত্রকোনার দুর্গাপুর-ভারত সীমান্তে বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পতীত জমিতে মাল্টা চাষে সফল তিন চাষী মামা-ভাগিনা। দুর্গাপুর পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পাহাড়, নদী আর সবুজ প্রকৃতির মাঝেও বহু পতিত জমি বছের পর বছর পরে আছে। সরকার স্থানীয়দের মাঝে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করলে সরকার হবে লাভবান। অপরদিকে প্রান্তিক চাষীরা হবে উপকৃত। ২০২২ সালে সীমান্তরেখা বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিজ উদ্যোগে এক একর পতিত জমিতে শুরু করে ৩ মাখা ভাগিনার সম্মিলিত মাল্টা চাষ। প্রথমে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে ৩’শ চারা নিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে আরও ২’শ চারা রোপণ করেন। বর্তমানে ৫০০ চারার বাগানজুড়ে ঝুলছে টসটসে মাল্টা। এই সফলতায় মামা খাগিনা খুশি। মামা রনি মিত্র জানান, এ পর্যন্ত বাগান গড়ে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এ বছরের ফলন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন। আগামী মৌসুমে ফলন বাড়লে লাভও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা মেটানোই তাদের প্রথম লক্ষ্য। বর্তমানে দুর্গাপুরের হাট-বাজার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা, জেলা শহর এমনকি ময়মনসিংহ পর্যন্তও বাজারজাত হচ্ছে এই বাগানের মাল্টা। এ ব্যাপারে মামা-ভাগিনা বনি মিত্র, নিকুঞ্জ ম-ল ও সুমন মল্লিক এর কাছে তাদের অনন্য সাফল্যের গল্প জানতে চাইলে তারা সংবাদকে বলেন, লেখাপড়া শেষ করে অর্থের জন্য চাকুরি খোঁজতে হয়। অর্থ ছাড়া চাকুরী মিলে না। অপর দিকে টাকা রোজগার করত বিশেদের মাটিতে যেতে হবে এখম কথা নয়। সেখানেও যেতে প্রচুর টাকা ব্যায় করতে হয়। এই দেশের মাটিতেই ‘সোনা’ ফলনের প্রচুর সম্ভাভনা রয়েছে। পাইকারি ক্রেতা ফজল মিয়া, সুমন সহ অনেকেই জানান, গাছ থেকে সরাসরি বাজারে পৌঁছানো এই ফরমালিনমুক্ত মাল্টার চাহিদা এখন অনেক। তারা এখান থেকে পাইকারি কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন তাতেও ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ কর বলেন, ফরমালিনমুক্ত মাল্টা পেয়ে আমরা খুব খুশি। এতে সহজেই পূরণ হচ্ছে আমাদের ভিটামিন সি এর চাহিদা। এ বাপারে দুর্গাপুর ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হক সংবাদকে বলে, সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মাল্টা বাজারজাতের উপযুক্ত সময়। পাহাড়ি এলাকায় পতিত জমি কাজে লাগিয়ে মাত্র ৩ বছরেই সফলতা গড়েছেন এই ৩ মামা-ভাগিনা। সীমান্তের শেষ প্রান্তে পতিত জমির মাঝেই যেন জেগে ওঠেছে নতুন কৃষি সম্ভাবনা। কুড়িয়ে পেয়েছে ‘সোনা’। স্থানীয় সুধী মহল মনে করছেন, তাদের এই সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠবে দুর্গাপুরবাসী।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
নেত্রকোনার দুর্গাপুর-ভারত সীমান্তে বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পতীত জমিতে মাল্টা চাষে সফল তিন চাষী মামা-ভাগিনা। দুর্গাপুর পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পাহাড়, নদী আর সবুজ প্রকৃতির মাঝেও বহু পতিত জমি বছের পর বছর পরে আছে। সরকার স্থানীয়দের মাঝে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করলে সরকার হবে লাভবান। অপরদিকে প্রান্তিক চাষীরা হবে উপকৃত। ২০২২ সালে সীমান্তরেখা বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিজ উদ্যোগে এক একর পতিত জমিতে শুরু করে ৩ মাখা ভাগিনার সম্মিলিত মাল্টা চাষ। প্রথমে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে ৩’শ চারা নিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে আরও ২’শ চারা রোপণ করেন। বর্তমানে ৫০০ চারার বাগানজুড়ে ঝুলছে টসটসে মাল্টা। এই সফলতায় মামা খাগিনা খুশি। মামা রনি মিত্র জানান, এ পর্যন্ত বাগান গড়ে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এ বছরের ফলন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন। আগামী মৌসুমে ফলন বাড়লে লাভও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা মেটানোই তাদের প্রথম লক্ষ্য। বর্তমানে দুর্গাপুরের হাট-বাজার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা, জেলা শহর এমনকি ময়মনসিংহ পর্যন্তও বাজারজাত হচ্ছে এই বাগানের মাল্টা। এ ব্যাপারে মামা-ভাগিনা বনি মিত্র, নিকুঞ্জ ম-ল ও সুমন মল্লিক এর কাছে তাদের অনন্য সাফল্যের গল্প জানতে চাইলে তারা সংবাদকে বলেন, লেখাপড়া শেষ করে অর্থের জন্য চাকুরি খোঁজতে হয়। অর্থ ছাড়া চাকুরী মিলে না। অপর দিকে টাকা রোজগার করত বিশেদের মাটিতে যেতে হবে এখম কথা নয়। সেখানেও যেতে প্রচুর টাকা ব্যায় করতে হয়। এই দেশের মাটিতেই ‘সোনা’ ফলনের প্রচুর সম্ভাভনা রয়েছে। পাইকারি ক্রেতা ফজল মিয়া, সুমন সহ অনেকেই জানান, গাছ থেকে সরাসরি বাজারে পৌঁছানো এই ফরমালিনমুক্ত মাল্টার চাহিদা এখন অনেক। তারা এখান থেকে পাইকারি কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন তাতেও ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ কর বলেন, ফরমালিনমুক্ত মাল্টা পেয়ে আমরা খুব খুশি। এতে সহজেই পূরণ হচ্ছে আমাদের ভিটামিন সি এর চাহিদা। এ বাপারে দুর্গাপুর ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হক সংবাদকে বলে, সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মাল্টা বাজারজাতের উপযুক্ত সময়। পাহাড়ি এলাকায় পতিত জমি কাজে লাগিয়ে মাত্র ৩ বছরেই সফলতা গড়েছেন এই ৩ মামা-ভাগিনা। সীমান্তের শেষ প্রান্তে পতিত জমির মাঝেই যেন জেগে ওঠেছে নতুন কৃষি সম্ভাবনা। কুড়িয়ে পেয়েছে ‘সোনা’। স্থানীয় সুধী মহল মনে করছেন, তাদের এই সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠবে দুর্গাপুরবাসী।