ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
সিলেটে হঠাৎ করে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত এক কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাদামবাগিচায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে স্কুল ছাত্র শাহ মাহমুদ হাসান তপুকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তার মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাহিদ হাসানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম শনিবার বলেন, মামলায় নাম উল্লেখ করা তিনজনকে আগেই আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো- মো. জাহিদ হাসান, মো. অনিক মিয়া ও মো. জুনেদ আহমদ।
জানা যায়, তপু ও জাহিদ পরষ্পরের বন্ধু। এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত ছিলো তারা। কিশোর গ্যাং নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে জাহিদসহ কয়েকজন।কিশোর গ্যাং নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র সাইফুল ইসলামও। কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকান্ড। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তপু ও জাহিদসহ দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জাহিদকে তপু মারধর করে। পরে তপুকে ছুরিকাঘাত করে জাহিদ।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরের নয়াসড়ক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের কিশোররা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন কিশোর গুরুতর আহত হয়। আহত কিশোরকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দ্রুত সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তার নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।
কাজিটুলা এলাকা ও জেলরোড এলাকার কিশোরদের মধ্যে স্কুল কেন্দ্রীক পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) উপ কমিশনার মো. তারেক আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই কিশোর গ্রুপের আগের কিছু বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সিলেটে হঠাৎ করে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত এক কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাদামবাগিচায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে স্কুল ছাত্র শাহ মাহমুদ হাসান তপুকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তার মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাহিদ হাসানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম শনিবার বলেন, মামলায় নাম উল্লেখ করা তিনজনকে আগেই আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো- মো. জাহিদ হাসান, মো. অনিক মিয়া ও মো. জুনেদ আহমদ।
জানা যায়, তপু ও জাহিদ পরষ্পরের বন্ধু। এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত ছিলো তারা। কিশোর গ্যাং নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে জাহিদসহ কয়েকজন।কিশোর গ্যাং নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র সাইফুল ইসলামও। কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকান্ড। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তপু ও জাহিদসহ দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জাহিদকে তপু মারধর করে। পরে তপুকে ছুরিকাঘাত করে জাহিদ।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরের নয়াসড়ক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের কিশোররা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন কিশোর গুরুতর আহত হয়। আহত কিশোরকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দ্রুত সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তার নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।
কাজিটুলা এলাকা ও জেলরোড এলাকার কিশোরদের মধ্যে স্কুল কেন্দ্রীক পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) উপ কমিশনার মো. তারেক আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই কিশোর গ্রুপের আগের কিছু বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।