সুন্দরগঞ্জের বেলকা চর হতে আমন ধানের আটি ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা -সংবাদ
চরাঞ্চলের একমাত্র যানবাহন এখন ঘোড়ার গাড়ি। চরের বালুর মধ্যে এ গাড়িগুলো অনায়াসে চলাচল করতে পারার জন্য ঘোড়ার গাড়ির জনপ্রিয়তা বা চাহিদা বেশি। চরে যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হওয়ায় ঘোড়ার গাড়ি পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠছে। ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল বহন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাজারও গাড়োয়ান।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে এখন এসব গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। এককালের খরস্রোতা এ নদীটি খনন হয় না দীর্ঘদিন। ফলে শীত মৌসুমে নদীটি রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে। এতে ভাঙনের শিকার হয়ে জমি-জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো চাষাবাদ করছেন নানান ফসল। এসব পণ্য বহনে ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র ভরসা চরবাসীর।
হরিপুর চরের আনছার আলীর বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। জমি হতে ধান মাড়াইয়ের স্থান প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। দিনমজুরের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। সে কারণে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া কোনো উপায় নেই। দুই জমির ধান বহন করে নিয়ে যেতে গাড়োয়ানদের দিতে হবে ২ হাজার টাকা। যান্ত্রিক যানবাহন হলে এক হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যেত। কিন্তু বালু চরে অন্য কোনো যানবাহন আনায়াসে চলাচল করতে পারবে না।
একই দাবি করে বেলকা চরের শিপন মিয়া বলেন, ‘শুধু ধান নয়, চাষাবাদের জন্য যা প্রয়োজন সার, বীজ থেকে শুরু করে যাবতীয় উপকরণ বহনে ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প আর কোনো যানবাহন নেই। যার জন্য পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় মুনাফা কম হচ্ছে।
বেলকা চরের গাড়োয়ান সাইফুল ইসলাম বলেন, সারাদিন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে ১ হাজার হতে দেড় হাজার টাকা আসে। ঘোড়ার খাবার এবং গাড়ির গাড়ির পিছনে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। পানি হলে তো গাড়ি চালানো যায় না। সব সময় ভাড়া হয় না।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষি জোনে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ফসল চাষাবাদের পর তা বাজারজাত করছে। কিন্তু চরের কৃষকের একটাই দুঃখ চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ, সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণের কোনো ব্যবস্থা নাই। সে কারণে চাষিরা বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। তাছাড়া যানবাহন না থাকায় চরাঞ্চল হতে চাষিরা উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটিতে পলি জমে থাকার কারণে অনেক ঊর্বর। সে কারণে রাসায়নিক সার ছাড়াই বিভিন্ন ফসলের ফলন ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভুট্টা, গম, আলু, মরিচ, পিয়াজ, রসুন, সরিষা, তিল, তিশিসহ শাকসবজি এবং নানা জাতের ধান চাষ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা নানাবিধ ফসল চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে দিনের পর দিন। কিন্তু পণ্য সরবরাহের জন্য যানবাহন সংকট রয়েছে। ঘোড়ার গাড়ি এখন চরের একমাত্র ভরসা।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
সুন্দরগঞ্জের বেলকা চর হতে আমন ধানের আটি ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা -সংবাদ
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
চরাঞ্চলের একমাত্র যানবাহন এখন ঘোড়ার গাড়ি। চরের বালুর মধ্যে এ গাড়িগুলো অনায়াসে চলাচল করতে পারার জন্য ঘোড়ার গাড়ির জনপ্রিয়তা বা চাহিদা বেশি। চরে যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হওয়ায় ঘোড়ার গাড়ি পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠছে। ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল বহন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাজারও গাড়োয়ান।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে এখন এসব গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। এককালের খরস্রোতা এ নদীটি খনন হয় না দীর্ঘদিন। ফলে শীত মৌসুমে নদীটি রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে। এতে ভাঙনের শিকার হয়ে জমি-জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো চাষাবাদ করছেন নানান ফসল। এসব পণ্য বহনে ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র ভরসা চরবাসীর।
হরিপুর চরের আনছার আলীর বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। জমি হতে ধান মাড়াইয়ের স্থান প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। দিনমজুরের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। সে কারণে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া কোনো উপায় নেই। দুই জমির ধান বহন করে নিয়ে যেতে গাড়োয়ানদের দিতে হবে ২ হাজার টাকা। যান্ত্রিক যানবাহন হলে এক হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যেত। কিন্তু বালু চরে অন্য কোনো যানবাহন আনায়াসে চলাচল করতে পারবে না।
একই দাবি করে বেলকা চরের শিপন মিয়া বলেন, ‘শুধু ধান নয়, চাষাবাদের জন্য যা প্রয়োজন সার, বীজ থেকে শুরু করে যাবতীয় উপকরণ বহনে ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প আর কোনো যানবাহন নেই। যার জন্য পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় মুনাফা কম হচ্ছে।
বেলকা চরের গাড়োয়ান সাইফুল ইসলাম বলেন, সারাদিন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে ১ হাজার হতে দেড় হাজার টাকা আসে। ঘোড়ার খাবার এবং গাড়ির গাড়ির পিছনে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। পানি হলে তো গাড়ি চালানো যায় না। সব সময় ভাড়া হয় না।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষি জোনে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ফসল চাষাবাদের পর তা বাজারজাত করছে। কিন্তু চরের কৃষকের একটাই দুঃখ চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ, সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণের কোনো ব্যবস্থা নাই। সে কারণে চাষিরা বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। তাছাড়া যানবাহন না থাকায় চরাঞ্চল হতে চাষিরা উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটিতে পলি জমে থাকার কারণে অনেক ঊর্বর। সে কারণে রাসায়নিক সার ছাড়াই বিভিন্ন ফসলের ফলন ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভুট্টা, গম, আলু, মরিচ, পিয়াজ, রসুন, সরিষা, তিল, তিশিসহ শাকসবজি এবং নানা জাতের ধান চাষ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা নানাবিধ ফসল চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে দিনের পর দিন। কিন্তু পণ্য সরবরাহের জন্য যানবাহন সংকট রয়েছে। ঘোড়ার গাড়ি এখন চরের একমাত্র ভরসা।