alt

সারাদেশ

উপকূল ঘিরে ফের সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার : বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

কক্সবাজার উপকূলে শরৎ মৌসুমের শুরুতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচার চক্র। পাচারকারী চক্রের প্রধান টার্গেটে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় অন্তত দুই শতাধিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ জন মানবপাচারকারী আটক হলেও স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপ্রতুল তৎপরতার কারণে বেপরোয়া পাচার বাণিজ্য করছে মানবপাচারের একটি বড় সিন্ডিকেট। বর্তমানে তারা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলকে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দালালচক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের জিম্মি করে। তবে অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে দালালদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, যার পাশেই সমুদ্র উপকূল। এতে রয়েছে ডিঙি নৌকা। আর ডিঙি নৌকার পয়েন্টগুলো ব্যবহার হচ্ছে মানবপাচারের ট্রানজিট হিসেবে।

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য ক্যাম্পে প্রচারণা চালাচ্ছে কয়েকটি দালালচক্র। তারপর সাধারণ রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে রাতের আঁধারে আনা হচ্ছে উপকূলবর্তী ঘাটে। এরপর স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় উপকূলের ডিঙি নৌকার মাধ্যমে তুলে দেয়া হচ্ছে সাগরে থাকা বড় ট্রলারে।

মূলত রোহিঙ্গা দালালরাই সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের এ রুটটি আবিষ্কার করে। অস্বচ্ছল ও বেকার যুবকদের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নগদ ১০ থেকে ২০ হাজার ও দেড়-দুই লাখ টাকা বাকিতে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার শর্তে ফাঁদে ফেলছে, বিশেষ করে যুবকদের। মালয়েশিয়া যাবার জন্য চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ছোট নৌকাযোগে উপকূল থেকে সমুদ্রে বড় জাহাজে তুলে দেয়া হয়। সেই ট্রলারে ১০ দিন পর থাইল্যান্ড পৌঁছে দেয়। থাইল্যান্ডে অবস্থানের সময় ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করা হয়। মুক্তিপণ পেলে মালয়েশিয়ার জঙ্গলে বিভিন্ন খামারে শ্রমিক হিসেবে পাঠানো হয়। কারও মুক্তিপণ পাওয়া না গেলে তাদেরকে থাইল্যান্ডে দাস শ্রমিক হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়। অথবা দিনের পর দিন সেখানে নির্যাতন চালানো হয়। এমন নির্যাতনে মারাও গেছেন অনেকেই।

মাস ধরে মানব পাচারকারী চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চক্রগুলো কয়েকটি চালান পাচার করে দিয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে। এসব চক্রে রয়েছে মহেশখালী, উখিয়া, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফের অন্তত শতাধিক পাচারকারী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কাজে জড়িত অন্তত ৫০০ দালালকে তারা চিহ্নিত করেছে। এদের অবস্থান দেশের ১৮টি জেলায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপ ও উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলে পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো মানবপাচার করে থাকে। উল্লেখিত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ মেরিন ড্রাইভ উপকূলের কাছে হওয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজে মানবপাচার করে থাকে।

জানাগেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে কৌশলে পালিয়ে দালালের হাত ধরে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে গত ৪ অক্টোবর ও ২০ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ৬০ জন। এদের মাঝে ২০ জন বাংলাদেশি বাকিরা রোহিঙ্গা। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ১৫ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ-বিজিবি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দালাল চক্র মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে দু’দিন ধরে সাগরে এদিক-ওদিক ঘোরানোর পর থাইল্যান্ডের তীরে পৌঁছেছি বলে টেকনাফের সৈকতে ১৪ রোহিঙ্গাকে নামিয়ে দেয়।

পরে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে। একই বছর ৭ নভেম্বর একইভাবে আরও ৩৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ সময় ৬ দালালকেও আটক করা হয়। আইনশৃংখলা বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় গত বছরের ৬ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৪৯ জন রোহিঙ্গা ও ২১ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশিরভাগই নারী।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও বাহারছড়া উপকূল দিয়ে বেশিরভাগ মানুষ মালয়েশিয়া যাচ্ছে। টেকনাফ মানব পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হলেও পাচারকারী চক্রের বিস্তৃতি রয়েছে মহেশখালী থেকে একেবারে মালয়েশিয়া পর্যন্ত। মহেশখালীতে পাচারকারী চক্রের প্রধান ‘ঘাঁটি’ হচ্ছে কুতুবজোন ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছে অন্তত অর্ধশত মানব পাচারকারী। উখিয়ার সোনারপাড়া, মনখালীর শামলাপুরসহ আশেপাশের এলাকায় শতাধিক এবং টেকনাফে রয়েছে আরও অর্ধশত পাচারকারী। এসব পাচারকারীদের সমন্বয়ে পৃথকভাবে রয়েছে ২০টিরও বেশি চক্র।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, উপকূলের বেশিরভাগ ঘাটে অন্তত দুই শতাধিক মানবপাচারকারী সক্রিয় রয়েছে। প্রতিরাতে মানবপাচার হয়। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার পর্যাপ্ত তথ্যসহ উপস্থাপন করলেও রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেছেন।

অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে দালালদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তে সব তথ্য বের হয়ে আসবে; এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

ছবি

ফরিদপুরে নাইমার পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক

ছবি

ইজতেমা মাঠ পেলেন জুবায়েরপন্থীরা, একতরফা সিদ্ধান্ত বলে প্রতিক্রিয়া

ফসলি জমির মাটিতে ইট : জরিমানা অর্ধলাখ

অসৎ পথে উপার্জন কেউ ভোগ করতে পারবে না : দুদক সচিব

ছবি

কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীরা : স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত গারো পাহাড়ের মানুষ

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার

সোনারগাঁয়ে লোকজ উৎসবে উদীচীর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

চসিকের পরিচালকের ওপর হামলা প্রতিবাদে এলজিইডির কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন

ছবি

সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া নিয়ে উত্তজেনা- পরে পতাকা বৈঠক

চসিকের পরিচালকের ওপর হামলা প্রতিবাদে এলজিইডির কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন

ছবি

আওয়ামী লীগ নয়, দল করি শেখ মুজিবুর রহমানের: কাদের সিদ্দিকী

ছবি

এক যুগেও সংস্কার না হওয়ায় লোহার সেতু মরনফাঁদ

গরু চোরদের মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মা

পুড়ে ছাই বসতঘর

দুই শিশুকে হত্যার দায়ে এক নারীর মৃত্যুদন্ড

ছবি

নানীকে কুপিয়ে হত্যার : নাতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি

১০ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি নিয়ে ভাতিজাকে হত্যা

ছবি

অটোরিকশার ধাক্কায় ছিটকে পড়ে ট্রাক চাপায় নিহত

ছবি

আনসার মহা পরিচালক মেজর জেনারেল একে এম আমিনুল হকের শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি

সীমান্ত সড়কের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন সেনাপ্রধানের

রাজশাহীতে ইএসডিও-রেসকিউ প্রকল্প ও রেঁস্তোরা মালিক সমিতির মতবিনিময়

ছবি

এলজিইডির কর্মকর্তাকে মারধরের প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন

নাজিরপুরে নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু

ছবি

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার আহবান

ছবি

নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদকে উদ্ধার ও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ

ছবি

সাভারে জমি নিয়ে বিরোধে দুইজন গুলিবিদ্ধ

ছবি

কার্যালয়ে ঢুকে প্রকল্প পরিচালককে মারধর, গ্রেপ্তার ৩

ছবি

খুলনায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ছবি

উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহে কমবে

সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা সেই ভূমি কর্মকর্তা বদলি

ছবি

রুমায় পাহাড়ের গহীনে গোলাগুলি, আতঙ্কে জনমানবশূন্য বসতি

ছবি

বান্দরবানের রুমায় ‘কেএনএফ সদস্যের’ গুলিবিদ্ধ লাশ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ছবি

পালাব না, ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব: রাজশাহীতে কাদের

ছবি

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ

বাগেরহাটে এবার এসএসসি ফরম পূরনে ব্যর্থ হয়ে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

tab

সারাদেশ

উপকূল ঘিরে ফের সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

কক্সবাজার উপকূলে শরৎ মৌসুমের শুরুতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচার চক্র। পাচারকারী চক্রের প্রধান টার্গেটে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় অন্তত দুই শতাধিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ জন মানবপাচারকারী আটক হলেও স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপ্রতুল তৎপরতার কারণে বেপরোয়া পাচার বাণিজ্য করছে মানবপাচারের একটি বড় সিন্ডিকেট। বর্তমানে তারা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলকে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দালালচক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের জিম্মি করে। তবে অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে দালালদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, যার পাশেই সমুদ্র উপকূল। এতে রয়েছে ডিঙি নৌকা। আর ডিঙি নৌকার পয়েন্টগুলো ব্যবহার হচ্ছে মানবপাচারের ট্রানজিট হিসেবে।

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য ক্যাম্পে প্রচারণা চালাচ্ছে কয়েকটি দালালচক্র। তারপর সাধারণ রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে রাতের আঁধারে আনা হচ্ছে উপকূলবর্তী ঘাটে। এরপর স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় উপকূলের ডিঙি নৌকার মাধ্যমে তুলে দেয়া হচ্ছে সাগরে থাকা বড় ট্রলারে।

মূলত রোহিঙ্গা দালালরাই সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের এ রুটটি আবিষ্কার করে। অস্বচ্ছল ও বেকার যুবকদের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নগদ ১০ থেকে ২০ হাজার ও দেড়-দুই লাখ টাকা বাকিতে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার শর্তে ফাঁদে ফেলছে, বিশেষ করে যুবকদের। মালয়েশিয়া যাবার জন্য চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ছোট নৌকাযোগে উপকূল থেকে সমুদ্রে বড় জাহাজে তুলে দেয়া হয়। সেই ট্রলারে ১০ দিন পর থাইল্যান্ড পৌঁছে দেয়। থাইল্যান্ডে অবস্থানের সময় ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করা হয়। মুক্তিপণ পেলে মালয়েশিয়ার জঙ্গলে বিভিন্ন খামারে শ্রমিক হিসেবে পাঠানো হয়। কারও মুক্তিপণ পাওয়া না গেলে তাদেরকে থাইল্যান্ডে দাস শ্রমিক হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়। অথবা দিনের পর দিন সেখানে নির্যাতন চালানো হয়। এমন নির্যাতনে মারাও গেছেন অনেকেই।

মাস ধরে মানব পাচারকারী চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চক্রগুলো কয়েকটি চালান পাচার করে দিয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে। এসব চক্রে রয়েছে মহেশখালী, উখিয়া, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফের অন্তত শতাধিক পাচারকারী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কাজে জড়িত অন্তত ৫০০ দালালকে তারা চিহ্নিত করেছে। এদের অবস্থান দেশের ১৮টি জেলায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপ ও উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলে পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো মানবপাচার করে থাকে। উল্লেখিত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ মেরিন ড্রাইভ উপকূলের কাছে হওয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজে মানবপাচার করে থাকে।

জানাগেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে কৌশলে পালিয়ে দালালের হাত ধরে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে গত ৪ অক্টোবর ও ২০ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ৬০ জন। এদের মাঝে ২০ জন বাংলাদেশি বাকিরা রোহিঙ্গা। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ১৫ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ-বিজিবি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দালাল চক্র মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে দু’দিন ধরে সাগরে এদিক-ওদিক ঘোরানোর পর থাইল্যান্ডের তীরে পৌঁছেছি বলে টেকনাফের সৈকতে ১৪ রোহিঙ্গাকে নামিয়ে দেয়।

পরে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে। একই বছর ৭ নভেম্বর একইভাবে আরও ৩৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ সময় ৬ দালালকেও আটক করা হয়। আইনশৃংখলা বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় গত বছরের ৬ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৪৯ জন রোহিঙ্গা ও ২১ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশিরভাগই নারী।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও বাহারছড়া উপকূল দিয়ে বেশিরভাগ মানুষ মালয়েশিয়া যাচ্ছে। টেকনাফ মানব পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হলেও পাচারকারী চক্রের বিস্তৃতি রয়েছে মহেশখালী থেকে একেবারে মালয়েশিয়া পর্যন্ত। মহেশখালীতে পাচারকারী চক্রের প্রধান ‘ঘাঁটি’ হচ্ছে কুতুবজোন ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছে অন্তত অর্ধশত মানব পাচারকারী। উখিয়ার সোনারপাড়া, মনখালীর শামলাপুরসহ আশেপাশের এলাকায় শতাধিক এবং টেকনাফে রয়েছে আরও অর্ধশত পাচারকারী। এসব পাচারকারীদের সমন্বয়ে পৃথকভাবে রয়েছে ২০টিরও বেশি চক্র।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, উপকূলের বেশিরভাগ ঘাটে অন্তত দুই শতাধিক মানবপাচারকারী সক্রিয় রয়েছে। প্রতিরাতে মানবপাচার হয়। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার পর্যাপ্ত তথ্যসহ উপস্থাপন করলেও রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেছেন।

অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে দালালদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তে সব তথ্য বের হয়ে আসবে; এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

back to top