alt

আওয়ামী লীগ আমলের কারখানা চালু রাখার পক্ষে ফখরুল

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ আমলের কারখানাগুলো বন্ধ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এসব কারখানায় প্রচুর মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলো বন্ধ হলে তারা বেকার হয়ে যাবেন।’ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নেই জানিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তারা বলেন, যেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’

জামায়াত বলছেন দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই

গত ১৫ বছর যারা লুট করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান ফকরুলের

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য জামায়াতের আমিরের

শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫-এ মির্জা ফখরুল ও শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপি সব সময় অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অর্থনীতিকে। অর্থনীতি সবচেয়ে সচল থেকেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আসলে চিন্তাভাবনাটাও পরিবর্তন করা দরকার...। গত ১৫ বছর যারা লুট করেছেন, চুরি করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। লুটপাট করে নিয়ে চলে গেছেন। তাদের ধরেন, তাদের শাস্তি দেন। তাদের যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো, শিল্পকারখানা আছে সেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছে। সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে ১৪ লাখ বেকার হয়ে গেছে। এই লোকগুলো যাবে কোথায়? এই বেকারত্বটা আমরা সৃষ্টি করছি কেন? আমি মনে করি, বিষয়টা আমাদের আবারও ভেবে দেখা উচিত। এই কারখানাগুলোকে আমরা কীভাবে চালু করতে পারি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা কীভাবে এই মানুষগুলোর কর্মসংস্থানে সৃষ্টি করতে পারি, সেটা আমাদের দেখা দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে যে বিষয়ের ওপরে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই, সেটা হচ্ছে সাধারণ মানুষগুলো যেন ভালো থাকে। আমাদের কৃষকরা যেন ভালো থাকে, তার সমস্যার সমাধান যেন করা যায়, আমাদের শ্রমিকরা যেন তাদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য পায় এবং অর্থনীতিতে যেন একটা স্থিতি অবস্থা থাকে।’

কৃষকদের ঠিকমতো সার-বীজ পৌঁছাতে পারলে আরও বেশি অর্জন করা সম্ভব হবে বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আপনারা একটা জিনিস খেয়াল করে দেখুন, ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়, সেই সময় বাংলাদেশের তৎকালীন জনগণ ছিল সাড়ে সাত কোটি; খাদ্যঘাটতি ছিল ২৮ লাখ মেট্রিক টন। সেই বাংলাদেশ কিন্তু এখন প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই খাতে আমরা যথেষ্ট অর্জন করেছি।’

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা দরকার এবং শিক্ষা খাতকে আমূল পরিবর্তন করে জনগণের উন্নয়নের উপযোগী করতে হবে বলেন বিএনপির এ নেতা।

জুলাই সনদে সইয়ের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের অনেক প্রস্তাব বিএনপি অনেক আগেই দিয়েছে। ২০১৬ সালে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ৩০ দিয়েছিলেন। আজকে যে বিষয়গুলো আমরা একমত হয়েছি, তার অনেক বিষয় সেখানে কিন্তু ছিল। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। যার মধ্যে আজকের ইকোনমিক রিফর্ম (সংস্কার), পলিটিক্যাল রিফর্ম প্রায় সব বিষয় এখানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে আমরা বাংলাদেশকে সব সময়ই একটা নতুন বাংলাদেশ শুধু নয়, আমরা একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছি...।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তারা বলেন, ‘সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’ সে রকম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ হিসেবে দেখে না। আমাদের দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তারা বিনিয়োগ করতে চান না।’

দেশ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা জাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্নীতিকে মূল থেকে দূর করতে হবে। তাহলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।’

দুর্নীতির কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে অনুৎসাহিত করছে যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিনিয়োগ করছেন না। অনেকেই শুধু যে ব্যবসা আছে, তা বাঁচাতে ধরে রাখতে ব্যস্ত।’

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যেতে পারে বলেন তিনি। তা না হলে ১৮ কোটি মানুষের জায়গায় ১৮ লাখ হলেও সমাজ সাজানো যাবে না বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব ও ধনী সবাই অবদান রাখছেন। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও দেন, আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও দেন। ভিক্ষুক সারাদিনে ১০, ২০ কিংবা ১০০ টাকা যা আয় করেন, সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে কিছু কিনলে ট্যাক্স দিতে হয়। নবজাতকের কিছু কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয় অর্থাৎ নব্য শিশুও ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি ঋণও সমভাবে সব বয়সী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ- সবার ওপর ঋণের বোঝা পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে দায়িত্বটা কে নেবে, এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।’

ছবি

ডলার সংকট নেই, রোজার পণ্য আমদানি নিয়ে শঙ্কা নেই: গভর্নর

ছবি

পুঁজিবাজারে মূলধন বেড়েছে ২০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা

ছবি

খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর

ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু আগামী সপ্তাহে

ছবি

সাউথইস্ট ব্যাংকের নতুন এমডি খালিদ মাহমুদ

ছবি

তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত

ছবি

জ্বালানি নিরাপত্তা শিল্পখাতের টেকসই উন্নয়নে অন্যতম অনুষঙ্গ: ডিসিসিআই

ছবি

প্রথমবারের মতো দেশে আলু উৎসব হবে ডিসেম্বরে

ছবি

এখন পর্যন্ত ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০ লাখের বেশি করদাতা

ছবি

খেলাপি ঋণের চাপ মোকাবিলায় ৫–১০ বছরের সময় লাগতে পারে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

ছবি

শীতের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবুও কমছে না দাম

ছবি

ব্যাংক মার্জার: এক কাঠামোতে এনে কমছে ৫ ব্যাংকের বেতন

ছবি

ব্যাংক খাতে যে এত ‘রোগ’ আগে জানা-ই যায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ছবি

আরও ৯ ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিলো ডিএসই

ছবি

বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসুন, সুবিধা দিতে সরকার বাধ্য: বাণিজ্য উপদেষ্টা

ছবি

অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সরকার ব্যবসায়ীদের চিৎকার শুনছে না: আনোয়ার উল আলম চৌধুরী

ডিএসই ও সিএসইর নতুন ব্যবস্থা, এখন অনলাইনেই সব নথি জমা দেয়া যাবে

ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরে ভুটানের ট্রানজিটের চতুর্থ চালান খালাস

ছবি

ডিসেম্বরে ওয়ান স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস ও আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ চালু করবে ডিএসই

ছবি

ঢাকায় প্রথমবারের মতো হচ্ছে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো

ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক আর বিএসইসির শীর্ষ ব্যক্তিরাও ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন

ছবি

আর্থিক সেবার অন্তর্ভুক্ত ৭৫ শতাংশ গ্রাহকই ডিজিটাল সেবার বাইরে

ছবি

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

ছবি

অপরিহার্য না হলে নির্বাচন পর্যন্ত বিদেশ যেতে পারবেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা

ছবি

সূচকের পতন, কমেছে লেনদেনও

ছবি

ন্যূনতম মজুরি চান ট্যানারিশ্রমিকেরা

ছবি

খসড়া আইপিও রুলস নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক

ছবি

বেক্সিমকোর কারখানা- সদর দপ্তর নিলামে তুললো জনতা ব্যাংক

ছবি

দারিদ্রসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

ছবি

অর্থনৈতিক শুমারিতে বাদ পড়েছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ইউনিট

ছবি

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে

ছবি

২২৭ কোম্পানির দরপতন, সামান্য বেড়েছে লেনদেন

ছবি

প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় পাচ্ছে আরও ৮ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান

ছবি

নভেম্বরের মধ্যে খেলাপি হওয়া ঋণের জন্যও নীতি সহায়তা

ছবি

এনবিআরের ১৭ জনের সম্পদ জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুদক

ছবি

অ্যামাজন ও আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

tab

আওয়ামী লীগ আমলের কারখানা চালু রাখার পক্ষে ফখরুল

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ আমলের কারখানাগুলো বন্ধ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এসব কারখানায় প্রচুর মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলো বন্ধ হলে তারা বেকার হয়ে যাবেন।’ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নেই জানিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তারা বলেন, যেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’

জামায়াত বলছেন দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই

গত ১৫ বছর যারা লুট করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান ফকরুলের

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য জামায়াতের আমিরের

শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫-এ মির্জা ফখরুল ও শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপি সব সময় অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অর্থনীতিকে। অর্থনীতি সবচেয়ে সচল থেকেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আসলে চিন্তাভাবনাটাও পরিবর্তন করা দরকার...। গত ১৫ বছর যারা লুট করেছেন, চুরি করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। লুটপাট করে নিয়ে চলে গেছেন। তাদের ধরেন, তাদের শাস্তি দেন। তাদের যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো, শিল্পকারখানা আছে সেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছে। সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে ১৪ লাখ বেকার হয়ে গেছে। এই লোকগুলো যাবে কোথায়? এই বেকারত্বটা আমরা সৃষ্টি করছি কেন? আমি মনে করি, বিষয়টা আমাদের আবারও ভেবে দেখা উচিত। এই কারখানাগুলোকে আমরা কীভাবে চালু করতে পারি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা কীভাবে এই মানুষগুলোর কর্মসংস্থানে সৃষ্টি করতে পারি, সেটা আমাদের দেখা দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে যে বিষয়ের ওপরে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই, সেটা হচ্ছে সাধারণ মানুষগুলো যেন ভালো থাকে। আমাদের কৃষকরা যেন ভালো থাকে, তার সমস্যার সমাধান যেন করা যায়, আমাদের শ্রমিকরা যেন তাদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য পায় এবং অর্থনীতিতে যেন একটা স্থিতি অবস্থা থাকে।’

কৃষকদের ঠিকমতো সার-বীজ পৌঁছাতে পারলে আরও বেশি অর্জন করা সম্ভব হবে বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আপনারা একটা জিনিস খেয়াল করে দেখুন, ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়, সেই সময় বাংলাদেশের তৎকালীন জনগণ ছিল সাড়ে সাত কোটি; খাদ্যঘাটতি ছিল ২৮ লাখ মেট্রিক টন। সেই বাংলাদেশ কিন্তু এখন প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই খাতে আমরা যথেষ্ট অর্জন করেছি।’

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা দরকার এবং শিক্ষা খাতকে আমূল পরিবর্তন করে জনগণের উন্নয়নের উপযোগী করতে হবে বলেন বিএনপির এ নেতা।

জুলাই সনদে সইয়ের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের অনেক প্রস্তাব বিএনপি অনেক আগেই দিয়েছে। ২০১৬ সালে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ৩০ দিয়েছিলেন। আজকে যে বিষয়গুলো আমরা একমত হয়েছি, তার অনেক বিষয় সেখানে কিন্তু ছিল। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। যার মধ্যে আজকের ইকোনমিক রিফর্ম (সংস্কার), পলিটিক্যাল রিফর্ম প্রায় সব বিষয় এখানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে আমরা বাংলাদেশকে সব সময়ই একটা নতুন বাংলাদেশ শুধু নয়, আমরা একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছি...।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তারা বলেন, ‘সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’ সে রকম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ হিসেবে দেখে না। আমাদের দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তারা বিনিয়োগ করতে চান না।’

দেশ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা জাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্নীতিকে মূল থেকে দূর করতে হবে। তাহলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।’

দুর্নীতির কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে অনুৎসাহিত করছে যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিনিয়োগ করছেন না। অনেকেই শুধু যে ব্যবসা আছে, তা বাঁচাতে ধরে রাখতে ব্যস্ত।’

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যেতে পারে বলেন তিনি। তা না হলে ১৮ কোটি মানুষের জায়গায় ১৮ লাখ হলেও সমাজ সাজানো যাবে না বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব ও ধনী সবাই অবদান রাখছেন। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও দেন, আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও দেন। ভিক্ষুক সারাদিনে ১০, ২০ কিংবা ১০০ টাকা যা আয় করেন, সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে কিছু কিনলে ট্যাক্স দিতে হয়। নবজাতকের কিছু কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয় অর্থাৎ নব্য শিশুও ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি ঋণও সমভাবে সব বয়সী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ- সবার ওপর ঋণের বোঝা পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে দায়িত্বটা কে নেবে, এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।’

back to top