image

অর্থমন্ত্রী: এবারও সিলেট প্রথার ব্যতিক্রম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

সেই ১৯৯১ সাল থেকে শুরু, প্রায় তিন দশক বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সিলেটের লোক। মাঝে দু’বছরের বিরতি ছিলো অনির্বাচিত সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের ২০০৭-০৮ সময়কালে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও ১৯৯১ সাল থেকে সিলেট অঞ্চলের অর্থমন্ত্রী যেন একরকম নিয়ম বা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

২০১৯ সালে এসে সেই সিলেট প্রথার ব্যতিক্রম হয়। সেবার দীর্ঘদিন পর সিলেটের বাইরের কেউ রাজনৈতিক দলীয় সরকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তখন কুমিল্লার আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এর পরের বারও সিলেটের বাইরের কেউ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পঞ্চম সরকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি ২০২৪ এর জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসন থেকে সংসদে গিয়েছিলেন। তবে তিনি ৭ মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পরেন নাই। জনরোষে গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সেই সরকারের পতন হয়।

এবারও সিলেটের বাইরে থেকে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রীসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেট প্রথার শুরু ১৯৯১ সালে। তখন খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার গঠনের পর মৌলভীবাজারের রাজনীতিক এম. সাইফুর রহমানকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রথম দফায় ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর আবারও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।

মাঝে ১৯৯৬ সালে সরকার পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান হবিগঞ্জের শাহ এএমএস কিবরিয়া। তিনি ১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০৯ সালে আবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি দুই মেয়াদ ৬ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত টানা প্রায় এক দশক দায়িত্বে ছিলেন।

এইভাবে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাঝে দু’বছরের বিরতি দিয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিদের হাতে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিষয়টি এক ধরনের আঞ্চলিক ধারাবাহিকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এর বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন সময়ও এসেছে যখন অনির্বাচিত ব্যবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন ভিন্ন ব্যক্তিরা। ২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সাবেক গভর্নর এ. বি. মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। তার বাড়ি ছিল পাবনা। তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের শুরু পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল একটি অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ।

পরবর্তীতে ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেল পাওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই সরকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তিনি ২০২৪ এর আগস্ট থেকে এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।

তবে এই সরকারও নির্বাচিত ছিল না। বরং বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি