পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে রাসায়নিকের কারখানাগুলো সরিয়ে নিতে শ্যামপুরে ৬ দশমিক ১৭ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় ৫৪টি গুদাম। উদ্বোধনের দুই বছরেও বেশিরভাগ গুদাম খালি পড়ে আছে -সংবাদ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলছেন, পুরান ঢাকার কোনো রাসায়নিক গুদামে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কোনো লাইসেন্স নেই। আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলছি, এই মুহূর্তে পুরান ঢাকায় কোনো লাইসেন্স নেই। হয়তো অতীতে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন কোনো লাইসেন্স নেই।
শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) ডেইলি স্টার সেন্টারে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিল্প খাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব বলেন।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুরান ঢাকায় ২ হাজার ৫০০ রাসায়নিক গুদামের লাইসেন্স আছে এ রকম একটা বিষয় শোনা গিয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, সেখানে কোনো লাইসেন্স নেই। আমরা দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এটা বন্ধ রেখেছি। আমি নিজেই এখানে ৩ বছর ধরে আছি, আমার সময়কালে কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়নি, এমনকি নবায়নও করা হয়নি। আর এর আগের যত লাইসেন্স এগুলো সবই বাতিল। সুতরাং পুরান ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল এরিয়াতে যতগুলো গোডাউন রয়েছে তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততাই নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ওখানকার ইন্সপেক্টরকে আমি বলেছি, ওখানে পরিদর্শন অন্যান্য কার্যক্রম চলবে, মোবাইল কোর্ট চলবে। কিন্তু লাইসেন্স দেয়ার ইস্যুতে একেবারে অনর আমরা। এটা একেবারে দিচ্ছি না। কারণ তাদের কিন্তু গভমেন্ট নির্ধারিত একটা জায়গা দিয়েছে, সেই জায়গায় না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পুরান ঢাকার কোনো কার্যক্রম করছি না।
অগ্নি নির্বাপণ এবং ঝুঁকি প্রতিরোধে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা টোটাল আটটা পয়েন্ট নোট করেছি। এর মধ্যে সব ক্ষেত্রেই যেই সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো মূল্যায়ন করাটা খুবই জরুরি। এই মুহূর্তে এইট প্রেজেন্ট যে ফায়ার রিসক এসেসমেন্ট এইটা এখন আমাদের দ্রুত এসেস করতে হবে। আমরা যাতে বুঝতে পারি মানে জোনভিত্তিক অথবা ফায়ারের রিস্কের যেই মাত্রা সেই মাত্রা হিসেবে দ্রুত এই ফায়ারের রিস্কের এসেসমেন্টটা করা দরকার। কোনো আবাসিক জায়গায় কখনো কোনো গোডাউন কেমিক্যাল গোডাউন অথবা ইন্ডাস্ট্রিস এটা হতে পারে না। এটা হতে গেলে অবশ্যই আমাদের ওই এলাকার কমিউনিটি এফেক্ট হবে।
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের পরিদর্শক রয়েছেন ২৬৮ জন। সারা বাংলাদেশের এরিয়া যদি ভাগ করি এটা আসলে খুবই মানে খুবই নগণ্য এবং এটা আসলে কাভার করাটা মানে নিয়ারলি ইম্পসিবল। কিন্তু তারা এই চেষ্টাটা করে যাচ্ছে। আমাদের এই গ্যাপ পূরণ করার জন্য আমাদের যে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনগুলো রয়েছে, সেই স্টেশনের যে স্টেশন অফিসার তারা কিন্তু প্রতি শনিবারে (গতকাল) টোপোগ্রাফি করে।
অবৈধ গোডাউন উচ্ছেদের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ওই জেলা প্রশাসনের যে ম্যাজিস্ট্রেট সেই ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরেই আমাদের নির্ভর করতে হয়। সুতরাং এখানে আমাদের একটা বড় দুর্বলতা যে আমরা চাইলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি না। এ কারণে হয়তো আপনারা ভ্রাম্যমাণ আদালত যেভাবে আশা করেন সেভাবে আমরা দিতে পারছি না।
এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, কর্মজীবী নারীর প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আখতার মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডাব্লিউএস) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, বিজিএমইএর সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি লিড মোরিয়াম নেসা এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে রাসায়নিকের কারখানাগুলো সরিয়ে নিতে শ্যামপুরে ৬ দশমিক ১৭ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় ৫৪টি গুদাম। উদ্বোধনের দুই বছরেও বেশিরভাগ গুদাম খালি পড়ে আছে -সংবাদ
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলছেন, পুরান ঢাকার কোনো রাসায়নিক গুদামে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কোনো লাইসেন্স নেই। আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলছি, এই মুহূর্তে পুরান ঢাকায় কোনো লাইসেন্স নেই। হয়তো অতীতে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন কোনো লাইসেন্স নেই।
শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) ডেইলি স্টার সেন্টারে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিল্প খাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব বলেন।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুরান ঢাকায় ২ হাজার ৫০০ রাসায়নিক গুদামের লাইসেন্স আছে এ রকম একটা বিষয় শোনা গিয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, সেখানে কোনো লাইসেন্স নেই। আমরা দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এটা বন্ধ রেখেছি। আমি নিজেই এখানে ৩ বছর ধরে আছি, আমার সময়কালে কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়নি, এমনকি নবায়নও করা হয়নি। আর এর আগের যত লাইসেন্স এগুলো সবই বাতিল। সুতরাং পুরান ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল এরিয়াতে যতগুলো গোডাউন রয়েছে তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততাই নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ওখানকার ইন্সপেক্টরকে আমি বলেছি, ওখানে পরিদর্শন অন্যান্য কার্যক্রম চলবে, মোবাইল কোর্ট চলবে। কিন্তু লাইসেন্স দেয়ার ইস্যুতে একেবারে অনর আমরা। এটা একেবারে দিচ্ছি না। কারণ তাদের কিন্তু গভমেন্ট নির্ধারিত একটা জায়গা দিয়েছে, সেই জায়গায় না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পুরান ঢাকার কোনো কার্যক্রম করছি না।
অগ্নি নির্বাপণ এবং ঝুঁকি প্রতিরোধে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা টোটাল আটটা পয়েন্ট নোট করেছি। এর মধ্যে সব ক্ষেত্রেই যেই সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো মূল্যায়ন করাটা খুবই জরুরি। এই মুহূর্তে এইট প্রেজেন্ট যে ফায়ার রিসক এসেসমেন্ট এইটা এখন আমাদের দ্রুত এসেস করতে হবে। আমরা যাতে বুঝতে পারি মানে জোনভিত্তিক অথবা ফায়ারের রিস্কের যেই মাত্রা সেই মাত্রা হিসেবে দ্রুত এই ফায়ারের রিস্কের এসেসমেন্টটা করা দরকার। কোনো আবাসিক জায়গায় কখনো কোনো গোডাউন কেমিক্যাল গোডাউন অথবা ইন্ডাস্ট্রিস এটা হতে পারে না। এটা হতে গেলে অবশ্যই আমাদের ওই এলাকার কমিউনিটি এফেক্ট হবে।
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের পরিদর্শক রয়েছেন ২৬৮ জন। সারা বাংলাদেশের এরিয়া যদি ভাগ করি এটা আসলে খুবই মানে খুবই নগণ্য এবং এটা আসলে কাভার করাটা মানে নিয়ারলি ইম্পসিবল। কিন্তু তারা এই চেষ্টাটা করে যাচ্ছে। আমাদের এই গ্যাপ পূরণ করার জন্য আমাদের যে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনগুলো রয়েছে, সেই স্টেশনের যে স্টেশন অফিসার তারা কিন্তু প্রতি শনিবারে (গতকাল) টোপোগ্রাফি করে।
অবৈধ গোডাউন উচ্ছেদের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ওই জেলা প্রশাসনের যে ম্যাজিস্ট্রেট সেই ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরেই আমাদের নির্ভর করতে হয়। সুতরাং এখানে আমাদের একটা বড় দুর্বলতা যে আমরা চাইলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি না। এ কারণে হয়তো আপনারা ভ্রাম্যমাণ আদালত যেভাবে আশা করেন সেভাবে আমরা দিতে পারছি না।
এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, কর্মজীবী নারীর প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আখতার মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডাব্লিউএস) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, বিজিএমইএর সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি লিড মোরিয়াম নেসা এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান।