বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্কে ইতিহাস: পাঁচ নারী নিয়ে মেয়র মামদানির প্রশাসনের সূচনা

image
পাঁচ নারী সদস্য নিয়ে নতুন প্রশাসন গঠনের কাজ শুরু করেছেন জোহরান মামদানি -এএফপি

নিউইয়র্কে ইতিহাস: পাঁচ নারী নিয়ে মেয়র মামদানির প্রশাসনের সূচনা

বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫
বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বুধবার ঘোষণা করেছেন, তিনি তাঁর প্রশাসন গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন প্রশাসন গঠনে যে ট্রানজিশন টিম গঠন করা হয়েছে, তাতে পাঁচজনই নারী। আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকেই কাজ শুরু করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠবে এক দক্ষ ও সহানুভূতিশীল সিটি হল, যা এই প্রচারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী এই নবনির্বাচিত মেয়র কুইন্সে সংবাদ সম্মেলনে পুরোপুরি নারী নেতৃত্বে গঠিত ট্রানজিশন টিম ঘোষণা করেন। এই টিমের নির্বাহী পরিচালক ইলানা লিওপোল্ড। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকছেন সাবেক ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র মারিয়া তোরেস-স্প্রিংগার, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান লিনা খান, ইউনাইটেড ওয়ের প্রেসিডেন্ট ও সিইও গ্রেস বোনিলা এবং সাবেক ডেপুটি মেয়র ফর হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস মেলানি হার্টজগ।

লিনা খানকে দলে নেওয়া মামদানির প্রশাসনে সংস্কারক নীতি প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়। জো বাইডেনের সময় এফটিসিতে আক্রমণাত্মক অ্যান্টি–ট্রাস্ট পদক্ষেপের জন্য খান জাতীয়ভাবে পরিচিত হন এবং প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল উভয় মহলে প্রশংসিত। অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করার পর প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘এই শহর আমাদের প্রস্তুত দেখতে চায়। আমাদের হাতে আছে ৫৭ দিন—এটাই কাজ শুরু করার সময়।’ তাঁর জয় নিউইয়র্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়—প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এবং শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র।

তবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুমকি দিয়েছেন, মামদানি দায়িত্ব নিলে ফেডারেল তহবিল বন্ধ করবেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘যদি মামদানি জয়ী হন, নিউইয়র্কে আমি আইনে বাধ্য না হলে ফেডারেল ফান্ড দেব না।’ প্রায়ই তিনি মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দেন।

২০২৬ অর্থবছরে নিউইয়র্কের বাজেটে ফেডারেল তহবিল প্রায় ৭৪০ কোটি ডলার, যা মোট ব্যয়ের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। নির্বাচনের দিন ট্রাম্প আরও উসকানিমূলক পোস্টে লেখেন, ‘কোনো ইহুদি যদি জোহরান মামদানিকে ভোট দেয়, সে নির্বোধ।’ যদিও মামদানি বহুবার ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা করেছেন।

প্রচারণাজুড়ে তাঁকে ঘিরে চলেছে তীব্র ইসলামবিদ্বেষী হামলা। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন ও অ্যান্ডি ওগলস বিচার বিভাগকে আহ্বান জানান মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল করতে। টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান চিপ রয় নির্বাচনের আগে লেখেন, মামদানি ‘আধুনিক ডেমোক্র্যাট দলের প্রতীক’ এবং তাঁর নেতৃত্বে ‘একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ ঘটছে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে তুলনায় অক্টোবরে মামদানিকে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট বেড়েছে ৪৫০ শতাংশ। এক মাসে ১৭ হাজার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৬ হাজার পোস্ট হয়েছে, যা ৭৩ লাখের বেশি লাইক পেয়েছে।

তবে মামদানি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক বছর যে নীতিগুলোর কথা বলেছি, আমি নিশ্চিত সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। রাজনীতি যাই হোক, নিউইয়র্কবাসীর সমস্যা একটাই আমরা সবাই একই সংকটে ভুগছি।’ মামদানির প্রগতিশীল নীতিগুলোর মধ্যে আছে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির করা, বাসে বিনা মূল্যে যাতায়াত, সর্বজনীন শিশুসেবা, শহর পরিচালিত মুদি দোকান ও ধনীদের ওপর বাড়তি কর। তাঁর প্রচার তহবিলে ২০ মিলিয়ন ডলার এসেছে সাধারণ দাতাদের কাছ থেকে, গড়ে প্রতি অনুদান প্রায় ৮০ ডলার।

মামদানির দপ্তর জানিয়েছে, শিগগিরই তাঁরা ডেপুটি মেয়র ও বিভিন্ন দপ্তরের কমিশনারদের নাম ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘কিছু নাম পরিচিত হবে, কিছু নতুন। কিন্তু সবাই এক লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ পুরোনো সমস্যার নতুন সমাধান।’ মামদানি বলেন, ‘১ জানুয়ারি যখন আমরা নতুন প্রশাসনের শপথ নেব, নিউইয়র্কবাসী তখন শুধু নতুন মেয়র নয়, নতুন এক যুগকেও স্বাগত জানাবে—যেখানে প্রত্যেকে নিজের অংশীদারত্ব অনুভব করবে, আর এই শহরের সাফল্য হবে আমাদের সবার।’

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অশ্বেতকায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রচারণার মুখে মামদানির এই বিজয় অনেকের চোখে একটি রাজনৈতিক ভূমিকম্প। শুধু ট্রাম্প প্রশাসন নয়, নিজ দলের নেতৃত্বের বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে এই জয় পুরোনো সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে। সর্বশেষ গণনা অনুসারে, ৫০ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি ভোটে মামদানি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাস্ত করেছেন। এই বিজয়কে নিজের প্রগতিশীল কর্মসূচির পক্ষে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট হিসেবে দাবি করেন মামদানি। শহরের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীকে টেনে তুলতে নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণপ্রশাসনকে ব্যবহার করতে তিনি বদ্ধপরিকর। বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করব যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সরকার সমাধান করতে পারে না।

এমন কোনো উদ্বেগ নেই, যা সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে না।’

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

» পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ

» ইমরান খানকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’, ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বললো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

» কেউ আমাদের থামাতে পারবে না: বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের পর হুমায়ূন

» ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ৯ সদস্যকে হত্যার দাবি পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর, অভিনন্দন শাহবাজের

» ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে রুশ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

» তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৭, আহত ১১

» ট্রাম্পের হস্তক্ষেপেও থামেনি কঙ্গো-রুয়ান্ডা লড়াই

» খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ভারত–সমর্থিত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর

» মানসিকভাবে ‘অস্থির’ ও ‘অসুস্থ্য‘: ইমরান, তার দল ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাল্টাপাল্টি

» আরও দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

» আরও ক্ষমতাধর আসিম মুনির, হলেন পাকিস্তানের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান

» আন্তর্জাতিক তহবিল কমায় চলতি বছর শিশুমৃত্যু বাড়তে পারে ২ লাখের বেশি

» যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ, নতুন উদ্বেগ

» দনবাস থেকে ইউক্রেন বাহিনী না সরলে ওই অঞ্চল দখলের ঘোষণা

» ক্ষমতাধর পুতিন ভারত সফরে-দিল্লি কী চায়, কী হারাতে পারে

» ট্রাম্পকে ইউরোপের শত্রু মনে করে অর্ধেক ইউরোপীয়, বলছে জরিপ

» মামদানির গ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও নিউইয়র্ক যাবেন নেতানিয়াহু

» তেল, প্রতিরক্ষা, ভূরাজনীতি: কেন ভারত সফর করছেন পুতিন

» পাকিস্তানে ২১ বছরে সর্বোচ্চ বেকারত্ব

» ইসরায়েলিদের বাধায় নিজেদের জমিতে যেতে পারেন না ফিলিস্তিনিরা