এখন থেকে ১৬ বছর বয়স হলেই নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাবেন। এ লক্ষ্যে তাদের নিবন্ধন তথ্য সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর নিবন্ধিত নাগরিকদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
মঙ্গলবার,(০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যাদের বয়স ১৬ বছর হয়েছে, তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। তাতে আমরা অগ্রিম কিছু তথ্য রাখতে পারব এবং তারা এনআইডি পাবেন।’
১৬ বা তার বেশি বয়সীদের এনআইডির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, ‘অনেক কাজে তাদের এনআইডি লাগে। যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যান, ব্যাংক হিসাব খোলা, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াসহ ছোটখাটো নানা কাজ রয়েছে। এতে এনআইডিটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।’
আখতার আহমেদ জানান, এখন থেকে ১৬ বছর বয়সী যে কেউ যে কোনো সময় নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন, এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন অফিসে বা অনলাইনেও আবেদন করা যাবে।
ইসির তথ্যানুযায়ী, ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর পর থেকে এনআইডি দেয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালে কম বয়সীদেরও এনআইডি সেবা দেয়ার উদ্যোগ হয়। এরপর একসঙ্গে ১৫-১৭ বছর বসয়ীদের তথ্য নেয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তৎকালীন কমিশন হালনাগাদের সময় এ বিধান চালু করেছিল। ওই বিধান অনুযায়ী, ১৮ বছর হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যায় বছরের শুরুতেই। পরে ২০২৪ সালে তৎকালীন সরকার জন্মের পরই সব নাগরিকদের এনআইডি দেয়ার বিধান রেখে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩’ অনুমোদন করে।ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এখন থেকে হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তোলার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আর প্রয়োজন হবে না। নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং এনআইডি সেবা আরও সহজ করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ইসি সচিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিডি করার বাধ্যবাধকতা না থাকায় নাগরিকদের সময় বাঁচবে এবং হয়রানি কমবে।