গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। তাকে বিদেশে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শারীরিক অবস্থা যদি স্থিতিশীল হয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: ফখরুল
দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা
হাসপাতলে এনসিপি, হেফাজতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা
তিনি বলেছেন, শারীরিক অবস্থা যদি স্থিতিশীল হয় তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রধানের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরার সময় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
এদিকে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়াকে দেখতে এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাজনীতিকদের অনেকে আবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছেও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে খালেদা জিয়াকে দেখতে যায় হেফাজতে ইসলামের নেতারা। সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও অন্যান্য নেতাদের হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায়।
এদিকে দলীয় প্রধানের গুরুতর অসুস্থতার খবর নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে যান; এখন পর্যন্ত সেখানেই আছেন।
শনিবার সকালে নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখেছেন, ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ তিনি মায়ের পাশে থাকতে চান। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এছাড়া এখনই দেশে ফেরার মতো ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি’ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘স্পর্শকাতর’ এ বিষয়ে বিস্তারিত ‘বলার সুযোগও কম’।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় ‘কোনো বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে জিয়া পরিবারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। নিজের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার।’
শনিবার বিকেলে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। শনিবার রাতে তারা একটা মেডিকেল বোর্ড সভা করেছেন দুই ঘণ্টা, আড়াই ঘণ্টা ধরে। সেখানে তারা সব চিকিৎসকের মতামত নিয়ে কথা বলেছেন, কীভাবে তারা চিকিৎসা করবেন এবং সেই চিকিৎসা কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন নিজেদের মেডিকেল বোর্ডে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া প্রয়োজন, এ কথা তারা (চিকিৎসকরা) বলছেন যে, হয়তো প্রয়োজন হতে পারে; কিন্তু তার এখন যে শারীরিক অবস্থা তাকে বিদেশে নেয়ার মতো কোনো শারীরিক অবস্থা নেই। তবে বিদেশে নেয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে...যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং দেখা যায় যে ‘সি ইজ রেডি টু ফ্লাই’, তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।’
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল দোয়া মাহফিল করেছে। শনিবার আছরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত সংকটময়
এর আগে গতকাল শুক্রবার মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। তবে নেতাকর্মীদের সেখানে ভিড় না করার অনুরোধ জানান দলের মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তারা চিকিৎসাকার্য চালাতে ম্যাডামেরটাও এবং একসঙ্গে অন্যান্য যারা রোগী আছেন...সেখানে বিঘœ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার অনুরোধ করছি, দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।’
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি ঘোষণা করতে গতকাল শুক্রবার ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন দলের মহাসচিব।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
গত রোরবার ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
*মেডিকেল বোর্ড*
তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরেই উনি (খালেদা জিয়া) খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আমরা যে কারণে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) ভর্তি করিয়েছি সেটা হচ্ছে যে, উনার কতগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার বুকে সংক্রমণ হয়েছে। যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে স্থায়ী পেসমেকার আছে এবং হার্টে ওনার স্ট্যান্টিং (রিং পড়ানো) করা হয়েছিল, রিং পড়ানো হয়েছিল। হার্ট ও ফুসফুস দুটোই একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়াতে উনার খুব শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হচ্ছিল। সেজন্য এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) আমরা খুব দ্রুত উনাকে নিয়ে এসেছি।’
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। তাকে বিদেশে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শারীরিক অবস্থা যদি স্থিতিশীল হয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: ফখরুল
দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা
হাসপাতলে এনসিপি, হেফাজতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা
তিনি বলেছেন, শারীরিক অবস্থা যদি স্থিতিশীল হয় তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রধানের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরার সময় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
এদিকে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়াকে দেখতে এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাজনীতিকদের অনেকে আবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছেও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে খালেদা জিয়াকে দেখতে যায় হেফাজতে ইসলামের নেতারা। সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও অন্যান্য নেতাদের হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায়।
এদিকে দলীয় প্রধানের গুরুতর অসুস্থতার খবর নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে যান; এখন পর্যন্ত সেখানেই আছেন।
শনিবার সকালে নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখেছেন, ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ তিনি মায়ের পাশে থাকতে চান। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এছাড়া এখনই দেশে ফেরার মতো ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি’ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘স্পর্শকাতর’ এ বিষয়ে বিস্তারিত ‘বলার সুযোগও কম’।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় ‘কোনো বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে জিয়া পরিবারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। নিজের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার।’
শনিবার বিকেলে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। শনিবার রাতে তারা একটা মেডিকেল বোর্ড সভা করেছেন দুই ঘণ্টা, আড়াই ঘণ্টা ধরে। সেখানে তারা সব চিকিৎসকের মতামত নিয়ে কথা বলেছেন, কীভাবে তারা চিকিৎসা করবেন এবং সেই চিকিৎসা কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন নিজেদের মেডিকেল বোর্ডে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া প্রয়োজন, এ কথা তারা (চিকিৎসকরা) বলছেন যে, হয়তো প্রয়োজন হতে পারে; কিন্তু তার এখন যে শারীরিক অবস্থা তাকে বিদেশে নেয়ার মতো কোনো শারীরিক অবস্থা নেই। তবে বিদেশে নেয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে...যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং দেখা যায় যে ‘সি ইজ রেডি টু ফ্লাই’, তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।’
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল দোয়া মাহফিল করেছে। শনিবার আছরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত সংকটময়
এর আগে গতকাল শুক্রবার মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। তবে নেতাকর্মীদের সেখানে ভিড় না করার অনুরোধ জানান দলের মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তারা চিকিৎসাকার্য চালাতে ম্যাডামেরটাও এবং একসঙ্গে অন্যান্য যারা রোগী আছেন...সেখানে বিঘœ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার অনুরোধ করছি, দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।’
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি ঘোষণা করতে গতকাল শুক্রবার ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন দলের মহাসচিব।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
গত রোরবার ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
*মেডিকেল বোর্ড*
তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরেই উনি (খালেদা জিয়া) খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আমরা যে কারণে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) ভর্তি করিয়েছি সেটা হচ্ছে যে, উনার কতগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার বুকে সংক্রমণ হয়েছে। যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে স্থায়ী পেসমেকার আছে এবং হার্টে ওনার স্ট্যান্টিং (রিং পড়ানো) করা হয়েছিল, রিং পড়ানো হয়েছিল। হার্ট ও ফুসফুস দুটোই একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়াতে উনার খুব শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হচ্ছিল। সেজন্য এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) আমরা খুব দ্রুত উনাকে নিয়ে এসেছি।’