হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ ছেলে তারেক রহমান মায়ের পাশে থাকতে চান। তবে তারেক বলেছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এছাড়া এখনই দেশে ফেরার মতো ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি’ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘স্পর্শকাতর’ এ বিষয়ে বিস্তারিত ‘বলার সুযোগও কম’।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষায়, ‘অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের (দেশে ফেরা) ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় ‘কোনো বিধি-নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। দলীয় প্রধানের গুরুতর অসুস্থতার খবর নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন।
লন্ডন থেকে তারেক রহমান শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি-নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নাই।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’ একই কথা প্রেস সচিব তার ফেইসবুক পোস্টেও লিখেছেন।
এদিকে মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তারেক রহমান। ফেইসবুকে একই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন বলেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ ছেলে তারেক রহমান মায়ের পাশে থাকতে চান। তবে তারেক বলেছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এছাড়া এখনই দেশে ফেরার মতো ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি’ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘স্পর্শকাতর’ এ বিষয়ে বিস্তারিত ‘বলার সুযোগও কম’।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষায়, ‘অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের (দেশে ফেরা) ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় ‘কোনো বিধি-নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। দলীয় প্রধানের গুরুতর অসুস্থতার খবর নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন।
লন্ডন থেকে তারেক রহমান শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি-নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নাই।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’ একই কথা প্রেস সচিব তার ফেইসবুক পোস্টেও লিখেছেন।
এদিকে মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তারেক রহমান। ফেইসবুকে একই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন বলেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।