২৪ ঘন্টায় আরও ৫৭২ জন ভর্তি
রাজধানীর একটি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিত্র
ডেঙ্গুতে আরও ৫৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৯৩ হাজার ৭শ’ ৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৩৭৭ জন মারা গেছেন।
চলতি নভেম্বর মাসের শনিবার পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২৩ হাজার ৮শ’ ৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে- বরিশাল বিভাগে ৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩২ জন, ঢাকা বিভাগে ১১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩২ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩২ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৫ বছরের ৫২ জন,৬-১০ বছরের ২৭ জন, ১১-১৫ বছরের ২৭ জন, ১৬-২০ বছরের ৬০ জন, ২১-২৫ বছরের ৮৮ জন, ২৬-৩০ বছরের ৭৪ জন, ৩১-৩৫ বছরের ৭০ জন, ৩৬-৪০ বছরের ৪৪ জন, ৪১-৪৫ বছরের ৪০ জন, ৪৬-৫০ বছরের ২৯ জন, ৫১-৫৫ বছরের ২০ জন ও ৮০ বছরের ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন এক নীরব আতঙ্কের নাম। রোগটি মৌসুমী সীমাবদ্ধতা ভেঙে সারা বছরই দেখা দিচ্ছে। তবে বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
প্রবণতাটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয় তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞদের গবেষনার তথ্য বলছে, এখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারণ সারা বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব এই মুহূর্তে ডেঙ্গু ছড়ানোর উপযোগী মাত্রায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য ছোট ছোট পাত্র, টব, ড্রাম কিংবা অযন্তে ফেলে রাখা প্লাস্টিক সামগ্রীতে পানি জমে থেকে মশার জন্মস্থান তৈরি হচ্ছে। প্রতি কনটেইনারে এডিস মশার লার্ভার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি প্রজননস্থলেই মশার উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যা সরাসরি রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্ব্য বিশেষজ্ঞ কবিরুল বাশার তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মুল কারণগুলোর মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কাগজে কলমে নানা কর্মসূচি
নিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা সীমিত। অনেক এলাকায় এখনও সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রয়োগ করা হয় না।
এছাড়াও জনসচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অনেক পরিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনও যথেষ্ট সতর্ক নয়। ফুলের টব, পানি রাখার কলস, বালতি, নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি, ড্রামের মতো জায়গায় সহজেই এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। তাই এক বিশেষজ্ঞের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই দরকার জরুরিভিত্তিতে মশা নিধন কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। আরেকটি করণীয় হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
২৪ ঘন্টায় আরও ৫৭২ জন ভর্তি
রাজধানীর একটি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিত্র
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ডেঙ্গুতে আরও ৫৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার,(২৯ নভেম্বর ২০২৫) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৯৩ হাজার ৭শ’ ৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৩৭৭ জন মারা গেছেন।
চলতি নভেম্বর মাসের শনিবার পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২৩ হাজার ৮শ’ ৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে- বরিশাল বিভাগে ৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩২ জন, ঢাকা বিভাগে ১১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩২ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩২ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৫ বছরের ৫২ জন,৬-১০ বছরের ২৭ জন, ১১-১৫ বছরের ২৭ জন, ১৬-২০ বছরের ৬০ জন, ২১-২৫ বছরের ৮৮ জন, ২৬-৩০ বছরের ৭৪ জন, ৩১-৩৫ বছরের ৭০ জন, ৩৬-৪০ বছরের ৪৪ জন, ৪১-৪৫ বছরের ৪০ জন, ৪৬-৫০ বছরের ২৯ জন, ৫১-৫৫ বছরের ২০ জন ও ৮০ বছরের ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন এক নীরব আতঙ্কের নাম। রোগটি মৌসুমী সীমাবদ্ধতা ভেঙে সারা বছরই দেখা দিচ্ছে। তবে বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
প্রবণতাটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয় তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞদের গবেষনার তথ্য বলছে, এখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারণ সারা বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব এই মুহূর্তে ডেঙ্গু ছড়ানোর উপযোগী মাত্রায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য ছোট ছোট পাত্র, টব, ড্রাম কিংবা অযন্তে ফেলে রাখা প্লাস্টিক সামগ্রীতে পানি জমে থেকে মশার জন্মস্থান তৈরি হচ্ছে। প্রতি কনটেইনারে এডিস মশার লার্ভার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি প্রজননস্থলেই মশার উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যা সরাসরি রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্ব্য বিশেষজ্ঞ কবিরুল বাশার তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মুল কারণগুলোর মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কাগজে কলমে নানা কর্মসূচি
নিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা সীমিত। অনেক এলাকায় এখনও সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রয়োগ করা হয় না।
এছাড়াও জনসচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অনেক পরিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনও যথেষ্ট সতর্ক নয়। ফুলের টব, পানি রাখার কলস, বালতি, নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি, ড্রামের মতো জায়গায় সহজেই এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। তাই এক বিশেষজ্ঞের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই দরকার জরুরিভিত্তিতে মশা নিধন কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। আরেকটি করণীয় হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।