শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের কঠোর বিচার করতে হবে

একটি শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।

গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্র- উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১১ বছরের একটি শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নেয়ার পর অভিযুক্তরা তাকে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছে। ভিকটিমের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ গুরুতর।

আসামিপক্ষের বক্তব্যে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বাসায় থাকতেন না বা এসব ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এই যুক্তি আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা সেটা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে নির্ধারিত হবে। তবে এটা অস্বীকার করা চলে না যে, কোনো বাসায় শিশু গৃহকর্মী নিয়োগ, তার নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণের দায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের ওপর বর্তায়। তাদের পক্ষে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় শিশু শ্রম, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেশের অনেক দরিদ্র পরিবার প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের ওপর ভর করে শিশুসন্তানকে গৃহকর্মে নিয়োজিত করে। কিন্তু প্রায়ই সেই বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। এক্ষেত্রে ভিকটিমের পক্ষে রাষ্ট্রকেই শক্তভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে।

আদালত জামিন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে আইনের কঠোর অবস্থান দেখিয়েছে। এখন প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। দ্রুত তদন্ত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

আইনের চোখে সবাই সমান। পদ, ক্ষমতা বা পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি অপরাধের আইনি প্রতিকার করতে হবে। শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের রাষ্ট্র যদি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে তবে তা সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে। শিশুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।

সম্প্রতি