alt

সম্পাদকীয়

এই যুগে এভাবে কোন কাজে কি জনসমর্থন মেলে?

: বুধবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২২

রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন চাইলেই কর্মব্যস্ত দিনে রাজধানীতে খেয়াল-খুশিমতো যেখানে সেখানে কর্মসূচি পালন করতে পারে না। এখানে সভা-সমাবেশ বা কোন কর্মসূচি পালন করতে হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি নিতে হয়। ডিএমপি ছুটির দিন ছাড়া সাধারণত অনুমতি দেয় না। কারণ কর্মব্যস্ত দিনে রাজধানীতে কোন কর্মসূচি পালন করা হলে জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দেয়। ছুটির দিন ছাড়া সভা-সমাবেশ না করার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে রাজধানীতে প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেয় না।

রাজধানী ঢাকা ব্যস্ততম এক মহানগরী। এখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বেশি, সড়কের তুলনায় গাড়ি বেশি। যানবাহন চলাচলের গড় গতি ৭ কি.মি.। যানজট নৈমিত্তিক। কোনদিন যদি কোন একটি রাস্তায় জট তৈরি হয় তাহলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহানগরীতে। এখানে কর্মব্যস্ত দিনে রাজপথে কোন কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ার নিয়ম ঠিকই আছে। যদিও নিয়ম ভেঙে কাজের দিনে রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। মঙ্গলবার ছুটির দিন ছিল না। আর সব কাজের দিনের মতো সেদিনও লাখো মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়েছিল।

কর্মসূচি দেয়া বা পালন করা রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে, সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করা নাগরিকদের অধিকার।

কোন যুক্তিতেই নাগরিকদের অধিকারকে জলাঞ্জলি দেয়া চলে না। তাছাড়া লাখো মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে যখন যেখানে খুশি তখন সেখানে সমাবেশ করা কোন গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়েও না। কর্মসূচি পালনের নিয়ম আছে। এ বিষয়ে নির্দেশনা আছে।

আইন বা নির্দেশনা সবার জন্য সমান। প্রশ্ন হচ্ছে রাজপথ বন্ধ করে ক্ষমতাসীন দল যখন আনন্দ শোভাযাত্রা করে তখন আইন বা নির্দেশনা কোথায় যায়? ছাত্রলীগ কি কর্মসূচির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল? প্রশাসন কি অনুমতি দিয়েছিল? দিলে সেটা জনসাধারণকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল কি? কোন সড়ক কখন বন্ধ থাকাবে সেটা আগে থেকে জানলে মানুষ বিকল্প ভাবতে পারত। আর অনুমতি যদি দিয়ে না থাকে তাহলে আইন ভঙ্গ করে কর্মসূচি পালন করার জন্য ডিএমপি কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা একটা প্রশ্ন।

প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, শোভাযাত্রায় আনন্দটা কোথায়। কর্মসূচির কারণে রাজধানীজুড়ে যানবাহন আটকে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ধীরগতির শহর হয়ে পড়েছিল স্থবির। মানুষের যেমন কাজে যেতে, তেমন ঘরে ফিরতেও গলদঘর্ম হতে হয়েছে। তাদের এই ভোগান্তির খবর কি কেউ রাখেন? কোন সংগঠনের আনন্দ উদযাপনে যদি নাগরিকদের ভোগান্তি হয় সেটাকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বলবার উপায় থাকে না। মানুষ নিশ্চয়ই কারো শোভাযাত্রা দেখার জন্য ঘর থেকে বের হয়নি, রাজপথে বসে থাকেনি।

সময় বদলেছে। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এখনও সেকেলে ধাঁচের কর্মসূচি পালন করছে। ডিজিটাল দেশে গতির জন্য মরিয়া একটি রাজধানীর মূল সড়ক আটকে কেউ কেউ ক্ষোভ দেখাচ্ছে, কেউবা ধীরলয়ে শহর প্রদক্ষিণে বের হচ্ছে। এই যুগে এভাবে কোন কাজে কি জনসমর্থন মেলে?

স্লুইস গেট সংস্কার করুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের কারণ কী

পদ্মা সেতুর কাছে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে

নিত্যপণ্যের দাম : সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

মহাসড়ক দখলমুক্ত করুন

পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাব বদলাতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে

সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

আশুরা : ন্যায় ও আত্মত্যাগের প্রেরণা

বিএডিসির গুদাম সংকট

গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বোঝার উপর শাকের আঁটি

জনশক্তি রপ্তানি ও দক্ষ লোকবল

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এই চাপ মানুষ কি সামলাতে পারবে

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

সরকারি কর্তাব্যক্তিদের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে

ওয়াশ প্লান্ট ব্যবহারে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ

মহাসড়ক প্রশস্ত করুন

হাসি ফুটুক কৃষকের মুখে

খাল রক্ষায় চাই জনসচেতনতা

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ প্রসঙ্গে

বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

সংখ্যালঘু নির্যাতনের কঠোর বিচার করুন

বাঘ রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে

মানবপাচার বন্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ান

চাই সুরক্ষিত রেলক্রসিং

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে তৎপরতা বাড়ান

পুলিশের গুলিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক

এনআইডি সংশোধন প্রসঙ্গে

বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুজ্বর

পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

রাজধানীর প্রবেশমুখের যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নিন

পর্যটকদের এই করুণ মৃত্যু কাম্য নয়

কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ আমলে নিন

ছিনতাইকারী আটক : পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা

রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার দায় কর্তৃপক্ষ এড়াবে কীভাবে

tab

সম্পাদকীয়

এই যুগে এভাবে কোন কাজে কি জনসমর্থন মেলে?

বুধবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২২

রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন চাইলেই কর্মব্যস্ত দিনে রাজধানীতে খেয়াল-খুশিমতো যেখানে সেখানে কর্মসূচি পালন করতে পারে না। এখানে সভা-সমাবেশ বা কোন কর্মসূচি পালন করতে হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি নিতে হয়। ডিএমপি ছুটির দিন ছাড়া সাধারণত অনুমতি দেয় না। কারণ কর্মব্যস্ত দিনে রাজধানীতে কোন কর্মসূচি পালন করা হলে জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দেয়। ছুটির দিন ছাড়া সভা-সমাবেশ না করার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে রাজধানীতে প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেয় না।

রাজধানী ঢাকা ব্যস্ততম এক মহানগরী। এখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বেশি, সড়কের তুলনায় গাড়ি বেশি। যানবাহন চলাচলের গড় গতি ৭ কি.মি.। যানজট নৈমিত্তিক। কোনদিন যদি কোন একটি রাস্তায় জট তৈরি হয় তাহলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহানগরীতে। এখানে কর্মব্যস্ত দিনে রাজপথে কোন কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ার নিয়ম ঠিকই আছে। যদিও নিয়ম ভেঙে কাজের দিনে রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। মঙ্গলবার ছুটির দিন ছিল না। আর সব কাজের দিনের মতো সেদিনও লাখো মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়েছিল।

কর্মসূচি দেয়া বা পালন করা রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে, সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করা নাগরিকদের অধিকার।

কোন যুক্তিতেই নাগরিকদের অধিকারকে জলাঞ্জলি দেয়া চলে না। তাছাড়া লাখো মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে যখন যেখানে খুশি তখন সেখানে সমাবেশ করা কোন গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়েও না। কর্মসূচি পালনের নিয়ম আছে। এ বিষয়ে নির্দেশনা আছে।

আইন বা নির্দেশনা সবার জন্য সমান। প্রশ্ন হচ্ছে রাজপথ বন্ধ করে ক্ষমতাসীন দল যখন আনন্দ শোভাযাত্রা করে তখন আইন বা নির্দেশনা কোথায় যায়? ছাত্রলীগ কি কর্মসূচির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল? প্রশাসন কি অনুমতি দিয়েছিল? দিলে সেটা জনসাধারণকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল কি? কোন সড়ক কখন বন্ধ থাকাবে সেটা আগে থেকে জানলে মানুষ বিকল্প ভাবতে পারত। আর অনুমতি যদি দিয়ে না থাকে তাহলে আইন ভঙ্গ করে কর্মসূচি পালন করার জন্য ডিএমপি কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা একটা প্রশ্ন।

প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, শোভাযাত্রায় আনন্দটা কোথায়। কর্মসূচির কারণে রাজধানীজুড়ে যানবাহন আটকে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ধীরগতির শহর হয়ে পড়েছিল স্থবির। মানুষের যেমন কাজে যেতে, তেমন ঘরে ফিরতেও গলদঘর্ম হতে হয়েছে। তাদের এই ভোগান্তির খবর কি কেউ রাখেন? কোন সংগঠনের আনন্দ উদযাপনে যদি নাগরিকদের ভোগান্তি হয় সেটাকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বলবার উপায় থাকে না। মানুষ নিশ্চয়ই কারো শোভাযাত্রা দেখার জন্য ঘর থেকে বের হয়নি, রাজপথে বসে থাকেনি।

সময় বদলেছে। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এখনও সেকেলে ধাঁচের কর্মসূচি পালন করছে। ডিজিটাল দেশে গতির জন্য মরিয়া একটি রাজধানীর মূল সড়ক আটকে কেউ কেউ ক্ষোভ দেখাচ্ছে, কেউবা ধীরলয়ে শহর প্রদক্ষিণে বের হচ্ছে। এই যুগে এভাবে কোন কাজে কি জনসমর্থন মেলে?

back to top