alt

সম্পাদকীয়

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে হরিলুট বন্ধ করুন

: মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২

প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ‘আউট অব চিলড্রেন এডুকেশন’ নামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরার কলারোয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

সাস ও উন্নয়ন পরিষদ (উপ) নামে দুটি এনজিও যৌথভাবে এসব কেন্দ্র পরিচালনা করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ শিক্ষার্থী থাকার কথা রয়েছে। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বসতবাড়িতে, পরিত্যক্ত দোকানে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে কিছু কিছু কেন্দ্রের শুধু নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। দু-একটি কেন্দ্রে শিক্ষক খুঁজে পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে মাত্র এক-দুজন। এর বাইর অধিকাংশ শিক্ষা কেন্দ্রের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকেও কোন কেন্দ্রে পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, কলারোয়ায় প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ না করে শিক্ষার্থীদের টাকা ও উপকরণসহ শিক্ষকদের বেতন নেয়া হচ্ছে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের টাকা হরিলুট করা হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা খাতে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঝরে পড়েছে অনেক শিশু। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করা ২০২১ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারির (এপিএসসি) তথ্যানুযায়ী, করোনাকালে এক বছরের ব্যবধানে প্রাথমিকে মোট সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আট লাখের বেশি শিশু শিক্ষার্থী কমেছে। অথচ প্রতিবছর শিক্ষার্থী বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। কমেছে সারা দেশে প্রাথমিক স্তরে বেসরকারি খাতের বিদ্যালয়ের সংখ্যাও।

ঝরে পড়া শিশুদের আবার শিক্ষামুখী করার জন্য এমন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এর জন্য সরকার টাকা-পয়সাও বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এতে যে হরিলুট চলতে দেখা গেছে তাতে আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধের যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, অথচ রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট হচ্ছে ঠিকই।

এতবড় দুর্নীতি হচ্ছে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জানে না। জেনে থাকলে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানতে চাই। উন্নয়ন পরিষদের পরিচালক বলেছেন, ঢালাওভাবে স্কুলগুলোতে ত্রুটি নেই, তবে সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক বলেছেন, কলারোয়ার অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

কলারোয়ায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্রের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি এলাকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে এমন চিত্রে অন্যান্য এলাকার কার্যক্রমও সহজে অনুমেয়। আমরা চাই ব্যবস্থাটা চালু থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে নিয়মমাফিক।

নওগাঁয় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

জন্মনিবন্ধনে বাড়তি ফি আদায় বন্ধ করুন

দ্রুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার করুন

শিক্ষক লাঞ্ছনা ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর ভূমিকা

আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ করুন

বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কাজে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে

রাজধানীর খালগুলোকে দখলমুক্ত করুন

ভোজ্যতেলের দাম দেশের বাজারে কেন কমছে না

টিসিবির কার্ড বিতরণে অনিয়ম

রেলের দুর্দশা

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়ান

কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নামে হরিলুট

চাই টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক

ছত্রাকজনিত রোগের চিকিৎসা প্রসঙ্গে

পাহাড় ধসে মৃত্যু থামবে কবে

বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

এবার কি জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে

ফেরির টিকিট নিয়ে দালালদের অপতৎপরতা বন্ধ করুন

বন্যার্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিন

চিংড়ি পোনা নিধন প্রসঙ্গে

টানবাজারের রাসায়নিক দোকানগুলো সরিয়ে নিন

নদীর তীরের মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিন

মাদক বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে

শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিন

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই সতর্ক হোন

বখাটেদের যন্ত্রণা থেকে নারীর মুক্তি মিলবে কীভাবে

নওগাঁয় আম চাষিদের হিমাগার স্থাপনের দাবি

বস্তিবাসী নারীদের জন্য চাই নিরাপদ গোসলখানা

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন পরিবেশ

বস্তিবাসীর সমস্যার টেকসই সমাধান করতে হবে

শিশু নিপীড়ন রোধের দায়িত্ব নিত হবে সমাজকে

বিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ প্রসঙ্গে

অনুকরণীয় উদাহরণ

টিলা ধসে মৃত্যু প্রসঙ্গে

tab

সম্পাদকীয়

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে হরিলুট বন্ধ করুন

মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২

প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ‘আউট অব চিলড্রেন এডুকেশন’ নামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরার কলারোয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

সাস ও উন্নয়ন পরিষদ (উপ) নামে দুটি এনজিও যৌথভাবে এসব কেন্দ্র পরিচালনা করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ শিক্ষার্থী থাকার কথা রয়েছে। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বসতবাড়িতে, পরিত্যক্ত দোকানে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে কিছু কিছু কেন্দ্রের শুধু নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। দু-একটি কেন্দ্রে শিক্ষক খুঁজে পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে মাত্র এক-দুজন। এর বাইর অধিকাংশ শিক্ষা কেন্দ্রের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকেও কোন কেন্দ্রে পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, কলারোয়ায় প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ না করে শিক্ষার্থীদের টাকা ও উপকরণসহ শিক্ষকদের বেতন নেয়া হচ্ছে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের টাকা হরিলুট করা হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা খাতে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঝরে পড়েছে অনেক শিশু। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করা ২০২১ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারির (এপিএসসি) তথ্যানুযায়ী, করোনাকালে এক বছরের ব্যবধানে প্রাথমিকে মোট সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আট লাখের বেশি শিশু শিক্ষার্থী কমেছে। অথচ প্রতিবছর শিক্ষার্থী বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। কমেছে সারা দেশে প্রাথমিক স্তরে বেসরকারি খাতের বিদ্যালয়ের সংখ্যাও।

ঝরে পড়া শিশুদের আবার শিক্ষামুখী করার জন্য এমন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এর জন্য সরকার টাকা-পয়সাও বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এতে যে হরিলুট চলতে দেখা গেছে তাতে আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধের যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, অথচ রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট হচ্ছে ঠিকই।

এতবড় দুর্নীতি হচ্ছে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জানে না। জেনে থাকলে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানতে চাই। উন্নয়ন পরিষদের পরিচালক বলেছেন, ঢালাওভাবে স্কুলগুলোতে ত্রুটি নেই, তবে সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক বলেছেন, কলারোয়ার অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

কলারোয়ায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্রের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি এলাকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে এমন চিত্রে অন্যান্য এলাকার কার্যক্রমও সহজে অনুমেয়। আমরা চাই ব্যবস্থাটা চালু থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে নিয়মমাফিক।

back to top