alt

সম্পাদকীয়

রেলের দুর্দশা

: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২

রেলের দুর্দশা কাটছে না কিছুতেই। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালা হচ্ছে, কিন্তু সুফল মিলছে না। বাড়ছে না যাত্রীসেবার মানও। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় এমন ধারণা পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ে : চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকারসমূহ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে চাহিদার তুলনায় কোচ ও লোকোমোটিভের স্বল্পতা, পুরোনো সিগন্যালিং সিস্টেম, আধুনিক টিকিটিং সিস্টেম না থাকা, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ১৮ ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়।

রেল বেশ পুরাতন যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুধু পুরোনো নয়, নির্ভরযোগ্যও বটে। পৃথিবীর জনবহুল দেশগুলোতে রেলপথের ভূমিকা অনেক। কারণ একটি ট্রেনে একসঙ্গে অনেক যাত্রী চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে কম খরচে পরিবহন করতে পারে পণ্য।

যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে দেড়শ’ বছরেরও বেশি পুরাতন হলেও রেলওয়ে সেবার মান ক্ষয়িষ্ণু ছিল। সরকার সেটা উন্নত করার চেষ্টা করছে। এজন্য আলাদাভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ও করা হয়েছে, হাতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। কিন্তু এরপরেও সুফল মিলছে না, বাড়ছে না যাত্রীসেবার মান। সময়ানুবর্তিতার অভাব, টিকিট কেনায় দুর্ভোগ, ছারপোকাময় আসনই রেলওয়ের বৈশিষ্ট্য বলে অভিযোগ যাত্রীসাধারণের।

সরকারের এত এত প্রকল্প নেয়ার পরেও রেল খাতে কেন সুফল মিলছে না-সেটা একটা প্রশ্ন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, রেলের উন্নয়ন-পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পনা যথাযথ হয় না বলেই সুফল পাওয়া যায় না। প্রতি বাজেটেই রেলের উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ছে, বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তা যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নেই রেলে। ইঞ্জিন, বগিস্বল্পতা, জরাজীর্ণ রেলপথসহ নানা সমস্যায় রয়েছে রেলওয়ে। রেললাইন, ইঞ্জিন, বগি মেরামতের চেয়ে নতুন কেনায় আগ্রহ বেশি রেলের।

এর বাইরে রেল বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক। রেলের জমি নিয়ে চলছে দখল-বাণিজ্য, ইজারা জালিয়াতি, লাইসেন্স ফি না দেয়া, জমি ফেলে রাখা। যাত্রীসাধারণ টিকিট কিনতে গিয়ে পায় না, কিন্তু ফাঁকা আসন নিয়ে ট্রেন চলাচল করে। সব কিছুর আগে দুর্নীতি বন্ধ করা দরকার। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপুল জনসংখ্যার এ বাংলাদেশে গণপরিবহন খাতে সমস্যার শেষ নেই। সড়ক যোগাযোগের ওপর অত্যধিক চাপের ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের গতি অনেক কমে এসেছে। এই চাপ অনেকটাই কমে যেত, যদি আমাদের রেলওয়ে ব্যবস্থা আরেকটু উন্নত হতো। আমরা চাই রেলওয়ে ব্যবস্থা উন্নত হোক। সেটা হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সুফল মিলবে। রেলের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হলে সংশ্লিষ্টদের জাববদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ করুন

বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কাজে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে

রাজধানীর খালগুলোকে দখলমুক্ত করুন

ভোজ্যতেলের দাম দেশের বাজারে কেন কমছে না

টিসিবির কার্ড বিতরণে অনিয়ম

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়ান

কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নামে হরিলুট

চাই টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনা

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে হরিলুট বন্ধ করুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক

ছত্রাকজনিত রোগের চিকিৎসা প্রসঙ্গে

পাহাড় ধসে মৃত্যু থামবে কবে

বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

এবার কি জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে

ফেরির টিকিট নিয়ে দালালদের অপতৎপরতা বন্ধ করুন

বন্যার্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিন

চিংড়ি পোনা নিধন প্রসঙ্গে

টানবাজারের রাসায়নিক দোকানগুলো সরিয়ে নিন

নদীর তীরের মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিন

মাদক বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে

শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিন

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই সতর্ক হোন

বখাটেদের যন্ত্রণা থেকে নারীর মুক্তি মিলবে কীভাবে

নওগাঁয় আম চাষিদের হিমাগার স্থাপনের দাবি

বস্তিবাসী নারীদের জন্য চাই নিরাপদ গোসলখানা

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন পরিবেশ

বস্তিবাসীর সমস্যার টেকসই সমাধান করতে হবে

শিশু নিপীড়ন রোধের দায়িত্ব নিত হবে সমাজকে

বিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ প্রসঙ্গে

অনুকরণীয় উদাহরণ

টিলা ধসে মৃত্যু প্রসঙ্গে

বাজেট : মানুষের স্বস্তি আর দেশের উন্নতির বাসনা

খাল অবৈধ দখলমুক্ত করুন

মজুরি বৈষম্যের অবসান চাই

‘ঢলন’ প্রথা থেকে আমচাষিদের মুক্তি দিতে হবে

tab

সম্পাদকীয়

রেলের দুর্দশা

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২

রেলের দুর্দশা কাটছে না কিছুতেই। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালা হচ্ছে, কিন্তু সুফল মিলছে না। বাড়ছে না যাত্রীসেবার মানও। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় এমন ধারণা পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ে : চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকারসমূহ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে চাহিদার তুলনায় কোচ ও লোকোমোটিভের স্বল্পতা, পুরোনো সিগন্যালিং সিস্টেম, আধুনিক টিকিটিং সিস্টেম না থাকা, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ১৮ ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়।

রেল বেশ পুরাতন যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুধু পুরোনো নয়, নির্ভরযোগ্যও বটে। পৃথিবীর জনবহুল দেশগুলোতে রেলপথের ভূমিকা অনেক। কারণ একটি ট্রেনে একসঙ্গে অনেক যাত্রী চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে কম খরচে পরিবহন করতে পারে পণ্য।

যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে দেড়শ’ বছরেরও বেশি পুরাতন হলেও রেলওয়ে সেবার মান ক্ষয়িষ্ণু ছিল। সরকার সেটা উন্নত করার চেষ্টা করছে। এজন্য আলাদাভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ও করা হয়েছে, হাতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। কিন্তু এরপরেও সুফল মিলছে না, বাড়ছে না যাত্রীসেবার মান। সময়ানুবর্তিতার অভাব, টিকিট কেনায় দুর্ভোগ, ছারপোকাময় আসনই রেলওয়ের বৈশিষ্ট্য বলে অভিযোগ যাত্রীসাধারণের।

সরকারের এত এত প্রকল্প নেয়ার পরেও রেল খাতে কেন সুফল মিলছে না-সেটা একটা প্রশ্ন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, রেলের উন্নয়ন-পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পনা যথাযথ হয় না বলেই সুফল পাওয়া যায় না। প্রতি বাজেটেই রেলের উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ছে, বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তা যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নেই রেলে। ইঞ্জিন, বগিস্বল্পতা, জরাজীর্ণ রেলপথসহ নানা সমস্যায় রয়েছে রেলওয়ে। রেললাইন, ইঞ্জিন, বগি মেরামতের চেয়ে নতুন কেনায় আগ্রহ বেশি রেলের।

এর বাইরে রেল বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক। রেলের জমি নিয়ে চলছে দখল-বাণিজ্য, ইজারা জালিয়াতি, লাইসেন্স ফি না দেয়া, জমি ফেলে রাখা। যাত্রীসাধারণ টিকিট কিনতে গিয়ে পায় না, কিন্তু ফাঁকা আসন নিয়ে ট্রেন চলাচল করে। সব কিছুর আগে দুর্নীতি বন্ধ করা দরকার। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপুল জনসংখ্যার এ বাংলাদেশে গণপরিবহন খাতে সমস্যার শেষ নেই। সড়ক যোগাযোগের ওপর অত্যধিক চাপের ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের গতি অনেক কমে এসেছে। এই চাপ অনেকটাই কমে যেত, যদি আমাদের রেলওয়ে ব্যবস্থা আরেকটু উন্নত হতো। আমরা চাই রেলওয়ে ব্যবস্থা উন্নত হোক। সেটা হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সুফল মিলবে। রেলের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হলে সংশ্লিষ্টদের জাববদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

back to top