alt

সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনা যাচ্ছে না কেন

: মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

এছাড়া স্বল্পতা রয়েছে ‘জ্যেষ্ঠ’ শিক্ষকেরও। প্রতিষ্ঠানগুলো ‘জুনিয়র’ শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়া বেশিরভাগ নতুন বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়েও ক্লাস নেয়া হচ্ছে। নেই গবেষণার সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থী ভর্তির পর ভবন ভাড়া, ডেকোরেশন, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দেশব্যাপী আলোচনায় আসে।

একটি দুটি নয়, অন্তত ১৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ভাড়া বাড়ি, শিক্ষক স্বল্পতা ও ন্যূনতম অবকাঠামোতে বছরের পর বছর শিক্ষার্থী ভর্তিও নেয়া হচ্ছে। এর আগে এমন অভিযোগ পাওয়া যেত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে দেশে ১০৮টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সাত বছরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হয়। ইউজিসির সূত্রে জানা গেছে, পুরনো ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টি এখনো পুরোপুরিভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি। এর মধ্যে একটি নিজস্ব ক্যাম্পাসের বিষয়ে ইউজিসিকে কিছুই জানায়নি।

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন কোনটি প্রতিষ্ঠার বয়স দেড় যুগের বেশি, কোনটির বয়স দুই দশকেরও বেশি। এছাড়াও কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অনুমোদিত শিক্ষা প্রোগ্রামের বাইরেও কিছু কিছু প্রোগ্রাম চালানো, অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস, রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ না থাকা, আর্থিক অনিয়ম, সনদ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বা অনিয়মের অধিকাংশই সুরাহা করতে পারেনি উচ্চশিক্ষার দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ইউজিসি। কিছুদিন পরপর শুধু গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না সংস্থাটি। ফলে বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থারও কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপল কীভাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েকে কেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়, আর সেটা দিনের পর দিন চলে কী করে। এর পেছনে কাদের দায় রয়েছে- আমরা সেটা জানতে চাই।

নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা বলছে ইউজিসি। নীতিমালা করা হলেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেই ভরসা করা যায় না। দেশে অনেক আইনই যেখানে বাস্তবায়ন হয় না সেখানে নীতিমালা দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে সেটা দেখার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে হলে ইউজিসিকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।

ফসলি জমি কেটে বালু তোলা বন্ধ করুন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা করুন

বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিন

তাজরীন ট্র্যাজেডি : বিচার পেতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে

বিসিকের শিল্প নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নেই কেন

সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে ইটভাটা নয়

রেল স্টেশন চালুর দাবি

উপহারের অ্যাম্বুলেন্সগুলো ফেলে রাখা হয়েছে কেন

দোকানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রসঙ্গে

আলুর বীজ সংকট দূর করুন

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে

দুই জঙ্গি ছিনতাই : প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

চাই আর্সেনিকমুক্ত পানি

কক্সবাজারে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হোটেল চলছে কীভাবে

বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, সতর্ক থাকতে হবে

বরগুনা হাসপাতালের নতুন ভবনে কার্যক্রম কবে শুরু হবে

নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র

পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন

বছরের শুরুতে নতুন বই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

সরকারি হাসপাতালগুলোর দুর্দশা

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে

যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত করুন

জলাশয়গুলো রক্ষা করুন

সিসার বিষক্রিয়ার ভয়াবহতা

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে মাছ শিকার বন্ধ করুন

নিউমোনিয়া প্রতিরোধে চাই সমন্বিত প্রচেষ্টা

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগের সুরাহা করুন

রাংসা নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ করুন

শেবাচিম হাসপাতালে দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করুন

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজে গতি আনতে হবে

সমাজের মানসে শেকড় গেড়ে বসা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে আঙুলের ছাপ না মেলা প্রসঙ্গে

শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে

ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির বিচারে বিলম্ব কেন

tab

সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনা যাচ্ছে না কেন

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

এছাড়া স্বল্পতা রয়েছে ‘জ্যেষ্ঠ’ শিক্ষকেরও। প্রতিষ্ঠানগুলো ‘জুনিয়র’ শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়া বেশিরভাগ নতুন বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়েও ক্লাস নেয়া হচ্ছে। নেই গবেষণার সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থী ভর্তির পর ভবন ভাড়া, ডেকোরেশন, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দেশব্যাপী আলোচনায় আসে।

একটি দুটি নয়, অন্তত ১৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ভাড়া বাড়ি, শিক্ষক স্বল্পতা ও ন্যূনতম অবকাঠামোতে বছরের পর বছর শিক্ষার্থী ভর্তিও নেয়া হচ্ছে। এর আগে এমন অভিযোগ পাওয়া যেত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে দেশে ১০৮টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সাত বছরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হয়। ইউজিসির সূত্রে জানা গেছে, পুরনো ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টি এখনো পুরোপুরিভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি। এর মধ্যে একটি নিজস্ব ক্যাম্পাসের বিষয়ে ইউজিসিকে কিছুই জানায়নি।

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন কোনটি প্রতিষ্ঠার বয়স দেড় যুগের বেশি, কোনটির বয়স দুই দশকেরও বেশি। এছাড়াও কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অনুমোদিত শিক্ষা প্রোগ্রামের বাইরেও কিছু কিছু প্রোগ্রাম চালানো, অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস, রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ না থাকা, আর্থিক অনিয়ম, সনদ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বা অনিয়মের অধিকাংশই সুরাহা করতে পারেনি উচ্চশিক্ষার দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ইউজিসি। কিছুদিন পরপর শুধু গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না সংস্থাটি। ফলে বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থারও কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপল কীভাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েকে কেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়, আর সেটা দিনের পর দিন চলে কী করে। এর পেছনে কাদের দায় রয়েছে- আমরা সেটা জানতে চাই।

নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা বলছে ইউজিসি। নীতিমালা করা হলেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেই ভরসা করা যায় না। দেশে অনেক আইনই যেখানে বাস্তবায়ন হয় না সেখানে নীতিমালা দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে সেটা দেখার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে হলে ইউজিসিকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।

back to top