alt

সম্পাদকীয়

জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি

: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

তেল পরিশোধনের সক্ষমতার সঙ্গে একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর কোনো দেশের যদি তেল পরিশোধনের যথেষ্ট সামর্থ্য থাকে তাহলে তারা নানানভাবে এর সুফল পেতে পারে। প্রথমত তুলনামূলক কম দামে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি করা যায়। পাশাপাশি তেল পরিশোধনের সময় সৃষ্ট নানান উপজাতকেও কাজে লাগানো যায়। এমনকি সেসব উপজাত বা পরিশোধিত তেল রপ্তানিও করা যায়।

দেশে তেল পরিশোধন করে একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। জ্বালানির অভ্যন্তরীণ বার্ষিক চাহিদা ৬০ থেকে ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। এই চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। ইআরএলের পরিশোধন ক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ টন। কাজেই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে।

একমাত্র তেল পরিশোধনাগারটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো পরিশোধনাগার তৈরি করা হয়নি। অবশ্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক যুগ আগে আরেকটি নতুন প্রসেস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু নানান কারণে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তেল পরিশোধনাগারের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা না থাকলে কম দরে বেশি পরিমাণ ক্রুড অয়েল কেনা যেত। এতে করে জ্বালানির চাহিদা মেটানো যেমন সহজ হতো, তেমনি এর দামও হয়তো এক লাফে এতটা বাড়াতে হতো না; যার ফলে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে আসে আর সরকারও বিপাকে পড়ে।

এক যুগ আগে নেওয়া একটি প্রকল্প কেন বাস্তবায়ন করা যায়নি সেটা একটা প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা নানান কারণ দেখিয়েছেন। আমরা বলতে চাই, প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অনেক সমস্যা-সংকটই দেখা দেয়। সেসব মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। পাহাড়সম সংকট মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে কেবল অর্থায়নের সমস্যাই ছিল না, নদী শাসনের মতো চ্যালেঞ্জিং কাজও করতে হয়েছে। তেল পরিশোধনাগার তৈরির কাজ কি পদ্মা সেতু তৈরির চেয়ে বেশি কঠিন- এটা একটা প্রশ্ন।

প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে খরচ বেড়ে যায়। সমস্যা শুধু এই একটিই নয়। এর ক্ষতিকর আরো দিক রয়েছে। দেশে যদি আরও একটি তেল পরিশোধনাগার থাকতো তাহলে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

আমরা বলতে চাই, তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অনতিবিলম্বে আরেকটি পরিশোধনাগার তৈরি করতে হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে কাজটি করা জরুরি।

ফসলি জমি কেটে বালু তোলা বন্ধ করুন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা করুন

বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিন

তাজরীন ট্র্যাজেডি : বিচার পেতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে

বিসিকের শিল্প নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নেই কেন

সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে ইটভাটা নয়

রেল স্টেশন চালুর দাবি

উপহারের অ্যাম্বুলেন্সগুলো ফেলে রাখা হয়েছে কেন

দোকানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রসঙ্গে

আলুর বীজ সংকট দূর করুন

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে

দুই জঙ্গি ছিনতাই : প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

চাই আর্সেনিকমুক্ত পানি

কক্সবাজারে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হোটেল চলছে কীভাবে

বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, সতর্ক থাকতে হবে

বরগুনা হাসপাতালের নতুন ভবনে কার্যক্রম কবে শুরু হবে

নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র

পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন

বছরের শুরুতে নতুন বই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

সরকারি হাসপাতালগুলোর দুর্দশা

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে

যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত করুন

জলাশয়গুলো রক্ষা করুন

সিসার বিষক্রিয়ার ভয়াবহতা

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে মাছ শিকার বন্ধ করুন

নিউমোনিয়া প্রতিরোধে চাই সমন্বিত প্রচেষ্টা

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগের সুরাহা করুন

রাংসা নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ করুন

শেবাচিম হাসপাতালে দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করুন

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজে গতি আনতে হবে

সমাজের মানসে শেকড় গেড়ে বসা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে আঙুলের ছাপ না মেলা প্রসঙ্গে

শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে

ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির বিচারে বিলম্ব কেন

tab

সম্পাদকীয়

জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

তেল পরিশোধনের সক্ষমতার সঙ্গে একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর কোনো দেশের যদি তেল পরিশোধনের যথেষ্ট সামর্থ্য থাকে তাহলে তারা নানানভাবে এর সুফল পেতে পারে। প্রথমত তুলনামূলক কম দামে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি করা যায়। পাশাপাশি তেল পরিশোধনের সময় সৃষ্ট নানান উপজাতকেও কাজে লাগানো যায়। এমনকি সেসব উপজাত বা পরিশোধিত তেল রপ্তানিও করা যায়।

দেশে তেল পরিশোধন করে একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। জ্বালানির অভ্যন্তরীণ বার্ষিক চাহিদা ৬০ থেকে ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। এই চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। ইআরএলের পরিশোধন ক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ টন। কাজেই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে।

একমাত্র তেল পরিশোধনাগারটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো পরিশোধনাগার তৈরি করা হয়নি। অবশ্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক যুগ আগে আরেকটি নতুন প্রসেস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু নানান কারণে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তেল পরিশোধনাগারের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা না থাকলে কম দরে বেশি পরিমাণ ক্রুড অয়েল কেনা যেত। এতে করে জ্বালানির চাহিদা মেটানো যেমন সহজ হতো, তেমনি এর দামও হয়তো এক লাফে এতটা বাড়াতে হতো না; যার ফলে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে আসে আর সরকারও বিপাকে পড়ে।

এক যুগ আগে নেওয়া একটি প্রকল্প কেন বাস্তবায়ন করা যায়নি সেটা একটা প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা নানান কারণ দেখিয়েছেন। আমরা বলতে চাই, প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অনেক সমস্যা-সংকটই দেখা দেয়। সেসব মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। পাহাড়সম সংকট মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে কেবল অর্থায়নের সমস্যাই ছিল না, নদী শাসনের মতো চ্যালেঞ্জিং কাজও করতে হয়েছে। তেল পরিশোধনাগার তৈরির কাজ কি পদ্মা সেতু তৈরির চেয়ে বেশি কঠিন- এটা একটা প্রশ্ন।

প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে খরচ বেড়ে যায়। সমস্যা শুধু এই একটিই নয়। এর ক্ষতিকর আরো দিক রয়েছে। দেশে যদি আরও একটি তেল পরিশোধনাগার থাকতো তাহলে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

আমরা বলতে চাই, তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অনতিবিলম্বে আরেকটি পরিশোধনাগার তৈরি করতে হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে কাজটি করা জরুরি।

back to top