alt

মতামত » চিঠিপত্র

হেমন্ত আসে হিম কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে

: বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শরতের সাদা কাশফুল আর শিশির ভেজা দূর্বাঘাস মাড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে স্নিগ্ধ হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে আসে হেমন্ত । হেমন্ত আসে হিম কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শিশির ঝরার টুপটাপ শব্দে।

ভেজা ভেজা সন্ধ্যা,মেঘমুক্ত আকাশ,জ্যোৎস্নায় ডুবানো আলোকিত রাত প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক অন্যরকম ভিন্ন মাত্রা। হেমন্তের প্রথম ভাগ থাকে শরতের দিতীয় ভাগ থাকে মিঠে মিঠে শীতের আমেজ। যেমন সবাই বলছে, শীত এসে গেছে। দুই ঋতুকে আলাদা করা কঠিন হয়। আগে নাকি হেমন্তকে বলা হতো হিমঋতু আর শীত কালকে বলা হতো শিশির। এর পরে আসে শীত,তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। হেমন্তে শুরু হয় নানা ধরণের উৎসব-পার্বণে, গ্রামবাংলার জীবন হয়ে উঠে মুখরিত। গ্রামেগঞ্জে মানুষের জীবনে আসে নবান্নের উৎসব। (নবান্ন মানে নতুন অন্ন) নবান্ন মানেই চারিদিকে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ, ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হেমন্ত গ্রামবাংলার উৎসব আনন্দের প্রধান মৌসুম। ঘরে ঘরে ফসল তোলার আনন্দ, গৃহস্থ বাড়িতে নতুন ধানের তৈরী পিঠাপুলির সুগন্ধে বাতাসে ভেসে বেড়ায় হেমন্তের সুরভী।দুই ঋতুর সমাহার “

ঋতুর বিচিত্র রূপ মানুষকে মুগ্ধ করে। সব ঋতুর মধ্যেই বাঙ্গালী তার আপন সত্তা খুঁজে পায়। জীবন আর প্রকৃতি হয়ে উঠে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মধ্যে হেমন্ত “ হিম হিম কুয়াশায় মিশে মিষ্টি রোদের ভীতর দিয়ে গুটি গুটি পায়ে নেমে আসে প্রকৃতির মাঝে। ভরিয়ে দেয় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন। বিশেষ করে হেমন্ত প্রকৃতির রূপ একটু ভিন্ন। কবি হৃদয় জেগে উঠে, হেমন্তের মনোরম প্রকৃতিতে বিদীর্ণ হয় কবি। হেমন্তের প্রকৃতি বিশেষ রূপ পেয়েছে- কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ।

শরতের শুভ্রতার শেষে হেমন্ত বাংলার জীবনে সমৃদ্ধ করেছে নানা ভাবে, হেমন্তের মায়াময় স্নিগ্ধ প্রকৃতি মধ্যে মানুষ যেন জীবনকে খুঁজে পায়-প্রেম, ইচ্ছা আকাংখ্যার এক নতুন মাত্রা। মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে বাঙালিয়ানা।

আজ প্রযুক্তির কল্যাণে সব হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা ধরণের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লাঠি খেলা, বাউল গান, নাগর দোলা, শখের চূড়ি,খৈ-মোয়ার পসরা নিয়ে বসতো গ্রামের মেলা।

ঘরে ঘরে ফসল তোলার আনন্দ আর ধান ভানার গান ভাসতো বাতাসে । ধান ভানা আর ভোর রাতে বাড়ি বাড়ি ঢেঁকিতে চিড়ে কোটার শব্দে মুখর হতো বাড়ি আঙ্গিনা। মনে পড়ে সেই দিনগুলির কথা-সন্ধ্যার পরে যখন মা-চাচিরা রান্নাঘরে পিঠা-পুলিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো তখন পড়া ফাকি দিয়ে চুপি চুপি উঠে যেতাম। পাড়ার সব ভাই-বোনদের চোরের মত ডেকে ডেকে জড়ো করে লুকোচুরি খেলতাম। হেমন্তে ধনের পোয়াল বাড়ি বাড়ি বাড়ির আঙ্গিনায় গাদা মারা থাকতো তার ভীতরে আমরা পলাতাম। যখন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না, তখন তার লুকানো অবস্থান থেকে টুকরি-টুক দিতে হতো, (এই খেলার আর একটি নাম ছিল টুকরি-টুক খেলা) টুকরিটুক দিতে বলা মানে এক প্রকার হার স্বীকার , কিন্তু এটাকে হার মনে করা হতো না,তিনবার টুক দিতে পারবে, তারপর না খুঁজে পেলে হার স্বীকার করতে হতো।খেলা শেষে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরতাম। শাস্তিস্বরূপ মায়ের বকুনি আর ধানের পোয়ালে সারা শরির চিটপিট করে চুলকানোর অপরাধে সেই রাতে ধরে গোসল করিয়ে দিতো। আজ আর ছেলে মেয়েরা টুকরি-টুক খেলে না, সময় বদলে গেছে।

হেমন্তে মানুষের মন উজ্জ্বীবিত হয়ে আনন্দে মেতে উঠতো, চলতো গান, কবিতা,নাটক, যাত্রাপালা,বৈঠকী গান,পুতুল- নাচ,জারি-সারি, বাউল গান, কবির লড়াই, সব যেন আজ স্মৃতি।

মাছে-ভাতে বাঙালী। ভোর বেলা ধান গাছের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু শিশির ভেজা ধন ক্ষেতের আলপথ ধরে বিলে মাছ ধরতে যেতাম। এসময় খাল-বিলের পানি কমতে থাকে।কাদা পানিতে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। মাছ ধরে ডালিভর্তি মাছ নিয়ে বীরের বেশে বাড়িতে ফিরতাম। সবাই মিলে দল বেঁধে মাছ কুটার ধুম পড়তো। রান্নাঘর ভরে উঠতো মাছ ভাজা মাছের গন্ধে । আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে ..। এ যেন হেমন্তেরই আশির্বাদ।

আজ ভাটি বাংলার হৃদয় হতে সব মুছে যেতে বসেছে । হেমন্তের পাতা-ঝরার মত গ্রাম বাংলায় অনেক কিছুই ঝরে গেছে, আজ আর সেই সেই হেমন্তের উৎসব চোখে পড়ে না, একরকম শূন্যতা বিরাজ করে ।

রফিকুল ইসলাম

মহেশপুর, ঝিনাইদহ

অবহেলার চিত্র লালবাগের ময়লার স্তূপ

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

খোলা ম্যানহোল: ঢাকার রাজপথে এক নীরব মরণফাঁদ

গণপরিবহন: প্রতিদিনের যন্ত্রণার শেষ কবে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণ

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে নগরজীবনের চরম ভোগান্তি

রাবি মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার চাই

চিংড়ি শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব

কক্সবাজার: উন্নয়নের পথে, বিপন্ন প্রকৃতি

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনার ভোর

প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা দূর না হলে মানোন্নয়ন অসম্ভব

রাবির আবাসন সংকট

সব হাসপাতালে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা চালু করা হোক

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা

পানি সংকট: জীবন ও সভ্যতার জন্য বিরাট হুমকি

ই-লার্নিং: সীমান্তহীন শিক্ষার নতুন দিগন্ত

আজিমপুর কলোনির অব্যবস্থাপনা

জনস্বাস্থ্যের নীরব ঘাতক : তামাকজাত পণ্য

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়: অবস্থান, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

ইন্দো-প্যাসিফিক রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমুদ্রকৌশল

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট: দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শেষ কোথায়?

পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা

নিরাপদ শিশু খাদ্য: জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: প্রতিদিনের দুঃস্বপ্ন

পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা

জীবনের অভিধানে প্রবীণদের স্থান কোথায়?

নীরবতা নয়, বলতে শেখ

tab

মতামত » চিঠিপত্র

হেমন্ত আসে হিম কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫

শরতের সাদা কাশফুল আর শিশির ভেজা দূর্বাঘাস মাড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে স্নিগ্ধ হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে আসে হেমন্ত । হেমন্ত আসে হিম কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শিশির ঝরার টুপটাপ শব্দে।

ভেজা ভেজা সন্ধ্যা,মেঘমুক্ত আকাশ,জ্যোৎস্নায় ডুবানো আলোকিত রাত প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক অন্যরকম ভিন্ন মাত্রা। হেমন্তের প্রথম ভাগ থাকে শরতের দিতীয় ভাগ থাকে মিঠে মিঠে শীতের আমেজ। যেমন সবাই বলছে, শীত এসে গেছে। দুই ঋতুকে আলাদা করা কঠিন হয়। আগে নাকি হেমন্তকে বলা হতো হিমঋতু আর শীত কালকে বলা হতো শিশির। এর পরে আসে শীত,তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। হেমন্তে শুরু হয় নানা ধরণের উৎসব-পার্বণে, গ্রামবাংলার জীবন হয়ে উঠে মুখরিত। গ্রামেগঞ্জে মানুষের জীবনে আসে নবান্নের উৎসব। (নবান্ন মানে নতুন অন্ন) নবান্ন মানেই চারিদিকে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ, ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হেমন্ত গ্রামবাংলার উৎসব আনন্দের প্রধান মৌসুম। ঘরে ঘরে ফসল তোলার আনন্দ, গৃহস্থ বাড়িতে নতুন ধানের তৈরী পিঠাপুলির সুগন্ধে বাতাসে ভেসে বেড়ায় হেমন্তের সুরভী।দুই ঋতুর সমাহার “

ঋতুর বিচিত্র রূপ মানুষকে মুগ্ধ করে। সব ঋতুর মধ্যেই বাঙ্গালী তার আপন সত্তা খুঁজে পায়। জীবন আর প্রকৃতি হয়ে উঠে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মধ্যে হেমন্ত “ হিম হিম কুয়াশায় মিশে মিষ্টি রোদের ভীতর দিয়ে গুটি গুটি পায়ে নেমে আসে প্রকৃতির মাঝে। ভরিয়ে দেয় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন। বিশেষ করে হেমন্ত প্রকৃতির রূপ একটু ভিন্ন। কবি হৃদয় জেগে উঠে, হেমন্তের মনোরম প্রকৃতিতে বিদীর্ণ হয় কবি। হেমন্তের প্রকৃতি বিশেষ রূপ পেয়েছে- কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ।

শরতের শুভ্রতার শেষে হেমন্ত বাংলার জীবনে সমৃদ্ধ করেছে নানা ভাবে, হেমন্তের মায়াময় স্নিগ্ধ প্রকৃতি মধ্যে মানুষ যেন জীবনকে খুঁজে পায়-প্রেম, ইচ্ছা আকাংখ্যার এক নতুন মাত্রা। মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে বাঙালিয়ানা।

আজ প্রযুক্তির কল্যাণে সব হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা ধরণের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লাঠি খেলা, বাউল গান, নাগর দোলা, শখের চূড়ি,খৈ-মোয়ার পসরা নিয়ে বসতো গ্রামের মেলা।

ঘরে ঘরে ফসল তোলার আনন্দ আর ধান ভানার গান ভাসতো বাতাসে । ধান ভানা আর ভোর রাতে বাড়ি বাড়ি ঢেঁকিতে চিড়ে কোটার শব্দে মুখর হতো বাড়ি আঙ্গিনা। মনে পড়ে সেই দিনগুলির কথা-সন্ধ্যার পরে যখন মা-চাচিরা রান্নাঘরে পিঠা-পুলিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো তখন পড়া ফাকি দিয়ে চুপি চুপি উঠে যেতাম। পাড়ার সব ভাই-বোনদের চোরের মত ডেকে ডেকে জড়ো করে লুকোচুরি খেলতাম। হেমন্তে ধনের পোয়াল বাড়ি বাড়ি বাড়ির আঙ্গিনায় গাদা মারা থাকতো তার ভীতরে আমরা পলাতাম। যখন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না, তখন তার লুকানো অবস্থান থেকে টুকরি-টুক দিতে হতো, (এই খেলার আর একটি নাম ছিল টুকরি-টুক খেলা) টুকরিটুক দিতে বলা মানে এক প্রকার হার স্বীকার , কিন্তু এটাকে হার মনে করা হতো না,তিনবার টুক দিতে পারবে, তারপর না খুঁজে পেলে হার স্বীকার করতে হতো।খেলা শেষে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরতাম। শাস্তিস্বরূপ মায়ের বকুনি আর ধানের পোয়ালে সারা শরির চিটপিট করে চুলকানোর অপরাধে সেই রাতে ধরে গোসল করিয়ে দিতো। আজ আর ছেলে মেয়েরা টুকরি-টুক খেলে না, সময় বদলে গেছে।

হেমন্তে মানুষের মন উজ্জ্বীবিত হয়ে আনন্দে মেতে উঠতো, চলতো গান, কবিতা,নাটক, যাত্রাপালা,বৈঠকী গান,পুতুল- নাচ,জারি-সারি, বাউল গান, কবির লড়াই, সব যেন আজ স্মৃতি।

মাছে-ভাতে বাঙালী। ভোর বেলা ধান গাছের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু শিশির ভেজা ধন ক্ষেতের আলপথ ধরে বিলে মাছ ধরতে যেতাম। এসময় খাল-বিলের পানি কমতে থাকে।কাদা পানিতে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। মাছ ধরে ডালিভর্তি মাছ নিয়ে বীরের বেশে বাড়িতে ফিরতাম। সবাই মিলে দল বেঁধে মাছ কুটার ধুম পড়তো। রান্নাঘর ভরে উঠতো মাছ ভাজা মাছের গন্ধে । আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে ..। এ যেন হেমন্তেরই আশির্বাদ।

আজ ভাটি বাংলার হৃদয় হতে সব মুছে যেতে বসেছে । হেমন্তের পাতা-ঝরার মত গ্রাম বাংলায় অনেক কিছুই ঝরে গেছে, আজ আর সেই সেই হেমন্তের উৎসব চোখে পড়ে না, একরকম শূন্যতা বিরাজ করে ।

রফিকুল ইসলাম

মহেশপুর, ঝিনাইদহ

অবহেলার চিত্র লালবাগের ময়লার স্তূপ

back to top