alt

মতামত » চিঠিপত্র

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

: সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

নদী, খাল, বিল, হ্রদ ও সমুদ্র-বাংলাদেশের জলজ সম্পদ একসময় ছিল প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যরে আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন সেই জলাশয়গুলো ক্রমেই হারাচ্ছে প্রাণ। একদিকে শিল্পবর্জ্য, অন্যদিকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন-সব মিলিয়ে পানির নিচের জীবন যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্লাস্টিক বর্জ্য এখন এক নীরব ঘাতকের মতো জলজ প্রাণীর জীবন শেষ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে মাছ। নীরবে, অদৃশ্যভাবে প্লাস্টিকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে পানির নিচে, মৃত্যুর ফাঁদে পড়ছে জলজ প্রাণ।

আজকাল শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-সব জায়গাতেই প্লাস্টিকের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন ব্যাগ, চিপসের মোড়ক, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাস ও চামচ-সব কিছুই শেষ পর্যন্ত নদী বা ড্রেনে গিয়ে জমা হচ্ছে। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে এই বর্জ্য ভেসে চলে যাচ্ছে নদী ও সমুদ্রে। ধীরে ধীরে সেগুলো ভেঙে তৈরি হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে জলজ জীবনে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলোকে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে। ফলে তাদের পরিপাকতন্ত্রে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, খাদ্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে তারা মারা যাচ্ছে। অনেক মাছের শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিক জমে যাচ্ছে।

এই দূষণ শুধু মাছ নয়, পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়া, এমনকি জলজ পাখিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তলদেশে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। আমাদের দেশ যেমন নদীমাতৃক, তেমনি নদীর প্রাণই এখন মরে যাচ্ছে মানুষের অবহেলায়।

আর এই চক্র এখানেই শেষ নয়। দূষিত মাছ শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসছে। অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজের ক্ষতি ডেকে আনছি। একদিকে নদী মরছে, অন্যদিকে সেই নদীর মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এখনই সময় সমাধানের পথে হাঁটার। সমস্যার সমাধানে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, সরকারকে কঠোরভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প যেমন কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট বা বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার (recycling) ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে-কারণ সচেতন মানুষই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্য এড়িয়ে চলা-এসব ছোট পদক্ষেপই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নিই, তাহলে একদিন হয়তো নদী থাকবে, কিন্তু তাতে কোনো প্রাণ থাকবে না।

তাই,প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষ কখনো জয়ী হতে পারে না। তাই এখনই আমাদের বুঝে নিতে হবে-প্রকৃতি বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব। নদী ও মাছের প্রাণ বাঁচাতে হলে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু করতে হবে আজ থেকেই, প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ববোধ থেকেই।

জান্নাতুল ফেরদাউস অহনা

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

tab

মতামত » চিঠিপত্র

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

নদী, খাল, বিল, হ্রদ ও সমুদ্র-বাংলাদেশের জলজ সম্পদ একসময় ছিল প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যরে আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন সেই জলাশয়গুলো ক্রমেই হারাচ্ছে প্রাণ। একদিকে শিল্পবর্জ্য, অন্যদিকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন-সব মিলিয়ে পানির নিচের জীবন যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্লাস্টিক বর্জ্য এখন এক নীরব ঘাতকের মতো জলজ প্রাণীর জীবন শেষ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে মাছ। নীরবে, অদৃশ্যভাবে প্লাস্টিকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে পানির নিচে, মৃত্যুর ফাঁদে পড়ছে জলজ প্রাণ।

আজকাল শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-সব জায়গাতেই প্লাস্টিকের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন ব্যাগ, চিপসের মোড়ক, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাস ও চামচ-সব কিছুই শেষ পর্যন্ত নদী বা ড্রেনে গিয়ে জমা হচ্ছে। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে এই বর্জ্য ভেসে চলে যাচ্ছে নদী ও সমুদ্রে। ধীরে ধীরে সেগুলো ভেঙে তৈরি হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে জলজ জীবনে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলোকে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে। ফলে তাদের পরিপাকতন্ত্রে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, খাদ্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে তারা মারা যাচ্ছে। অনেক মাছের শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিক জমে যাচ্ছে।

এই দূষণ শুধু মাছ নয়, পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়া, এমনকি জলজ পাখিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তলদেশে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। আমাদের দেশ যেমন নদীমাতৃক, তেমনি নদীর প্রাণই এখন মরে যাচ্ছে মানুষের অবহেলায়।

আর এই চক্র এখানেই শেষ নয়। দূষিত মাছ শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসছে। অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজের ক্ষতি ডেকে আনছি। একদিকে নদী মরছে, অন্যদিকে সেই নদীর মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এখনই সময় সমাধানের পথে হাঁটার। সমস্যার সমাধানে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, সরকারকে কঠোরভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প যেমন কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট বা বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার (recycling) ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে-কারণ সচেতন মানুষই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্য এড়িয়ে চলা-এসব ছোট পদক্ষেপই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নিই, তাহলে একদিন হয়তো নদী থাকবে, কিন্তু তাতে কোনো প্রাণ থাকবে না।

তাই,প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষ কখনো জয়ী হতে পারে না। তাই এখনই আমাদের বুঝে নিতে হবে-প্রকৃতি বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব। নদী ও মাছের প্রাণ বাঁচাতে হলে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু করতে হবে আজ থেকেই, প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ববোধ থেকেই।

জান্নাতুল ফেরদাউস অহনা

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

back to top