alt

মতামত » চিঠিপত্র

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

কিশোর গ্যাং এখন দেশের সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় উদ্বেগ। একসময় গল্প–উপন্যাসে কিশোরদের সাহসী দল ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দিত; কিন্তু বাস্তবে আজ কিশোর গ্যাং হয়ে উঠেছে অপরাধের প্রধান নিয়ামক। ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাবে শুধু রাজধানীতেই সক্রিয় গ্যাংয়ের সংখ্যা ১২৭টি এবং এসব দলে জড়িত কিশোর রয়েছে এক হাজারের বেশি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। আধিপত্য বিস্তার, মারধর, মাদক চোরাচালান, ধর্ষণ, ছিনতাই থেকে শুরু করে খুন পর্যন্ত নানা অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্করা জড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

গবেষণা বলছে, কিশোর অপরাধের হার গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ–এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর হার ছয় বছরে বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। শহুরে বঞ্চনা, বিদ্যালয়ে ব্যর্থতা, পারিবারিক অবহেলা, সহিংস পরিবেশ, মাদক এবং ভুল সঙ্গÑএসব কারণ কিশোরদের গ্যাংয়ে টেনে নিচ্ছে। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও কম আত্মমর্যাদা, ট্রমা বা বিদ্রোহী মানসিকতা অনেককে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্যাং রেজিস্ট্যান্স এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ কর্মসূচির মতো বিদ্যালয়–ভিত্তিক সচেতনতা ও আচরণ–গঠনমূলক কার্যক্রম চালু আছে। জ্যামাইকা ও কলম্বিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের জন্য বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি ও কর্মমুখী পুনর্বাসন ব্যবস্থাও কার্যকর হয়েছে। আমাদের দেশে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দিনদিন বাড়লেও এখনো তেমন নির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মসূচি নেই। ফলে আইনশৃঙ্খলার প্রচলিত ব্যবস্থা অপরাধ কমাতে পারলেও গ্যাং–সংস্কৃতি ভাঙতে পারছে না।

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার–বিদ্যালয়–সমাজকে কেন্দ্র করে একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের চিহ্নিত করে সচেতনতা, পরামর্শ, ক্রীড়া–সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নৈতিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্মীয়–সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যে গ্যাংয়ে জড়িয়েছে, তাদের জন্য নিরাপদ পুনর্বাসন ও দক্ষতা–নির্ভর জীবিকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ। অপরাধ নয়, তাদের সঠিক পথ দেখানোই সময়ের দাবি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই প্রজন্মের স্খলন সমাজের ভিত্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আফসানা আক্তার আফসানা

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

tab

মতামত » চিঠিপত্র

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোর গ্যাং এখন দেশের সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় উদ্বেগ। একসময় গল্প–উপন্যাসে কিশোরদের সাহসী দল ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দিত; কিন্তু বাস্তবে আজ কিশোর গ্যাং হয়ে উঠেছে অপরাধের প্রধান নিয়ামক। ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাবে শুধু রাজধানীতেই সক্রিয় গ্যাংয়ের সংখ্যা ১২৭টি এবং এসব দলে জড়িত কিশোর রয়েছে এক হাজারের বেশি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। আধিপত্য বিস্তার, মারধর, মাদক চোরাচালান, ধর্ষণ, ছিনতাই থেকে শুরু করে খুন পর্যন্ত নানা অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্করা জড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

গবেষণা বলছে, কিশোর অপরাধের হার গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ–এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর হার ছয় বছরে বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। শহুরে বঞ্চনা, বিদ্যালয়ে ব্যর্থতা, পারিবারিক অবহেলা, সহিংস পরিবেশ, মাদক এবং ভুল সঙ্গÑএসব কারণ কিশোরদের গ্যাংয়ে টেনে নিচ্ছে। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও কম আত্মমর্যাদা, ট্রমা বা বিদ্রোহী মানসিকতা অনেককে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্যাং রেজিস্ট্যান্স এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ কর্মসূচির মতো বিদ্যালয়–ভিত্তিক সচেতনতা ও আচরণ–গঠনমূলক কার্যক্রম চালু আছে। জ্যামাইকা ও কলম্বিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের জন্য বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি ও কর্মমুখী পুনর্বাসন ব্যবস্থাও কার্যকর হয়েছে। আমাদের দেশে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দিনদিন বাড়লেও এখনো তেমন নির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মসূচি নেই। ফলে আইনশৃঙ্খলার প্রচলিত ব্যবস্থা অপরাধ কমাতে পারলেও গ্যাং–সংস্কৃতি ভাঙতে পারছে না।

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার–বিদ্যালয়–সমাজকে কেন্দ্র করে একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের চিহ্নিত করে সচেতনতা, পরামর্শ, ক্রীড়া–সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নৈতিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্মীয়–সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যে গ্যাংয়ে জড়িয়েছে, তাদের জন্য নিরাপদ পুনর্বাসন ও দক্ষতা–নির্ভর জীবিকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ। অপরাধ নয়, তাদের সঠিক পথ দেখানোই সময়ের দাবি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই প্রজন্মের স্খলন সমাজের ভিত্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আফসানা আক্তার আফসানা

back to top