alt

মতামত » চিঠিপত্র

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সকালের প্রথম আলো সুন্দরবনের পাতায় পড়লে বন ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। হরিণের ক্ষুদ্র পদধ্বনি, বুনো পাখির ডানা ঝাপটানো-সব মিলিয়ে তৈরি হয় হাজার বছরের ছন্দ, যার গভীরে লুকিয়ে থাকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রাজকীয় উপস্থিতি। সুন্দরবনের বাঘ শুধু প্রাণী নয়; এটি বনের স্পন্দন ও রহস্যের মূর্তি।

কিন্তু আজ এই ছন্দ ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণভাগ পানির নিচে চলে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বেড়ে গাছের শিকড় দুর্বল করছে। শুকিয়ে যাওয়া বনের ভেতর বাঘ হাঁটে, কিন্তু আগেকার নিশ্চিন্ততার ছায়া নেই। মিঠা পানির খাল, যা বাঘের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, এখন লবণাক্ত হয়ে যায়, ফলে শাবকদের বাঁচানো কঠিন হয়। গাছ কমে গেলে হরিণ ও বুনো শূকরও কমে, বাঘ মানুষের বসতিগুলোর দিকে চলে আসে, যা গ্রামীণ জীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সমাধান সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। লবণসহনশীল গাছপালা দিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালাতে হবে, মিঠাপানির রিজার্ভ ও খাল–বিল পুনর্জীবিত করতে হবে, বাঘের আন্দোলনপথ ও বাসস্থান রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-মানুষের চাপ কমানো। যদি এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়, তবে বাঘের ভবিষ্যত রক্ষা সম্ভব। সুন্দরবনের বাঘ আমাদের সতর্কবার্তা, যা প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার আহ্বান জানায়।

শায়লা নাজনীন

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

tab

মতামত » চিঠিপত্র

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

সকালের প্রথম আলো সুন্দরবনের পাতায় পড়লে বন ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। হরিণের ক্ষুদ্র পদধ্বনি, বুনো পাখির ডানা ঝাপটানো-সব মিলিয়ে তৈরি হয় হাজার বছরের ছন্দ, যার গভীরে লুকিয়ে থাকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রাজকীয় উপস্থিতি। সুন্দরবনের বাঘ শুধু প্রাণী নয়; এটি বনের স্পন্দন ও রহস্যের মূর্তি।

কিন্তু আজ এই ছন্দ ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণভাগ পানির নিচে চলে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বেড়ে গাছের শিকড় দুর্বল করছে। শুকিয়ে যাওয়া বনের ভেতর বাঘ হাঁটে, কিন্তু আগেকার নিশ্চিন্ততার ছায়া নেই। মিঠা পানির খাল, যা বাঘের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, এখন লবণাক্ত হয়ে যায়, ফলে শাবকদের বাঁচানো কঠিন হয়। গাছ কমে গেলে হরিণ ও বুনো শূকরও কমে, বাঘ মানুষের বসতিগুলোর দিকে চলে আসে, যা গ্রামীণ জীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সমাধান সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। লবণসহনশীল গাছপালা দিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালাতে হবে, মিঠাপানির রিজার্ভ ও খাল–বিল পুনর্জীবিত করতে হবে, বাঘের আন্দোলনপথ ও বাসস্থান রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-মানুষের চাপ কমানো। যদি এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়, তবে বাঘের ভবিষ্যত রক্ষা সম্ভব। সুন্দরবনের বাঘ আমাদের সতর্কবার্তা, যা প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার আহ্বান জানায়।

শায়লা নাজনীন

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top