alt

মতামত » চিঠিপত্র

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তবে তা রক্ষার জন্য উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, প্রবাল, ম্যানগ্রোভ ও সী-গ্রাসসহ বঙ্গোপসাগরে বিরল জীববৈচিত্র বিদ্যমান, যা উপকূলীয় মানুষের জীবিকাসহ সমুদ্র-নির্ভর খাদ্য নিরাপত্তা ও বাস্তুসংস্থান নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অটেকসই আহরণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে এই ভারসাম্য ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সরকার ইতোমধ্যেই মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা, মৌসুমি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা এবং ট্রলিং জোন নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তা কার্যকর হতে পারছে না, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ-উপকূলীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ-অপ্রতুল। কক্সবাজার, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও ভোলা অঞ্চলে সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন “কমিউনিটি মনিটরিং গ্রুপ” ইতোমধ্যেই নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণেও “ঈড়-গধহধমবসবহঃ” ইকোসিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে।

উপকূলীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত না করা, তথ্যের অভাব, বিকল্প জীবিকা উন্নয়নের দুর্বলতা ও আইন প্রয়োগের শিথিলতা সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিকল্প জীবিকা ও প্রশিক্ষণ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার সম্প্রসারণ একত্রে নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুললেই বাংলাদেশ প্রকৃত ব্লু ইকোনমির যুগে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জাতীয় উন্নয়নের দ্বৈত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

আলী হাসান জিহাদী

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তবে তা রক্ষার জন্য উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, প্রবাল, ম্যানগ্রোভ ও সী-গ্রাসসহ বঙ্গোপসাগরে বিরল জীববৈচিত্র বিদ্যমান, যা উপকূলীয় মানুষের জীবিকাসহ সমুদ্র-নির্ভর খাদ্য নিরাপত্তা ও বাস্তুসংস্থান নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অটেকসই আহরণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে এই ভারসাম্য ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সরকার ইতোমধ্যেই মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা, মৌসুমি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা এবং ট্রলিং জোন নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তা কার্যকর হতে পারছে না, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ-উপকূলীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ-অপ্রতুল। কক্সবাজার, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও ভোলা অঞ্চলে সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন “কমিউনিটি মনিটরিং গ্রুপ” ইতোমধ্যেই নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণেও “ঈড়-গধহধমবসবহঃ” ইকোসিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে।

উপকূলীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত না করা, তথ্যের অভাব, বিকল্প জীবিকা উন্নয়নের দুর্বলতা ও আইন প্রয়োগের শিথিলতা সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিকল্প জীবিকা ও প্রশিক্ষণ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার সম্প্রসারণ একত্রে নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুললেই বাংলাদেশ প্রকৃত ব্লু ইকোনমির যুগে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জাতীয় উন্নয়নের দ্বৈত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

আলী হাসান জিহাদী

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

back to top