alt

মতামত » চিঠিপত্র

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন রাষ্ট্রীয় আইনের একটি মৌলিক সেবা, কিন্তু বাস্তবে এটি বহু জায়গায় এক অঘোষিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষই দলিল সম্পন্ন হওয়ার মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক, মুহুরি, পিয়ন ও দালালদের মাধ্যমে এই ঘুষ লেনদেন নীরবে চলে। অতিরিক্ত ফি না দিতে চাইলে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি তোলা বা বিলম্ব করা হয়। ফলে আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয় না, বরং অর্থই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

দুর্নীতির কারণগুলো স্পষ্ট। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নির্ধারিত দলিল লেখক ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ না থাকায় ঘুষের নেটওয়ার্ক শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। ভুক্তভোগীর অসহযোগিতা এবং নজরদারির ঘাটতি দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না, যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে।

সমাধানের পথও রয়েছে। ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফাইলের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে ট্র্যাকযোগ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত করে নাগরিককে নিজের দলিল নিজেই লিখে দাখিল করার সুযোগ দিতে হবে। স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং অফিসে নিয়মিত বদলি ও কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। সৎ কর্মকর্তাদের প্রণোদনা এবং অসাধুদের দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর হতে পারে।

নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। জমির দলিল কেবল একটি কাগজ নয়, এটি নাগরিক সম্পদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। যদি শেষ সিলমোহরও ঘুষের ওপর নির্ভর করে, তবে প্রশ্ন উঠবেইÑরাষ্ট্রের আইন কাদের জন্য?

আব্দুর রশিদ

জকিগঞ্জ, সিলেট।

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন রাষ্ট্রীয় আইনের একটি মৌলিক সেবা, কিন্তু বাস্তবে এটি বহু জায়গায় এক অঘোষিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষই দলিল সম্পন্ন হওয়ার মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক, মুহুরি, পিয়ন ও দালালদের মাধ্যমে এই ঘুষ লেনদেন নীরবে চলে। অতিরিক্ত ফি না দিতে চাইলে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি তোলা বা বিলম্ব করা হয়। ফলে আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয় না, বরং অর্থই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

দুর্নীতির কারণগুলো স্পষ্ট। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নির্ধারিত দলিল লেখক ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ না থাকায় ঘুষের নেটওয়ার্ক শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। ভুক্তভোগীর অসহযোগিতা এবং নজরদারির ঘাটতি দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না, যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে।

সমাধানের পথও রয়েছে। ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফাইলের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে ট্র্যাকযোগ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত করে নাগরিককে নিজের দলিল নিজেই লিখে দাখিল করার সুযোগ দিতে হবে। স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং অফিসে নিয়মিত বদলি ও কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। সৎ কর্মকর্তাদের প্রণোদনা এবং অসাধুদের দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর হতে পারে।

নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। জমির দলিল কেবল একটি কাগজ নয়, এটি নাগরিক সম্পদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। যদি শেষ সিলমোহরও ঘুষের ওপর নির্ভর করে, তবে প্রশ্ন উঠবেইÑরাষ্ট্রের আইন কাদের জন্য?

আব্দুর রশিদ

জকিগঞ্জ, সিলেট।

back to top