alt

মতামত » চিঠিপত্র

বাস্তবতার এক গল্প

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

অনেক বাবা-মা আজও স্বপ্ন দেখেন-ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করবে, ভালো কিছু শিখে একদিন নিজের গ্রামে ফিরে এসে পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ আর ফিরে আসতে চান না। শহরেই তারা চাকরি নেন, সংসার গড়েন, ধীরে ধীরে গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কটাও কেবল উৎসব বা ছুটির দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু বাস্তব কারণ, যা বুঝতে হলে তরুণদের অবস্থান থেকেও ভাবতে হবে।

সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাজের সুযোগের অভাব। একজন তরুণ অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি কাজ চান, যেখানে তার শিক্ষা ও দক্ষতার মূল্য থাকবে। কিন্তু অনেক গ্রামেই এখনো তেমন চাকরি বা পেশার সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই গ্রামে ফিরে যেতে পারেন না। তারা মনে করেন, শহরে থাকলে অন্তত নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আরেকটি বড় বিষয় হলো জীবনযাপনের সুবিধা। শহরে উন্নত হাসপাতাল, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুত ইন্টারনেট ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা-এসব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে অনেক তরুণই শহরকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। তাই গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবতার কারণে শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শহরে একই কাজ করে তুলনামূলক বেশি আয় করা যায়, আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়। পরিবারকে সহায়তা করা, নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়া-এসব চিন্তা থেকেই অনেক তরুণ শহর ছাড়তে চান না।

আরও একটি বাস্তবতা হলো, অনেক সময় গ্রামে নতুন কিছু করতে চাইলে তরুণরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না। নতুন ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সন্দেহ বা নিরুৎসাহের মুখে পড়তে হয়। এতে তাদের উৎসাহ কমে যায় এবং তারা শহরকেই নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন।

তবে সত্যি কথা হলো, অধিকাংশ তরুণের মনেই নিজের গ্রামের প্রতি এক ধরনের টান থাকে। সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারা অনেকেই গ্রামে ফিরে এসে কিছু করতে চান-নিজের মানুষের জন্য, নিজের এলাকার উন্নতির জন্য। তাই গ্রামে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়, প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়, তাহলে অনেক শিক্ষিত তরুণই আবার গ্রামে ফিরে আসতে আগ্রহী হবেন।

গ্রাম শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়; এটি দেশের শিকড়। সেই শিকড়কে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষিত তরুণদের আবার গ্রামমুখী করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সুযোগ পেলে তারা ফিরবেই-কারণ নিজের মাটির টান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

কাজী মাধুর্য রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

বাস্তবতার এক গল্প

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনেক বাবা-মা আজও স্বপ্ন দেখেন-ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করবে, ভালো কিছু শিখে একদিন নিজের গ্রামে ফিরে এসে পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ আর ফিরে আসতে চান না। শহরেই তারা চাকরি নেন, সংসার গড়েন, ধীরে ধীরে গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কটাও কেবল উৎসব বা ছুটির দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু বাস্তব কারণ, যা বুঝতে হলে তরুণদের অবস্থান থেকেও ভাবতে হবে।

সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাজের সুযোগের অভাব। একজন তরুণ অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি কাজ চান, যেখানে তার শিক্ষা ও দক্ষতার মূল্য থাকবে। কিন্তু অনেক গ্রামেই এখনো তেমন চাকরি বা পেশার সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই গ্রামে ফিরে যেতে পারেন না। তারা মনে করেন, শহরে থাকলে অন্তত নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আরেকটি বড় বিষয় হলো জীবনযাপনের সুবিধা। শহরে উন্নত হাসপাতাল, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুত ইন্টারনেট ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা-এসব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে অনেক তরুণই শহরকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। তাই গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবতার কারণে শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শহরে একই কাজ করে তুলনামূলক বেশি আয় করা যায়, আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়। পরিবারকে সহায়তা করা, নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়া-এসব চিন্তা থেকেই অনেক তরুণ শহর ছাড়তে চান না।

আরও একটি বাস্তবতা হলো, অনেক সময় গ্রামে নতুন কিছু করতে চাইলে তরুণরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না। নতুন ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সন্দেহ বা নিরুৎসাহের মুখে পড়তে হয়। এতে তাদের উৎসাহ কমে যায় এবং তারা শহরকেই নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন।

তবে সত্যি কথা হলো, অধিকাংশ তরুণের মনেই নিজের গ্রামের প্রতি এক ধরনের টান থাকে। সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারা অনেকেই গ্রামে ফিরে এসে কিছু করতে চান-নিজের মানুষের জন্য, নিজের এলাকার উন্নতির জন্য। তাই গ্রামে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়, প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়, তাহলে অনেক শিক্ষিত তরুণই আবার গ্রামে ফিরে আসতে আগ্রহী হবেন।

গ্রাম শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়; এটি দেশের শিকড়। সেই শিকড়কে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষিত তরুণদের আবার গ্রামমুখী করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সুযোগ পেলে তারা ফিরবেই-কারণ নিজের মাটির টান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

কাজী মাধুর্য রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top