alt

মতামত » চিঠিপত্র

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

জীবিকার সন্ধানে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা কথা ভেবে মাতৃভূমি যারা ছেড়ে বিদেশে পরিশ্রম করে এবং অর্থ দেশে প্রেরণা করে তাদেরকে প্রবাসী বলে। প্রবাসীদের আমরা ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসা বুকে নিয়ে বুকের ঠিক পাশে তারা অদৃশ্য ক্যালকুলেটর নিয়ে পরিমাপ করে কতটুকু উপার্জন করলে তার পরিবার ভালো থাকবে। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর আপনজনের থেকে দূরে এই প্রবাসীরা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে। মা, মাটি দেশের জন্য প্রান আকুল হলেও দিনের পর দিন তারা অতিবাহিত করে কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতে যোগান দিয়ে।

কিন্তু দিনশেষে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পায় মানসিক ও শারিরীক নিঃসঙ্গতা এবং হাড় ভাঙা পরিশ্রম শেষে চার দেয়ালে বন্ধি জীবন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, প্রায় ৬০% প্রবাসী মাতৃভূমি ও আপনজনদের ছেড়ে থাকার কারনে “হোম সিকনেস”-এ ভোগে যা তাদের কাজের উদ্যাম কমিয়ে দেয়।

জরিপে দেখা গিয়েছে, অনেক প্রবাসী দিনে প্রায় ১২/১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে বিশ্রামের অভাবে নিঃসঙ্গতার চাপ সামলাতে না পেরে অকালে হৃদরোগে ভোগে। আবার বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে ভিডিও কলে যোগাযোগ সহজ হলেও প্রায় ৯২% প্রবাসীরা মনে করেন পর্দার অপারের ভালোবাসা কখনোই উপস্থিতির অভাব পূরন করতে পারে না।

পরিবার থেকে দূরে থাকার কারনে তাদের অস্তিত্ব পরিবারের কাছে বিলীন হয়ে যায় ফলে অনেক প্রবাসী পরিবারের কাছে শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর যন্ত্রে পরিনত হয়। প্রিয়জনদের এমন মানসিকতা নিদারুণ আঘাত দেয় এসব প্রবাসীদের। পরিবারকে ঠিকমতো সময় না দেওয়ার কারনে পরিবারে তাদের মর্যাদা কমে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।

প্রবাসীরা কেবল অর্থ উপার্জনকারী মানুষ নন-তারা একেকজন নীরব যোদ্ধা, যাদের ঘামে ভিজে থাকে দেশের অর্থনীতির ভিত। দূরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা প্রতিদিন হিসাব কষেন নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের প্রয়োজনের মাঝে। নিজের আনন্দ, সময়, এমনকি আবেগকেও তারা বিসর্জন দেন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। অথচ এই আত্মত্যাগের গল্পগুলো প্রায়ই অগোচরেই থেকে যায়।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে নিঃসঙ্গতা, অব্যক্ত কষ্ট আর ক্লান্তি। ভিডিও কলের পর্দার এপাশ-ওপাশে জমে থাকা ভালোবাসা কখনোই শূন্য বিছানা, নীরব ঘর কিংবা উৎসবের দিনে অনুপস্থিত মুখের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। অর্থনীতির পরিসংখ্যানে তারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানবিক দৃষ্টিতে তাদের যন্ত্রে পরিণত হওয়াটা এক নির্মম বাস্তবতা।

তাই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব শুধু তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হিসাব রাখা নয়, বরং তাদের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদেশে থাকা অবস্থায় যেমন তাদের জন্য মানসিক সহায়তা, সামাজিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি দেশে ফেরার পর প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। নইলে বছরের পর বছর প্রবাসজীবনের ত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়ে।

তানজিম হোসেন

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা কথা ভেবে মাতৃভূমি যারা ছেড়ে বিদেশে পরিশ্রম করে এবং অর্থ দেশে প্রেরণা করে তাদেরকে প্রবাসী বলে। প্রবাসীদের আমরা ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসা বুকে নিয়ে বুকের ঠিক পাশে তারা অদৃশ্য ক্যালকুলেটর নিয়ে পরিমাপ করে কতটুকু উপার্জন করলে তার পরিবার ভালো থাকবে। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর আপনজনের থেকে দূরে এই প্রবাসীরা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে। মা, মাটি দেশের জন্য প্রান আকুল হলেও দিনের পর দিন তারা অতিবাহিত করে কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতে যোগান দিয়ে।

কিন্তু দিনশেষে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পায় মানসিক ও শারিরীক নিঃসঙ্গতা এবং হাড় ভাঙা পরিশ্রম শেষে চার দেয়ালে বন্ধি জীবন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, প্রায় ৬০% প্রবাসী মাতৃভূমি ও আপনজনদের ছেড়ে থাকার কারনে “হোম সিকনেস”-এ ভোগে যা তাদের কাজের উদ্যাম কমিয়ে দেয়।

জরিপে দেখা গিয়েছে, অনেক প্রবাসী দিনে প্রায় ১২/১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে বিশ্রামের অভাবে নিঃসঙ্গতার চাপ সামলাতে না পেরে অকালে হৃদরোগে ভোগে। আবার বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে ভিডিও কলে যোগাযোগ সহজ হলেও প্রায় ৯২% প্রবাসীরা মনে করেন পর্দার অপারের ভালোবাসা কখনোই উপস্থিতির অভাব পূরন করতে পারে না।

পরিবার থেকে দূরে থাকার কারনে তাদের অস্তিত্ব পরিবারের কাছে বিলীন হয়ে যায় ফলে অনেক প্রবাসী পরিবারের কাছে শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর যন্ত্রে পরিনত হয়। প্রিয়জনদের এমন মানসিকতা নিদারুণ আঘাত দেয় এসব প্রবাসীদের। পরিবারকে ঠিকমতো সময় না দেওয়ার কারনে পরিবারে তাদের মর্যাদা কমে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।

প্রবাসীরা কেবল অর্থ উপার্জনকারী মানুষ নন-তারা একেকজন নীরব যোদ্ধা, যাদের ঘামে ভিজে থাকে দেশের অর্থনীতির ভিত। দূরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা প্রতিদিন হিসাব কষেন নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের প্রয়োজনের মাঝে। নিজের আনন্দ, সময়, এমনকি আবেগকেও তারা বিসর্জন দেন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। অথচ এই আত্মত্যাগের গল্পগুলো প্রায়ই অগোচরেই থেকে যায়।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে নিঃসঙ্গতা, অব্যক্ত কষ্ট আর ক্লান্তি। ভিডিও কলের পর্দার এপাশ-ওপাশে জমে থাকা ভালোবাসা কখনোই শূন্য বিছানা, নীরব ঘর কিংবা উৎসবের দিনে অনুপস্থিত মুখের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। অর্থনীতির পরিসংখ্যানে তারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানবিক দৃষ্টিতে তাদের যন্ত্রে পরিণত হওয়াটা এক নির্মম বাস্তবতা।

তাই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব শুধু তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হিসাব রাখা নয়, বরং তাদের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদেশে থাকা অবস্থায় যেমন তাদের জন্য মানসিক সহায়তা, সামাজিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি দেশে ফেরার পর প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। নইলে বছরের পর বছর প্রবাসজীবনের ত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়ে।

তানজিম হোসেন

back to top