alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

লবণাক্ততায় ডুবছে উপকূল

আল শাহারিয়া

: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দক্ষিণের আঁকাবাঁকা তটরেখা আমাদের চোখে পড়ে। এই তটরেখা উপকূলে বসবাস করা কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার আধার। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষে এই জনপদ এখন বিপন্ন। উপকূলীয় মানুষ অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। নদী গিলে খাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। নোনা জল গ্রাস করছে ফসলি জমি। বাধ্য হয়ে মানুষ ছাড়ছে বাপ-দাদার ভিটে। বড় হচ্ছে জলবায়ু শরণার্থীর মিছিল।

সাতক্ষীরা বা খুলনার প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে গেলে বাতাসের সাথে মিশে থাকা নোনা স্বাদ পাওয়া যায়। একসময় যেখানে ধানের শীষে বাতাস দোল খেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল নোনা পানির চিংড়ি ঘের। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনের গল্পটা করুণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। জোয়ারের পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় লোকালয়ে প্রবেশ করে। বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ঢুকে পড়ে গ্রামে। সেই পানি আর সহজে নামে না। ফলে মিষ্টি পানির আধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। একজন কৃষক যখন দেখেন তার জমিতে আর সোনালি ধান ফলবে না, তখন তার সামনে পথ খোলা থাকে দুটি। এক হলো অনাহারে মৃত্যু, আর দুই হলো জীবিকার সন্ধানে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো। অধিকাংশ মানুষ দ্বিতীয় পথটি বেছে নেয়। তারা হয়ে ওঠে জলবায়ু শরণার্থী।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফল ভোগ করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষ। সিডর, আইলা বা আম্পানের মতো ঘূর্ণিঝড়গুলো উপকূলের মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর হয়তো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য আসে। কিছু চাল বা ডাল পাওয়া যায়। কিন্তু ভেঙে যাওয়া বাঁধ আর সহজে মেরামত হয় না। নোনা পানি একবার ঢুকলে সেই জমিতে আগামী কয়েক বছর ফসল হয় না। এই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা একজন সাধারণ জেলের বা কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই তারা বাধ্য হয়ে শহরের দিকে ছোটেন।

শহরের বস্তিতে ঠাঁই নেওয়া এই মানুষগুলোর জীবনের গল্প আরও মর্মান্তিক। খুলনার দাকোপ বা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আসা একজন মানুষ আত্মসম্মান ও সামাজিক পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে আশ্রয় নেন ঢাকার বস্তিতে। গ্রামে হয়তো তার নিজস্ব এক টুকরো জমি ছিল। পুকুর ভরা মাছ ছিল। কিন্তু শহরে তিনি হয়ে যান শুধুই একজন দিনমজুর বা রিকশাচালক। তার স্ত্রী হয়তো অন্যের বাড়িতে কাজ নেন। যে শিশুরা গ্রামে মুক্ত বাতাসে বেড়ে উঠছিল, তারা বন্দি হয়ে পড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি তৈরি করে গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট।

আমরা প্রায়ই জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বড় বড় বুলি আওড়ানো হয়। কিন্তু উপকূলের এই মানুষগুলোর কান্না সেই সম্মেলন কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছায় না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এই সংখ্যাটি আঁতকে ওঠার মতো। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার এত বড় অংশ যদি স্থানচ্যুত হয় তবে তার প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতির ওপর। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরগুলো এখনই ব্যাপক জনাকীর্ণ। এরপর আরও কোটি মানুষের চাপ সামলানোর সক্ষমতা এই শহরগুলোর নেই।

প্রশ্ন হলো এই মানুষগুলো কেন পালাচ্ছে? তারা পালাচ্ছে কারণ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নদীভাঙন উপকূলের মানুষের কাছে এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ভোলা বা হাতিয়ার মতো দ্বীপগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। আজ যার গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান আছে, কাল সকালে সে তার সবই হারাতে পারে। এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে যাযাবর বানিয়ে দিচ্ছে। তারা জানে না আগামীকাল তাদের মাথার ওপর ছাদ থাকবে কি না। এই মানসিক চাপ আর ভয় তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

উপকূলীয় মানুষের এই লড়াই এক অসম লড়াই। একদিকে উত্তাল সমুদ্র আর অন্যদিকে জীবনের ক্ষুধা। এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হয়ে তারা মানচিত্রের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। তাদের এই যাত্রার শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। তবে আমরা যদি সচেতন না হই তবে একদিন এই মিছিল আমাদের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াবে। তখন হয়তো করার কিছুই থাকবে না। তাই সময় থাকতে আমাদের জাগতে হবে। উপকূল রক্ষা মানে বাংলাদেশ রক্ষা। এই সত্যটি আমাদের যত দ্রুত সম্ভব অনুধাবন করতে হবে। নোনা জলে আর কোনো কৃষকের চোখের জল মিশতে দেওয়া যাবে না। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

[লেখক: শিক্ষার্থী, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]

মানবসভ্যতা ও প্রাণিকল্যাণ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা

ছবি

ইরানের ধর্মভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী

ফুল ও মৌমাছির গণিতে কৃষির প্রতিচ্ছবি

দুর্নীতির ঐকিক নিয়ম

‘বিয়ার রাতেই বিড়াল মারো...’

তেল-উত্তর আরব: অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক রূপান্তর

ভোটের মনস্তত্ত্ব: বাংলাদেশে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ ও ভোটার মানস

প্রতিবেশী যদি বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না দেন

চাপে অর্থনীতি, সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র

মনোনয়নপত্র বাতিলের পরে বৈধতা পাওয়া

চিকিৎসাসেবায় ভেন্টিলেটর ও লাইফ সাপোর্ট

রেশম: এক ঐতিহ্য, এক সম্ভাবনার অবসান

প্রযুক্তিযুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ

যেভাবে বদলেছে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা

ছবি

খোলা হাওয়া, তেজি বৃষ্টি এবং ঝকঝকে রোদ

কৃষি অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

তেলের বিনিময়ে সার্বভৌমত্ব

নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই

মহাকাশে বিস্ময়কর মহাকাশ

টেংরাটিলা ট্র্যাজেডি : ক্ষতিপূরণহীন এক বিপর্যয়

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ -এর নমুনা

শীতের নীরব আঘাত

ভোটে ইসলামী জোট

আইনের শাসন কি উপেক্ষিতই থাকবে?

মাঠের মাইক নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নির্ধারিত হচ্ছে নেতৃত্ব

ভূমিকম্প ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও আমাদের করণীয়

“ফিজ-না-ফিজ...”

বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা

এলপিজি সংকট

ছবি

তবে কি আমরা প্রতারিত হলাম

প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী

ছবি

চারণসাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন ডিজিটাল যুগেও প্রাসঙ্গিক

নতুন বছরে অর্থনীতি ও বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

শীতের নতুন বিষদাঁত: জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের বৈষম্যের খেরোখাতা

সড়ক হোক নিরাপদ

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

লবণাক্ততায় ডুবছে উপকূল

আল শাহারিয়া

শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দক্ষিণের আঁকাবাঁকা তটরেখা আমাদের চোখে পড়ে। এই তটরেখা উপকূলে বসবাস করা কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার আধার। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষে এই জনপদ এখন বিপন্ন। উপকূলীয় মানুষ অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। নদী গিলে খাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। নোনা জল গ্রাস করছে ফসলি জমি। বাধ্য হয়ে মানুষ ছাড়ছে বাপ-দাদার ভিটে। বড় হচ্ছে জলবায়ু শরণার্থীর মিছিল।

সাতক্ষীরা বা খুলনার প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে গেলে বাতাসের সাথে মিশে থাকা নোনা স্বাদ পাওয়া যায়। একসময় যেখানে ধানের শীষে বাতাস দোল খেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল নোনা পানির চিংড়ি ঘের। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনের গল্পটা করুণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। জোয়ারের পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় লোকালয়ে প্রবেশ করে। বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ঢুকে পড়ে গ্রামে। সেই পানি আর সহজে নামে না। ফলে মিষ্টি পানির আধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। একজন কৃষক যখন দেখেন তার জমিতে আর সোনালি ধান ফলবে না, তখন তার সামনে পথ খোলা থাকে দুটি। এক হলো অনাহারে মৃত্যু, আর দুই হলো জীবিকার সন্ধানে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো। অধিকাংশ মানুষ দ্বিতীয় পথটি বেছে নেয়। তারা হয়ে ওঠে জলবায়ু শরণার্থী।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফল ভোগ করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষ। সিডর, আইলা বা আম্পানের মতো ঘূর্ণিঝড়গুলো উপকূলের মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর হয়তো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য আসে। কিছু চাল বা ডাল পাওয়া যায়। কিন্তু ভেঙে যাওয়া বাঁধ আর সহজে মেরামত হয় না। নোনা পানি একবার ঢুকলে সেই জমিতে আগামী কয়েক বছর ফসল হয় না। এই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা একজন সাধারণ জেলের বা কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই তারা বাধ্য হয়ে শহরের দিকে ছোটেন।

শহরের বস্তিতে ঠাঁই নেওয়া এই মানুষগুলোর জীবনের গল্প আরও মর্মান্তিক। খুলনার দাকোপ বা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আসা একজন মানুষ আত্মসম্মান ও সামাজিক পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে আশ্রয় নেন ঢাকার বস্তিতে। গ্রামে হয়তো তার নিজস্ব এক টুকরো জমি ছিল। পুকুর ভরা মাছ ছিল। কিন্তু শহরে তিনি হয়ে যান শুধুই একজন দিনমজুর বা রিকশাচালক। তার স্ত্রী হয়তো অন্যের বাড়িতে কাজ নেন। যে শিশুরা গ্রামে মুক্ত বাতাসে বেড়ে উঠছিল, তারা বন্দি হয়ে পড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি তৈরি করে গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট।

আমরা প্রায়ই জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বড় বড় বুলি আওড়ানো হয়। কিন্তু উপকূলের এই মানুষগুলোর কান্না সেই সম্মেলন কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছায় না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এই সংখ্যাটি আঁতকে ওঠার মতো। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার এত বড় অংশ যদি স্থানচ্যুত হয় তবে তার প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতির ওপর। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরগুলো এখনই ব্যাপক জনাকীর্ণ। এরপর আরও কোটি মানুষের চাপ সামলানোর সক্ষমতা এই শহরগুলোর নেই।

প্রশ্ন হলো এই মানুষগুলো কেন পালাচ্ছে? তারা পালাচ্ছে কারণ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নদীভাঙন উপকূলের মানুষের কাছে এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ভোলা বা হাতিয়ার মতো দ্বীপগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। আজ যার গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান আছে, কাল সকালে সে তার সবই হারাতে পারে। এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে যাযাবর বানিয়ে দিচ্ছে। তারা জানে না আগামীকাল তাদের মাথার ওপর ছাদ থাকবে কি না। এই মানসিক চাপ আর ভয় তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

উপকূলীয় মানুষের এই লড়াই এক অসম লড়াই। একদিকে উত্তাল সমুদ্র আর অন্যদিকে জীবনের ক্ষুধা। এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হয়ে তারা মানচিত্রের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। তাদের এই যাত্রার শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। তবে আমরা যদি সচেতন না হই তবে একদিন এই মিছিল আমাদের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াবে। তখন হয়তো করার কিছুই থাকবে না। তাই সময় থাকতে আমাদের জাগতে হবে। উপকূল রক্ষা মানে বাংলাদেশ রক্ষা। এই সত্যটি আমাদের যত দ্রুত সম্ভব অনুধাবন করতে হবে। নোনা জলে আর কোনো কৃষকের চোখের জল মিশতে দেওয়া যাবে না। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

[লেখক: শিক্ষার্থী, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]

back to top