alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

খ্রিস্টীয় নববর্ষ প্রচলনের ইতিকথা

আবদুল আলীম তালুকদার

: বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বব্যাপী পালিত নানা জাতিগোষ্ঠীর উৎসবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন হিসেবে মনে করা হয় বর্ষবরণ উৎসবকে। তাই বর্ষবরণের প্রাচীনতা ঐতিহ্যের ধারক। পৃথিবীর সব দেশে ও সব জাতির মাঝেই নববর্ষ পালনের রীতি বিদ্যমান। পুরাতন বছরের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, জরা-জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আবারও আমাদের মাঝে চলে এলো আরও একটি নতুন বছর। উদয় হলো নতুন দিনের নতুন সূর্যের। পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে নতুনকে স্বাগত জানানোর যে রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তাÑই নববর্ষ হিসেবে পরিচিত।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দ অনুসরণ করি প্রকৃতঅর্থে তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মূলত সৌর বছর। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি প্রাচীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারটির সংস্কার সাধন করেন। এই গ্রেগরির নামে এই ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত হয়। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ লেখার শেষে যে এডি লেখা হয় তা ল্যাটিন এ্যানো ডোমিনি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই এ্যানো ডোমিনির অর্থ আমাদের প্রভুর বছর অর্থাৎ খ্রিস্টাব্দ। ডাইওনিসিয়াম একমিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ৫৩২ অব্দে যিশু খ্রিস্টের জন্মবছর থেকে হিসাব করে এই খ্রিস্টাব্দ লিখন রীতি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ০১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর। তবে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে প্রায় ৪০০০ বছর আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। তখন মেসোপটেমিয় (বর্তমান ইরাক) সভ্যতার জনগণ প্রথম নতুন বছর উদযাপন শুরু করে। মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার আবার চারটি ভাগে বিভক্ত। যেমন- সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।

প্রাচীন রোমের প্রথম স¤্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তিতে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে স¤্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান এবং একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।

যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই খ্রিস্টীয় বছরের বারোটি মাসের বেশিরভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা স¤্রাটের নামানুসারে। যেমন- জানুয়ারি হলো দেবতা জানুস এর নামানুসারে। জানুস হলেন প্রবেশপথ বা সূচনার দেবতা। ফেব্রুয়ারি- ল্যাটিন শব্দ ফেবরুয়া থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ পবিত্র। মার্চ- রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে, এপ্রিল- ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস এর নামানুসারে, যার অর্থ খোলা। মে- বসন্তের দেবী মায়া’স নামানুসারে, জুন- বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে, জুলাই- রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজার এর নামানুসারে, সেপ্টেম্বর- ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে, নভেম্বর- ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে এবং ডিসেম্বর- ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে নির্ধারণ করা হয়েছিল নববর্ষ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছিল না। পরে স¤্রাট নুমা পল্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভূক্ত করেন, তবে নির্ধারণ করে দেন জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন; ওইদিনই হবে বর্ষবরণ।

মধ্যযুগে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে যখন জুলীয় বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করা হত, বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়র উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে নববর্ষ গণনা করা হত; যেমন ১ মার্চ, ২৫ মার্চ, ১ সেপ্টেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর। পরবর্তীতে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শ নিয়ে এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন এবং গ্রেগরিয় বর্ষপঞ্জী চালু করেন। তারই নামানুসারে যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে পুরাতন পদ্ধতি ও নতুন পদ্ধতির তারিখগুলোতে যথেষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয় যার ফলে নতুন বছরের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় তারিখের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট তারিখ (১ জানুয়ারি) প্রবর্তিত হয়। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ লেখার শেষে যে এ.ডি লেখা হয় তা ল্যাটিন শব্দ অ্যানো ডোমিনি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই আ্যানো ডোমিনির অর্থ আমাদের প্রভুর বছর। ডাইওনিসিয়াম একমিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ৫৩২ অব্দে যিশুখ্রিস্টের জন্মবছর থেকে হিসাব করে এই খ্রিস্টাব্দ লিখনরীতি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

ঐতিহাসিক সূত্র মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বছর পালন শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। নতুন বছরের আগের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে নিউ ইয়ার ইভ। এদিন নতুন বছরের আগমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন দেশে নতুন বছরের প্রথম দিনটি পাবলিক হলিডে। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১মিনিট থেকেই শুরু হয় নতুন বছর উদযাপনের উন্মাদনা। আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলোকচ্ছটা। বিশ্বব্যাপী ‘নিউ ইয়ার ডে’ সর্বজনীন একটি উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে।

[লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ]

মহাকাশ অর্থনীতি

কুষ্ঠ : নতুন সরকার ও একটি জাতীয় বিষয়ে প্রত্যাশা

বাংলাদেশের খাদ্যশিল্প

ভাষার রাজনীতি এবং রাজনীতির ভাষা

ছবি

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ছবি

নির্বাচনে জোট, নাকি সরকারে

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার

মানুষ কি বদলেছে, নাকি শুধু রং বদলিয়েছে?

সময় জীবনে চলার পথ দেখিয়ে দেয়

কালো ও সবুজ চা : জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বাঙালিরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়

অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে কী দিল

ভালোবাসা, সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবন: উদযাপনের আড়ালে অস্তিত্বের সংকট

ছবি

তিরাশির সেই দিন

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন সরকারকে

সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

গণতন্ত্র: একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা

‘ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি...’

নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান

ক্ষমতার অক্টোপাস: রাষ্ট্র দখল ও আমজনতার নাভিশ্বাস

কার হাতে উঠবে শাসনের রাজদণ্ড

নির্বাচন ও সাধারণ ভোটারের ‘অসাধারণ’ সামাজিক চাপ

মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক

মহাকাশের ভূত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি

নির্বাচনী হাওয়ার ভেতরে করুণ মৃত্যুর সংবাদ

দেশকে বধিবে যে গোকুলে বেড়েছে সে!

দক্ষিণপন্থার রাজনীতি: অগ্রগতি নাকি অবনমন?

সামাজিক সাম্য ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার পুনর্নির্ধারণ

ছবি

নির্বাচনের স্বপ্ন ও স্বপ্নের নির্বাচন

সরিষার চাষে সমৃদ্ধি ও ভোজ্যতেলের নিরাপত্তা

জমি কেনার আইনি অধিকার ও বাস্তবতা

‘ঐতিহাসিক’ নির্বাচনে জামায়াত

‘মাউশি’ বিভাজন : শিক্ষা প্রশাসন সংস্কার, না অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি?

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

খ্রিস্টীয় নববর্ষ প্রচলনের ইতিকথা

আবদুল আলীম তালুকদার

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বব্যাপী পালিত নানা জাতিগোষ্ঠীর উৎসবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন হিসেবে মনে করা হয় বর্ষবরণ উৎসবকে। তাই বর্ষবরণের প্রাচীনতা ঐতিহ্যের ধারক। পৃথিবীর সব দেশে ও সব জাতির মাঝেই নববর্ষ পালনের রীতি বিদ্যমান। পুরাতন বছরের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, জরা-জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আবারও আমাদের মাঝে চলে এলো আরও একটি নতুন বছর। উদয় হলো নতুন দিনের নতুন সূর্যের। পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে নতুনকে স্বাগত জানানোর যে রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তাÑই নববর্ষ হিসেবে পরিচিত।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দ অনুসরণ করি প্রকৃতঅর্থে তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মূলত সৌর বছর। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি প্রাচীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারটির সংস্কার সাধন করেন। এই গ্রেগরির নামে এই ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত হয়। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ লেখার শেষে যে এডি লেখা হয় তা ল্যাটিন এ্যানো ডোমিনি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই এ্যানো ডোমিনির অর্থ আমাদের প্রভুর বছর অর্থাৎ খ্রিস্টাব্দ। ডাইওনিসিয়াম একমিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ৫৩২ অব্দে যিশু খ্রিস্টের জন্মবছর থেকে হিসাব করে এই খ্রিস্টাব্দ লিখন রীতি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ০১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর। তবে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে প্রায় ৪০০০ বছর আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। তখন মেসোপটেমিয় (বর্তমান ইরাক) সভ্যতার জনগণ প্রথম নতুন বছর উদযাপন শুরু করে। মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার আবার চারটি ভাগে বিভক্ত। যেমন- সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।

প্রাচীন রোমের প্রথম স¤্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তিতে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে স¤্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান এবং একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।

যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই খ্রিস্টীয় বছরের বারোটি মাসের বেশিরভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা স¤্রাটের নামানুসারে। যেমন- জানুয়ারি হলো দেবতা জানুস এর নামানুসারে। জানুস হলেন প্রবেশপথ বা সূচনার দেবতা। ফেব্রুয়ারি- ল্যাটিন শব্দ ফেবরুয়া থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ পবিত্র। মার্চ- রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে, এপ্রিল- ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস এর নামানুসারে, যার অর্থ খোলা। মে- বসন্তের দেবী মায়া’স নামানুসারে, জুন- বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে, জুলাই- রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজার এর নামানুসারে, সেপ্টেম্বর- ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে, নভেম্বর- ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে এবং ডিসেম্বর- ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে নির্ধারণ করা হয়েছিল নববর্ষ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছিল না। পরে স¤্রাট নুমা পল্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভূক্ত করেন, তবে নির্ধারণ করে দেন জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন; ওইদিনই হবে বর্ষবরণ।

মধ্যযুগে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে যখন জুলীয় বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করা হত, বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়র উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে নববর্ষ গণনা করা হত; যেমন ১ মার্চ, ২৫ মার্চ, ১ সেপ্টেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর। পরবর্তীতে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শ নিয়ে এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন এবং গ্রেগরিয় বর্ষপঞ্জী চালু করেন। তারই নামানুসারে যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে পুরাতন পদ্ধতি ও নতুন পদ্ধতির তারিখগুলোতে যথেষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয় যার ফলে নতুন বছরের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় তারিখের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট তারিখ (১ জানুয়ারি) প্রবর্তিত হয়। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ লেখার শেষে যে এ.ডি লেখা হয় তা ল্যাটিন শব্দ অ্যানো ডোমিনি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই আ্যানো ডোমিনির অর্থ আমাদের প্রভুর বছর। ডাইওনিসিয়াম একমিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ৫৩২ অব্দে যিশুখ্রিস্টের জন্মবছর থেকে হিসাব করে এই খ্রিস্টাব্দ লিখনরীতি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

ঐতিহাসিক সূত্র মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বছর পালন শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। নতুন বছরের আগের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে নিউ ইয়ার ইভ। এদিন নতুন বছরের আগমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন দেশে নতুন বছরের প্রথম দিনটি পাবলিক হলিডে। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১মিনিট থেকেই শুরু হয় নতুন বছর উদযাপনের উন্মাদনা। আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলোকচ্ছটা। বিশ্বব্যাপী ‘নিউ ইয়ার ডে’ সর্বজনীন একটি উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে।

[লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ]

back to top