alt

বাংলাদেশ

হোটেল ভাড়া করে রোগী সামাল দেয়ার চিন্তা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১

রোগীর চাপে নাকাল দেশের সবকটি ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল। প্রতিদিনই রোগী শনাক্তের হার বাড়তে থাকায় কয়েক দফা শয্যা বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত সারা দেশের মোট ১৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে ন্যূনতম ২০টিতেই মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) মোট শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল। আর গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ‘আইসিইউ’ শয্যা (নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্র) খালি ছিল না বললেই চলে।

হাসপাতালে আসন সংকট দেখা দেয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ সিট ভর্তি হয়ে গেছে; রোগী আছে সিট ফাঁকা নাই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড।’

তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সরকারের পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও হোটেল ভাড়া করে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কোনো যুক্তি নেই। ঢাকার বড় দু-একটি কলেজেই অস্থায়ীভাবে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে সরকার গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ও বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘রোগীর চিকিৎসার জন্য হোটেল কেন ভাড়া করতে হবে? জানি না এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের হাসপাতালে অক্সিজেন ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সরবরাহ করলেই হয়, আইসিইউ দিলেই হয়। যেখানে ডাক্তার কম সেখানে ডাক্তার পদায়ন করলেই হয়। হোটেল ভাড়া করলে কি চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম লাগবে না?’

জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়েই রোগীরা ঢাকায় আসছেন-মন্তব্য বরে খ্যাতিমান এই রোগত্ত্ববিদ বলেন, ‘এখানেও চিকিৎসা নেই। অক্সিজেন না পেয়ে, হাসাপতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে রোগী মারা যাচ্ছে। জেলার হাসপাতালগুলোতেও রোগী ভর্তি নিচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জন। তাদের মধ্যে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন। আর মারা গেছেন ২১ হাজার ৩৯৭ জন।

এ হিসেবে, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে চিকিৎসাধীন (অ্যাক্টিভ কেস) রোগী থাকে এক লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১১ হাজার ৫৬৫ জন। এ হিসেবে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি আছেন বা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার বিকালে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট ১৬ হাজার ৪৫৮টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি ছিল চার হাজার ৮৯৩টি। যদিও ঢাকার হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী ভর্তি দেয়া যাচ্ছে না। আইসিইউ সংকটও চরম তীব্র হচ্ছে। রাজধানীর ছয়টিসহ সারাদেশের ২০টি হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের মোট এক হাজার ৩২৬টি ‘আইসিইউ’ শয্যার মধ্যে মঙ্গলবার খালি ছিল ১৬৩টি। অথচ গুরুতর অসুস্থ রোগী বা সিরিয়াস ক্রিটিক্যাল রোগী ছিল এক হাজার ৩৮১ জন। এ হিসেবে ‘গুরুতর অসুস্থ’ অনেক রোগীই আইসিইউ বা অক্সিজেন সাপোর্ট পাচ্ছে না।

রোগীর চাপ সামাল দিতে ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটার কাজ চলমান। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

করোনা আক্রান্ত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না, জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সে সব রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবেন, নার্স থাকবেন, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই, দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি।’

একদিনে মৃত্যু ২৩৫ জনের, শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ :
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মারা গেছেন ২৩৫ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনায় সরকারি হিসেবে মোট ২১ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হলো।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনে।

এই একদিনে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ২৯৭ জন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন।

২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৫ হাজার ২৮৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯টি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন এবং নারী ৯৫ জন। আর এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ৪১৯ জন এবং ছয় হাজার ৯৭৮ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ছিল। অন্যদের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চারজন এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, একদিনে সবচেয়ে বেশি ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৬৫ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, খুলনায় ৩২ জন, বরিশালে আটজন এবং সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া ২৩৫ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৭৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন, বাড়িতে ১৫ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় একজনকে আনা হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

আজ ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি অ্যাপ-বেইসড ড্রাইভারস ইউনিয়নের

২৩ শতাংশ নারী শ্রমিক বিদেশ থেকে ফিরেছেন বছর পূর্ণ না হতেই

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে তালা মেরে মার্কেট বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ৩৫ রোহিঙ্গা আটক

ছবি

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ছবি

অনলাইন ও অফলাইনে সেবা বাড়াচ্ছে ভিভো

ছবি

সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঢাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালেন আরেক সিনিয়র নেতা

ছবি

৬ দফা দাবিতে রাইড শেয়ার চালকদের কর্মবিরতি কাল

ছবি

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,শিক্ষক নেতা আনোয়ারা সুলতানা মারা গেছেন

ছবি

মাদারীপুুরে ভুল চিকিৎসায় ইমামের মৃত্যুর অভিযোগ স্বজনদের

মুুন্সীগঞ্জে চাকরির খোঁজে বের হয়ে নিখোঁজ, লাশ মিলল ধলেশ্বরীর তীরে

ছবি

গবেষনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে আখ্যায়িত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

ছবি

পরীমণির জব্দকৃত ১৬ আলামত ফেরত দিতে সুপারিশ

ছবি

বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা ব্যতীত দেশের উন্নয়ন-অর্জনের ইতিহাস নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন জীবন্ত কিংবদন্তি: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: পর্যবেক্ষণসহ আপিল বিভাগের নিষ্পত্তি

ছবি

আমরা আইনের ঊর্ধ্বে কোনো সরকার নই: পরিকল্পনামন্ত্রী

ছবি

হবিগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা

ছবি

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ২

ছবি

নির্মাণাধীন ভবনের পাশে মিললো মালিকের লাশ

ছবি

হবিগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

ছবি

জটিলতা কাটলো সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণে

ছবি

মান্দায় অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

ছবি

কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

সখীপুর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-যুবদল কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

সোনারগাঁয়ে আবাদী জমি রক্ষায় মানববন্ধন

ছবি

রামেক হাসপাতালে আরও ৪ জনের মৃত্যু

ছবি

ফের শুরু হচ্ছে গণটিকা

ছবি

এম গার্লস নিয়ে আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজ

ছবি

নাটোরের সিংড়ায় বন্যার্তদের মাঝে হুয়াওয়ের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

ছবি

বইমেলায় সেরা পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করলো বিকাশ

ছবি

আকাশ কিনে আরও তিন গ্রাহক টি-২০ বিশ্বকাপে

ছবি

ফেইসবুকের মাধ্যমে ৭০ বছর পর শতবর্ষী মা ফিরে পেলেন সন্তানকে

ছবি

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করবেন

tab

বাংলাদেশ

হোটেল ভাড়া করে রোগী সামাল দেয়ার চিন্তা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১

রোগীর চাপে নাকাল দেশের সবকটি ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল। প্রতিদিনই রোগী শনাক্তের হার বাড়তে থাকায় কয়েক দফা শয্যা বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত সারা দেশের মোট ১৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে ন্যূনতম ২০টিতেই মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) মোট শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল। আর গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ‘আইসিইউ’ শয্যা (নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্র) খালি ছিল না বললেই চলে।

হাসপাতালে আসন সংকট দেখা দেয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ সিট ভর্তি হয়ে গেছে; রোগী আছে সিট ফাঁকা নাই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড।’

তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সরকারের পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও হোটেল ভাড়া করে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কোনো যুক্তি নেই। ঢাকার বড় দু-একটি কলেজেই অস্থায়ীভাবে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে সরকার গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ও বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘রোগীর চিকিৎসার জন্য হোটেল কেন ভাড়া করতে হবে? জানি না এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের হাসপাতালে অক্সিজেন ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সরবরাহ করলেই হয়, আইসিইউ দিলেই হয়। যেখানে ডাক্তার কম সেখানে ডাক্তার পদায়ন করলেই হয়। হোটেল ভাড়া করলে কি চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম লাগবে না?’

জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়েই রোগীরা ঢাকায় আসছেন-মন্তব্য বরে খ্যাতিমান এই রোগত্ত্ববিদ বলেন, ‘এখানেও চিকিৎসা নেই। অক্সিজেন না পেয়ে, হাসাপতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে রোগী মারা যাচ্ছে। জেলার হাসপাতালগুলোতেও রোগী ভর্তি নিচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জন। তাদের মধ্যে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন। আর মারা গেছেন ২১ হাজার ৩৯৭ জন।

এ হিসেবে, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে চিকিৎসাধীন (অ্যাক্টিভ কেস) রোগী থাকে এক লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১১ হাজার ৫৬৫ জন। এ হিসেবে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি আছেন বা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার বিকালে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট ১৬ হাজার ৪৫৮টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি ছিল চার হাজার ৮৯৩টি। যদিও ঢাকার হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী ভর্তি দেয়া যাচ্ছে না। আইসিইউ সংকটও চরম তীব্র হচ্ছে। রাজধানীর ছয়টিসহ সারাদেশের ২০টি হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের মোট এক হাজার ৩২৬টি ‘আইসিইউ’ শয্যার মধ্যে মঙ্গলবার খালি ছিল ১৬৩টি। অথচ গুরুতর অসুস্থ রোগী বা সিরিয়াস ক্রিটিক্যাল রোগী ছিল এক হাজার ৩৮১ জন। এ হিসেবে ‘গুরুতর অসুস্থ’ অনেক রোগীই আইসিইউ বা অক্সিজেন সাপোর্ট পাচ্ছে না।

রোগীর চাপ সামাল দিতে ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটার কাজ চলমান। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

করোনা আক্রান্ত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না, জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সে সব রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবেন, নার্স থাকবেন, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই, দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি।’

একদিনে মৃত্যু ২৩৫ জনের, শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ :
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মারা গেছেন ২৩৫ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনায় সরকারি হিসেবে মোট ২১ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হলো।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনে।

এই একদিনে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ২৯৭ জন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন।

২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৫ হাজার ২৮৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯টি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন এবং নারী ৯৫ জন। আর এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ৪১৯ জন এবং ছয় হাজার ৯৭৮ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ছিল। অন্যদের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চারজন এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, একদিনে সবচেয়ে বেশি ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৬৫ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, খুলনায় ৩২ জন, বরিশালে আটজন এবং সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া ২৩৫ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৭৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন, বাড়িতে ১৫ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় একজনকে আনা হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

back to top