alt

সারাদেশ

আবারও ধর্মীয় উসকানি, সাম্প্রদায়িক হামলা, নিহত ৪

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

পূজার নিরাপত্তায় ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লায় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নানুয়াদিঘীর পাড় এলাকায় বিজিবির টহল -সংবাদ

সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে দুর্গাপূজার আগে দেশে বেশ কয়েকটি জায়গায় পূজামন্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূজামন্ডপে বিচ্ছিন্নভাবে আরও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন ছাড়াও দেশের ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত : বুধবার (১৩ অক্টোবর) কুমিল্লায় একটি পূজামন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরআন শরীফ পাওয়া গেছে এমন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে উসকানি দেয়া হয়। এরপর কুমিল্লার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। এ নিয়ে কুমিল্লায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি ছোড়ে। কুমিল্লায় পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) দিনভর থমথমে ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন ‘কুমিল্লায় হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত করে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, আমরা তদন্ত শেষে আপনাদের সব ঘটনা জানাতে পারবো।’

আমাদের হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়া মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশসহ ৩০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার রাত ১১টার পর থেকে হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এখন পরিস্থিতি শান্ত।

সংঘর্ষের সময় নিহতরা হলেন, হাজীগঞ্জের ৬ নম্বর বড়কুল ইউনিয়নের রায়ছোঁ গ্রামের মো. রহুল আমিনের ছেলে আল আমিন রাজু (১৮), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার রান্ধুনীমূড়ার ফজলুল হকের ছেলে ইয়াসিন হোসেন হৃদয় (১৪), আব্বাস মিয়ার ছেলে শামীম (১৯) ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিজনেস পার্কের শ্রমিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবলু (২৮)।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, হাজীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সময় ১৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হাজীগঞ্জ থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে পূজামন্ডপে হামলা করছে বলে পুলিশের অভিযোগ। এতে ৬টি পূজামন্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ, বিজিবি টহল দিচ্ছে।

কুমিল্লায় তদন্ত কমিটি, গ্রেপ্তার ৪১

আমাদের কুমিল্লা জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, বুধবার দিনব্যাপী নগরজুড়ে সহিংস ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির টহল অব্যাহত ছিল।

বিষয়টি তদন্ত করতে আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় টিম বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। একই সময় ঘটনাস্থলে যান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটির নেতারা কুমিল্লা সার্কিট হাউজে দলীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছি। সর্বপ্রথম যিনি ধারা বিবরণীসহ ভাইরাল করেছেন তাদেরও আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পূজামন্ডপ ছাড়াও নগরীতে দিনব্যাপী যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলা হবে। তদন্ত কমিটিও হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্দেহভাজন ফয়েজ আহমদসহ ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ফেইসবুকসহ যে কোন গুজবে কান না দেয়ার জন্য নাগরিকদের কাছে তারা আহ্বান জানান।

এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেনকে প্রধান করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূজামন্ডপ ও হিন্দু বসতিতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস পাড়ার কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপে এ হামলা ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পেকুয়ার শিলখালী ও মগনামায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, সন্ধ্যায় পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপে একদল দুর্বৃত্ত মিছিল সহকারে হামলার চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে হামলা চেষ্টাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। হামলাকারীরা গেটের সামান্য কিছু অংশ ভাঙচুর করলেও মূল পূজামন্ডপের ক্ষতি করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গগীর আলম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় একদল উগ্রবাদী দুর্বৃত্ত মিছিল সহকারে পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়ার পূজামন্ডপে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পূজামন্ডপের গেট ভাঙচুর করেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্বাসপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী শীলপাড়ায় হিন্দুদের বসতঘর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। এ সময় কিছু বাড়ির ঘেরা-বেড়াও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিলখালী ইউনিয়নের শীলপাড়া পূজামন্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুরসহ তছনছ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা পেকুয়া সদর, শিলখালী ও মগনামায় বেশ কয়েকটি হিন্দবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। তছনছ করা হয়েছে ভাঙচুর করা বাড়ির মালামাল ও আসবাবপত্র।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল করেছে কিছু লোক। এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাতের আঁধারে মিছিল করার অভিযোগে শরণখোলা থানা পুলিশ ওই রাতেই ৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো- উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের চাঁনমিয়া হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার (৪৫), বাচ্চু মাঝির ছেলে সজিব মাঝি (২০), নূরুল ইসলাম খানের ছেলে বায়েজিদ খান (২০) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে ওলিয়ার রহমান হাওলাদার (১৯)। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে টহল দিচ্ছে বিজিবি। এদিকে উলিপুরের ৩টি ইউনিয়নের ৭টি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির বলেন, এখন পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ কারো নাম জানাতে না চাইলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটকৃতদের মধ্যে একজন জামায়াত নেতাসহ কয়েকজন বিএনপির সমর্থক রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক এমএ মতিন অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি উলিপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরপুরে পুলিশকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। বরং হামলার সময় পুলিশের ‘রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকা ছিল।

নেফরা দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নিপেন রায় বলেন, রাত এগারটার দিকে প্রায় ৫ থেকে ৭শ লোক এসে মন্দিরের গ্রিল টিন, প্রতিমা ও পাশের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। এরপর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার পর দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগরের পাশাপাশি ছয় উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তা মোতায়েন থাকবে।

আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে সিলেটের জকিগঞ্জের কালীগঞ্জে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩-৪শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জকিগঞ্জ থানার এসআই আমিরুল সরকার বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।

বুধবার রাতে কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে কালীগঞ্জে সন্ধ্যার পরে মিছিল বের করে মাইকিং করা হয় এবং এশার নামাজের পর মিছিল বের হয়। মিছিল শুরু করেই দায়িত্বরত পুলিশের উপর চড়াও হয় মিছিলকারীরা।

ছবি

গুলশানে আবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি

মনোনয়ন সমস্যায় ৮৮টি ইউপিতে নৌকা পাচ্ছে না কেউ

ছবি

গুলশানে আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট

ছবি

লক্ষ্মীপুরের ৫ হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মচারী সংকট

ছবি

আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার আর নেই

ছবি

খুলনায় তিন খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ৪

ছবি

পাটুরিয়া ঘাটে ১৭ ট্রাক নিয়ে ফেরিডুবি

ছবি

চট্টগ্রামে মান্নান ফ্লাইওভারে ফাটল

ছবি

থানা হাজতের গ্রিল ভেঙে পালালেন আসামি, দুই পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি

অনলাইন শপিং উৎসবে প্রোটিন মার্কেট এর অফার

ছবি

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

ছবি

নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং পুরস্কার পেলেন ২২ সাংবাদিক

কলারোয়ায় ইঁদুর নিধন অভিযান

ছবি

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বাবার সম্মানে বিনা পারিশ্রমিকে ১০০১টি কিডনি প্রতিস্থাপন

চুনারুঘাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ছবি

অতি বৃষ্টিতে শত শত বিঘার আমন ধান বিনষ্টের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষক

ছবি

ফরিদপুরে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

ছবি

সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

ছবি

২২ দিনের অভিযানে সাড়ে ৩শ কোটি টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস

ছবি

গোপালগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি

বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, কাজে ফিরবেন ক্ষুব্ধ পাইলটরা

ছবি

নন্দীগ্রামে বর্গাচাষির বেগুন-করলা গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

কক্সবাজার সৈকতে ফের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

ছবি

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ

গাইনি চিকিৎসক টাকা নিয়ে সনদ দেয় রেডিওলোজির!

মহেশখালীর পৌর মেয়রসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা

ভালুকায় সাপের কামড়ে মৃত্যু ১

ছবি

চট্টগ্রামে উড়ালসড়কে ‘নির্মাণত্রুটির’ কারণে ফাটল, বললেন মেয়র

বদলগাছীতে ইভিএমে ভোট

কাঁঠালিয়ায় আ’লীগ নেতার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চৌগাছায় ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত এলাকাবাসী

ছবি

শীতের আগমনীতে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে গাছিরা

শেরপুরে ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় বাদীর পরিবার নিরাপত্তাহীন

ছবি

লন্ডনে বসে দুর্গাপূজায় হামলার পরিকল্পনা: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে

ছবি

খুলনায় পুকুরে মিলল মা-বাবা ও মেয়ের লাশ

tab

সারাদেশ

আবারও ধর্মীয় উসকানি, সাম্প্রদায়িক হামলা, নিহত ৪

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

পূজার নিরাপত্তায় ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লায় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নানুয়াদিঘীর পাড় এলাকায় বিজিবির টহল -সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে দুর্গাপূজার আগে দেশে বেশ কয়েকটি জায়গায় পূজামন্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূজামন্ডপে বিচ্ছিন্নভাবে আরও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন ছাড়াও দেশের ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত : বুধবার (১৩ অক্টোবর) কুমিল্লায় একটি পূজামন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরআন শরীফ পাওয়া গেছে এমন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে উসকানি দেয়া হয়। এরপর কুমিল্লার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। এ নিয়ে কুমিল্লায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি ছোড়ে। কুমিল্লায় পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) দিনভর থমথমে ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন ‘কুমিল্লায় হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত করে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, আমরা তদন্ত শেষে আপনাদের সব ঘটনা জানাতে পারবো।’

আমাদের হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়া মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশসহ ৩০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার রাত ১১টার পর থেকে হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এখন পরিস্থিতি শান্ত।

সংঘর্ষের সময় নিহতরা হলেন, হাজীগঞ্জের ৬ নম্বর বড়কুল ইউনিয়নের রায়ছোঁ গ্রামের মো. রহুল আমিনের ছেলে আল আমিন রাজু (১৮), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার রান্ধুনীমূড়ার ফজলুল হকের ছেলে ইয়াসিন হোসেন হৃদয় (১৪), আব্বাস মিয়ার ছেলে শামীম (১৯) ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিজনেস পার্কের শ্রমিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবলু (২৮)।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, হাজীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সময় ১৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হাজীগঞ্জ থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে পূজামন্ডপে হামলা করছে বলে পুলিশের অভিযোগ। এতে ৬টি পূজামন্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ, বিজিবি টহল দিচ্ছে।

কুমিল্লায় তদন্ত কমিটি, গ্রেপ্তার ৪১

আমাদের কুমিল্লা জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, বুধবার দিনব্যাপী নগরজুড়ে সহিংস ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির টহল অব্যাহত ছিল।

বিষয়টি তদন্ত করতে আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় টিম বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। একই সময় ঘটনাস্থলে যান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটির নেতারা কুমিল্লা সার্কিট হাউজে দলীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছি। সর্বপ্রথম যিনি ধারা বিবরণীসহ ভাইরাল করেছেন তাদেরও আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পূজামন্ডপ ছাড়াও নগরীতে দিনব্যাপী যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলা হবে। তদন্ত কমিটিও হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্দেহভাজন ফয়েজ আহমদসহ ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ফেইসবুকসহ যে কোন গুজবে কান না দেয়ার জন্য নাগরিকদের কাছে তারা আহ্বান জানান।

এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেনকে প্রধান করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূজামন্ডপ ও হিন্দু বসতিতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস পাড়ার কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপে এ হামলা ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পেকুয়ার শিলখালী ও মগনামায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, সন্ধ্যায় পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপে একদল দুর্বৃত্ত মিছিল সহকারে হামলার চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে হামলা চেষ্টাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। হামলাকারীরা গেটের সামান্য কিছু অংশ ভাঙচুর করলেও মূল পূজামন্ডপের ক্ষতি করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গগীর আলম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় একদল উগ্রবাদী দুর্বৃত্ত মিছিল সহকারে পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়ার পূজামন্ডপে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পূজামন্ডপের গেট ভাঙচুর করেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্বাসপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী শীলপাড়ায় হিন্দুদের বসতঘর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। এ সময় কিছু বাড়ির ঘেরা-বেড়াও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিলখালী ইউনিয়নের শীলপাড়া পূজামন্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুরসহ তছনছ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা পেকুয়া সদর, শিলখালী ও মগনামায় বেশ কয়েকটি হিন্দবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। তছনছ করা হয়েছে ভাঙচুর করা বাড়ির মালামাল ও আসবাবপত্র।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল করেছে কিছু লোক। এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাতের আঁধারে মিছিল করার অভিযোগে শরণখোলা থানা পুলিশ ওই রাতেই ৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো- উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের চাঁনমিয়া হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার (৪৫), বাচ্চু মাঝির ছেলে সজিব মাঝি (২০), নূরুল ইসলাম খানের ছেলে বায়েজিদ খান (২০) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে ওলিয়ার রহমান হাওলাদার (১৯)। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে টহল দিচ্ছে বিজিবি। এদিকে উলিপুরের ৩টি ইউনিয়নের ৭টি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির বলেন, এখন পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ কারো নাম জানাতে না চাইলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটকৃতদের মধ্যে একজন জামায়াত নেতাসহ কয়েকজন বিএনপির সমর্থক রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক এমএ মতিন অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি উলিপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরপুরে পুলিশকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। বরং হামলার সময় পুলিশের ‘রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকা ছিল।

নেফরা দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নিপেন রায় বলেন, রাত এগারটার দিকে প্রায় ৫ থেকে ৭শ লোক এসে মন্দিরের গ্রিল টিন, প্রতিমা ও পাশের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। এরপর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার পর দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগরের পাশাপাশি ছয় উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তা মোতায়েন থাকবে।

আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে সিলেটের জকিগঞ্জের কালীগঞ্জে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩-৪শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জকিগঞ্জ থানার এসআই আমিরুল সরকার বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।

বুধবার রাতে কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে কালীগঞ্জে সন্ধ্যার পরে মিছিল বের করে মাইকিং করা হয় এবং এশার নামাজের পর মিছিল বের হয়। মিছিল শুরু করেই দায়িত্বরত পুলিশের উপর চড়াও হয় মিছিলকারীরা।

back to top