alt

অর্থ-বাণিজ্য

লকডাউনের দেড় মাসে কৃষকের ক্ষতি ৫৬ হাজার কোটি টাকা : ব্র্যাক

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০
image

ফাইল ছবি

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে লকডাউনের প্রথম দেড় মাসে কৃষকের ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে বলে উঠে এসেছে ব্র্যাকের এক গবেষণায়।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত সময়ে করা গবেষণায় ওই ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে বেসরকারি এ সংস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে গবেষক দলের সদস্য নাহরীন রহমান স্বর্ণা বলেন, এই দেড় মাসে পণ্যের ক্ষতি ও কম দামের কারণে প্রত্যেক কৃষকের লোকসান হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৭৬ টাকা।

‘সেই হিসেবে সারাদেশে কৃষির প্রতিটি উপখাতের সকল কৃষকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে লোকসান হয়েছে কমেছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সমান।’

কৃষি খাতে এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার উপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে করা দুটি সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে ওই ফলাফল প্রকাশ করে ব্র্যাক।

সমীক্ষায় সারাদেশের ১ হাজার ৫৮১ জন কৃষক (ফসল, শাকসবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং দুগ্ধ উৎপাদনকারী) অংশ নেন।

ওই গবেষণায় দেখা যায়, মহামারী শুরুর দিকে ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ব্যাপক চাহিদা এবং ভোক্তাদের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পণ্য কেনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে মোটা চাল, মসুরের ডাল ইত্যাদির দাম ও বিক্রি বেড়ে যায়।

‘চাল ও মসুরের ডালের দাম ৩০-৩২ শতাংশ এবং ব্যবসায়ীদের এই পণ্যগুলোর বিক্রি ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজারে চাহিদা বাড়লেও তা কৃষকদের কোনও উপকারে আসেনি, কারণ মহামারীর আগেই তারা তাদের মজুদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন।’

অন্যদিকে ত্রাণ-বহির্ভূত এবং পচনশীল পণ্যগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরে গবেষক নাহরীন বলেন, এই কারণে ৮৮ শতাংশ কৃষক (মাছ চাষিদের শতভাগ) আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

কৃষকরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ন্যায্যমূল্য না পাওয়া (৬৬%), সীমিত সময়ের জন্য বাজার খোলা থাকা (৫২%), উৎপাদনের উপকরণসমূহের উচ্চমূল্য (৪৫%) এবং শ্রমিক সংকট (২৮%)।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা সম্পর্কে কৃষকের জ্ঞান ও মনোভাব জরিপে গবেষণায় তুলে ধরার চেষ্টাও করেছে ব্র্যাক।

এতে দেখা যায়, সরকারের কাছ থেকে ৬৬ শতাংশ কৃষক সহজ শর্তে ঋণ পেতে চান। ৫৬ শতাংশ কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম এবং কম খরচে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ চান ৪৮ শতাংশ কৃষক।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ কৃষক বলেছেন, সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা সম্পর্কে জানেন। তবে তাদের ৭৯ শতাংশের এই সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায় সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই বা ভুল ধারণা আছে। ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক ঋণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র ২০ ভাগ কৃষকের।

গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, এই সঙ্কট সামাল দিতে আড়তদার, পাইকার, ফড়িয়া এদেরকেও গুরুত্ব দিতে হবে, সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা, বাজারে এদের বিরাট ভূমিকা থাকে।”

ভূমিহীন ও বর্গাচাষীদের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণপ্রাপ্তির স্বার্থে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণী সম্পদ বিভাগের স্থানীয় কর্মীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষকের স্বার্থে সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর রাখার সুপারিশ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রাণের ব্যবস্থাপনা

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ।

ছবি

সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০% লভ্যাংশ ঘোষণা

ছবি

আমরা সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য: সাবের হোসেন

শেয়ারবাজারে ১২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন

ছবি

ব্যাংক হিসাবে চার্জমুক্ত থাকবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত

ছবি

বাজেটের সুফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল

ছবি

উন্নত জাতের ‘সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন

ইগলু আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে জরিমানা

২৫ হাজার কৃষকের থেকে সরাসরি পণ্য কিনছে আরিফ গ্রুপ

ছবি

এবি ব্যাংকের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা

প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে ২ কোটি টাকা দিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক

ছবি

ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ছবি

বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরও চালের বাজার অস্থির

ছবি

ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও এবং এমডি জাভেদ আখতার

ছবি

ব্লুঅরচার্ড মাইক্রোফাইন্যান্স ফান্ড থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিলো লংকাবাংলা ফাইন্যান্স

ছবি

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর না রাখার সুপারিশ বিসিআই’র

ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা পর্যটন স্পটগুলোর

ছবি

ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন এমডি জাভেদ আখতার

ছবি

টাইলস-স্যানিটারি পণ্যে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

ছবি

স্বর্ণের ভ্যাট কমানোর দাবি বাজুসের

স্টার্টাপে ৫ কোটি পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে ইভ্যালি

গতবছর ১০ কোটি ৬১ লাখ টাকা মুনাফা করেছে জনতা ক্যাপিটাল

প্রথম ঘন্টায় ডিএসইতে হাজার কোটি টাকা লেনদেন

ছবি

এক বছরে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮৯১ শতাংশ

ছবি

মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

ডিএসইতে রেকর্ড লেনদেন সূচকও বেড়েছে

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চলছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নতুন দরিদ্রদের কোন স্বীকৃতি নেই

বই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে ‘ইলেকট্রনিক্স উইক’ ক্যাম্পেইন

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি অর্থনীতিকে গতিশীল করবে

প্রথম দুই ঘন্টায় ডিএসইতে ১৪’শ কোটি টাকা লেনদেন

ছবি

সূচকের বড় উত্থানে চলছে লেনদেন

ছবি

নন-কটন পোশাক রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা

ব্যাংক-বীমায় বড় উত্থান শেয়ারবাজারে

বাজেটকে দুঃসাহসী বলল শিপার্স কাউন্সিল

পুঁজিবাজারে অর্ধেক মুনাফা দেবে এমবি ফার্মা

শেয়ারবাজারের সবকিছুই ডিজিটালাইজড করতে চাই : বিএসইসি কমিশনার

tab

অর্থ-বাণিজ্য

লকডাউনের দেড় মাসে কৃষকের ক্ষতি ৫৬ হাজার কোটি টাকা : ব্র্যাক

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

ফাইল ছবি

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে লকডাউনের প্রথম দেড় মাসে কৃষকের ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে বলে উঠে এসেছে ব্র্যাকের এক গবেষণায়।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত সময়ে করা গবেষণায় ওই ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে বেসরকারি এ সংস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে গবেষক দলের সদস্য নাহরীন রহমান স্বর্ণা বলেন, এই দেড় মাসে পণ্যের ক্ষতি ও কম দামের কারণে প্রত্যেক কৃষকের লোকসান হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৭৬ টাকা।

‘সেই হিসেবে সারাদেশে কৃষির প্রতিটি উপখাতের সকল কৃষকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে লোকসান হয়েছে কমেছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সমান।’

কৃষি খাতে এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার উপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে করা দুটি সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে ওই ফলাফল প্রকাশ করে ব্র্যাক।

সমীক্ষায় সারাদেশের ১ হাজার ৫৮১ জন কৃষক (ফসল, শাকসবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং দুগ্ধ উৎপাদনকারী) অংশ নেন।

ওই গবেষণায় দেখা যায়, মহামারী শুরুর দিকে ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ব্যাপক চাহিদা এবং ভোক্তাদের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পণ্য কেনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে মোটা চাল, মসুরের ডাল ইত্যাদির দাম ও বিক্রি বেড়ে যায়।

‘চাল ও মসুরের ডালের দাম ৩০-৩২ শতাংশ এবং ব্যবসায়ীদের এই পণ্যগুলোর বিক্রি ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজারে চাহিদা বাড়লেও তা কৃষকদের কোনও উপকারে আসেনি, কারণ মহামারীর আগেই তারা তাদের মজুদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন।’

অন্যদিকে ত্রাণ-বহির্ভূত এবং পচনশীল পণ্যগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরে গবেষক নাহরীন বলেন, এই কারণে ৮৮ শতাংশ কৃষক (মাছ চাষিদের শতভাগ) আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

কৃষকরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ন্যায্যমূল্য না পাওয়া (৬৬%), সীমিত সময়ের জন্য বাজার খোলা থাকা (৫২%), উৎপাদনের উপকরণসমূহের উচ্চমূল্য (৪৫%) এবং শ্রমিক সংকট (২৮%)।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা সম্পর্কে কৃষকের জ্ঞান ও মনোভাব জরিপে গবেষণায় তুলে ধরার চেষ্টাও করেছে ব্র্যাক।

এতে দেখা যায়, সরকারের কাছ থেকে ৬৬ শতাংশ কৃষক সহজ শর্তে ঋণ পেতে চান। ৫৬ শতাংশ কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম এবং কম খরচে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ চান ৪৮ শতাংশ কৃষক।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ কৃষক বলেছেন, সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা সম্পর্কে জানেন। তবে তাদের ৭৯ শতাংশের এই সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায় সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই বা ভুল ধারণা আছে। ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক ঋণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র ২০ ভাগ কৃষকের।

গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, এই সঙ্কট সামাল দিতে আড়তদার, পাইকার, ফড়িয়া এদেরকেও গুরুত্ব দিতে হবে, সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা, বাজারে এদের বিরাট ভূমিকা থাকে।”

ভূমিহীন ও বর্গাচাষীদের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণপ্রাপ্তির স্বার্থে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণী সম্পদ বিভাগের স্থানীয় কর্মীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষকের স্বার্থে সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর রাখার সুপারিশ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রাণের ব্যবস্থাপনা

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ।

back to top