alt

নগর-মহানগর

ঢাকার খাল ও নদী : চতুর্থ পর্ব

খাল উন্নয়নে ডিএসসিসির ৯৮০ কোটি টাকার প্রকল্প

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১

ভরাট, দখল ও দূষণের শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীগুলো। খালগুলো পরিণত হয়েছে নর্দমায়। নদী হয়ে গেছে খাল। ঢাকায় কয়টি খাল ছিল তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। সরকারি এক একটি সংস্থার এক এক রকম তথ্য। কেউ বলছে ৫১টি, কেউ বলছে ৪৬টি, কেউ বলছে ৩২টি খাল। এছাড়া ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর পানি হয়ে গেছে ময়লা ও দুর্গন্ধ যুক্ত। ঢাকার খাল ও নদীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ চতুর্থ পর্ব।

ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করেছে দুই সিটি করপোরেশন। প্রাথমিকভাবে ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি খাল উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে ডিএসসিসির সূত্র জানায়।

খাল উন্নয়নে ডিএসসিসির প্রকল্প

ঢাকা দক্ষিণের কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল উন্নয়নে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই খালগুলোর পানি প্রবাহ ঠিক রাখা, ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ, পানি প্রবাহের মাধ্যমে মশক প্রজনন বন্ধ করা, খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, খালের তীরে গ্রীন বেল্ট ও বসার স্থান তৈরির মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা, খালে মৎস্য চাষ, নৌ-চলাচল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ডিএসসিসির সূত্র জানায়।

কালুনগর খাল : বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে কালুনগর খালটি কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ হয়ে তুরাগ নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ১৯৮০’র দশকে এই খালে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি এখন ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঢাকা জেলা প্রশাসনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে সিটি জরিপের ১ নম্বর খতিয়ানে ৪০ ও ২০ নম্বর দাগে খালটি অবস্থিত। খালটি দক্ষিণে সিটি করপোশেনের ৩ নম্বর কর অঞ্চলের ১৪ ও ২২ ওয়ার্ডে দিয়ে প্রবাহিত। খালটির দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার। খালটির গড় প্রস্থ ১২ মিটার। খালটি উন্নয়নে ১৭১ কোটি ব্যয়ে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে। থাকবে ইউটিলিটি স্থানান্তরের সুব্যবস্থা, ২৫০টি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ফিল্টারিংসহ ২ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সবুজায়নের থাকবে ১০ হাজার বর্গমিটারের বাগান, ১০ হাজার বৃক্ষ রোপণ। ৮ ফুট উচ্চতা ৫ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা হবে। এছাড়া খালে দুই পাড়ে নির্মাণ করা হবে ৮০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ইকোপার্ক, ২টি পাবলিক টয়লেট, কার পার্কিং ব্যবস্থা, ২টি ব্যায়ামাগার, আরসিসি ওয়াল, ১টি পদচারী সেতু, ২টি স্লুইচ গেট, ২টি পাম্প হাউস ও ১টি ফোয়ার।

জিরানী খাল : বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বালু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খালটি ধোলাই খালের শাখা হিসেবে পরিচিত। এটি সায়েদাবাদ ব্রিজের নিচ দিয়ে বাসাবো হয়ে বালু নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খালটি প্রকৃত দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার কিন্তু বক্স কালভার্টের খালের অর্ধেক সড়কে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খালের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটাল। গড় প্রস্থ ২০ মিটার। খালটি উন্নয়নে ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার নান্দনিক বাতি, ৫০০টি সোলার প্যানেল, ৪০ হাজার বর্গমিটার সবুজায়ন, চারটি ফুট ওভারব্রিজ, আড়াই হাজার বর্গমিটার সাইকেল লেন, পাঁচটি মাছ ধরার স্থান, চারটি ফুডকোর্ট, একটি প্লাজা, ১০০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ১৫০টি ওয়েস্টবিন, পাঁচটি সাইট দর্শনের স্থান, ১০ হাজার বর্গমিটার জায়গায় হবে বাচ্চাদের জন্য ইকোপার্ক, ব্যায়ামাগার ২টি, দু’টি পাবলিক টয়লেট, দু’টি পার্কিং স্পেস, গাড়ি চলার সেতু ৩টি ও একটি ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে।

মা-া খাল : ঢাকার পূর্বাঞ্চলের অবস্থিত মা-া খালটি। রাজধানীর সবুজবাগ থেকে শুরু হয়ে মাদারটেক, দক্ষিণগাঁওয়ের পাশ দিয়ে বালু নদীতে মিলিত হয়েছে খালটি। এর একটি শাখা রাজারবাগ ও অপরটি ধলপুরের সুতিখালের সঙ্গে যুক্ত ছিল। খালটির দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ২৫ মিটার। খালটি দখল, দূষণ ও ভরাট সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। তাই অনেক স্থানে ৫-৪০ মিটার পর্যন্ত প্রস্থ রয়েছে। খালটি উন্নয়নে ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি। খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

খালের দুই পাড়ে ১৮০০টি নান্দনিক বাতি, সৌর প্যানেল ৮০০টি, ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় সবুজায়ন, ১০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ইকোপার্ক, তিনটি গাড়ি পার্কিং, ৩০ হাজার বর্গমিটারে ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার বর্গমিটারে সাইকেল লেন, ১৫টি মাছ ধরার স্থান, ছয়টি ফুডকোর্ট, চারটি প্লাজা, ১৪০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ২৫০টি ওয়েস্টবিন, সাতটি সাইট দর্শনের স্থান, দুটি পাবলিক টয়লেট, চারটি ব্যায়ামগার, ছয়টি ফুটওভারব্রিজ, চারটি সেতু ও ১টি ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে।

শ্যামপুর খাল : বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামপুর লঞ্চঘাটের পাশ দিয়ে উৎপত্তি হয়ে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী সঙ্গে যুক্ত ছিল খালটি। কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি এখন একটি নালায় পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে খালটি এখন হুমকির মুখে। বর্তমানে খালটির দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ১২ মিটার। খালটি উন্নয়নে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে থাকবে এক হাজার নান্দনিক বাতি, ৫০০টি সৌর প্যানেল, ২০ হাজার বর্গমিটারে সবুজায়ন, ২০ হাজার বর্গমিটারে ওয়াকওয়ে, দু’টি ফুডকোর্ট, একটি প্লাজা, ৯০টি বসার বেঞ্চ, ১৫০টি ওয়েস্টবিন, তিনটি সাইট দর্শনের স্থান, পাঁচ হাজার বর্গমিটারে শিশুদের খেলার জায়গা, একটি পাবলিক টয়লেট, একটি গাড়ি পার্কিং, দু’টি ব্যায়ামাগার, একটি ফুটওভারব্রিজ, দু’টি সেতু ও একটি ফোয়ারা।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘সিটি করপোরেশন খালের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংস্কার ও আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কালুনগর, জিরানী খাল, মা-া খাল, শ্যামপুর খাল, পান্থকুঞ্জ বক্স কালভার্ট ও সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো পানি নিষ্কাশনের প্রধান চ্যানেল। এ চারটি খালের আধুনিকায়ন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৯৮১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ এছাড়া জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি কাজের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছবি

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আরো বেশি হারে বিল-কর চান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ছবি

ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

ছবি

৮৭ বছরের ঐতিহ্যবাহি কাচ্চি ব্যবসা ও একজন ফজলুর রহমান

ছবি

সৌদি বসে ঢাকায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, গ্রেপ্তার ১

ছবি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ৩

ছবি

রাজধানীর যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না আজ

ছবি

হাতিরঝিলের অনুরূপ দৃষ্টিনন্দন জলাধার হবে কল্যাণপুরে: মেয়র আতিক

ছবি

রাজধানীতে র‌্যাবের অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশ থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার

মালিবাগে ট্রেনে কাটা পড়ে শিক্ষক নিহত

ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

ছবি

রাজধানীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২

ছবি

‘বাঁইচা ফিরমু ভাবি নাই’

ছবি

রাজশাহীতে সন্তানের হাতে পিতা খুন

ছবি

মিরপুরের ওয়াসার অফিস যেন এডিস উৎপাদনের কারখানা, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

কলাগাছ দিয়ে স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ করতে চান মেয়র

ছবি

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

‘কষ্ট সইতে না পেরে ওদের খুন করলাম’

ছবি

যাত্রাবাড়ীতে ‘পরকীয়া’র জেরে স্বামীর হাতে স্ত্রী-সন্তান খুন

ছবি

সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন উপলক্ষে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

ছবি

রাজধানীতে সাড়ে ৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ভবন

ছবি

বিআরটিএ যানবাহনের পাশাপাশি এডিস মশার লাইসেন্সও দিচ্ছে: মেয়র

ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ৫৭

ছবি

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু

ছবি

একদিনে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত ২৬৯, মৃত্যু ৬

ছবি

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৫৪

ছবি

ঢাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৪

ছবি

মিরপুরে গ্যাসের পাইপলাইনে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৭

মশা নিধনে সুপারভাইজারদের দায়িত্ব নিতে হবে : মেয়র আতিক

ছবি

নিরাপদ নগরীর তালিকায় এখনও তলানিতে ঢাকা

বরিশাল ইউএনওর বিরুদ্ধে মেয়রের মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

ছবি

রাজধানী ‘আইস’ ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১০

ছবি

রাজধানীতে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন

ছবি

‘দায় না চাপিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে কাজ করতে হবে’

সূত্রাপুরে হেলে পড়া ভবন সিলগালা

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৪

tab

নগর-মহানগর

ঢাকার খাল ও নদী : চতুর্থ পর্ব

খাল উন্নয়নে ডিএসসিসির ৯৮০ কোটি টাকার প্রকল্প

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১

ভরাট, দখল ও দূষণের শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীগুলো। খালগুলো পরিণত হয়েছে নর্দমায়। নদী হয়ে গেছে খাল। ঢাকায় কয়টি খাল ছিল তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। সরকারি এক একটি সংস্থার এক এক রকম তথ্য। কেউ বলছে ৫১টি, কেউ বলছে ৪৬টি, কেউ বলছে ৩২টি খাল। এছাড়া ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর পানি হয়ে গেছে ময়লা ও দুর্গন্ধ যুক্ত। ঢাকার খাল ও নদীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ চতুর্থ পর্ব।

ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করেছে দুই সিটি করপোরেশন। প্রাথমিকভাবে ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি খাল উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে ডিএসসিসির সূত্র জানায়।

খাল উন্নয়নে ডিএসসিসির প্রকল্প

ঢাকা দক্ষিণের কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল উন্নয়নে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই খালগুলোর পানি প্রবাহ ঠিক রাখা, ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ, পানি প্রবাহের মাধ্যমে মশক প্রজনন বন্ধ করা, খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, খালের তীরে গ্রীন বেল্ট ও বসার স্থান তৈরির মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা, খালে মৎস্য চাষ, নৌ-চলাচল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ডিএসসিসির সূত্র জানায়।

কালুনগর খাল : বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে কালুনগর খালটি কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ হয়ে তুরাগ নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ১৯৮০’র দশকে এই খালে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি এখন ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঢাকা জেলা প্রশাসনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে সিটি জরিপের ১ নম্বর খতিয়ানে ৪০ ও ২০ নম্বর দাগে খালটি অবস্থিত। খালটি দক্ষিণে সিটি করপোশেনের ৩ নম্বর কর অঞ্চলের ১৪ ও ২২ ওয়ার্ডে দিয়ে প্রবাহিত। খালটির দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার। খালটির গড় প্রস্থ ১২ মিটার। খালটি উন্নয়নে ১৭১ কোটি ব্যয়ে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে। থাকবে ইউটিলিটি স্থানান্তরের সুব্যবস্থা, ২৫০টি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ফিল্টারিংসহ ২ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সবুজায়নের থাকবে ১০ হাজার বর্গমিটারের বাগান, ১০ হাজার বৃক্ষ রোপণ। ৮ ফুট উচ্চতা ৫ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা হবে। এছাড়া খালে দুই পাড়ে নির্মাণ করা হবে ৮০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ইকোপার্ক, ২টি পাবলিক টয়লেট, কার পার্কিং ব্যবস্থা, ২টি ব্যায়ামাগার, আরসিসি ওয়াল, ১টি পদচারী সেতু, ২টি স্লুইচ গেট, ২টি পাম্প হাউস ও ১টি ফোয়ার।

জিরানী খাল : বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বালু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খালটি ধোলাই খালের শাখা হিসেবে পরিচিত। এটি সায়েদাবাদ ব্রিজের নিচ দিয়ে বাসাবো হয়ে বালু নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খালটি প্রকৃত দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার কিন্তু বক্স কালভার্টের খালের অর্ধেক সড়কে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খালের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটাল। গড় প্রস্থ ২০ মিটার। খালটি উন্নয়নে ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার নান্দনিক বাতি, ৫০০টি সোলার প্যানেল, ৪০ হাজার বর্গমিটার সবুজায়ন, চারটি ফুট ওভারব্রিজ, আড়াই হাজার বর্গমিটার সাইকেল লেন, পাঁচটি মাছ ধরার স্থান, চারটি ফুডকোর্ট, একটি প্লাজা, ১০০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ১৫০টি ওয়েস্টবিন, পাঁচটি সাইট দর্শনের স্থান, ১০ হাজার বর্গমিটার জায়গায় হবে বাচ্চাদের জন্য ইকোপার্ক, ব্যায়ামাগার ২টি, দু’টি পাবলিক টয়লেট, দু’টি পার্কিং স্পেস, গাড়ি চলার সেতু ৩টি ও একটি ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে।

মা-া খাল : ঢাকার পূর্বাঞ্চলের অবস্থিত মা-া খালটি। রাজধানীর সবুজবাগ থেকে শুরু হয়ে মাদারটেক, দক্ষিণগাঁওয়ের পাশ দিয়ে বালু নদীতে মিলিত হয়েছে খালটি। এর একটি শাখা রাজারবাগ ও অপরটি ধলপুরের সুতিখালের সঙ্গে যুক্ত ছিল। খালটির দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ২৫ মিটার। খালটি দখল, দূষণ ও ভরাট সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। তাই অনেক স্থানে ৫-৪০ মিটার পর্যন্ত প্রস্থ রয়েছে। খালটি উন্নয়নে ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি। খালের দু’পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, ফুডপার্ক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, নান্দনিক বাতি ও ফোয়ারাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

খালের দুই পাড়ে ১৮০০টি নান্দনিক বাতি, সৌর প্যানেল ৮০০টি, ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় সবুজায়ন, ১০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ইকোপার্ক, তিনটি গাড়ি পার্কিং, ৩০ হাজার বর্গমিটারে ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার বর্গমিটারে সাইকেল লেন, ১৫টি মাছ ধরার স্থান, ছয়টি ফুডকোর্ট, চারটি প্লাজা, ১৪০টি বসার বেঞ্চ ও শেড, ২৫০টি ওয়েস্টবিন, সাতটি সাইট দর্শনের স্থান, দুটি পাবলিক টয়লেট, চারটি ব্যায়ামগার, ছয়টি ফুটওভারব্রিজ, চারটি সেতু ও ১টি ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে।

শ্যামপুর খাল : বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামপুর লঞ্চঘাটের পাশ দিয়ে উৎপত্তি হয়ে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী সঙ্গে যুক্ত ছিল খালটি। কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে খালটি এখন একটি নালায় পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে খালটি এখন হুমকির মুখে। বর্তমানে খালটির দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ১২ মিটার। খালটি উন্নয়নে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে থাকবে এক হাজার নান্দনিক বাতি, ৫০০টি সৌর প্যানেল, ২০ হাজার বর্গমিটারে সবুজায়ন, ২০ হাজার বর্গমিটারে ওয়াকওয়ে, দু’টি ফুডকোর্ট, একটি প্লাজা, ৯০টি বসার বেঞ্চ, ১৫০টি ওয়েস্টবিন, তিনটি সাইট দর্শনের স্থান, পাঁচ হাজার বর্গমিটারে শিশুদের খেলার জায়গা, একটি পাবলিক টয়লেট, একটি গাড়ি পার্কিং, দু’টি ব্যায়ামাগার, একটি ফুটওভারব্রিজ, দু’টি সেতু ও একটি ফোয়ারা।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘সিটি করপোরেশন খালের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংস্কার ও আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কালুনগর, জিরানী খাল, মা-া খাল, শ্যামপুর খাল, পান্থকুঞ্জ বক্স কালভার্ট ও সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো পানি নিষ্কাশনের প্রধান চ্যানেল। এ চারটি খালের আধুনিকায়ন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৯৮১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ এছাড়া জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি কাজের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

back to top