alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

প্রতিদিন অভিনব কৌশলে দেশে ইয়াবা আনা হচ্ছে

বাকী বিল্লাহ : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রতিদিন অভিনব কৌশলে দেশে ইয়াবা আনা হচ্ছে। মায়ানমারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ, কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ঢুকছে। পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার থেকে সড়ক, রেল ও বিমানযোগে প্রথমে ঢাকায় ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। ঢাকা থেকে সারাদেশে মাদক পাচার ও কেনাবেচা হয়। র‌্যাব সদরদপ্তরের তথ্যমতে, মাদক হলো সব অপরাধের মূল। মাদক যেখানে আছে, সেখানে অবৈধ অস্ত্র, চোরাচালান, মানবপাচার, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানান অপরাধ সংঘটিত হয়ে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসে র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে; যার মূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এসব ঘটনায় ৪৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

উল্লেখ্য, অভিযানের মধ্যে গত ৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থেকে আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসাযী চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট র‌্যাব-৩ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করছে। ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গত ১৩ ও ১৪ আগস্ট র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এবং সীতাকু- এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৪৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। আর মাদক পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক, একটি পিক-আপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে। গত ৩ আগস্ট র‌্যাব-১০ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল ও রায়েরবাগে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদকে জানান, ইয়াবা সাধারণত পাশের দেশ মায়ানমার থেকে সমুদ্রপথে প্রথমে কক্সবাজার আনা হয়। এরপর নানানভাবে সড়ক, রেল ও বিমানপথে ঢাকায় পৌঁছে। পরবর্তীতে কুরিয়ার সার্ভিসসহ নানান কৌশলে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পাঠানো হয়। মাদক প্রতিরোধে র‌্যাব সদস্যরা একের পর অভিযান অব্যাহত রাখছে বলে তিনি জানান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ অনেক বিমানযাত্রীর দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন সময় প্রায় দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ৭৪টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

আমর্ড পুলিশের তথ্যমতে, মাদক ব্যবসায়ী চক্র পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় আনে। এরপর বিমানবন্দর থেকে টার্গেটকৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমর্ড পুলিশ বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজনদের আটক করে ইয়াবার ২১টি চালান উদ্ধার করে। গত ১৪ জুন সর্বশেষ চালান উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসব চালানে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। ১৪ জুন রাত ৮টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কনকর্স হল এলাকায় সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় শহিদুল্লাহ নামে কক্সবাজারের বাহারছড়ার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তার পেটে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার পেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার ৬৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ১ হাজার টাকা।

গত ২২ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনাল থেকে সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় মো. রাকিব হোসেন নামে একজনকে আমর্ড পুলিশ আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গে মাদক থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে আচারের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৯ হাজার ৮৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে; যার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা। পরে মাদকসহ তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গত ১৩ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের পাবলিক টয়লেটের সামনে সন্দেহভাজন ঘোরাফেরার সময় সফিকুল আলম ও শাহজাহান মিয়া নামে টেকনাফের দুজনকে আটক করা হয়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। একপর্যায়ে তার পেটে ইয়াবা আছে বলে স্বীকার করে। পরে পেট থেকে টেপ দিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। আর শাহজাহান মিয়ার কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত মোট ৭ হাজার ৯৯০ পিস ইয়াবার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

গত ৩০ জানুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে অস্বাভাবিক ও সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় মো. মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এভাবে ২০২০ সালে তিনটি ইয়াবার চালান ও ২০১৯ সালে ৯টি ইয়াবার চালান জব্দ করেছে। প্রতিটি চালানে অভিযুক্ত এক থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী জড়িত। প্রতিটি ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের চালান আটক করা হয়েছে। প্রতিটি ইয়াবার চালান উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পেটের ভেতর ইয়াবার চালান বহন করলে ধরা পড়ে না। এ কারণে পাচারকারী চক্র পেটের ভেতর ইয়াবার চালান আনছে।

জানা গেছে, মাদক পাচারকারী চক্র টাকার বিনিময়ে ইয়াবার প্যাকেট পেটের ভেতর বিশেষ কায়দায় বহন করে। আবার কেউ কেউ পায়ুপথে ইয়াবার প্যাকেট বহন করে। ট্যাবলেট পেটে যাতে না গলে, তার জন্য ওষুধ সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমাদের বান্দরবান রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আইনশঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও থেমে নেই মাদকদ্রব্য পাচার। রোহিঙ্গারাই মূলত এসব পাচারে জড়িত। তাদের মাধ্যমে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সীমান্তে পুলিশ-বিজিবির হাতে ইয়াবা এবং অস্ত্রসহ অনেক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মাদককারবারিদেরও আটক করা হয়।

পুলিশের অভিযানে গত ৬ মাসে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে দিয়ে অবৈধ দেশে ঢোকার সময় প্রায় ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট বলে পরিচিত সীমান্ত-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এলাকার পাহাড়ি দুর্গম এলাকা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে দিয়ে অবাধে আসছে ইয়াবাসহ এসব মাদকদ্রব্য। স্থানীয় একটি মহলসহ রোহিঙ্গা পাচারকারী একটি সিন্ডিকেট দল রয়েছে এসব পাচার কাজে।

এদিকে সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশ-মায়ানমারের মাঝে কিছু কিছু এলাকা এখনও অরক্ষিত রয়েছে, যে কারণে আশ্রিত রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পয়ন্টে দিয়ে মায়ানমারে আসা-যাওয়া করেন। তারা রাতে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবার চালান নিয়ে আবার ফিরে আসে। রোহিঙ্গারা বেপরোয়া চলাচল করার কারণে মাদক ও অপরাধ কর্মকা- বন্ধ হচ্ছে না। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা যারা স্থানীয় রয়েছি, তাদেরকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে।

জনপ্রতিনিধিরা আরও জানান, সীমান্ত এলাকাকে ইয়াবামুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না একমাত্র রোহিঙ্গাদের কারণে। তবে যদি রোহিঙ্গাদের আনাগোনা বন্ধ করা যায় এবং ক্যাম্প থেকে বের হতে না দেয়া হয়, তাহলে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের অন্তত ৯টি পয়েন্ট দিয়ে মায়ানমার থেকে আসছে নিষিদ্ধ ইয়াবা। পুলিশ-বিজিবির অভিযানে কিছু চালান আটক করলেও নানান কৌশলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চালানের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরধারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরর প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ডা. দুলাল কৃষ্ণ সাহা মুঠোফোনে সংবাদকে জানান, অধিদপ্তরের উদ্যোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাদক শনাক্ত করার আধুনিক ড্রাগ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি, হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটা খুবই দরকার। একটি মেশিনের দাম ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এটা থাকলে সহজেই মাদক শনাক্ত করা সম্ভব। এতে বিমানযোগে মাদক আনা বন্ধ হবে। আর মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই ধরা পড়বে।

ধর্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহে জাপা নেতা গ্রেপ্তার

ছবি

মুন্সীগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি,৮ ডাকাত গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে, রাজশাহীতে ১ ব্যক্তির দন্ড

ছবি

নিরাপদ সুপেয় পানি নিশ্চিতে ওয়াসার কর্মপরিকল্পনা দেখতে চায় হাইকোর্ট

ছবি

পাওনা চাইতে গেলে ব্যবসায়ীকে ক্ষুর দিয়ে খুন করলো সেলুনকর্মী

ছবি

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ও সাহেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

ছবি

নারায়ণগঞ্জে সোলেমান হত্যা মামলার ২ আসামির জবানবন্দি

ছবি

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মালেকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ছবি

মিটফোর্ডে নকল-ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি, অভিযানেও থামছে না

ছবি

দুর্নীতিবাজরা যেন শাস্তি পায়: দুদককে রাষ্ট্রপতি

ছবি

টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কালা জোবায়ের আটক

ছবি

রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ: হাইকোর্ট

ছবি

থানচি হেডম্যানপাড়া সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতি : দুর্ভোগ

ছবি

দুদকের মামলায় ২১ সেপ্টেম্বর বাবরের আত্মপক্ষ শুনানি

ছবি

ইভ্যালির রাসেলসহ আরোও ২০ জনের বিরুদ্ধে আরেক মামলা

ছবি

ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক কারাগারে

কুড়িগ্রাম ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

ছবি

চট্টগ্রামে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঢাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন

জয়েন্ট স্টক ও বিএসইসি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছিল

টঙ্গীতে ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্তঃসত্বা : ধৃত ১

ঝালকাঠির গৃহবধূর দেহ সোনারগাঁয়ে উদ্ধার

ছবি

বগুড়ায় শালিস নিয়ে বিরোধে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি

ইভ্যালির রাসেল রিমান্ডে ‘অসুস্থ’ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা

ছবি

আদালতে বিচারাধীন হিন্দু পরিবারের জমিতে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ

মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা : বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

মুক্তাগাছায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

চাঁপাইয়ে অস্ত্র-গুলিসহ যুবক আটক

তারাকান্দায় জুয়া, মাদক বিরোধী অভিযানে ধৃত ১১

ছবি

১১ সাংবাদিক নেতার ‘সম্মানহানি’র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ছবি

হেফাজত নেতা রিজওয়ান রফিকী গ্রেপ্তার

ছবি

ইভ্যালির অফিস বন্ধ ঘোষণা

বাঘাইছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে সন্তুলারমা দলের নেতা নিহত

ছবি

ত্রাণ নিতে এসে হয়রানীর শিকার ৩৩৩ শে আবেদনকারীরা

ছবি

গৃহকর্মীকে মাথা ন্যাড়া করে মারধর, আটক গৃহকর্তা

ছবি

জঙ্গি সন্দেহে দিনাজপুরে এবিটির ৪২ সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় বৃদ্ধাসহ নিহত দুই

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

প্রতিদিন অভিনব কৌশলে দেশে ইয়াবা আনা হচ্ছে

বাকী বিল্লাহ

মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রতিদিন অভিনব কৌশলে দেশে ইয়াবা আনা হচ্ছে। মায়ানমারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ, কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ঢুকছে। পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার থেকে সড়ক, রেল ও বিমানযোগে প্রথমে ঢাকায় ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। ঢাকা থেকে সারাদেশে মাদক পাচার ও কেনাবেচা হয়। র‌্যাব সদরদপ্তরের তথ্যমতে, মাদক হলো সব অপরাধের মূল। মাদক যেখানে আছে, সেখানে অবৈধ অস্ত্র, চোরাচালান, মানবপাচার, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানান অপরাধ সংঘটিত হয়ে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসে র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে; যার মূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এসব ঘটনায় ৪৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

উল্লেখ্য, অভিযানের মধ্যে গত ৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থেকে আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসাযী চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট র‌্যাব-৩ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করছে। ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গত ১৩ ও ১৪ আগস্ট র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এবং সীতাকু- এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৪৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। আর মাদক পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক, একটি পিক-আপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে। গত ৩ আগস্ট র‌্যাব-১০ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল ও রায়েরবাগে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদকে জানান, ইয়াবা সাধারণত পাশের দেশ মায়ানমার থেকে সমুদ্রপথে প্রথমে কক্সবাজার আনা হয়। এরপর নানানভাবে সড়ক, রেল ও বিমানপথে ঢাকায় পৌঁছে। পরবর্তীতে কুরিয়ার সার্ভিসসহ নানান কৌশলে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পাঠানো হয়। মাদক প্রতিরোধে র‌্যাব সদস্যরা একের পর অভিযান অব্যাহত রাখছে বলে তিনি জানান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ অনেক বিমানযাত্রীর দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন সময় প্রায় দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ৭৪টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

আমর্ড পুলিশের তথ্যমতে, মাদক ব্যবসায়ী চক্র পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় আনে। এরপর বিমানবন্দর থেকে টার্গেটকৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমর্ড পুলিশ বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজনদের আটক করে ইয়াবার ২১টি চালান উদ্ধার করে। গত ১৪ জুন সর্বশেষ চালান উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসব চালানে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। ১৪ জুন রাত ৮টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কনকর্স হল এলাকায় সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় শহিদুল্লাহ নামে কক্সবাজারের বাহারছড়ার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তার পেটে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার পেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার ৬৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ১ হাজার টাকা।

গত ২২ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনাল থেকে সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় মো. রাকিব হোসেন নামে একজনকে আমর্ড পুলিশ আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গে মাদক থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে আচারের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৯ হাজার ৮৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে; যার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা। পরে মাদকসহ তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গত ১৩ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের পাবলিক টয়লেটের সামনে সন্দেহভাজন ঘোরাফেরার সময় সফিকুল আলম ও শাহজাহান মিয়া নামে টেকনাফের দুজনকে আটক করা হয়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। একপর্যায়ে তার পেটে ইয়াবা আছে বলে স্বীকার করে। পরে পেট থেকে টেপ দিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। আর শাহজাহান মিয়ার কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত মোট ৭ হাজার ৯৯০ পিস ইয়াবার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

গত ৩০ জানুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে অস্বাভাবিক ও সন্দেহভাজন ঘোরাফেরা করার সময় মো. মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এভাবে ২০২০ সালে তিনটি ইয়াবার চালান ও ২০১৯ সালে ৯টি ইয়াবার চালান জব্দ করেছে। প্রতিটি চালানে অভিযুক্ত এক থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী জড়িত। প্রতিটি ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের চালান আটক করা হয়েছে। প্রতিটি ইয়াবার চালান উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পেটের ভেতর ইয়াবার চালান বহন করলে ধরা পড়ে না। এ কারণে পাচারকারী চক্র পেটের ভেতর ইয়াবার চালান আনছে।

জানা গেছে, মাদক পাচারকারী চক্র টাকার বিনিময়ে ইয়াবার প্যাকেট পেটের ভেতর বিশেষ কায়দায় বহন করে। আবার কেউ কেউ পায়ুপথে ইয়াবার প্যাকেট বহন করে। ট্যাবলেট পেটে যাতে না গলে, তার জন্য ওষুধ সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমাদের বান্দরবান রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আইনশঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও থেমে নেই মাদকদ্রব্য পাচার। রোহিঙ্গারাই মূলত এসব পাচারে জড়িত। তাদের মাধ্যমে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সীমান্তে পুলিশ-বিজিবির হাতে ইয়াবা এবং অস্ত্রসহ অনেক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মাদককারবারিদেরও আটক করা হয়।

পুলিশের অভিযানে গত ৬ মাসে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে দিয়ে অবৈধ দেশে ঢোকার সময় প্রায় ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট বলে পরিচিত সীমান্ত-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এলাকার পাহাড়ি দুর্গম এলাকা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে দিয়ে অবাধে আসছে ইয়াবাসহ এসব মাদকদ্রব্য। স্থানীয় একটি মহলসহ রোহিঙ্গা পাচারকারী একটি সিন্ডিকেট দল রয়েছে এসব পাচার কাজে।

এদিকে সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশ-মায়ানমারের মাঝে কিছু কিছু এলাকা এখনও অরক্ষিত রয়েছে, যে কারণে আশ্রিত রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পয়ন্টে দিয়ে মায়ানমারে আসা-যাওয়া করেন। তারা রাতে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবার চালান নিয়ে আবার ফিরে আসে। রোহিঙ্গারা বেপরোয়া চলাচল করার কারণে মাদক ও অপরাধ কর্মকা- বন্ধ হচ্ছে না। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা যারা স্থানীয় রয়েছি, তাদেরকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে।

জনপ্রতিনিধিরা আরও জানান, সীমান্ত এলাকাকে ইয়াবামুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না একমাত্র রোহিঙ্গাদের কারণে। তবে যদি রোহিঙ্গাদের আনাগোনা বন্ধ করা যায় এবং ক্যাম্প থেকে বের হতে না দেয়া হয়, তাহলে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের অন্তত ৯টি পয়েন্ট দিয়ে মায়ানমার থেকে আসছে নিষিদ্ধ ইয়াবা। পুলিশ-বিজিবির অভিযানে কিছু চালান আটক করলেও নানান কৌশলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চালানের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরধারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরর প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ডা. দুলাল কৃষ্ণ সাহা মুঠোফোনে সংবাদকে জানান, অধিদপ্তরের উদ্যোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাদক শনাক্ত করার আধুনিক ড্রাগ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি, হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটা খুবই দরকার। একটি মেশিনের দাম ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এটা থাকলে সহজেই মাদক শনাক্ত করা সম্ভব। এতে বিমানযোগে মাদক আনা বন্ধ হবে। আর মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই ধরা পড়বে।

back to top