রমজানে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ভারতের আদানি থেকেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বিসিপিসিএলের পায়রাও পুরোদমে উৎপাদনে ছিল। রমজান মোটামুটি ভালোভাবেই কেটেছে। দু-একদিন টুকটাক লোডশেডিং ছাড়া সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
এপ্রিলে গরম ও সেচের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই এই মাসটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১১ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট। চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করতে পারায় লোডশেডিং হয়নি।
বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এপ্রিলে চাহিদা বেড়ে ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে।
রমজানে গ্যাস সরবরাহ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইফতার, তারাবির নামাজ এবং সেহরির কথা বিবেচনায় রেখে রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। এজন্য আমদানি বাড়িয়ে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি গ্যাস পেয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।
সূত্র বলছে, এপ্রিল মাসে একই হারে (মার্চের মতো) গ্যাস আমদানি করা হবে না, আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায়। কারণ আমাদানি করা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে থাকলে খরচ বেড়ে যাবে। এই চাপ একসময় ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত গ্যাসের দাম পড়েছে প্রতি ইউনিটে ৬ টাকা ৭ পয়সা। কিন্তু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে খরচ হচ্ছে প্রতি ইউনিটে ৭৫ টাকার বেশি। আমদানি করার পর প্রতি ইউনিটের গড় দর পড়েছে ২৪ টাকার মতো।
ঘাটতি ১৬ হাজার কোটি টাকা
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এলএনজি আমদানি করে চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ১৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে। সংস্থাটি গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেনা এলএনজির খরচ হিসাব করে প্রতি ইউনিটের দাম প্রস্তাব করেছে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা। এর মধ্যে আমদানি খরচ ৬৩ টাকা ৫৮ পয়সা। আর বাকিটা শুল্ক, কর ও পরিচালন খরচ।
এবার রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি সরবরাহ দেয়া হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। খরচ কমাতে এপ্রিলে গ্যাস আমদানি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এপ্রিল-মে মাসে লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সংবাদকে বলেন, ‘এপ্রিল-মে মাসে একটু লোডশেডিং হবে। কারণ এখন গরম বেড়ে যাবে। তাই এসি, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। এছাড়া এখন সেচও আছে। তাই চাপটা মার্চের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকবে।
চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার মেগাওয়াট
সরবরাহ ঠিক রাখতে চাইলে এলএনজি আমদানি বাড়বে
পেট্রোবাংলা বলছে, এলএনজি আমদানি করে চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে
খরচ কমাতে চাইছে সরকার
তিনি বলেন, ‘এপ্রিলে আমরা বাড়তি গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিতে পারব না, যেটা মার্চে (রমজান মাস) দেয়া হয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রমজানের প্রস্তুতি সভায় বলা হয়েছিল, মার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে, যা রমজানের পর এপ্রিল মাসে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
রমজানে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ভারতের আদানি থেকেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বিসিপিসিএলের পায়রাও পুরোদমে উৎপাদনে ছিল। রমজান মোটামুটি ভালোভাবেই কেটেছে। দু-একদিন টুকটাক লোডশেডিং ছাড়া সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
এপ্রিলে গরম ও সেচের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই এই মাসটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১১ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট। চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করতে পারায় লোডশেডিং হয়নি।
বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এপ্রিলে চাহিদা বেড়ে ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে।
রমজানে গ্যাস সরবরাহ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইফতার, তারাবির নামাজ এবং সেহরির কথা বিবেচনায় রেখে রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। এজন্য আমদানি বাড়িয়ে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি গ্যাস পেয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।
সূত্র বলছে, এপ্রিল মাসে একই হারে (মার্চের মতো) গ্যাস আমদানি করা হবে না, আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায়। কারণ আমাদানি করা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে থাকলে খরচ বেড়ে যাবে। এই চাপ একসময় ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত গ্যাসের দাম পড়েছে প্রতি ইউনিটে ৬ টাকা ৭ পয়সা। কিন্তু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে খরচ হচ্ছে প্রতি ইউনিটে ৭৫ টাকার বেশি। আমদানি করার পর প্রতি ইউনিটের গড় দর পড়েছে ২৪ টাকার মতো।
ঘাটতি ১৬ হাজার কোটি টাকা
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এলএনজি আমদানি করে চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ১৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে। সংস্থাটি গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেনা এলএনজির খরচ হিসাব করে প্রতি ইউনিটের দাম প্রস্তাব করেছে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা। এর মধ্যে আমদানি খরচ ৬৩ টাকা ৫৮ পয়সা। আর বাকিটা শুল্ক, কর ও পরিচালন খরচ।
এবার রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি সরবরাহ দেয়া হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। খরচ কমাতে এপ্রিলে গ্যাস আমদানি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এপ্রিল-মে মাসে লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সংবাদকে বলেন, ‘এপ্রিল-মে মাসে একটু লোডশেডিং হবে। কারণ এখন গরম বেড়ে যাবে। তাই এসি, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। এছাড়া এখন সেচও আছে। তাই চাপটা মার্চের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকবে।
চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার মেগাওয়াট
সরবরাহ ঠিক রাখতে চাইলে এলএনজি আমদানি বাড়বে
পেট্রোবাংলা বলছে, এলএনজি আমদানি করে চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে
খরচ কমাতে চাইছে সরকার
তিনি বলেন, ‘এপ্রিলে আমরা বাড়তি গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিতে পারব না, যেটা মার্চে (রমজান মাস) দেয়া হয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রমজানের প্রস্তুতি সভায় বলা হয়েছিল, মার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে, যা রমজানের পর এপ্রিল মাসে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।