গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক শুল্কের নতুন হার ঘোষণা করেছেন, যা নিঃসন্দেহে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এ নিয়েই এখন সবখানে আলোচনা চলছে।
নতুন শুল্ক হার ঘোষণার পরপরই ট্রাম্পের এই নীতির নিন্দা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা।
তবে বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু দেশের জন্য এটি শাস্তি নয়, বরং উপহার হয়ে উঠতে পারে। অন্তত সেসব দেশের কিছু নেতার প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই মনে হচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য ‘ভয়াবহ’ পরিণতি ডেকে আনবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্ক যে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথ নেই।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশন ইইউভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সুরক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছে জার্মানির গাড়ি শিল্প, ইতালির বিলাসবহুল পণ্য এবং ফ্রান্সের মদ ও শ্যাম্পেইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই পরিস্থিতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বৃহস্পতিবার ফরাসি ব্যবসায়ীদের নেতাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন।
তবে বিশ্বের একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রকেও চাপের মুখে ফেলার সামর্থ্য কিছুটা হলেও ইইউর রয়েছে। তারা অ্যাপল এবং মেটার মতো বড় বড় প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু তা তারা করতে চায় না। তাদের অগ্রাধিকার হলো ট্রাম্পকে আরও ছাড় দিতে রাজি করানো।
গত বুধবার রাতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, তিনি শুল্ককে ভুল মনে করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবেন।
এদিকে চীনা পণ্যের ওপর ৫৪% শুল্ক আরোপ অবশ্যই বিশাল এবং নিঃসন্দেহে তা চীনা কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তবে বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেইজিং যদি পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে চীনা বাজারে ব্যবসা করতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
বিবিসির মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত একভাবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য একটি উপহার; কারণ এটি চীনকে নিজেকে মুক্ত বাণিজ্যের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রদর্শন করার সুযোগ দিয়েছে।
গত সপ্তাহে, বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে চীনের নেতার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যাদের মধ্যে ইউরোপের অনেকেই ছিলেন। সেখানে পরিবেশ ছিল এমন, যে ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জাতীয় স্বার্থে অবনতি। অপরদিকে শি জিনপিংয়ের অধীনে স্থিতিশীলতা, মুক্ত বাণিজ্য এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার সারথি হচ্ছে চীন।
আর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিডিয়াকে তো এই সুযোগে আরও সক্রিয় করা হয়েছে, যারা বিরতিহীনভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে চলেছে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিশ্ব সবসময় একমত না হলেও, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাদের অবস্থানকে কিছুটা হলেও যৌক্তিকতা দিয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক দেশই এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকছে।
কিছুটা স্বস্তি পেলেও যুক্তরাজ্যে আনন্দ নেই, এমনটি বিবিসি থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে। লন্ডনে বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক ক্রিস ম্যাসন জানান, যুক্তরাজ্যে এখনকার পরিস্থিতি এমন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভালো তালিকায় রয়েছে, তবে সরকার এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না কতটুকু ভালো অবস্থানে রয়েছে বা এর প্রভাব তাদের ওপর কতটা পড়বে। যুক্তরাজ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্কের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে যুক্তরাজ্যের ওপরও। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের চাকরি, শিল্প ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য বিঘিœত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষত গাড়ি শিল্পের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেশি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাজ্য।
ট্রাম্পের নতুন শুল্কের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে এশিয়ার অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শুল্ক যাদের ওপর
কম্বোডিয়া - ৪৯%
লাওস - ৪৮%
মাদাগাস্কার - ৪৭%
ভিয়েতনাম - ৪৬%
মিয়ানমার - ৪৫%
শ্রীলঙ্কা - ৪৪%
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ - ৪২%
সিরিয়া - ৪১%
মরিশাস - ৪০%
ইরাক - ৩৯%
বটসওয়ানা - ৩৮%
গায়ানা - ৩৮%
সার্বিয়া - ৩৮%
বাংলাদেশ - ৩৭%
ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৪৬% এবং কম্বোডিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৪৯% শুল্ক আরোপ করেছে।
তবে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো, কারণ তাদের সার্বিক শুল্ক হার ২৬%। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি এখনও বেশি এবং বিশেষত ‘শ্রম-নিবিড় শিল্প পণ্যের রপ্তানি’কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শুল্ক হার ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং প্রধান মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ওপর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যখন প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই থমকে গেছে, সেটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি লাভবান হতে পারে।
ভারত, কানাডা, মেক্সিকো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে শুল্ক আরোপের বিষয়ে। তারা ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতা গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে চেষ্টা করছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা রয়েছে তার ওষুধ শিল্পে। এটি ভারতের বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য, যার বার্ষিক আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ শিল্পকে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বাইরে রেখেছে, যা ভারতের জন্য ইতিবাচক।
ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আফ্রিকান দেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ এবং লেসোথোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া এসব দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য কর্তনের কারণে সমস্যায় পড়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং কেনিয়াসহ আফ্রিকার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উন্মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ছিল। তবে ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধে অন্যায্যতার অভিযোগ তুলে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং প্রতিশোধ হিসেবে তাদের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু খারাপ জিনিস হয়েছে। আমরা তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছি, কিন্তু এখন আমরা তহবিল কমাচ্ছি। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক কিছু খারাপ ঘটছে।’
প্রতিক্রিয়ায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নতুন শুল্ককে ‘শাস্তিমূলক’ বলে নিন্দা করেছেন এবং শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্য এবং সমন্বিত অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে।
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক শুল্কের নতুন হার ঘোষণা করেছেন, যা নিঃসন্দেহে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এ নিয়েই এখন সবখানে আলোচনা চলছে।
নতুন শুল্ক হার ঘোষণার পরপরই ট্রাম্পের এই নীতির নিন্দা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা।
তবে বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু দেশের জন্য এটি শাস্তি নয়, বরং উপহার হয়ে উঠতে পারে। অন্তত সেসব দেশের কিছু নেতার প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই মনে হচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য ‘ভয়াবহ’ পরিণতি ডেকে আনবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্ক যে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তা থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট পথ নেই।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশন ইইউভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সুরক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছে জার্মানির গাড়ি শিল্প, ইতালির বিলাসবহুল পণ্য এবং ফ্রান্সের মদ ও শ্যাম্পেইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই পরিস্থিতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বৃহস্পতিবার ফরাসি ব্যবসায়ীদের নেতাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন।
তবে বিশ্বের একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রকেও চাপের মুখে ফেলার সামর্থ্য কিছুটা হলেও ইইউর রয়েছে। তারা অ্যাপল এবং মেটার মতো বড় বড় প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু তা তারা করতে চায় না। তাদের অগ্রাধিকার হলো ট্রাম্পকে আরও ছাড় দিতে রাজি করানো।
গত বুধবার রাতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, তিনি শুল্ককে ভুল মনে করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবেন।
এদিকে চীনা পণ্যের ওপর ৫৪% শুল্ক আরোপ অবশ্যই বিশাল এবং নিঃসন্দেহে তা চীনা কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তবে বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেইজিং যদি পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে চীনা বাজারে ব্যবসা করতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
বিবিসির মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত একভাবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য একটি উপহার; কারণ এটি চীনকে নিজেকে মুক্ত বাণিজ্যের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রদর্শন করার সুযোগ দিয়েছে।
গত সপ্তাহে, বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে চীনের নেতার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যাদের মধ্যে ইউরোপের অনেকেই ছিলেন। সেখানে পরিবেশ ছিল এমন, যে ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জাতীয় স্বার্থে অবনতি। অপরদিকে শি জিনপিংয়ের অধীনে স্থিতিশীলতা, মুক্ত বাণিজ্য এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার সারথি হচ্ছে চীন।
আর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিডিয়াকে তো এই সুযোগে আরও সক্রিয় করা হয়েছে, যারা বিরতিহীনভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে চলেছে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিশ্ব সবসময় একমত না হলেও, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাদের অবস্থানকে কিছুটা হলেও যৌক্তিকতা দিয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক দেশই এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকছে।
কিছুটা স্বস্তি পেলেও যুক্তরাজ্যে আনন্দ নেই, এমনটি বিবিসি থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে। লন্ডনে বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক ক্রিস ম্যাসন জানান, যুক্তরাজ্যে এখনকার পরিস্থিতি এমন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভালো তালিকায় রয়েছে, তবে সরকার এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না কতটুকু ভালো অবস্থানে রয়েছে বা এর প্রভাব তাদের ওপর কতটা পড়বে। যুক্তরাজ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্কের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে যুক্তরাজ্যের ওপরও। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের চাকরি, শিল্প ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য বিঘিœত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষত গাড়ি শিল্পের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেশি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাজ্য।
ট্রাম্পের নতুন শুল্কের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে এশিয়ার অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শুল্ক যাদের ওপর
কম্বোডিয়া - ৪৯%
লাওস - ৪৮%
মাদাগাস্কার - ৪৭%
ভিয়েতনাম - ৪৬%
মিয়ানমার - ৪৫%
শ্রীলঙ্কা - ৪৪%
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ - ৪২%
সিরিয়া - ৪১%
মরিশাস - ৪০%
ইরাক - ৩৯%
বটসওয়ানা - ৩৮%
গায়ানা - ৩৮%
সার্বিয়া - ৩৮%
বাংলাদেশ - ৩৭%
ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৪৬% এবং কম্বোডিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৪৯% শুল্ক আরোপ করেছে।
তবে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো, কারণ তাদের সার্বিক শুল্ক হার ২৬%। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি এখনও বেশি এবং বিশেষত ‘শ্রম-নিবিড় শিল্প পণ্যের রপ্তানি’কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শুল্ক হার ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং প্রধান মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ওপর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যখন প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই থমকে গেছে, সেটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি লাভবান হতে পারে।
ভারত, কানাডা, মেক্সিকো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে শুল্ক আরোপের বিষয়ে। তারা ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতা গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে চেষ্টা করছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা রয়েছে তার ওষুধ শিল্পে। এটি ভারতের বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য, যার বার্ষিক আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ শিল্পকে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বাইরে রেখেছে, যা ভারতের জন্য ইতিবাচক।
ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আফ্রিকান দেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ এবং লেসোথোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া এসব দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য কর্তনের কারণে সমস্যায় পড়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং কেনিয়াসহ আফ্রিকার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উন্মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ছিল। তবে ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধে অন্যায্যতার অভিযোগ তুলে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং প্রতিশোধ হিসেবে তাদের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু খারাপ জিনিস হয়েছে। আমরা তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছি, কিন্তু এখন আমরা তহবিল কমাচ্ছি। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক কিছু খারাপ ঘটছে।’
প্রতিক্রিয়ায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নতুন শুল্ককে ‘শাস্তিমূলক’ বলে নিন্দা করেছেন এবং শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্য এবং সমন্বিত অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে।