alt

উপ-সম্পাদকীয়

ঘুঘু ও পায়রা হত্যার বিচার চাই

পাভেল পার্থ

সংবাদ :
  • সংবাদ অনলাইন ডেস্ক
image
রোববার, ০২ মে ২০২১

ঘুঘু দেশের সবচেয়ে পরিচিত পাখিদের একটি। দুনিয়ায় প্রায় ৩৬ জাতের ঘুঘুর ভেতর দেশে মিলে প্রায় ৬টি। দেশে বেশি দেখা যায় তিলা ঘুঘু। ঘুঘুর প্রজননকাল গ্রীষ্মকাল। আর এ সময়েই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিষটোপ দিয়ে ঘুঘু হত্যা করা হয়। শুধু ঘুঘু নয়, দেশের প্রতিটি উপকূলীয় জেলায় নির্দয় পাখি শিকার ও হত্যার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। ২০২১ সালের পয়লা মে গুগল সার্চ করে ২০১৪ থেকে উপকূলে পাখি শিকারের অজস্র খবর পাওয়া গেল। বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী কেউ নির্বিচার পাখি হত্যায় পিছিয়ে নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উপকূলে পাখি হত্যা রোধে প্রশাসন এখনও সক্রিয় নয়। এমনকি নানা সময়ে পাখি হত্যা নিয়ে গণমাধ্যমে দেয়া প্রশাসনের ভাষ্যেও এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি করোনা মহামারীকালে তীব্র দাবদাহের ভেতর বাগেহাটের মোরেলগঞ্জে আবারও এক নির্মম ঘুঘু হত্যা হয়েছে। উপজেলার সরালিয়া গ্রামের সেলিম শেখের বোরো মৌসুমের জমির ধান কাটার পর সেই জমিতে বিষটোপ দেয় পাখি হত্যাকারীরা। ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে একে একে মারা যায় প্রায় চারশ’ ঘুঘু। ঘটনাটি হয়তো গণমাধ্যমে এক নির্বিকার খবর হয়েই থাকত।

শুধু ঘুঘু নয়, বিষটোপের কারণে মারা গেছে সেলিম শেখের পালিত ৬০টি কবুতরও। ক্ষতিগ্রস্ত সেলিম শেখ দাবি করেন, এতে তার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। প্রশাসন গ্রামে আসে, আসে ফায়ার সার্ভিস। তারা বিষটোপ দেয়া জমিতে পানি দিয়ে জমিকে বিষমুক্ত করার চেষ্টা করেন। নিদারুণভাবে কবুতরদের মৃত্যু না হলে, সেলিম শেখের মতো কেউ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়ে অভিযোগ না জানালে হয়তো ঘুঘু হত্যার এ খবরও প্রশাসনের কাছে ‘অজানাই’ থেকে যেত। দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চল দেশি, পরিযায়ীসহ নানা পাখির বিচরণস্থল। দুনিয়ায় বিরল এমন অনেক পাখিদের শুধু এখানেই দেখা যায়। আর দেশের এ অঞ্চল দিনে দিনে পাখিদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠছে। এভাবে চলতে থাকলে উপকূল অঞ্চল একসময় পাখিশূন্য হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক ঘুঘু হত্যার তদন্ত হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা হোক। উপকূলের প্রতিটি অঞ্চলে নির্বিচার পাখি হত্যা রোধে প্রশাসনকে সত্যিকারার্থে সক্রিয় ও সজাগ হওয়া জরুরি। পাখি সচেতনতা বাড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলে জনতৎপরতা গড়তে পরিবেশবাদী নাগরিক আওয়াজ আরও সোচ্চার হতে হবে।

উপকূলে পাখি হত্যার নজির

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বাগেরহাটে পাখি হত্যার বহু খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের জুনে জেলার কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে আবদুল জলিলের বাড়ি থেকে তিন হাজারেরও বেশি বুনো পাখি উদ্ধার করে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংলক্ষণ বিভাগের কর্মীরা। সুন্দরবন থেকে এসব পাখি ধরা হয়েছিল। শুধু বাগেরহাট নয়, উপকূলের প্রতিটি জেলায় পাখি হত্যার এমন চিত্র বহুদিনের। বিশেষ করে বিষটোপ দিয়ে পাখি ধরা। ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের শীলেরছড়া গ্রাম থেকে বনকর্মীরা ৩৪টি বকপাখি উদ্ধার করেন। সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের গোয়ালপোতা বিল, খড়িয়াডাঙ্গা বিল, ধূলিহরের কোমরপুর বিল ও এল্লাচর এলাকায় পাখি শিকার চলে। আশাশুনি, তালা, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজলায়ও নির্বিচার পাখি ধরা বন্ধ হয়নি। তালার নওয়াপাড়া, ধলবাড়িয়া, কলিয়া ও লক্ষণপুর গ্রামের বাগেরবিলে এবং খেশরা ইউনিয়নের পাখিমারা মধুখালি বিলে কারেন্ট জাল দিয়েও পাখি হত্যা হয়। ২০২০ সনের ৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার দেবহাটার বসন্তপুর থেকে পাখিসহ তিন হত্যাকারীকে আটক করে পুলিশ। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের জর্জিয়া থেকে বন্দুকসহ দুই পাখি হত্যাকারীকে আটক করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। খুলনার তেরখাদা উপজেলায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না পাখি হত্যা। উপজেলার জলাবদ্ধ ভূতিয়ারবিল, নাচুনিয়া, ইন্দুহাটি, পাখিমারা, নৌকাডুবি, আড়কান্দি, কোলা, নলামারা, হাড়িখালি বিলে বিষটোপ দিয়ে পাখি হত্যার খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এমনকি ‘বাঁশির নকল সুর’ বাজিয়ে পাখিকে ধরার এক নিদারুণ কায়দাও এখানে আছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণের চর ও জলাভূমিতে শীতের মৌসুমে পাখি হত্যা হয় বেশি। ভোলার দৌলতখানের মদনপুর, চরফ্যাশনের তারুয়া, কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চরপাতিলায় পাখি হত্যার নির্মম উদাহরণ আছে। ফেনীর সোনাগাজীতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচপ্রকল্প এলাকাতেও পাখিরা নিরাপদ নয়। এমনকি মুহুরী প্রকল্প এলাকার খাবার দোকানগুলোতেও সিলেটের হরিপুরের পাখি হত্যাকারী হোটেলের মতো মিলে পাখির লাশের তরকারি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর বড়উঠান এলাকা একসময় ছিল সাদাবকের ঐতিহাসিক বিচরণস্থল। কিন্তু বিচারহীন পাখি হত্যার ফলে এই এলাকাটি বকশূন্য হতে চলেছে। বরিশালের মুলাদীতে ২০২১ সালের এপ্রিলে পাখি হত্যাকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেন স্থানীয় কিছু পাখিপ্রেমী মানুষ। ২০২০ সালের ৯ জুন সন্ধ্যায় বরগুনার তালতলীর কামরুজ্জামান ফারুক কোটর থেকে মা পাখির মাথা কেটে হত্যা করে ডিমগুলোও উচ্ছেদ করে। পাখি হত্যার এই ছবি তিনিই ফেসবুকে দেন। এরকম সহস্র পাখি হত্যা প্রতিদিন ঘটছে উপকূল অঞ্চলে। বিশেষ করে বিষটোপ দিয়ে পাখি হত্যা। আর এই বিচারহীন পাখি হত্যা জনমনস্তত্ত্বে এক ‘সহ্য করার মতো স্বাভাবিক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন। সম্প্রতি চৈত্র মাসে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বাবুইপাখি হত্যার মাধ্যমে পাখি হত্যার বিষয়ে কিছুটা পাবলিক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালের ৯ এপ্রিল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের জালাল সিকদার নামের এক দোকানি লম্বা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে তালগাছ থেকে বাবুই পাখির বাসা আছড়ে ফেলে এক নির্মম গণহত্যা ঘটান। পিরোজপুরের ইন্দুরকানির সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বোরো মওসুমের ক্ষেতের ধান খাওয়ার অপরাধে শত শত বাবুই পাখির বাসা ভেঙেচুরে পাখিদের হত্যা করেন লুৎফর রহমান মোল্লা। উপকূলীয় অঞ্চলে পাখি হত্যার এমনসব সাক্ষ্য প্রমাণ করে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চলে পাখি সুরক্ষায় দৃঢ় নীতি ও সক্রিয় পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চল অচিরেই হয়তো নিদারুণভাবে পাখিশূন্য হবে।

প্রশাসন কী পাখিপ্রেমী?

প্রশাসন পাখিপ্রেমী কী পাখির প্রতি বিরাগভাজন এটি কোন প্রশ্ন নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব তার অঞ্চলের মানুষসহ সব প্রাণসত্তার জানমালের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা। উপকূল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন কী পাখিদের সেই নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে পারছে? বাগেরহাটের সাম্প্রতিক ঘুঘু হত্যার বিষয়টিকে গণমাধ্যমের কাছে ‘নৃশংস’ দাবি করে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন (দ্য ডেইলি স্টার, ১/৫/২০২১)। এমনকি প্রশাসন ফায়ার সার্ভিসকে জমিতে নিয়ে গেছেন। ফায়ার সার্ভিস পরম মমতায় জমিতে পানি ছিটিয় জমি বিষমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সকল প্রশাসন কি পাখিদের টানে এভাবে ছুটে যান? সকল ইউএনওর কাছে কী পাখি হত্যা ‘নৃশংস’ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ? ঝালকাঠির বাবুই গণহত্যাকে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের কাছে ‘ক্ষমার যোগ্য’ মনে হওয়ায় তিনি হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অথচ দেশে পাখি হত্যায় বিচার ও দন্ড প্রদানের বিধি আছে। উপকূল অঞ্চলে পাখি হত্যা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন আমরা বিশ্লেষণ করবো। এসব প্রতিবেদনে পাখি হত্যা স্থানীয় প্রশাসন কী বলেন সেটি বোঝা জরুরি। এর সঠিক বিশ্লেষণ করে পাখিদের সুরক্ষায় আমরা কেমন প্রশাসন চাই সে বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণও জরুরি। পাখি হত্যা নিয়ে খুলনার তেরখাদা ইউএনও গণমাধ্যমে জানান, পাখিনিধন দন্ডনীয় অপরাধ, যারা পাখি নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তিনি তার অঙ্গীকার রাখেননি, কারণ ২০২০ সালেও তেরখাদায় পাখি হত্যার বহু খবর গণমাধ্যমে আবারও এসেছে। এমনকি গণমাধ্যম বলছে, পাখি শিকার রোধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাখিশিকারের অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও দেবাশীষ চৌধুরী জানান, বিভিন্ন স্থানে অতিথি পাখি শিকারের অভিযোগ পেয়েছি, ইতিপূর্বে পাখি শিকার না করতে আহবান জানানো হয়েছিল এরপরও যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সদরে চলমান পাখিশিকারের বহু খবর আবারও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মো. ফয়সাল আহমেদ পাখি হত্যা বিষয়ে জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নই, তবে অতিথি পাখি শিকারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাখিশিকার বিষয়ে ভোলা কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট খালিদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফেনীর সোনাগাজীর ইউএনও জানান, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে (১৭/২/২০১৯)। পাখি হত্যা নিয়ে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে প্রশাসনের ভাষ্য বরাবরই ‘নির্বিকার’ এবং স্পষ্টত প্রমাণিত হয় তাদের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সামগ্রিক বিশ্লেষণ জরুরি। কারণ এটি শুধু দেশের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীলতার খতিয়ান।

লোভের মনস্তত্ত্ব পাল্টাতে হবে

পাখি হত্যা নিয়ে দেশে একটা পুরুষতান্ত্রিক মিথ্যাচার প্রচলিত আছে। ‘চড়–ই পাখির মাংস’ খেলে পুুরুষের যৌনশক্তি বাড়ে। আর এ কারণেই চোখের নিমিষে জান যায় কত চড়–ইয়ের। মধ্যপ্রাচ্যেও প্রচলিত আছে, ‘হুবারা পাখির মাংস’ পুরুষের যৌনশক্তি বাড়ায় আর এ কারণেই পাকিস্থানে নির্বিচারে খুন হয় এই পাখি। অনেকে বলেন, ‘পাখির মাংস’ খেতে খুব ভালো, শীতকালে খুব একটা তেল আর ঘ্রাণ হয়। বুনোপাখির আবার ‘মাংস’ কী? রাষ্ট্রীয় আইনে এই হত্যা নিষিদ্ধ। হত্যাকারীর কাছে যা ‘পাখির মাংস’, রাষ্ট্রের আইনে তার নাম ‘নিষিদ্ধ ট্রফি’। আর এই ট্রফি কারও কাছে পাওয়া গেলে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী বিচার ও দন্ড প্রদানের নির্দেশনা আছে। একটা পাখি দেখলে কার জিভে পানি আসে? আজ আমাদের নিজেদের জিভকে এই প্রশ্ন করতে হবে। যদি জিভে পানি আসে বুঝতে হবে, আমি অসুস্থ। ভয়ানক এক বিপদের দিকে আমার ভবিষ্যৎ। আর প্রত্যেকের নিজের কাছেই আছে এ সুস্থতার কবিরাজি। টালমাটাল বাহাদুরি লোভের পানি আটকাতে হবে। লোভের মনস্তত্ত্ব পাল্টাতে হবে। পাখি না থাকলে খুব বেশি দিন মানুষও টিকবে না এ দুনিয়ায়। শুধু আইন নয়, জনতৎপরতা জাগিয়ে আসুন পাখিদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখি উপকূল।

[ লেখক : গবেষক ]

animistbangla@gmail.com

ছোট মাছের পুষ্টি

ছবি

রবি নিয়োগী : অগ্নিযুগের বিপ্লবী জননেতা

ছবি

গাছ কাটার অপসংস্কৃতি ছাড়ুন শহরটাকে বাসযোগ্য থাকতে দিন

১৬৪ ও ২২ ধারায় জবানবন্দির কপি আসামির পেতে বাধা কোথায়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আমলাদের পদায়নের সূচনা?

ইরান ও অপ্রতিরোধ্য ইসরায়েল

থ্যালাসেমিয়া রোধে সচেতনতা জরুরি

করোনাকালে নতুন সংকটে মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা

ছবি

অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের পেতে হবে

ছবি

কমরেড রেবতী মোহন বর্মণ

ছবি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, বিজেপি এবং বাংলাদেশের মৌলবাদ

বৈধতা ছাড়া কীভাবে চলছে স্পিডবোট?

ছবি

ভয়ংকর রূপে করোনার ট্রিপল মিউট্যান্ট

ছবি

সুন্দরবনে বারবার আগুন কেন?

নতুন শঙ্কা : ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

পাবনা প্রেসক্লাবের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ছবি

পশ্চিমবঙ্গ ভোটের ফল ও মমতার ভবিষ্যৎ

রক্তাক্ত মাতৃভাষা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা ভাষা

করোনাকালে বোধের রোদন

কোভিড-১৯ : মৎস্যজীবীদের দারিদ্র্য ও শোভন বাংলাদেশ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনা ও হেফাজত

ছবি

সরকার উভয় সংকটে

উন্নয়নের নতুন অভিযাত্রা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই যুগ

ছবি

করোনা ক্ষমতার বৃত্ত চেনে না

সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি

দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল

মহামারীর অক্সিজেন বনাম গাছবিমুখ উন্নয়ন

ছবি

মাস্কই বড় ভ্যাকসিন

ছবি

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে রক্ত জমাটের ঝুঁকি কতটা উদ্বেগের?

রক্তাক্ত মাতৃভাষা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা ভাষা

ছবি

আসুন মানবতাবাদের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বিশ্ব গড়ি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কি থমকে গেল?

ছবি

রাসায়নিক গুদাম : ফি বছর মানুষ কেন অঙ্গার হয়?

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ঘুঘু ও পায়রা হত্যার বিচার চাই

পাভেল পার্থ

সংবাদ :
  • সংবাদ অনলাইন ডেস্ক
image
রোববার, ০২ মে ২০২১

ঘুঘু দেশের সবচেয়ে পরিচিত পাখিদের একটি। দুনিয়ায় প্রায় ৩৬ জাতের ঘুঘুর ভেতর দেশে মিলে প্রায় ৬টি। দেশে বেশি দেখা যায় তিলা ঘুঘু। ঘুঘুর প্রজননকাল গ্রীষ্মকাল। আর এ সময়েই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিষটোপ দিয়ে ঘুঘু হত্যা করা হয়। শুধু ঘুঘু নয়, দেশের প্রতিটি উপকূলীয় জেলায় নির্দয় পাখি শিকার ও হত্যার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। ২০২১ সালের পয়লা মে গুগল সার্চ করে ২০১৪ থেকে উপকূলে পাখি শিকারের অজস্র খবর পাওয়া গেল। বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী কেউ নির্বিচার পাখি হত্যায় পিছিয়ে নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উপকূলে পাখি হত্যা রোধে প্রশাসন এখনও সক্রিয় নয়। এমনকি নানা সময়ে পাখি হত্যা নিয়ে গণমাধ্যমে দেয়া প্রশাসনের ভাষ্যেও এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি করোনা মহামারীকালে তীব্র দাবদাহের ভেতর বাগেহাটের মোরেলগঞ্জে আবারও এক নির্মম ঘুঘু হত্যা হয়েছে। উপজেলার সরালিয়া গ্রামের সেলিম শেখের বোরো মৌসুমের জমির ধান কাটার পর সেই জমিতে বিষটোপ দেয় পাখি হত্যাকারীরা। ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে একে একে মারা যায় প্রায় চারশ’ ঘুঘু। ঘটনাটি হয়তো গণমাধ্যমে এক নির্বিকার খবর হয়েই থাকত।

শুধু ঘুঘু নয়, বিষটোপের কারণে মারা গেছে সেলিম শেখের পালিত ৬০টি কবুতরও। ক্ষতিগ্রস্ত সেলিম শেখ দাবি করেন, এতে তার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। প্রশাসন গ্রামে আসে, আসে ফায়ার সার্ভিস। তারা বিষটোপ দেয়া জমিতে পানি দিয়ে জমিকে বিষমুক্ত করার চেষ্টা করেন। নিদারুণভাবে কবুতরদের মৃত্যু না হলে, সেলিম শেখের মতো কেউ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়ে অভিযোগ না জানালে হয়তো ঘুঘু হত্যার এ খবরও প্রশাসনের কাছে ‘অজানাই’ থেকে যেত। দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চল দেশি, পরিযায়ীসহ নানা পাখির বিচরণস্থল। দুনিয়ায় বিরল এমন অনেক পাখিদের শুধু এখানেই দেখা যায়। আর দেশের এ অঞ্চল দিনে দিনে পাখিদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠছে। এভাবে চলতে থাকলে উপকূল অঞ্চল একসময় পাখিশূন্য হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক ঘুঘু হত্যার তদন্ত হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা হোক। উপকূলের প্রতিটি অঞ্চলে নির্বিচার পাখি হত্যা রোধে প্রশাসনকে সত্যিকারার্থে সক্রিয় ও সজাগ হওয়া জরুরি। পাখি সচেতনতা বাড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলে জনতৎপরতা গড়তে পরিবেশবাদী নাগরিক আওয়াজ আরও সোচ্চার হতে হবে।

উপকূলে পাখি হত্যার নজির

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বাগেরহাটে পাখি হত্যার বহু খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের জুনে জেলার কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে আবদুল জলিলের বাড়ি থেকে তিন হাজারেরও বেশি বুনো পাখি উদ্ধার করে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংলক্ষণ বিভাগের কর্মীরা। সুন্দরবন থেকে এসব পাখি ধরা হয়েছিল। শুধু বাগেরহাট নয়, উপকূলের প্রতিটি জেলায় পাখি হত্যার এমন চিত্র বহুদিনের। বিশেষ করে বিষটোপ দিয়ে পাখি ধরা। ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের শীলেরছড়া গ্রাম থেকে বনকর্মীরা ৩৪টি বকপাখি উদ্ধার করেন। সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের গোয়ালপোতা বিল, খড়িয়াডাঙ্গা বিল, ধূলিহরের কোমরপুর বিল ও এল্লাচর এলাকায় পাখি শিকার চলে। আশাশুনি, তালা, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজলায়ও নির্বিচার পাখি ধরা বন্ধ হয়নি। তালার নওয়াপাড়া, ধলবাড়িয়া, কলিয়া ও লক্ষণপুর গ্রামের বাগেরবিলে এবং খেশরা ইউনিয়নের পাখিমারা মধুখালি বিলে কারেন্ট জাল দিয়েও পাখি হত্যা হয়। ২০২০ সনের ৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার দেবহাটার বসন্তপুর থেকে পাখিসহ তিন হত্যাকারীকে আটক করে পুলিশ। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের জর্জিয়া থেকে বন্দুকসহ দুই পাখি হত্যাকারীকে আটক করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। খুলনার তেরখাদা উপজেলায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না পাখি হত্যা। উপজেলার জলাবদ্ধ ভূতিয়ারবিল, নাচুনিয়া, ইন্দুহাটি, পাখিমারা, নৌকাডুবি, আড়কান্দি, কোলা, নলামারা, হাড়িখালি বিলে বিষটোপ দিয়ে পাখি হত্যার খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এমনকি ‘বাঁশির নকল সুর’ বাজিয়ে পাখিকে ধরার এক নিদারুণ কায়দাও এখানে আছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণের চর ও জলাভূমিতে শীতের মৌসুমে পাখি হত্যা হয় বেশি। ভোলার দৌলতখানের মদনপুর, চরফ্যাশনের তারুয়া, কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চরপাতিলায় পাখি হত্যার নির্মম উদাহরণ আছে। ফেনীর সোনাগাজীতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচপ্রকল্প এলাকাতেও পাখিরা নিরাপদ নয়। এমনকি মুহুরী প্রকল্প এলাকার খাবার দোকানগুলোতেও সিলেটের হরিপুরের পাখি হত্যাকারী হোটেলের মতো মিলে পাখির লাশের তরকারি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর বড়উঠান এলাকা একসময় ছিল সাদাবকের ঐতিহাসিক বিচরণস্থল। কিন্তু বিচারহীন পাখি হত্যার ফলে এই এলাকাটি বকশূন্য হতে চলেছে। বরিশালের মুলাদীতে ২০২১ সালের এপ্রিলে পাখি হত্যাকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেন স্থানীয় কিছু পাখিপ্রেমী মানুষ। ২০২০ সালের ৯ জুন সন্ধ্যায় বরগুনার তালতলীর কামরুজ্জামান ফারুক কোটর থেকে মা পাখির মাথা কেটে হত্যা করে ডিমগুলোও উচ্ছেদ করে। পাখি হত্যার এই ছবি তিনিই ফেসবুকে দেন। এরকম সহস্র পাখি হত্যা প্রতিদিন ঘটছে উপকূল অঞ্চলে। বিশেষ করে বিষটোপ দিয়ে পাখি হত্যা। আর এই বিচারহীন পাখি হত্যা জনমনস্তত্ত্বে এক ‘সহ্য করার মতো স্বাভাবিক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন। সম্প্রতি চৈত্র মাসে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বাবুইপাখি হত্যার মাধ্যমে পাখি হত্যার বিষয়ে কিছুটা পাবলিক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালের ৯ এপ্রিল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের জালাল সিকদার নামের এক দোকানি লম্বা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে তালগাছ থেকে বাবুই পাখির বাসা আছড়ে ফেলে এক নির্মম গণহত্যা ঘটান। পিরোজপুরের ইন্দুরকানির সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বোরো মওসুমের ক্ষেতের ধান খাওয়ার অপরাধে শত শত বাবুই পাখির বাসা ভেঙেচুরে পাখিদের হত্যা করেন লুৎফর রহমান মোল্লা। উপকূলীয় অঞ্চলে পাখি হত্যার এমনসব সাক্ষ্য প্রমাণ করে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চলে পাখি সুরক্ষায় দৃঢ় নীতি ও সক্রিয় পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চল অচিরেই হয়তো নিদারুণভাবে পাখিশূন্য হবে।

প্রশাসন কী পাখিপ্রেমী?

প্রশাসন পাখিপ্রেমী কী পাখির প্রতি বিরাগভাজন এটি কোন প্রশ্ন নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব তার অঞ্চলের মানুষসহ সব প্রাণসত্তার জানমালের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা। উপকূল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন কী পাখিদের সেই নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে পারছে? বাগেরহাটের সাম্প্রতিক ঘুঘু হত্যার বিষয়টিকে গণমাধ্যমের কাছে ‘নৃশংস’ দাবি করে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন (দ্য ডেইলি স্টার, ১/৫/২০২১)। এমনকি প্রশাসন ফায়ার সার্ভিসকে জমিতে নিয়ে গেছেন। ফায়ার সার্ভিস পরম মমতায় জমিতে পানি ছিটিয় জমি বিষমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সকল প্রশাসন কি পাখিদের টানে এভাবে ছুটে যান? সকল ইউএনওর কাছে কী পাখি হত্যা ‘নৃশংস’ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ? ঝালকাঠির বাবুই গণহত্যাকে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের কাছে ‘ক্ষমার যোগ্য’ মনে হওয়ায় তিনি হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অথচ দেশে পাখি হত্যায় বিচার ও দন্ড প্রদানের বিধি আছে। উপকূল অঞ্চলে পাখি হত্যা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন আমরা বিশ্লেষণ করবো। এসব প্রতিবেদনে পাখি হত্যা স্থানীয় প্রশাসন কী বলেন সেটি বোঝা জরুরি। এর সঠিক বিশ্লেষণ করে পাখিদের সুরক্ষায় আমরা কেমন প্রশাসন চাই সে বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণও জরুরি। পাখি হত্যা নিয়ে খুলনার তেরখাদা ইউএনও গণমাধ্যমে জানান, পাখিনিধন দন্ডনীয় অপরাধ, যারা পাখি নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তিনি তার অঙ্গীকার রাখেননি, কারণ ২০২০ সালেও তেরখাদায় পাখি হত্যার বহু খবর গণমাধ্যমে আবারও এসেছে। এমনকি গণমাধ্যম বলছে, পাখি শিকার রোধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাখিশিকারের অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও দেবাশীষ চৌধুরী জানান, বিভিন্ন স্থানে অতিথি পাখি শিকারের অভিযোগ পেয়েছি, ইতিপূর্বে পাখি শিকার না করতে আহবান জানানো হয়েছিল এরপরও যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সদরে চলমান পাখিশিকারের বহু খবর আবারও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মো. ফয়সাল আহমেদ পাখি হত্যা বিষয়ে জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নই, তবে অতিথি পাখি শিকারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাখিশিকার বিষয়ে ভোলা কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট খালিদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফেনীর সোনাগাজীর ইউএনও জানান, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে (১৭/২/২০১৯)। পাখি হত্যা নিয়ে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে প্রশাসনের ভাষ্য বরাবরই ‘নির্বিকার’ এবং স্পষ্টত প্রমাণিত হয় তাদের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সামগ্রিক বিশ্লেষণ জরুরি। কারণ এটি শুধু দেশের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীলতার খতিয়ান।

লোভের মনস্তত্ত্ব পাল্টাতে হবে

পাখি হত্যা নিয়ে দেশে একটা পুরুষতান্ত্রিক মিথ্যাচার প্রচলিত আছে। ‘চড়–ই পাখির মাংস’ খেলে পুুরুষের যৌনশক্তি বাড়ে। আর এ কারণেই চোখের নিমিষে জান যায় কত চড়–ইয়ের। মধ্যপ্রাচ্যেও প্রচলিত আছে, ‘হুবারা পাখির মাংস’ পুরুষের যৌনশক্তি বাড়ায় আর এ কারণেই পাকিস্থানে নির্বিচারে খুন হয় এই পাখি। অনেকে বলেন, ‘পাখির মাংস’ খেতে খুব ভালো, শীতকালে খুব একটা তেল আর ঘ্রাণ হয়। বুনোপাখির আবার ‘মাংস’ কী? রাষ্ট্রীয় আইনে এই হত্যা নিষিদ্ধ। হত্যাকারীর কাছে যা ‘পাখির মাংস’, রাষ্ট্রের আইনে তার নাম ‘নিষিদ্ধ ট্রফি’। আর এই ট্রফি কারও কাছে পাওয়া গেলে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী বিচার ও দন্ড প্রদানের নির্দেশনা আছে। একটা পাখি দেখলে কার জিভে পানি আসে? আজ আমাদের নিজেদের জিভকে এই প্রশ্ন করতে হবে। যদি জিভে পানি আসে বুঝতে হবে, আমি অসুস্থ। ভয়ানক এক বিপদের দিকে আমার ভবিষ্যৎ। আর প্রত্যেকের নিজের কাছেই আছে এ সুস্থতার কবিরাজি। টালমাটাল বাহাদুরি লোভের পানি আটকাতে হবে। লোভের মনস্তত্ত্ব পাল্টাতে হবে। পাখি না থাকলে খুব বেশি দিন মানুষও টিকবে না এ দুনিয়ায়। শুধু আইন নয়, জনতৎপরতা জাগিয়ে আসুন পাখিদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখি উপকূল।

[ লেখক : গবেষক ]

animistbangla@gmail.com

back to top