alt

উপ-সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

মোস্তাফা জব্বার

: মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমাদের স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনার মত দক্ষ, দূরদর্শী, বিচক্ষণ, ন্যায়ের প্রতি অবিচল ও অবহেলিত বঞ্চিত জনগণের প্রতি সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন বাংলার শোষিত জনগণের জননী, সচল-সজীব, সপ্রাণ কিংবদন্তীর একজন মানুষকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে আর কার কি হয় জানিনা আমার মাথায় জট লেগে যায়। এর শুরুটা কোথা থেকে করবো আর শেষটা কোথায় করবো তা স্থির করতে পারছিনা। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কাজের মূল্যায়ন হয়তো অধ্যায়ভিত্তিক আলোচিত হতে পারে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল একজন দলীয় সভানেত্রী বা সরকার প্রধান নন, তিনি কেবল একের পর এক মাইলফলক তৈরি করা মানুষ নন, কেবল মানবতার মূর্ত প্রতীক বা একটি জাতির অগ্রযাত্রার রূপকার নন, তিনি অসাধারণ এক মানুষ যার অনন্য দক্ষতা, মানবিকতা, মেধা, রাষ্ট্রনায়কত্ব, অসাধারণ দূরদর্শিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা কেবল কঠিন নয় অসম্ভবও। এমন একজন মানুষকে নিয়ে কতোভাবে কতো বিষয়াদি নিয়ে কতো সুদীর্ঘ্যভাবে লেখা যায় তার হিসেব করা আমার সাধ্যের বাইরে। এটি আমার জন্য আরও কঠিন এজন্য যে আমি তার ছাত্র জীবনের সহপাঠী। কেবলমাত্র ছাত্র জীবনের কথাগুলো দিয়েই একটি বই হতে পারে। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শেখ কামাল সেই ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি আবার আমাদের সাথে সংস্কৃতি চর্চাও করতেন। আমার লেখা গণনাট্য এক নদী রক্ত-এ তিনি নিজে অভিনয় করেছেন। আমি শেখ হাসিনাকে কেবল প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের প্রধান কিংবা আমার নীতি আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক হিসেবেই নন তাকে চিনি আমি অর্ধ শতক ধরে। আমার নিজের সাথে-আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে তার অসাধারণ সকল স্মৃতি আছে। এখন মাঝে মাঝে ভাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতালায় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো সেই মেয়েটির হাতে একদিন বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি করা বাঙালীর রাষ্ট্রটিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুমহান দায়িত্ব পড়বে তা-কি তখন একবারও ভেবেছি? লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘর সংসার করে, লেখাপড়া চালিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার যে অসাধারণ মানুষটি আমাদের সহপাঠিনী ছিলেন এবং আমরা, এমনকি আমাদের শিক্ষকরাও যার আচার আচরণে ভাবতেই পারতেন না যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই মানুষটি এখনও সেদিনের মতোই আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলেন, মুখের সেই হাসিটা এখনও অমলিন এবং আত্মপ্রত্যয়ে সুদৃঢ় এই মানুষটি এই জাতিকে খাদের নিচ থেকে তুলে আনার যে সুকঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তার বিবরণ দু চারটি অনুচ্ছেদ বা কয়েকশো পাতায় তুলে ধরা যাবেনা। আশা করি কেউ না কেউ তার জীবনালেখ্য রচনা করে তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করবেন। আমি নিজে যদি পারতাম তবে অনেক খুশি হতাম। কিন্তু তার কর্মকা- নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা করতে হবে তা হয়তো আমার দ্বারা হয়ে ওঠবেনা। শেখ হাসিনা বিষয়ক তথ্যাদি পাওয়া ও তার ১৭ বছরের মাসন কালেল একটি রূপরেখা তুলে ধরা একটি অসাধ্য বিষয়। একই অবস্থা হয়েছে তাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তাকে নিয়ে গবেষণা, তার জীবন চর্চা ইত্যাদির সাথে কোন বাঙালীর কোন প্রকারের তূলনা হবেনা। এবার মুজিব বর্ষে আমরা তার সম্পর্কে আরও যেসব তথ্যাদি পাচ্ছি তাতে তিনি আরও অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠছেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াও শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার বিষয়গুলো পরিধিও ব্যাপক। বাংলার বড় বড় রাজনীতিক যেমন শেরে বাংলা, সোহরোয়ার্দী, ভাসানী বা আরও অনেকের সাথে আর যারই হোক শেখ হাসিনারই তূলনা করার উপায় নেই। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ে সরকার প্রধান থাকা ছাড়াও দেশটির যে সার্বিক রূপান্তর করেছেন তার কোন তূলনা কোথাও নেই। লাঙ্গল জোয়ালের বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানিয়েছেন তিনি।

আমার এই অক্ষমতা রয়েছে যে তার দৈনন্দিন জীবনের সকলটা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়না। অতীতের কিছু স্মৃতি এবং তৃতীয়সূত্রে পাওয়া কিছু তথ্যের বাইরেও গত পৌনে চার বছরে সরকারে থেকে তাকে যতোটা দেখেছি তাতে একটি মহাগ্রন্থ লিখেও সকল বিষয় যথাযথভাবে বিস্তারিত উপায়ে প্রকাশ করা যাবেনা। তবুও একটি আলোচনার মুখবন্ধ হিসেবে আমি একটু বলতে চাই যে, পচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশটাকেই খুন করে পাকিস্তান বানানোর যে জঘন্য ষড়যন্ত্র নগ্নভাবে করা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে এই জাতির ঘুরে দাড়ানো বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা কেবল দুঃসাধ্য ছিলোনা বা অসম্ভব ছিলোনা যদি আমাদের একজন শেখ হাসিনা না থাকতো। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে সোনার বাংলা বানানোর প্রতীকটি এখন তিনি। জাতি হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে পচাত্তরের ঘাতকরা ১৫ই আগস্ট নাগালের মধ্যে না পাওয়ার পরও ৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে ২১ বার চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনা যে তাদের পাকিস্তানীকরন চক্রান্তের প্রধান শত্রু তা এরই মাঝে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। পচাত্তরে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা আর এখন তাদের গর্হিত লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা। ওরা বুঝেছে যে, বঙ্গবন্ধু বাঙালী শোষিত জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছেন শেখ হাসিনা। তাদের এই গাত্রদাহ এমন যে এখনও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের বাংলাদেশী দোসরদের ষড়যন্ত্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কুটচক্র বিস্তার করছে। আমার ভয়টা আরও একটু বাড়ছে এজন্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রায়ই বাঙালী জাতির অগ্রগতির ইশতেহার হিসেবে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা-বাকশালের কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রথম কারণটি ছিলো বাংলাদেশকে পকিস্তান বানানো এবং বাড়তি কারণ ছিলো তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন-তিনি চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যাকে আমরা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বলি। তবে এই সমাজতন্ত্র চীন রাশিয়ার সমাজতন্ত্র নয় শেখ মুজিবের সমাজতন্ত্র। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার দায়ে তাদের হত্যা তালিকায় ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদীদেরও চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়িত করতে পারলে আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো। এর ফলে বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের সাথে সা¤্রাজ্যবাদীরা বা তাদের সা¤্রাজ্যবাদের দেশীয় সহযোগীরাও আরও যুক্ত হয়েছে ।

এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এখনও বলেন “শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অহমিকা নেই এখনও সে আমার ছাত্রী”। প্রয়াত আনিস স্যারও একথা বলতেন। মনে হচ্ছে আমাদের এই দুই স্যারই তাদের ছাত্রী শেখ হাসিনার বাংলা বিভাগের জীবনটাকে একদমই ভুলতে পারেননি। একটি বহুল প্রচারিত ভিডিও সবারই নজরে পড়ার কথা যেখানে প্রফেসর আনিসুজ্জামান স্যার লাল কার্পেট এর ওপর দিয়ে হাটছেন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্বা ঘাস দিয়ে হাটছেন এবং তিনিই তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের চাদরটা ঠিক করে দিচ্ছেন। এসব ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, শেখ হাসিনা তার শিক্ষকদেরকে কি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। আমরা সতীর্থরা ৭০ সালেই সেটি দেখেছি। এটাও দেখেছি যে তিনি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শিক্ষাজীবনটা অতিক্রম করেছেন। সেই ছাত্র জীবনের সময়টার পর ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তারপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তার সাথে আমার আবার দেখা হয়। আমি মহাখালীতে তাদের বাসায় একজন সাংবাদিক হিসেবে একটি সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। সেদিন তিনি নিজের হাতে চা বানিয়ে কেবল সাক্ষাৎকার দেননি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসাধারণ স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেন। দেখেছি অতি মধ্যবিত্ত পরিবারের বধু হিসেবে মহাখালীর সরকারি বাসভবনে একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানীর মা হিসেবে কতোটা সাধারণ জীবন যাপন করেছেন ও কতো সরলভাবে নিজের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করেছেন।

আমরা যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তখন একটু হিসেবে করতেই হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পরপরই যে দেশটাকে তলাহীন ঝুড়ির দেশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই দেশটিকে কি অসাধারণ দক্ষতা ও দূরদর্শিতায় একটি উন্নয়নমুখী দেশে রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করিয়েছিলেন। ভাবুন তার হাতে আইটিইউ-ইউপিইউ এর সদস্যপদ লাভের কথা। স্মরণ করুন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন তিনি বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন। কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন গঠন, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ, ১০০ বিঘা জমির সিলিং নির্ধারণ ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা যাবেনা। তবে একটি কথা বলতেই হবে যে জাতির পিতা সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশটির প্রকৃত গন্তব্য নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত তিনিই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বীজ বপন করেন। যারা মনে করেন যে ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স, আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধি

মত্তা ইত্যাদি বা পঞ্চম-ষষ্ঠ বিপ্লব তারা ভুল করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সুখী, সমৃদ্ধ উন্নত, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু এই সোনার বাংলার স্বপ্নটা এই জাতিকে দিয়ে গেছেন। খুব সরলভাবেও আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে না পারা বাংলাদেশকে একটি বিজ্ঞানমনস্ক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার বীজটা বঙ্গবন্ধুরই বপন করা। তিনি কারিগরি শিক্ষার সাথে দেশটাকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিল্পায়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুচনাও তার হাতেই। ভাবুনতো আমরা যে স্যাটেলাইট ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করেছি তার উপগ্রহ ভূকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সেই ৭৫ সালে উদ্বোধন করেন। একবার ভাবুন যে, টেলিকম খাত এখন বিশ্বের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মহাসড়ক সেই টেলিকম খাতের ভিত্তি হিসেবে টিএন্ডটি বোর্ড তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা। প্রথম লেখা: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০। সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক]বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

মোস্তাফা জব্বার

আমাদের স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনার মত দক্ষ, দূরদর্শী, বিচক্ষণ, ন্যায়ের প্রতি অবিচল ও অবহেলিত বঞ্চিত জনগণের প্রতি সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন বাংলার শোষিত জনগণের জননী, সচল-সজীব, সপ্রাণ কিংবদন্তীর একজন মানুষকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে আর কার কি হয় জানিনা আমার মাথায় জট লেগে যায়। এর শুরুটা কোথা থেকে করবো আর শেষটা কোথায় করবো তা স্থির করতে পারছিনা। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কাজের মূল্যায়ন হয়তো অধ্যায়ভিত্তিক আলোচিত হতে পারে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল একজন দলীয় সভানেত্রী বা সরকার প্রধান নন, তিনি কেবল একের পর এক মাইলফলক তৈরি করা মানুষ নন, কেবল মানবতার মূর্ত প্রতীক বা একটি জাতির অগ্রযাত্রার রূপকার নন, তিনি অসাধারণ এক মানুষ যার অনন্য দক্ষতা, মানবিকতা, মেধা, রাষ্ট্রনায়কত্ব, অসাধারণ দূরদর্শিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা কেবল কঠিন নয় অসম্ভবও। এমন একজন মানুষকে নিয়ে কতোভাবে কতো বিষয়াদি নিয়ে কতো সুদীর্ঘ্যভাবে লেখা যায় তার হিসেব করা আমার সাধ্যের বাইরে। এটি আমার জন্য আরও কঠিন এজন্য যে আমি তার ছাত্র জীবনের সহপাঠী। কেবলমাত্র ছাত্র জীবনের কথাগুলো দিয়েই একটি বই হতে পারে। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শেখ কামাল সেই ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি আবার আমাদের সাথে সংস্কৃতি চর্চাও করতেন। আমার লেখা গণনাট্য এক নদী রক্ত-এ তিনি নিজে অভিনয় করেছেন। আমি শেখ হাসিনাকে কেবল প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের প্রধান কিংবা আমার নীতি আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক হিসেবেই নন তাকে চিনি আমি অর্ধ শতক ধরে। আমার নিজের সাথে-আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে তার অসাধারণ সকল স্মৃতি আছে। এখন মাঝে মাঝে ভাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতালায় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো সেই মেয়েটির হাতে একদিন বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি করা বাঙালীর রাষ্ট্রটিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুমহান দায়িত্ব পড়বে তা-কি তখন একবারও ভেবেছি? লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘর সংসার করে, লেখাপড়া চালিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার যে অসাধারণ মানুষটি আমাদের সহপাঠিনী ছিলেন এবং আমরা, এমনকি আমাদের শিক্ষকরাও যার আচার আচরণে ভাবতেই পারতেন না যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই মানুষটি এখনও সেদিনের মতোই আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলেন, মুখের সেই হাসিটা এখনও অমলিন এবং আত্মপ্রত্যয়ে সুদৃঢ় এই মানুষটি এই জাতিকে খাদের নিচ থেকে তুলে আনার যে সুকঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তার বিবরণ দু চারটি অনুচ্ছেদ বা কয়েকশো পাতায় তুলে ধরা যাবেনা। আশা করি কেউ না কেউ তার জীবনালেখ্য রচনা করে তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করবেন। আমি নিজে যদি পারতাম তবে অনেক খুশি হতাম। কিন্তু তার কর্মকা- নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা করতে হবে তা হয়তো আমার দ্বারা হয়ে ওঠবেনা। শেখ হাসিনা বিষয়ক তথ্যাদি পাওয়া ও তার ১৭ বছরের মাসন কালেল একটি রূপরেখা তুলে ধরা একটি অসাধ্য বিষয়। একই অবস্থা হয়েছে তাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তাকে নিয়ে গবেষণা, তার জীবন চর্চা ইত্যাদির সাথে কোন বাঙালীর কোন প্রকারের তূলনা হবেনা। এবার মুজিব বর্ষে আমরা তার সম্পর্কে আরও যেসব তথ্যাদি পাচ্ছি তাতে তিনি আরও অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠছেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াও শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার বিষয়গুলো পরিধিও ব্যাপক। বাংলার বড় বড় রাজনীতিক যেমন শেরে বাংলা, সোহরোয়ার্দী, ভাসানী বা আরও অনেকের সাথে আর যারই হোক শেখ হাসিনারই তূলনা করার উপায় নেই। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ে সরকার প্রধান থাকা ছাড়াও দেশটির যে সার্বিক রূপান্তর করেছেন তার কোন তূলনা কোথাও নেই। লাঙ্গল জোয়ালের বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানিয়েছেন তিনি।

আমার এই অক্ষমতা রয়েছে যে তার দৈনন্দিন জীবনের সকলটা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়না। অতীতের কিছু স্মৃতি এবং তৃতীয়সূত্রে পাওয়া কিছু তথ্যের বাইরেও গত পৌনে চার বছরে সরকারে থেকে তাকে যতোটা দেখেছি তাতে একটি মহাগ্রন্থ লিখেও সকল বিষয় যথাযথভাবে বিস্তারিত উপায়ে প্রকাশ করা যাবেনা। তবুও একটি আলোচনার মুখবন্ধ হিসেবে আমি একটু বলতে চাই যে, পচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশটাকেই খুন করে পাকিস্তান বানানোর যে জঘন্য ষড়যন্ত্র নগ্নভাবে করা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে এই জাতির ঘুরে দাড়ানো বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা কেবল দুঃসাধ্য ছিলোনা বা অসম্ভব ছিলোনা যদি আমাদের একজন শেখ হাসিনা না থাকতো। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে সোনার বাংলা বানানোর প্রতীকটি এখন তিনি। জাতি হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে পচাত্তরের ঘাতকরা ১৫ই আগস্ট নাগালের মধ্যে না পাওয়ার পরও ৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে ২১ বার চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনা যে তাদের পাকিস্তানীকরন চক্রান্তের প্রধান শত্রু তা এরই মাঝে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। পচাত্তরে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা আর এখন তাদের গর্হিত লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা। ওরা বুঝেছে যে, বঙ্গবন্ধু বাঙালী শোষিত জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছেন শেখ হাসিনা। তাদের এই গাত্রদাহ এমন যে এখনও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের বাংলাদেশী দোসরদের ষড়যন্ত্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কুটচক্র বিস্তার করছে। আমার ভয়টা আরও একটু বাড়ছে এজন্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রায়ই বাঙালী জাতির অগ্রগতির ইশতেহার হিসেবে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা-বাকশালের কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রথম কারণটি ছিলো বাংলাদেশকে পকিস্তান বানানো এবং বাড়তি কারণ ছিলো তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন-তিনি চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যাকে আমরা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বলি। তবে এই সমাজতন্ত্র চীন রাশিয়ার সমাজতন্ত্র নয় শেখ মুজিবের সমাজতন্ত্র। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার দায়ে তাদের হত্যা তালিকায় ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদীদেরও চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়িত করতে পারলে আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো। এর ফলে বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের সাথে সা¤্রাজ্যবাদীরা বা তাদের সা¤্রাজ্যবাদের দেশীয় সহযোগীরাও আরও যুক্ত হয়েছে ।

এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এখনও বলেন “শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অহমিকা নেই এখনও সে আমার ছাত্রী”। প্রয়াত আনিস স্যারও একথা বলতেন। মনে হচ্ছে আমাদের এই দুই স্যারই তাদের ছাত্রী শেখ হাসিনার বাংলা বিভাগের জীবনটাকে একদমই ভুলতে পারেননি। একটি বহুল প্রচারিত ভিডিও সবারই নজরে পড়ার কথা যেখানে প্রফেসর আনিসুজ্জামান স্যার লাল কার্পেট এর ওপর দিয়ে হাটছেন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্বা ঘাস দিয়ে হাটছেন এবং তিনিই তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের চাদরটা ঠিক করে দিচ্ছেন। এসব ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, শেখ হাসিনা তার শিক্ষকদেরকে কি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। আমরা সতীর্থরা ৭০ সালেই সেটি দেখেছি। এটাও দেখেছি যে তিনি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শিক্ষাজীবনটা অতিক্রম করেছেন। সেই ছাত্র জীবনের সময়টার পর ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তারপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তার সাথে আমার আবার দেখা হয়। আমি মহাখালীতে তাদের বাসায় একজন সাংবাদিক হিসেবে একটি সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। সেদিন তিনি নিজের হাতে চা বানিয়ে কেবল সাক্ষাৎকার দেননি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসাধারণ স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেন। দেখেছি অতি মধ্যবিত্ত পরিবারের বধু হিসেবে মহাখালীর সরকারি বাসভবনে একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানীর মা হিসেবে কতোটা সাধারণ জীবন যাপন করেছেন ও কতো সরলভাবে নিজের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করেছেন।

আমরা যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তখন একটু হিসেবে করতেই হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পরপরই যে দেশটাকে তলাহীন ঝুড়ির দেশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই দেশটিকে কি অসাধারণ দক্ষতা ও দূরদর্শিতায় একটি উন্নয়নমুখী দেশে রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করিয়েছিলেন। ভাবুন তার হাতে আইটিইউ-ইউপিইউ এর সদস্যপদ লাভের কথা। স্মরণ করুন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন তিনি বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন। কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন গঠন, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ, ১০০ বিঘা জমির সিলিং নির্ধারণ ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা যাবেনা। তবে একটি কথা বলতেই হবে যে জাতির পিতা সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশটির প্রকৃত গন্তব্য নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত তিনিই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বীজ বপন করেন। যারা মনে করেন যে ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স, আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধি

মত্তা ইত্যাদি বা পঞ্চম-ষষ্ঠ বিপ্লব তারা ভুল করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সুখী, সমৃদ্ধ উন্নত, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু এই সোনার বাংলার স্বপ্নটা এই জাতিকে দিয়ে গেছেন। খুব সরলভাবেও আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে না পারা বাংলাদেশকে একটি বিজ্ঞানমনস্ক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার বীজটা বঙ্গবন্ধুরই বপন করা। তিনি কারিগরি শিক্ষার সাথে দেশটাকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিল্পায়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুচনাও তার হাতেই। ভাবুনতো আমরা যে স্যাটেলাইট ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করেছি তার উপগ্রহ ভূকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সেই ৭৫ সালে উদ্বোধন করেন। একবার ভাবুন যে, টেলিকম খাত এখন বিশ্বের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মহাসড়ক সেই টেলিকম খাতের ভিত্তি হিসেবে টিএন্ডটি বোর্ড তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা। প্রথম লেখা: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০। সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক]

ধর্মনিরপেক্ষতা, বামফ্রন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার

যিনি আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের রূপ, রস, বর্ণ ও গন্ধ চিনিয়েছেন

বেশি মজুরি তত্ত্বে অর্থনীতির নোবেল

‘বেতন আলোচনা সাপেক্ষ’

বর্গী সেনাপতি ভাস্কর পন্ডিতের অসমাপ্ত দুর্গাপূজা

ছবি

এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব

নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের বাজার, লাগাম টানবে কে?

নিরাময় অযোগ্য রোগীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার

আখভিত্তিক চিনিশিল্প উদ্ধারে কী করা যায়

‘ম্যাকবেথ’-এর আলোকে বঙ্গবন্ধু ও রাজা ডানকান হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট ও নিষ্ঠুরতা

পাঠ্যপুস্তকে ভুল

জমি জবরদখল করলেই মালিক হওয়া যাবে?

ছবি

নীলিমা ইব্রাহিম : বাংলার নারী জাগরণের প্রতিভূ

বিশ্ব ডাক দিবস ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ

কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন ও আন্তর্জাতিক বাজার

আগাছা-পরগাছা ভর করে বটবৃক্ষে

রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়

তথ্য প্রাপ্তির অধিকার

করোনাকালে তরুণদের মানসিক ব্যাধি ও করণীয়

রবীন্দ্রনাথের চুলও লম্বা ছিল

ফোনে আড়িপাতা রোধ ও ফোনালাপ ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত রিট

প্রাথমিক বিদ্যালয় রি-ওপেনিংকে ফলপ্রসূ করার পথ

গণতন্ত্রকে সঙ সাজিয়ে সংবিধান ভন্ডুলের প্রবণতা

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব দুরভিসন্ধিমূলক

প্রমিথিউস : মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা

পারিবারিক কৃষির রূপ ও রূপান্তর

রাষ্ট্র কি সবার করা গেল

আদিবাসী-হরিজনরাও মানুষ

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচক

ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা

জাতি গঠনের কারিগর

সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে হ-য-ব-র-ল নিয়ম

করোনাকালীন শিক্ষা ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

ছবি

শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক প্যারীচরণ সরকার

একটি আইনি বিশ্লেষণ

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

মোস্তাফা জব্বার

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমাদের স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনার মত দক্ষ, দূরদর্শী, বিচক্ষণ, ন্যায়ের প্রতি অবিচল ও অবহেলিত বঞ্চিত জনগণের প্রতি সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন বাংলার শোষিত জনগণের জননী, সচল-সজীব, সপ্রাণ কিংবদন্তীর একজন মানুষকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে আর কার কি হয় জানিনা আমার মাথায় জট লেগে যায়। এর শুরুটা কোথা থেকে করবো আর শেষটা কোথায় করবো তা স্থির করতে পারছিনা। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কাজের মূল্যায়ন হয়তো অধ্যায়ভিত্তিক আলোচিত হতে পারে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল একজন দলীয় সভানেত্রী বা সরকার প্রধান নন, তিনি কেবল একের পর এক মাইলফলক তৈরি করা মানুষ নন, কেবল মানবতার মূর্ত প্রতীক বা একটি জাতির অগ্রযাত্রার রূপকার নন, তিনি অসাধারণ এক মানুষ যার অনন্য দক্ষতা, মানবিকতা, মেধা, রাষ্ট্রনায়কত্ব, অসাধারণ দূরদর্শিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা কেবল কঠিন নয় অসম্ভবও। এমন একজন মানুষকে নিয়ে কতোভাবে কতো বিষয়াদি নিয়ে কতো সুদীর্ঘ্যভাবে লেখা যায় তার হিসেব করা আমার সাধ্যের বাইরে। এটি আমার জন্য আরও কঠিন এজন্য যে আমি তার ছাত্র জীবনের সহপাঠী। কেবলমাত্র ছাত্র জীবনের কথাগুলো দিয়েই একটি বই হতে পারে। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শেখ কামাল সেই ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি আবার আমাদের সাথে সংস্কৃতি চর্চাও করতেন। আমার লেখা গণনাট্য এক নদী রক্ত-এ তিনি নিজে অভিনয় করেছেন। আমি শেখ হাসিনাকে কেবল প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের প্রধান কিংবা আমার নীতি আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক হিসেবেই নন তাকে চিনি আমি অর্ধ শতক ধরে। আমার নিজের সাথে-আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে তার অসাধারণ সকল স্মৃতি আছে। এখন মাঝে মাঝে ভাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতালায় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো সেই মেয়েটির হাতে একদিন বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি করা বাঙালীর রাষ্ট্রটিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুমহান দায়িত্ব পড়বে তা-কি তখন একবারও ভেবেছি? লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘর সংসার করে, লেখাপড়া চালিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার যে অসাধারণ মানুষটি আমাদের সহপাঠিনী ছিলেন এবং আমরা, এমনকি আমাদের শিক্ষকরাও যার আচার আচরণে ভাবতেই পারতেন না যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই মানুষটি এখনও সেদিনের মতোই আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলেন, মুখের সেই হাসিটা এখনও অমলিন এবং আত্মপ্রত্যয়ে সুদৃঢ় এই মানুষটি এই জাতিকে খাদের নিচ থেকে তুলে আনার যে সুকঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তার বিবরণ দু চারটি অনুচ্ছেদ বা কয়েকশো পাতায় তুলে ধরা যাবেনা। আশা করি কেউ না কেউ তার জীবনালেখ্য রচনা করে তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করবেন। আমি নিজে যদি পারতাম তবে অনেক খুশি হতাম। কিন্তু তার কর্মকা- নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা করতে হবে তা হয়তো আমার দ্বারা হয়ে ওঠবেনা। শেখ হাসিনা বিষয়ক তথ্যাদি পাওয়া ও তার ১৭ বছরের মাসন কালেল একটি রূপরেখা তুলে ধরা একটি অসাধ্য বিষয়। একই অবস্থা হয়েছে তাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তাকে নিয়ে গবেষণা, তার জীবন চর্চা ইত্যাদির সাথে কোন বাঙালীর কোন প্রকারের তূলনা হবেনা। এবার মুজিব বর্ষে আমরা তার সম্পর্কে আরও যেসব তথ্যাদি পাচ্ছি তাতে তিনি আরও অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠছেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াও শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার বিষয়গুলো পরিধিও ব্যাপক। বাংলার বড় বড় রাজনীতিক যেমন শেরে বাংলা, সোহরোয়ার্দী, ভাসানী বা আরও অনেকের সাথে আর যারই হোক শেখ হাসিনারই তূলনা করার উপায় নেই। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ে সরকার প্রধান থাকা ছাড়াও দেশটির যে সার্বিক রূপান্তর করেছেন তার কোন তূলনা কোথাও নেই। লাঙ্গল জোয়ালের বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানিয়েছেন তিনি।

আমার এই অক্ষমতা রয়েছে যে তার দৈনন্দিন জীবনের সকলটা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়না। অতীতের কিছু স্মৃতি এবং তৃতীয়সূত্রে পাওয়া কিছু তথ্যের বাইরেও গত পৌনে চার বছরে সরকারে থেকে তাকে যতোটা দেখেছি তাতে একটি মহাগ্রন্থ লিখেও সকল বিষয় যথাযথভাবে বিস্তারিত উপায়ে প্রকাশ করা যাবেনা। তবুও একটি আলোচনার মুখবন্ধ হিসেবে আমি একটু বলতে চাই যে, পচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশটাকেই খুন করে পাকিস্তান বানানোর যে জঘন্য ষড়যন্ত্র নগ্নভাবে করা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে এই জাতির ঘুরে দাড়ানো বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা কেবল দুঃসাধ্য ছিলোনা বা অসম্ভব ছিলোনা যদি আমাদের একজন শেখ হাসিনা না থাকতো। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে সোনার বাংলা বানানোর প্রতীকটি এখন তিনি। জাতি হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে পচাত্তরের ঘাতকরা ১৫ই আগস্ট নাগালের মধ্যে না পাওয়ার পরও ৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে ২১ বার চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনা যে তাদের পাকিস্তানীকরন চক্রান্তের প্রধান শত্রু তা এরই মাঝে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। পচাত্তরে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা আর এখন তাদের গর্হিত লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা। ওরা বুঝেছে যে, বঙ্গবন্ধু বাঙালী শোষিত জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছেন শেখ হাসিনা। তাদের এই গাত্রদাহ এমন যে এখনও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের বাংলাদেশী দোসরদের ষড়যন্ত্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কুটচক্র বিস্তার করছে। আমার ভয়টা আরও একটু বাড়ছে এজন্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রায়ই বাঙালী জাতির অগ্রগতির ইশতেহার হিসেবে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা-বাকশালের কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রথম কারণটি ছিলো বাংলাদেশকে পকিস্তান বানানো এবং বাড়তি কারণ ছিলো তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন-তিনি চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যাকে আমরা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বলি। তবে এই সমাজতন্ত্র চীন রাশিয়ার সমাজতন্ত্র নয় শেখ মুজিবের সমাজতন্ত্র। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার দায়ে তাদের হত্যা তালিকায় ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদীদেরও চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়িত করতে পারলে আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো। এর ফলে বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের সাথে সা¤্রাজ্যবাদীরা বা তাদের সা¤্রাজ্যবাদের দেশীয় সহযোগীরাও আরও যুক্ত হয়েছে ।

এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এখনও বলেন “শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অহমিকা নেই এখনও সে আমার ছাত্রী”। প্রয়াত আনিস স্যারও একথা বলতেন। মনে হচ্ছে আমাদের এই দুই স্যারই তাদের ছাত্রী শেখ হাসিনার বাংলা বিভাগের জীবনটাকে একদমই ভুলতে পারেননি। একটি বহুল প্রচারিত ভিডিও সবারই নজরে পড়ার কথা যেখানে প্রফেসর আনিসুজ্জামান স্যার লাল কার্পেট এর ওপর দিয়ে হাটছেন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্বা ঘাস দিয়ে হাটছেন এবং তিনিই তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের চাদরটা ঠিক করে দিচ্ছেন। এসব ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, শেখ হাসিনা তার শিক্ষকদেরকে কি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। আমরা সতীর্থরা ৭০ সালেই সেটি দেখেছি। এটাও দেখেছি যে তিনি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শিক্ষাজীবনটা অতিক্রম করেছেন। সেই ছাত্র জীবনের সময়টার পর ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তারপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তার সাথে আমার আবার দেখা হয়। আমি মহাখালীতে তাদের বাসায় একজন সাংবাদিক হিসেবে একটি সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। সেদিন তিনি নিজের হাতে চা বানিয়ে কেবল সাক্ষাৎকার দেননি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসাধারণ স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেন। দেখেছি অতি মধ্যবিত্ত পরিবারের বধু হিসেবে মহাখালীর সরকারি বাসভবনে একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানীর মা হিসেবে কতোটা সাধারণ জীবন যাপন করেছেন ও কতো সরলভাবে নিজের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করেছেন।

আমরা যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তখন একটু হিসেবে করতেই হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পরপরই যে দেশটাকে তলাহীন ঝুড়ির দেশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই দেশটিকে কি অসাধারণ দক্ষতা ও দূরদর্শিতায় একটি উন্নয়নমুখী দেশে রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করিয়েছিলেন। ভাবুন তার হাতে আইটিইউ-ইউপিইউ এর সদস্যপদ লাভের কথা। স্মরণ করুন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন তিনি বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন। কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন গঠন, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ, ১০০ বিঘা জমির সিলিং নির্ধারণ ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা যাবেনা। তবে একটি কথা বলতেই হবে যে জাতির পিতা সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশটির প্রকৃত গন্তব্য নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত তিনিই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বীজ বপন করেন। যারা মনে করেন যে ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স, আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধি

মত্তা ইত্যাদি বা পঞ্চম-ষষ্ঠ বিপ্লব তারা ভুল করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সুখী, সমৃদ্ধ উন্নত, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু এই সোনার বাংলার স্বপ্নটা এই জাতিকে দিয়ে গেছেন। খুব সরলভাবেও আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে না পারা বাংলাদেশকে একটি বিজ্ঞানমনস্ক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার বীজটা বঙ্গবন্ধুরই বপন করা। তিনি কারিগরি শিক্ষার সাথে দেশটাকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিল্পায়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুচনাও তার হাতেই। ভাবুনতো আমরা যে স্যাটেলাইট ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করেছি তার উপগ্রহ ভূকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সেই ৭৫ সালে উদ্বোধন করেন। একবার ভাবুন যে, টেলিকম খাত এখন বিশ্বের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মহাসড়ক সেই টেলিকম খাতের ভিত্তি হিসেবে টিএন্ডটি বোর্ড তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা। প্রথম লেখা: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০। সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক]বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা: স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

মোস্তাফা জব্বার

আমাদের স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনার মত দক্ষ, দূরদর্শী, বিচক্ষণ, ন্যায়ের প্রতি অবিচল ও অবহেলিত বঞ্চিত জনগণের প্রতি সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন বাংলার শোষিত জনগণের জননী, সচল-সজীব, সপ্রাণ কিংবদন্তীর একজন মানুষকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে আর কার কি হয় জানিনা আমার মাথায় জট লেগে যায়। এর শুরুটা কোথা থেকে করবো আর শেষটা কোথায় করবো তা স্থির করতে পারছিনা। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কাজের মূল্যায়ন হয়তো অধ্যায়ভিত্তিক আলোচিত হতে পারে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল একজন দলীয় সভানেত্রী বা সরকার প্রধান নন, তিনি কেবল একের পর এক মাইলফলক তৈরি করা মানুষ নন, কেবল মানবতার মূর্ত প্রতীক বা একটি জাতির অগ্রযাত্রার রূপকার নন, তিনি অসাধারণ এক মানুষ যার অনন্য দক্ষতা, মানবিকতা, মেধা, রাষ্ট্রনায়কত্ব, অসাধারণ দূরদর্শিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা কেবল কঠিন নয় অসম্ভবও। এমন একজন মানুষকে নিয়ে কতোভাবে কতো বিষয়াদি নিয়ে কতো সুদীর্ঘ্যভাবে লেখা যায় তার হিসেব করা আমার সাধ্যের বাইরে। এটি আমার জন্য আরও কঠিন এজন্য যে আমি তার ছাত্র জীবনের সহপাঠী। কেবলমাত্র ছাত্র জীবনের কথাগুলো দিয়েই একটি বই হতে পারে। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শেখ কামাল সেই ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি আবার আমাদের সাথে সংস্কৃতি চর্চাও করতেন। আমার লেখা গণনাট্য এক নদী রক্ত-এ তিনি নিজে অভিনয় করেছেন। আমি শেখ হাসিনাকে কেবল প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের প্রধান কিংবা আমার নীতি আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক হিসেবেই নন তাকে চিনি আমি অর্ধ শতক ধরে। আমার নিজের সাথে-আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে তার অসাধারণ সকল স্মৃতি আছে। এখন মাঝে মাঝে ভাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতালায় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো সেই মেয়েটির হাতে একদিন বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি করা বাঙালীর রাষ্ট্রটিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুমহান দায়িত্ব পড়বে তা-কি তখন একবারও ভেবেছি? লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘর সংসার করে, লেখাপড়া চালিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার যে অসাধারণ মানুষটি আমাদের সহপাঠিনী ছিলেন এবং আমরা, এমনকি আমাদের শিক্ষকরাও যার আচার আচরণে ভাবতেই পারতেন না যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই মানুষটি এখনও সেদিনের মতোই আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলেন, মুখের সেই হাসিটা এখনও অমলিন এবং আত্মপ্রত্যয়ে সুদৃঢ় এই মানুষটি এই জাতিকে খাদের নিচ থেকে তুলে আনার যে সুকঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তার বিবরণ দু চারটি অনুচ্ছেদ বা কয়েকশো পাতায় তুলে ধরা যাবেনা। আশা করি কেউ না কেউ তার জীবনালেখ্য রচনা করে তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করবেন। আমি নিজে যদি পারতাম তবে অনেক খুশি হতাম। কিন্তু তার কর্মকা- নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা করতে হবে তা হয়তো আমার দ্বারা হয়ে ওঠবেনা। শেখ হাসিনা বিষয়ক তথ্যাদি পাওয়া ও তার ১৭ বছরের মাসন কালেল একটি রূপরেখা তুলে ধরা একটি অসাধ্য বিষয়। একই অবস্থা হয়েছে তাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তাকে নিয়ে গবেষণা, তার জীবন চর্চা ইত্যাদির সাথে কোন বাঙালীর কোন প্রকারের তূলনা হবেনা। এবার মুজিব বর্ষে আমরা তার সম্পর্কে আরও যেসব তথ্যাদি পাচ্ছি তাতে তিনি আরও অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠছেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াও শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার বিষয়গুলো পরিধিও ব্যাপক। বাংলার বড় বড় রাজনীতিক যেমন শেরে বাংলা, সোহরোয়ার্দী, ভাসানী বা আরও অনেকের সাথে আর যারই হোক শেখ হাসিনারই তূলনা করার উপায় নেই। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ে সরকার প্রধান থাকা ছাড়াও দেশটির যে সার্বিক রূপান্তর করেছেন তার কোন তূলনা কোথাও নেই। লাঙ্গল জোয়ালের বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানিয়েছেন তিনি।

আমার এই অক্ষমতা রয়েছে যে তার দৈনন্দিন জীবনের সকলটা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়না। অতীতের কিছু স্মৃতি এবং তৃতীয়সূত্রে পাওয়া কিছু তথ্যের বাইরেও গত পৌনে চার বছরে সরকারে থেকে তাকে যতোটা দেখেছি তাতে একটি মহাগ্রন্থ লিখেও সকল বিষয় যথাযথভাবে বিস্তারিত উপায়ে প্রকাশ করা যাবেনা। তবুও একটি আলোচনার মুখবন্ধ হিসেবে আমি একটু বলতে চাই যে, পচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশটাকেই খুন করে পাকিস্তান বানানোর যে জঘন্য ষড়যন্ত্র নগ্নভাবে করা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে এই জাতির ঘুরে দাড়ানো বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা কেবল দুঃসাধ্য ছিলোনা বা অসম্ভব ছিলোনা যদি আমাদের একজন শেখ হাসিনা না থাকতো। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে সোনার বাংলা বানানোর প্রতীকটি এখন তিনি। জাতি হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে পচাত্তরের ঘাতকরা ১৫ই আগস্ট নাগালের মধ্যে না পাওয়ার পরও ৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে ২১ বার চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনা যে তাদের পাকিস্তানীকরন চক্রান্তের প্রধান শত্রু তা এরই মাঝে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। পচাত্তরে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা আর এখন তাদের গর্হিত লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করা। ওরা বুঝেছে যে, বঙ্গবন্ধু বাঙালী শোষিত জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছেন শেখ হাসিনা। তাদের এই গাত্রদাহ এমন যে এখনও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের বাংলাদেশী দোসরদের ষড়যন্ত্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কুটচক্র বিস্তার করছে। আমার ভয়টা আরও একটু বাড়ছে এজন্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রায়ই বাঙালী জাতির অগ্রগতির ইশতেহার হিসেবে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা-বাকশালের কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রথম কারণটি ছিলো বাংলাদেশকে পকিস্তান বানানো এবং বাড়তি কারণ ছিলো তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন-তিনি চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যাকে আমরা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বলি। তবে এই সমাজতন্ত্র চীন রাশিয়ার সমাজতন্ত্র নয় শেখ মুজিবের সমাজতন্ত্র। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার দায়ে তাদের হত্যা তালিকায় ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদীদেরও চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়িত করতে পারলে আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো। এর ফলে বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের সাথে সা¤্রাজ্যবাদীরা বা তাদের সা¤্রাজ্যবাদের দেশীয় সহযোগীরাও আরও যুক্ত হয়েছে ।

এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এখনও বলেন “শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অহমিকা নেই এখনও সে আমার ছাত্রী”। প্রয়াত আনিস স্যারও একথা বলতেন। মনে হচ্ছে আমাদের এই দুই স্যারই তাদের ছাত্রী শেখ হাসিনার বাংলা বিভাগের জীবনটাকে একদমই ভুলতে পারেননি। একটি বহুল প্রচারিত ভিডিও সবারই নজরে পড়ার কথা যেখানে প্রফেসর আনিসুজ্জামান স্যার লাল কার্পেট এর ওপর দিয়ে হাটছেন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্বা ঘাস দিয়ে হাটছেন এবং তিনিই তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের চাদরটা ঠিক করে দিচ্ছেন। এসব ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, শেখ হাসিনা তার শিক্ষকদেরকে কি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। আমরা সতীর্থরা ৭০ সালেই সেটি দেখেছি। এটাও দেখেছি যে তিনি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শিক্ষাজীবনটা অতিক্রম করেছেন। সেই ছাত্র জীবনের সময়টার পর ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তারপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তার সাথে আমার আবার দেখা হয়। আমি মহাখালীতে তাদের বাসায় একজন সাংবাদিক হিসেবে একটি সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। সেদিন তিনি নিজের হাতে চা বানিয়ে কেবল সাক্ষাৎকার দেননি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসাধারণ স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেন। দেখেছি অতি মধ্যবিত্ত পরিবারের বধু হিসেবে মহাখালীর সরকারি বাসভবনে একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানীর মা হিসেবে কতোটা সাধারণ জীবন যাপন করেছেন ও কতো সরলভাবে নিজের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করেছেন।

আমরা যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তখন একটু হিসেবে করতেই হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পরপরই যে দেশটাকে তলাহীন ঝুড়ির দেশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই দেশটিকে কি অসাধারণ দক্ষতা ও দূরদর্শিতায় একটি উন্নয়নমুখী দেশে রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করিয়েছিলেন। ভাবুন তার হাতে আইটিইউ-ইউপিইউ এর সদস্যপদ লাভের কথা। স্মরণ করুন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন তিনি বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন। কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন গঠন, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ, ১০০ বিঘা জমির সিলিং নির্ধারণ ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা যাবেনা। তবে একটি কথা বলতেই হবে যে জাতির পিতা সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশটির প্রকৃত গন্তব্য নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত তিনিই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বীজ বপন করেন। যারা মনে করেন যে ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স, আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধি

মত্তা ইত্যাদি বা পঞ্চম-ষষ্ঠ বিপ্লব তারা ভুল করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সুখী, সমৃদ্ধ উন্নত, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু এই সোনার বাংলার স্বপ্নটা এই জাতিকে দিয়ে গেছেন। খুব সরলভাবেও আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে না পারা বাংলাদেশকে একটি বিজ্ঞানমনস্ক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার বীজটা বঙ্গবন্ধুরই বপন করা। তিনি কারিগরি শিক্ষার সাথে দেশটাকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিল্পায়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুচনাও তার হাতেই। ভাবুনতো আমরা যে স্যাটেলাইট ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করেছি তার উপগ্রহ ভূকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সেই ৭৫ সালে উদ্বোধন করেন। একবার ভাবুন যে, টেলিকম খাত এখন বিশ্বের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মহাসড়ক সেই টেলিকম খাতের ভিত্তি হিসেবে টিএন্ডটি বোর্ড তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা। প্রথম লেখা: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০। সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক]

back to top