alt

উপ-সম্পাদকীয়

বিশ্ব ডাক দিবস ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১

ডাক সেবার অভিযাত্রা আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে থেকে। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় প্রাচীন মেসোপটমিয়া হয়ে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পথ হেটে অগ্নিশিখা সংকেত, শিকারি কবুতর পাঠিয়ে কিংবা ঘোড়ার পিঠ-রানারের ঝুলির যুগ থেকে স্যামুয়েল মোর্সের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি টরে-টক্কার যুগ অতিক্রম করেছে পৃথিবীর প্রাচীনতম এই প্রতিষ্ঠানটি। হাজার বছরের বৈশ্বিক বিবর্তনের পথ বেঁয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি যুগে ডাক সেবা আজ প্রবেশ করেছে। সংবাদ আদান-প্রদানে প্রাচীনতম এই মাধ্যমটি সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আজও তার অস্তিত্ব ধরে রেখেছে সগৌরবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেলেও ডাক সেবার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি বরং উত্তরোত্তর এর প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে এর বহুমাত্রিক ডিজিটাল সেবা প্রদানের বদৌলতে উদ্ভাবনের হাত ধরেই আগামীর ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের পৃথিবীতেও ডাক সেবার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত থাকবে। ডাক সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতি বছর ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যন্ডের বার্ণে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক পোস্টাল ইউনিয়ন। ইউনিয়ন গঠন করার মহেন্দ্রক্ষণটি স্মরণীয় রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯৬৯ সালে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালেন ৭ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ অর্জন করে। এর পর থেকে দেশে প্রতি বছর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

“পুনরুদ্ধারে উদ্ভাবন” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস। কোভিড ১৯ অতিমারীর কবল থেকে টিকা উদ্ভাবন বিশ্বকে রক্ষা পেতে সহায়তা করছে। কোভিড সংকটের শুরুতে উদ্বেগ ছিল অতিমারী মোকাবিলায় টিকা উদ্ভাবিত হতে অনেক বছর সময় লাগবে। কিন্তু ব্যক্তি সংস্থা সর্বোপরি বিজ্ঞানী-গবেষকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় এক বছরের মধ্যে এই টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রতিপাদ্যটি যথাযথ হয়েছে।

ডাক সেবার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৮৪০ সালে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ডাকটিকিট ব্যবহার করা হয় ব্রিটেনে। তার এক যুগ বাদে ভারতীয় উপমহাদেশে ডাকটিকিটের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫২ সালে তৎকালীন সিন্ধু প্রদেশের কমিশনার স্যার বার্টেল ফ্রেরির হাত ধরে। ওই ডাকটিকিটের নাম ছিল- ‘সিন্ডে ডক’। বছর দুয়েক ওই ডাকটিকিট চলার পর গোটা উপমহাদেশজুড়ে এক অভিন্ন ডাকব্যবস্থা চালু করে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি। ওই ডাকটিকিটে ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার ছবি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সব ডাকটিকিটেই হয় কুইন ভিক্টোরিয়া অথবা তার উত্তরসূরিদের ছবি বহাল থাকতো। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ডাকসেবার গৌরবোজ্জ¦ল ইতিহাস। ‘আমরা কেবল অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করিনি। সংস্কৃতি কর্মী, খেলোয়াড়, সাধারণ জনগণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেও আমাদের যুদ্ধটা হয়েছে। ডাক টিকিটেও সেই লড়াইয়ের অংশীদার। ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই ভারতীয় নাগরিক বিমান মল্লিক (বিমান চাঁদ মল্লিক)- এর ডিজাইন করা আটটি ডাকটিকিট মুজিবনগর সরকার, কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।

দেশে ১০ হাজার ডাকঘরে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী ডাকসেবায় নিয়োজিত। চল্লিশ হাজার মানুষের আশি হাজার হাত এবং দেশব্যাপী ডাকঘরের বিস্তীর্ণ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় উপযোগী শক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে ডাকঘরকে জিজিটাল করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পুরোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অনেক ত্রুটি ও পশ্চাদপদতা আছে। বিদ্যমান পশ্চাদপদতা কাটিয়ে উঠেতে ডাক অধিদপ্তরের সমস্ত কার্যক্রম ডিজিটাল করার প্রয়োজনীতা অপরিহার্য। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অবিসংবাদিত রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার চলমান সংগ্রাম সফল করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় ডাক অধিদপ্তর সনাতনী পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের একটি বড় চমক হচ্ছে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব সেরা পত্র লেখককে সংবর্ধনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডাক অধিদপ্তর। বিশ্ব ডাক সংস্থা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) আয়োজিত ৫০তম পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেছে সিলেট আনন্দ নিকেতন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নুবায়শা ইসলাম। আইভোরি কোস্টের শহর আবিদজানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৫০তম আন্তর্জাতিক চিঠি লেখন প্রতিযোগিতায় (এলএলডব্লিউসি)। তাতে জয়ী হয়েছে কিশোরী নুবায়শা ইসলাম। নুবায়শা তার ছোট বোন আমলের উদ্দেশ্যে চিঠিটি লিখেছিলেন। গত ২৭ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী চিঠি লেখকের নাম ঘোষণা করে এলএলডব্লিউসি। করোনাভাইরাসের মহামারীতে পরিবারের একজন সদস্যের প্রতি চিঠি- এই প্রতিপাদ্যে লেখা চিঠি ক্যাটাগরিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় নুবায়শা ইসলামকে। নুবায়শার এই অর্জনে উৎফুল্ল বাংলাদেশ ‘এটি আমাদের মেধার বিশ্বস্বীকৃতি’।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ডাক বিভাগকেও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্গঠন করা হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক বিভাগকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তার নির্দেশে বাংলাদেশ ডাক বিভাগে স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং সেল গঠিত হয়।

জাতির পিতার অনবদ্য নেতৃত্বের কারণেই সদস্যপদ লাভের পরের বছর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত লুজান কংগ্রেসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের অঙ্গ পোস্টাল অপারেশনস কাউন্সিল এবং কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যপদে নির্বাচিত হয়। ২০২১ সালে কোত দিভোয়ারের (আইভরি কোস্ট) আবিদজান-এ অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের ২৭তম কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যপদের নির্বাচনে ৪ নং গ্রুপ (সাউদার্ন এশিয়া ও ওশেনিয়া) থেকে বাংলাদেশ ৪র্থ সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত (১২৯ ভোট) পেয়ে জয়লাভ করেছে। ফলে ২০২১-২০২৪ মেয়াদের জন্য ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করবে।

২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ডাক বিভাগ সুনিন্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণপূর্বক ডিজিটাল ডাক সেবা প্রবর্তনে ডাক বিভাগ নতুন উদ্যমে কার্যক্রম গ্রহণ করে।

(১) ১৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস) এর ট্র্যাক এন্ড ট্রেসিং তথা আইপিএস লাইট চালু করা হয়েছে;

(২) ৩০ এপ্রিল ২০০৯ তারিখ হতে আন্তর্জাতিক চিঠিপত্রের ক্ষেত্রে অনলাইন ইনকোয়ারি সিস্টেম (রাগবি) চালু হয়েছে;

(৩) ৯ জুন ২০০৯ তারিখ ইন্টারনেট বেইজড অনলাইন ইনকোয়ারি সিস্টেম (আইবিআইএস) চালু করা হয়েছে;

(৪) ১ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে Inbound Letter Mail-এর ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক জঋওউ প্রযুক্তিনির্ভর Performance Measurement System তথা গ্লোবাল মনিটরিং সিস্টেম (জিএমএস) চালু করা হয়েছে;

(৫) ২৬ মার্চ ২০১০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) ও পোস্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেন;

(৬) গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১,৪৬,৫২৩টি ইএমটিএস ইস্যুর মাধ্যমে ১২৬২১ কোটি টাকা গ্রাহকের নিকট প্রদান করা হয়ছে;

(৭) ২০১১ সালে ইএমটিএস জাতীয়ভাবে -E-Finance ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে m-BUSINESS a COMMERCE/BANKING and MOST INNOVATIVE ক্যাটাগরিতে সইরষষরড়হঃয অধিৎফ ঝড়ঁঃয অংরধ, ২০১১ লাভ করেছে। পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ইউএনডিপি, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জার্মান রেডক্রস ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে;

(৮) ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে তাইওয়ানের তাইপে-এ ডাক বিভাগ - e-Asia Awards, ২০১৭ এ Silver Award এবং World Information Technology and Service Alliance (WITSA) Global ICT Excellence Awards, 2017 G Mobile Excellence Award (Merit Awards) লাভ করে। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর-এ ডাক বিভাগ - Asia-Oceania Computing Industry Organization (ASOCIO) Awards, 2017, G Digital Government Award লাভ করে;

(৯) ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ডিজিটাল কমার্স ও ৩ জুলাই, ২০১৮ তারিখে স্পিড পোস্ট সেবা চালু করা হয়েছে। ২৮৪টি ডাকঘরের কার্যক্রমকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। ৬০৪টি ডাকঘরের ভবন নতুন করে নির্মাণ এবং ১,৩৬৩টি ডাকঘর মেরামত করা হয়েছে। ডাক বিভাগের পরিবহণ ব্যবস্থায় ১১৮টি মেইল গাড়ি সংযোজিত হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চিলিং সুবিধা-সংবলিত ১৪টি মেইল প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। ডাক বিভাগের কর্মচারীদের আবাসিক সংকট নিরসনের জন্য ঢাকার মতিঝিলে ৮টি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁও-এ আধুনিক স্থাপত্যশৈলী সমৃদ্ধ ১৪ তলা বিশিষ্ট ডাক অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ভবন ‘ডাক ভবন’ নির্মিত হয়েছে। গত ২৭ মে ২০২১ খ্রি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সানুগ্রহ উপস্থিতির মাধ্যমে ‘ডাক ভবন’ এর শুভ উদ্বোধন করেন।

(১০) ২৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ‘নগদ’ সেবার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫৫ কোটি। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ২ কোটি ভাতাভোগীর ভাতা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ২ লক্ষ এজেন্টের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। ‘নগদ’ এর মাধ্যমে সেন্ড মানি, ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, মার্চেন্ট-পে, বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিল প্রদানের সুবিধা চালু রয়েছে। তাছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাতা বিতরণ, বিল আদায়, উপবৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম ‘নগদ’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে;

(১১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব (ডিএসডিএল) আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ২০ ধরনের নতুন সেবা ও ৫ প্রকারের নতুন যন্ত্রের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

(১২) শুধু ডিজিটাইজড কার্যপ্রক্রিয়া প্রস্তুতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি ডিজিটাইজড প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাপনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য করার উদ্দেশ্যে সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগ বর্তমানে তিনটি মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে :

(১) একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী গ্রাহক চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা;

(২) চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সকল সম্ভাবনা কাজে লাগানো;

(৩) টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা;

(১২) কম্পিউটারাইজেশনের সীমা অতিক্রম করে সত্যিকারের ডিজিটাইজেশন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, দেশের জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঢাকা। ৮ অক্টোবর, ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের প্রণেতা]

mustafajabbar@gmail.com

ধর্মনিরপেক্ষতা, বামফ্রন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার

যিনি আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের রূপ, রস, বর্ণ ও গন্ধ চিনিয়েছেন

বেশি মজুরি তত্ত্বে অর্থনীতির নোবেল

‘বেতন আলোচনা সাপেক্ষ’

বর্গী সেনাপতি ভাস্কর পন্ডিতের অসমাপ্ত দুর্গাপূজা

ছবি

এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব

নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের বাজার, লাগাম টানবে কে?

নিরাময় অযোগ্য রোগীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার

আখভিত্তিক চিনিশিল্প উদ্ধারে কী করা যায়

‘ম্যাকবেথ’-এর আলোকে বঙ্গবন্ধু ও রাজা ডানকান হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট ও নিষ্ঠুরতা

পাঠ্যপুস্তকে ভুল

জমি জবরদখল করলেই মালিক হওয়া যাবে?

ছবি

নীলিমা ইব্রাহিম : বাংলার নারী জাগরণের প্রতিভূ

কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন ও আন্তর্জাতিক বাজার

আগাছা-পরগাছা ভর করে বটবৃক্ষে

রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়

তথ্য প্রাপ্তির অধিকার

করোনাকালে তরুণদের মানসিক ব্যাধি ও করণীয়

রবীন্দ্রনাথের চুলও লম্বা ছিল

ফোনে আড়িপাতা রোধ ও ফোনালাপ ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত রিট

প্রাথমিক বিদ্যালয় রি-ওপেনিংকে ফলপ্রসূ করার পথ

গণতন্ত্রকে সঙ সাজিয়ে সংবিধান ভন্ডুলের প্রবণতা

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব দুরভিসন্ধিমূলক

প্রমিথিউস : মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা

পারিবারিক কৃষির রূপ ও রূপান্তর

রাষ্ট্র কি সবার করা গেল

আদিবাসী-হরিজনরাও মানুষ

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচক

ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা

জাতি গঠনের কারিগর

সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে হ-য-ব-র-ল নিয়ম

করোনাকালীন শিক্ষা ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

ছবি

শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক প্যারীচরণ সরকার

একটি আইনি বিশ্লেষণ

ঘটনাচক্রে শিক্ষক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বিশ্ব ডাক দিবস ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১

ডাক সেবার অভিযাত্রা আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে থেকে। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় প্রাচীন মেসোপটমিয়া হয়ে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পথ হেটে অগ্নিশিখা সংকেত, শিকারি কবুতর পাঠিয়ে কিংবা ঘোড়ার পিঠ-রানারের ঝুলির যুগ থেকে স্যামুয়েল মোর্সের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি টরে-টক্কার যুগ অতিক্রম করেছে পৃথিবীর প্রাচীনতম এই প্রতিষ্ঠানটি। হাজার বছরের বৈশ্বিক বিবর্তনের পথ বেঁয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি যুগে ডাক সেবা আজ প্রবেশ করেছে। সংবাদ আদান-প্রদানে প্রাচীনতম এই মাধ্যমটি সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আজও তার অস্তিত্ব ধরে রেখেছে সগৌরবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেলেও ডাক সেবার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি বরং উত্তরোত্তর এর প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে এর বহুমাত্রিক ডিজিটাল সেবা প্রদানের বদৌলতে উদ্ভাবনের হাত ধরেই আগামীর ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের পৃথিবীতেও ডাক সেবার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত থাকবে। ডাক সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতি বছর ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যন্ডের বার্ণে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক পোস্টাল ইউনিয়ন। ইউনিয়ন গঠন করার মহেন্দ্রক্ষণটি স্মরণীয় রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯৬৯ সালে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালেন ৭ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ অর্জন করে। এর পর থেকে দেশে প্রতি বছর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

“পুনরুদ্ধারে উদ্ভাবন” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস। কোভিড ১৯ অতিমারীর কবল থেকে টিকা উদ্ভাবন বিশ্বকে রক্ষা পেতে সহায়তা করছে। কোভিড সংকটের শুরুতে উদ্বেগ ছিল অতিমারী মোকাবিলায় টিকা উদ্ভাবিত হতে অনেক বছর সময় লাগবে। কিন্তু ব্যক্তি সংস্থা সর্বোপরি বিজ্ঞানী-গবেষকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় এক বছরের মধ্যে এই টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রতিপাদ্যটি যথাযথ হয়েছে।

ডাক সেবার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৮৪০ সালে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ডাকটিকিট ব্যবহার করা হয় ব্রিটেনে। তার এক যুগ বাদে ভারতীয় উপমহাদেশে ডাকটিকিটের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫২ সালে তৎকালীন সিন্ধু প্রদেশের কমিশনার স্যার বার্টেল ফ্রেরির হাত ধরে। ওই ডাকটিকিটের নাম ছিল- ‘সিন্ডে ডক’। বছর দুয়েক ওই ডাকটিকিট চলার পর গোটা উপমহাদেশজুড়ে এক অভিন্ন ডাকব্যবস্থা চালু করে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি। ওই ডাকটিকিটে ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার ছবি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সব ডাকটিকিটেই হয় কুইন ভিক্টোরিয়া অথবা তার উত্তরসূরিদের ছবি বহাল থাকতো। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ডাকসেবার গৌরবোজ্জ¦ল ইতিহাস। ‘আমরা কেবল অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করিনি। সংস্কৃতি কর্মী, খেলোয়াড়, সাধারণ জনগণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেও আমাদের যুদ্ধটা হয়েছে। ডাক টিকিটেও সেই লড়াইয়ের অংশীদার। ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই ভারতীয় নাগরিক বিমান মল্লিক (বিমান চাঁদ মল্লিক)- এর ডিজাইন করা আটটি ডাকটিকিট মুজিবনগর সরকার, কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।

দেশে ১০ হাজার ডাকঘরে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী ডাকসেবায় নিয়োজিত। চল্লিশ হাজার মানুষের আশি হাজার হাত এবং দেশব্যাপী ডাকঘরের বিস্তীর্ণ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় উপযোগী শক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে ডাকঘরকে জিজিটাল করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পুরোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অনেক ত্রুটি ও পশ্চাদপদতা আছে। বিদ্যমান পশ্চাদপদতা কাটিয়ে উঠেতে ডাক অধিদপ্তরের সমস্ত কার্যক্রম ডিজিটাল করার প্রয়োজনীতা অপরিহার্য। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অবিসংবাদিত রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার চলমান সংগ্রাম সফল করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় ডাক অধিদপ্তর সনাতনী পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের একটি বড় চমক হচ্ছে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব সেরা পত্র লেখককে সংবর্ধনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডাক অধিদপ্তর। বিশ্ব ডাক সংস্থা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) আয়োজিত ৫০তম পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেছে সিলেট আনন্দ নিকেতন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নুবায়শা ইসলাম। আইভোরি কোস্টের শহর আবিদজানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৫০তম আন্তর্জাতিক চিঠি লেখন প্রতিযোগিতায় (এলএলডব্লিউসি)। তাতে জয়ী হয়েছে কিশোরী নুবায়শা ইসলাম। নুবায়শা তার ছোট বোন আমলের উদ্দেশ্যে চিঠিটি লিখেছিলেন। গত ২৭ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী চিঠি লেখকের নাম ঘোষণা করে এলএলডব্লিউসি। করোনাভাইরাসের মহামারীতে পরিবারের একজন সদস্যের প্রতি চিঠি- এই প্রতিপাদ্যে লেখা চিঠি ক্যাটাগরিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় নুবায়শা ইসলামকে। নুবায়শার এই অর্জনে উৎফুল্ল বাংলাদেশ ‘এটি আমাদের মেধার বিশ্বস্বীকৃতি’।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ডাক বিভাগকেও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্গঠন করা হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক বিভাগকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তার নির্দেশে বাংলাদেশ ডাক বিভাগে স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং সেল গঠিত হয়।

জাতির পিতার অনবদ্য নেতৃত্বের কারণেই সদস্যপদ লাভের পরের বছর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত লুজান কংগ্রেসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের অঙ্গ পোস্টাল অপারেশনস কাউন্সিল এবং কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যপদে নির্বাচিত হয়। ২০২১ সালে কোত দিভোয়ারের (আইভরি কোস্ট) আবিদজান-এ অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের ২৭তম কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যপদের নির্বাচনে ৪ নং গ্রুপ (সাউদার্ন এশিয়া ও ওশেনিয়া) থেকে বাংলাদেশ ৪র্থ সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত (১২৯ ভোট) পেয়ে জয়লাভ করেছে। ফলে ২০২১-২০২৪ মেয়াদের জন্য ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের কাউন্সিল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করবে।

২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ডাক বিভাগ সুনিন্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণপূর্বক ডিজিটাল ডাক সেবা প্রবর্তনে ডাক বিভাগ নতুন উদ্যমে কার্যক্রম গ্রহণ করে।

(১) ১৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস) এর ট্র্যাক এন্ড ট্রেসিং তথা আইপিএস লাইট চালু করা হয়েছে;

(২) ৩০ এপ্রিল ২০০৯ তারিখ হতে আন্তর্জাতিক চিঠিপত্রের ক্ষেত্রে অনলাইন ইনকোয়ারি সিস্টেম (রাগবি) চালু হয়েছে;

(৩) ৯ জুন ২০০৯ তারিখ ইন্টারনেট বেইজড অনলাইন ইনকোয়ারি সিস্টেম (আইবিআইএস) চালু করা হয়েছে;

(৪) ১ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে Inbound Letter Mail-এর ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক জঋওউ প্রযুক্তিনির্ভর Performance Measurement System তথা গ্লোবাল মনিটরিং সিস্টেম (জিএমএস) চালু করা হয়েছে;

(৫) ২৬ মার্চ ২০১০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) ও পোস্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেন;

(৬) গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১,৪৬,৫২৩টি ইএমটিএস ইস্যুর মাধ্যমে ১২৬২১ কোটি টাকা গ্রাহকের নিকট প্রদান করা হয়ছে;

(৭) ২০১১ সালে ইএমটিএস জাতীয়ভাবে -E-Finance ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে m-BUSINESS a COMMERCE/BANKING and MOST INNOVATIVE ক্যাটাগরিতে সইরষষরড়হঃয অধিৎফ ঝড়ঁঃয অংরধ, ২০১১ লাভ করেছে। পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ইউএনডিপি, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জার্মান রেডক্রস ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে;

(৮) ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে তাইওয়ানের তাইপে-এ ডাক বিভাগ - e-Asia Awards, ২০১৭ এ Silver Award এবং World Information Technology and Service Alliance (WITSA) Global ICT Excellence Awards, 2017 G Mobile Excellence Award (Merit Awards) লাভ করে। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর-এ ডাক বিভাগ - Asia-Oceania Computing Industry Organization (ASOCIO) Awards, 2017, G Digital Government Award লাভ করে;

(৯) ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ডিজিটাল কমার্স ও ৩ জুলাই, ২০১৮ তারিখে স্পিড পোস্ট সেবা চালু করা হয়েছে। ২৮৪টি ডাকঘরের কার্যক্রমকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। ৬০৪টি ডাকঘরের ভবন নতুন করে নির্মাণ এবং ১,৩৬৩টি ডাকঘর মেরামত করা হয়েছে। ডাক বিভাগের পরিবহণ ব্যবস্থায় ১১৮টি মেইল গাড়ি সংযোজিত হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চিলিং সুবিধা-সংবলিত ১৪টি মেইল প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। ডাক বিভাগের কর্মচারীদের আবাসিক সংকট নিরসনের জন্য ঢাকার মতিঝিলে ৮টি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁও-এ আধুনিক স্থাপত্যশৈলী সমৃদ্ধ ১৪ তলা বিশিষ্ট ডাক অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ভবন ‘ডাক ভবন’ নির্মিত হয়েছে। গত ২৭ মে ২০২১ খ্রি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সানুগ্রহ উপস্থিতির মাধ্যমে ‘ডাক ভবন’ এর শুভ উদ্বোধন করেন।

(১০) ২৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ‘নগদ’ সেবার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫৫ কোটি। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ২ কোটি ভাতাভোগীর ভাতা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ২ লক্ষ এজেন্টের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। ‘নগদ’ এর মাধ্যমে সেন্ড মানি, ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, মার্চেন্ট-পে, বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিল প্রদানের সুবিধা চালু রয়েছে। তাছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাতা বিতরণ, বিল আদায়, উপবৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম ‘নগদ’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে;

(১১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব (ডিএসডিএল) আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ২০ ধরনের নতুন সেবা ও ৫ প্রকারের নতুন যন্ত্রের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

(১২) শুধু ডিজিটাইজড কার্যপ্রক্রিয়া প্রস্তুতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি ডিজিটাইজড প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাপনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য করার উদ্দেশ্যে সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগ বর্তমানে তিনটি মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে :

(১) একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী গ্রাহক চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা;

(২) চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সকল সম্ভাবনা কাজে লাগানো;

(৩) টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা;

(১২) কম্পিউটারাইজেশনের সীমা অতিক্রম করে সত্যিকারের ডিজিটাইজেশন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, দেশের জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঢাকা। ৮ অক্টোবর, ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের প্রণেতা]

mustafajabbar@gmail.com

back to top