alt

উপ-সম্পাদকীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা কেন দরকার?

দোয়া বখশ শেখ

: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তামাক মানবদেহের জন্য একটি ক্ষতিকর পদার্থ। তামাক মহামারি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য হুমকিগুলোর মধ্যে একটি। শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্বের সর্বোচ্চ তামাক ব্যবহারকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গ্লোবাল এডাল্ট টোবাকো সার্ভে ২০১৭ অনুসারে এ দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৩৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৬১০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী তামাক (WHO-2018)।

তামাকের ভয়াবহতার কথা উপলব্ধির কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্যের ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এফসিটিসিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে তারই ধারাবাহিকতায় এ চুক্তিকে ২০০৪ সালে অনুসমর্থন করে এবং এফসিটিসির অলোকে ধূমপান ও ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করে। আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ ও সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক ছাড়াও তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণাসহ ১৮ বছরের বা তার নিচে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও তামাকদ্রব্য বিপণনে কোম্পানিগুলো নানা কূটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। এদের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি একটি বাজার সৃষ্টি করা। কৌশল হিসেবে বর্তমান ভোক্তাদের অবস্থান ঠিক রেখে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রজন্মের যুব-কিশোরদের মধ্যে ধূমপায়ী সৃষ্টি করা। এজন্য দরকার তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা। সহজলভ্যতা তখনই সম্ভব যখন পণ্যটি অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সর্বত্রই পাওয়া যায়। যেহেতু তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রেতাদের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণেরও কোন ব্যবস্থা নেই; সে কারণেই হকারসহ প্রায় সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্সভুক্ত পণ্যের দোকানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের পাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় হতে দেখা যায়। এমনকি বই ও ওষুধের দোকানেও সিগারেট বিক্রয় হয়। শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধিত হয় না যদি না জনসম্পৃক্ততা থাকে।

তাই আইনের পাশাপাশি দরকার জনসচেতনতা। মানুষকে তামাক বিমুখতাকরণের অন্যতম অন্তরায় এ সহজলভ্যতা, কারণ নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই দরকার এ সহজলভ্যতাকে কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন প্রলুব্ধকর ও প্রতারণামূলক প্রচারণা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। লাইসেন্সিং পদ্ধতি যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। আর এ কাজে বিশেষত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি উপলব্ধি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সম্পৃক্তকরণে যে- ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ প্রণয়ন ও অনুমোদন করেছে; এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাছাড়া আওতাধীন নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ইতোমধ্যে তামাক কোম্পানিগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নের বিপক্ষে। পুঁজিপতি এ কোম্পানিগুলোর একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা অর্জন, মানুষের জীবন এখানে তুচ্ছ। কিন্তু দেশের সচেতন মহল ও সরকার তাদের এ উদ্যোগ সফল হতে দেবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। দেশপ্রেমিক ও সচেতন জনগণ তামাক কোম্পানির এ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে উদাসীন থাকতে পারে না, দেশ ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থে তারা অবশ্যই রুখে দাঁড়াবে। রোগমুক্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সুন্দর আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন দেখতে চাই, সেই প্রতীক্ষায় রইলাম।

[লেখক : উন্নয়ন কর্মী]

সহনশীলতা : সৃষ্টির শক্তি

ছবি

ভোগ্যপণ্যের ওপর ডলারের দামের প্রভাব

ছবি

খেলা বনাম রাজনীতি

সুবর্ণ দিনের প্রত্যাশায়

ছবি

শহীদ ডা. মিলন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন

ভারতের কৃষি আইন, মোদির ঘোষণা এবং রাজনীতি

খসড়া আয়কর আইন নিয়ে কিছু কথা

তেল-গ্যাস সংকট : হাত বাড়াতে হবে সমুদ্রে

ইউপি নির্বাচন ও ইসির ভূমিকা

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

রোহিঙ্গা সংকট : নিরাপত্তা পরিষদেও প্রচেষ্টা চালাতে হবে

খেলার মাঠে পাকিস্তানপন্থার উল্লাস

পঞ্চাশের পাওয়া না-পাওয়া

ছবি

স্মরণ : লাল ঝান্ডা ও সম্পাদকের কলম

ছবি

স্মরণ : একজন সাহসী সম্পাদক

গ্লাসগো সম্মেলন থেকে কী মিলল?

জগৎজ্যোতি দাস : ইতিহাসের বীরশ্রেষ্ঠ

গণপরিবহন ও উন্নত দেশের স্বপ্ন

নতুন ধানের উৎসব

এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স : বিপর্যয় রোধে করণীয়

পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা

কালের চাকা থেমে নেই

মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রশাসন

১৫৫(৪) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবতা

ধর্ষণ মামলায় বিচারকের পর্যবেক্ষণ

শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা

জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার উত্তাপ

রাজনীতির আবরণে ধান্ধাবাজির সামাজিক বিস্তার এবং বামপন্থা

সিআরবি রক্ষা আন্দোলন

ছবি

রপ্তানিমুখী কৃষির শিল্পায়ন

ছবি

আমরা এখন একা

‘ইতিবাচক দর্শন ও আগামী প্রজন্ম’

কেমন হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা?

বাগদা ফার্ম, সাঁওতাল হত্যা দিবস এবং অনড় সরকার

হিন্দু বিতাড়নের রাজনীতি

যে বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যায়

tab

উপ-সম্পাদকীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা কেন দরকার?

দোয়া বখশ শেখ

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তামাক মানবদেহের জন্য একটি ক্ষতিকর পদার্থ। তামাক মহামারি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য হুমকিগুলোর মধ্যে একটি। শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্বের সর্বোচ্চ তামাক ব্যবহারকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গ্লোবাল এডাল্ট টোবাকো সার্ভে ২০১৭ অনুসারে এ দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৩৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৬১০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী তামাক (WHO-2018)।

তামাকের ভয়াবহতার কথা উপলব্ধির কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্যের ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এফসিটিসিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে তারই ধারাবাহিকতায় এ চুক্তিকে ২০০৪ সালে অনুসমর্থন করে এবং এফসিটিসির অলোকে ধূমপান ও ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করে। আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ ও সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক ছাড়াও তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণাসহ ১৮ বছরের বা তার নিচে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও তামাকদ্রব্য বিপণনে কোম্পানিগুলো নানা কূটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। এদের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি একটি বাজার সৃষ্টি করা। কৌশল হিসেবে বর্তমান ভোক্তাদের অবস্থান ঠিক রেখে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রজন্মের যুব-কিশোরদের মধ্যে ধূমপায়ী সৃষ্টি করা। এজন্য দরকার তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা। সহজলভ্যতা তখনই সম্ভব যখন পণ্যটি অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সর্বত্রই পাওয়া যায়। যেহেতু তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রেতাদের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণেরও কোন ব্যবস্থা নেই; সে কারণেই হকারসহ প্রায় সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্সভুক্ত পণ্যের দোকানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের পাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় হতে দেখা যায়। এমনকি বই ও ওষুধের দোকানেও সিগারেট বিক্রয় হয়। শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধিত হয় না যদি না জনসম্পৃক্ততা থাকে।

তাই আইনের পাশাপাশি দরকার জনসচেতনতা। মানুষকে তামাক বিমুখতাকরণের অন্যতম অন্তরায় এ সহজলভ্যতা, কারণ নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই দরকার এ সহজলভ্যতাকে কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন প্রলুব্ধকর ও প্রতারণামূলক প্রচারণা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। লাইসেন্সিং পদ্ধতি যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। আর এ কাজে বিশেষত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি উপলব্ধি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সম্পৃক্তকরণে যে- ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ প্রণয়ন ও অনুমোদন করেছে; এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাছাড়া আওতাধীন নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ইতোমধ্যে তামাক কোম্পানিগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নের বিপক্ষে। পুঁজিপতি এ কোম্পানিগুলোর একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা অর্জন, মানুষের জীবন এখানে তুচ্ছ। কিন্তু দেশের সচেতন মহল ও সরকার তাদের এ উদ্যোগ সফল হতে দেবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। দেশপ্রেমিক ও সচেতন জনগণ তামাক কোম্পানির এ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে উদাসীন থাকতে পারে না, দেশ ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থে তারা অবশ্যই রুখে দাঁড়াবে। রোগমুক্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সুন্দর আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন দেখতে চাই, সেই প্রতীক্ষায় রইলাম।

[লেখক : উন্নয়ন কর্মী]

back to top