alt

পাঠকের চিঠি

নারী জাগরণের অগ্রদূত

: মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২০

নারী জাগরণের এই অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর পায়রাবন্দ গ্রামে এবং ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই হিসেবে আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়ার ১৪০তম জন্মদিন ও ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়ে থাকে তাকে সম্মান জানানোর জন্য। তিনি নারীদের মুক্তির জন্য যে পথ সুগম করে গেছেন তা শুধু কয়েকটি বাক্যে লিখে তার তাৎপর্য বোঝানো সম্ভব নয়। শুধু স্বল্প পরিসরে নয় বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

শুধু নারী জাগরণের অগ্রদূত নন, তিনি উনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

বেগম রোকেয়ার যখন জন্ম তখন সমাজে বিরাজমান ছিল বিভিন্ন কুসংস্কার আর মেয়েদের জন্য কঠোর নিয়ম। নারীরা ছিল কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দী। তার জীবনও ব্যতিক্রম ছিল না। তিনি অত্যন্ত রক্ষণশীল ও প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন কিন্তু তিনি নিজেকে বিকশিত করেছেন এবং সেই সঙ্গে নারীদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করে গেছেন।

তার লেখনীতে তিনি নারীদের অধিকারের কথা বলেছেন। সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯০২ সালে। তার প্রকাশিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি। তিনি সমাজকে বোঝাতে চেয়েছেন, নারীরা কোনো অংশে কম নয় তারাও চাইলে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে, শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ধর্মান্ধ সমাজে যখন নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল তিনি তখন সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তার লেখনীর মাধ্যমে ধিক্কার জানিয়েছেন সেই সমাজকে যেখানে নারীদের শুধু ভোগ্যপণ্য মনে করা হয়। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষার নিগূঢ় অর্থ বুঝেছিলেন রোকেয়া তাই তিনি এ সমাজকে তা উপলব্ধি করিয়ে গেছেন। নারী শিক্ষাকে সুদূরপ্রসারী করার জন্য ভাগলপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাদের জন্য এক আদর্শ যারা নারীদের জন্য সংগ্রাম করে চলেছে আর সেইসব নারীদের জন্য পথপ্রদর্শক যারা আলোর পথের পথিক।

৯ ডিসেম্বর এ মহীয়সী নারীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরা হয় এক মহীয়সী নারীর জীবনী। এ মহীয়সী নারীর অবদানকে স্মরণ করে প্রতিটি নারী নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখে।

ফারিয়া ইয়াসমিন

চিঠিপত্র : হাট-বাজারে ডিজিটাল ওজন স্কেল স্থাপন করুন

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

পরিবেশ রক্ষায় জলাভূমির গুরুত্ব

হাসপাতালের সামনে ডাস্টবিন কেন

আইল কাটার অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক

নদী থাকুক নদীর মতো

ছবি

বইয়ের সঠিক মূল্য লিখুন

ছবি

আম শিল্প সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

ছবি

স্কুলে ভর্তি লটারি প্রক্রিয়া হোক স্বচ্ছ

অর্থনীতিতে প্রান্তিক নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে

শিক্ষাক্ষেত্রে অচল অবস্থার অবসান ঘটুক

আমার বাবা সনদবিহীন এক মুক্তিযোদ্ধা

ছবি

অসহায় বস্তিবাসীর পাশে দাঁড়ান

অনলাইন ক্লাস প্রসঙ্গে

ছবি

শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

নৌপথে অনিয়ম বন্ধ করুন

ভোলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজ চাই

সড়কে বিশৃঙ্খলার দায় কার

টেলিটকের দুর্দশা ঘুচবে কবে

অপ্রয়োজনে হর্ন নয়

ছবি

কীর্তিমানের মৃত্যু নাই

ছবি

দ্রব্যমূল্যে দুর্বিষহ জনজীবন

সেশন জট থেকে রক্ষা করুন

রাজধানীতে খেলার মাঠ চাই

বিশুদ্ধতার মানদন্ডে ‘রেল পানি’

দুর্ভোগের নাম সনদপত্র সত্যায়িত করণ

ছবি

নো মাস্ক নো সার্ভিস

ছবি

সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিন

লাগামহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

সেলফিতে সতর্কতা প্রয়োজন

ছবি

বেপরোয়া মোটরবাইক নিয়ন্ত্রণ জরুরি

নৌপথে অনিয়ম বন্ধ করুন

পর্যটকদের সচেতন হতে হবে

ছবি

করোনা প্রতিরোধে মাস্কই শ্রেয়

ধর্মীয় উগ্রবাদ সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি

tab

পাঠকের চিঠি

নারী জাগরণের অগ্রদূত

মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২০

নারী জাগরণের এই অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর পায়রাবন্দ গ্রামে এবং ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই হিসেবে আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়ার ১৪০তম জন্মদিন ও ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়ে থাকে তাকে সম্মান জানানোর জন্য। তিনি নারীদের মুক্তির জন্য যে পথ সুগম করে গেছেন তা শুধু কয়েকটি বাক্যে লিখে তার তাৎপর্য বোঝানো সম্ভব নয়। শুধু স্বল্প পরিসরে নয় বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

শুধু নারী জাগরণের অগ্রদূত নন, তিনি উনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

বেগম রোকেয়ার যখন জন্ম তখন সমাজে বিরাজমান ছিল বিভিন্ন কুসংস্কার আর মেয়েদের জন্য কঠোর নিয়ম। নারীরা ছিল কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দী। তার জীবনও ব্যতিক্রম ছিল না। তিনি অত্যন্ত রক্ষণশীল ও প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন কিন্তু তিনি নিজেকে বিকশিত করেছেন এবং সেই সঙ্গে নারীদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করে গেছেন।

তার লেখনীতে তিনি নারীদের অধিকারের কথা বলেছেন। সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯০২ সালে। তার প্রকাশিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি। তিনি সমাজকে বোঝাতে চেয়েছেন, নারীরা কোনো অংশে কম নয় তারাও চাইলে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে, শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ধর্মান্ধ সমাজে যখন নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল তিনি তখন সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তার লেখনীর মাধ্যমে ধিক্কার জানিয়েছেন সেই সমাজকে যেখানে নারীদের শুধু ভোগ্যপণ্য মনে করা হয়। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষার নিগূঢ় অর্থ বুঝেছিলেন রোকেয়া তাই তিনি এ সমাজকে তা উপলব্ধি করিয়ে গেছেন। নারী শিক্ষাকে সুদূরপ্রসারী করার জন্য ভাগলপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাদের জন্য এক আদর্শ যারা নারীদের জন্য সংগ্রাম করে চলেছে আর সেইসব নারীদের জন্য পথপ্রদর্শক যারা আলোর পথের পথিক।

৯ ডিসেম্বর এ মহীয়সী নারীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরা হয় এক মহীয়সী নারীর জীবনী। এ মহীয়সী নারীর অবদানকে স্মরণ করে প্রতিটি নারী নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখে।

ফারিয়া ইয়াসমিন

back to top