alt

সারাদেশ

পেঁয়াজ সংরক্ষণে ‘মডেল ঘর’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

দেশে বছরের পেঁয়াজের মোট চাহিদার পাঁচ-ছয় লাখ টন বেশি উৎপাদন হচ্ছে দেশে কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাড়তি চাহিদা পূরণে পণ্যটি আমদানি করতে হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উপায় হিসাবে সারাদেশে ‘মডেল ঘর’ নির্মাণ করছে সরকার।

কৃষি বিপনন অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, মডেল ঘর তৈরির ফলে দেশে পেয়াজের আমদানি কমে গেছে। চলতি মৌসুমে দেশের ৬ জেলায় প্রায় ২৩০টি সংরক্ষণ ঘরের প্রতিটিতে গড়ে ২০০-৪৫০ মন পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষিত আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শুরুর দিকে পেঁয়াজের দাম থাকে কিছুটা কম। তখন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষক পরে বিক্রি করে ভালো দাম পেতে পারেন। কিন্তু জায়গা বা সুবিধার অভাবে অনেক কৃষকই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন না। নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের কম দামে হলেও পাইকারকে পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হয়।

রাজবাড়ীর বারিয়াকান্দির বহরপুরের পেয়াজ চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘আমার পেয়াজ রাখার জন্য মডেল ঘর করে দিয়েছে সরকার। আমি সাড়ে তিনশ মন পেঁয়াজ রেখেছি। এখনও সব পেঁয়াজ ঠিকঠাক আছে, নষ্ট হয়নি।’

অন্য এক কৃষক বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মে এক মণ পেঁয়াজ ঘরে রাখলে ১৫ কেজি কমে। পচন ধরলে আরও বেশি কমে।

ফরিদপুরের সালথার আমজাদ মাতুব্বর সংবাদকে বলেন, ‘সরকার থেকে আমাকে পেঁয়াজ রাখার জন্য মডেল ঘর করে (তৈরি করে) দিছে (দিয়েছে)। আমি এবার তিনশ’ শোয়া তিনশ’ মণ পেঁয়াজ পায়ছিলাম, ঘরে রাখছি হলো ২১০ মণ। আর আগে বিক্রি করছেলাম। আর আশপাশের দুইজন কৃষক রাখছে ৫০ মণ ৫০ মণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি গতবছরও রাখছেলাম। গতবছর তো অল্পদিন রাখছেলাম, তিন মাস রাখছেলাম রেজাল্ট ভালো হয়ছে।’

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট গবেষণা করে পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণের জন্য মডেল ঘরের নকশা বানায়। কৃষকদের বাড়ির উঠানে ১ শতাংশ জমিতে টিন-বাঁশ, লোহা, কংক্রিটের সমন্বয়ে বানানো এই ঘরে তিন স্তরের মাচা রয়েছে। ঘরের নিচে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পেছনে দেয়া হয়েছে ছয়টি তাপনিয়ন্ত্রণ ফ্যান। ঝড়-বৃষ্টি থেকে পেঁয়াজ রক্ষা করতে চারপাশে রাখা হয়েছে ত্রিপল।

তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য প্রতিটি ঘরে হাইগ্রোমিটার রয়েছে। প্রতিটি ঘরের আয়তন প্রায় ৩৭৫ বর্গফুট। প্রতিটি ঘরে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ (১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন) পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। তিনটি স্তরের এই সংরক্ষণ ঘরের স্থায়িত্ব কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর।

প্রতিটি মডেল ঘরে ৩০০ মন করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। এসব ঘরে ৬ থেকে ৯ মাস পেঁয়াজ ভালো থাকবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। প্রতিটি ঘরে পাঁচজন কৃষক তাদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, "প্রতি বছর দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার পরও আমদানি করতে হয়। কারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ‘মডেল ঘরে’ পেঁয়াজ রাখলে নষ্ট হওয়ার হার ১০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে আসবে বলে আশা করি।"

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ এই ঘরগুলো দেখে চাষিরা নিজেরা এমন মডেল ঘর তৈরি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৯-২০ সালে হঠাৎই পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা হয়ে যায়। দেশব্যাপী মানুষের মুখে মুখে সমালোচনার জন্ম দেয় পেঁয়াজ ইস্যু। কর্মকর্তারা সিরিজ মিটিং করেন। সমাধানের পথ খোঁজেন। তখন সামনে আসে পেঁয়াজ সংরক্ষণের এই মডেল ঘর।

ছবি

টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকার-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত ২

ছবি

সিলেটে কমছে বন্যার পানি

ছবি

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল স্বামী ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর

ছবি

বন্যা সিলেটে কমেছে, বাড়ছে রংপুরে

কক্সবাজারে ‘আশানুরূপ’ পর্যটক সমাগম

ছবি

সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমলেও কমেনি দূর্ভোগ।

ছবি

হাইমচরে মেঘনার ভাঙনে দিশেহারা জালিয়ারচরবাসী

জামালপুরে সড়ক ভবনে দরপত্র ছিনতাই, কর্মকর্তা লাঞ্চিত

ছবি

বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২০০ বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত

ছবি

টেকনাফে বন‍্যার পানি নামতে শুরু করেছে, ফুটে উঠছে ক্ষতের চিহ্ন

ছবি

কক্সবাজারে ঈদের শেষভাগে পর্যটকের উপস্থিতি : ব্যবসায় চাঙ্গাভাব

ছবি

নেত্রকোণায় ২০০ বস্তা চিনিসহ ভারতীয় ট্রাক জব্দ

ছবি

যাদুকাটায় নির্মাণাধীন সেতু, ড্রেজার-ট্রলারের ধাক্কায় কাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ছবি

সিলেটে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে নৌকাডুবে যুবকের মৃত্যু

ছবি

মৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০০, নিখোঁজ অনেকে

ছবি

পদ্মার চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক

ছবি

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলা প্লাবিত

ছবি

বন্যায় ভাসছে সিলেট

ছবি

সুনামগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত , ত্রানের জন্য হাহাকার

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০

ছবি

সুনামগঞ্জের বন্যা কবলিত মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট

বাগেরহাটে বজ্রপাতে ২ জন ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ১ জন নিহত

সরিষাবাড়ীতে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হেডফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

ছবি

সমুদ্র সৈকত থেকে ৬০ রোহিঙ্গা আটক, বাস চালকদের জরিমানা

ছবি

জনপ্রতিনিধিদের দুষলেন ওবায়দুল কাদের

ছবি

মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেলো দুজনের

ছবি

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ১০জনের মৃত্যু

ছবি

সিলেটে পানিবন্দি ৪ লাখের ৪ হাজার গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে

ঢাকা-মহাসড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী তরুণ ও কিশোরীর

ডুবছে সুনামগঞ্জ, মানুষের দূর্ভোগ বাড়ছে

ছবি

বন্যার কারণে সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ছবি

সেন্টমার্টিনে আবারও খাদ্য সঙ্কট

ছবি

সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে আকস্মিক বন্যায়

ঈশ্বরগঞ্জে ঈদ আনন্দ উপভোগ করা হলনা চাচা ভাতিজার

সখীপুরে গৃহবধূ নিখোঁজের পর পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

tab

সারাদেশ

পেঁয়াজ সংরক্ষণে ‘মডেল ঘর’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

দেশে বছরের পেঁয়াজের মোট চাহিদার পাঁচ-ছয় লাখ টন বেশি উৎপাদন হচ্ছে দেশে কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাড়তি চাহিদা পূরণে পণ্যটি আমদানি করতে হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উপায় হিসাবে সারাদেশে ‘মডেল ঘর’ নির্মাণ করছে সরকার।

কৃষি বিপনন অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, মডেল ঘর তৈরির ফলে দেশে পেয়াজের আমদানি কমে গেছে। চলতি মৌসুমে দেশের ৬ জেলায় প্রায় ২৩০টি সংরক্ষণ ঘরের প্রতিটিতে গড়ে ২০০-৪৫০ মন পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষিত আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শুরুর দিকে পেঁয়াজের দাম থাকে কিছুটা কম। তখন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষক পরে বিক্রি করে ভালো দাম পেতে পারেন। কিন্তু জায়গা বা সুবিধার অভাবে অনেক কৃষকই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন না। নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের কম দামে হলেও পাইকারকে পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হয়।

রাজবাড়ীর বারিয়াকান্দির বহরপুরের পেয়াজ চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘আমার পেয়াজ রাখার জন্য মডেল ঘর করে দিয়েছে সরকার। আমি সাড়ে তিনশ মন পেঁয়াজ রেখেছি। এখনও সব পেঁয়াজ ঠিকঠাক আছে, নষ্ট হয়নি।’

অন্য এক কৃষক বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মে এক মণ পেঁয়াজ ঘরে রাখলে ১৫ কেজি কমে। পচন ধরলে আরও বেশি কমে।

ফরিদপুরের সালথার আমজাদ মাতুব্বর সংবাদকে বলেন, ‘সরকার থেকে আমাকে পেঁয়াজ রাখার জন্য মডেল ঘর করে (তৈরি করে) দিছে (দিয়েছে)। আমি এবার তিনশ’ শোয়া তিনশ’ মণ পেঁয়াজ পায়ছিলাম, ঘরে রাখছি হলো ২১০ মণ। আর আগে বিক্রি করছেলাম। আর আশপাশের দুইজন কৃষক রাখছে ৫০ মণ ৫০ মণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি গতবছরও রাখছেলাম। গতবছর তো অল্পদিন রাখছেলাম, তিন মাস রাখছেলাম রেজাল্ট ভালো হয়ছে।’

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট গবেষণা করে পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণের জন্য মডেল ঘরের নকশা বানায়। কৃষকদের বাড়ির উঠানে ১ শতাংশ জমিতে টিন-বাঁশ, লোহা, কংক্রিটের সমন্বয়ে বানানো এই ঘরে তিন স্তরের মাচা রয়েছে। ঘরের নিচে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পেছনে দেয়া হয়েছে ছয়টি তাপনিয়ন্ত্রণ ফ্যান। ঝড়-বৃষ্টি থেকে পেঁয়াজ রক্ষা করতে চারপাশে রাখা হয়েছে ত্রিপল।

তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য প্রতিটি ঘরে হাইগ্রোমিটার রয়েছে। প্রতিটি ঘরের আয়তন প্রায় ৩৭৫ বর্গফুট। প্রতিটি ঘরে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ (১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন) পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। তিনটি স্তরের এই সংরক্ষণ ঘরের স্থায়িত্ব কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর।

প্রতিটি মডেল ঘরে ৩০০ মন করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। এসব ঘরে ৬ থেকে ৯ মাস পেঁয়াজ ভালো থাকবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। প্রতিটি ঘরে পাঁচজন কৃষক তাদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, "প্রতি বছর দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার পরও আমদানি করতে হয়। কারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ‘মডেল ঘরে’ পেঁয়াজ রাখলে নষ্ট হওয়ার হার ১০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে আসবে বলে আশা করি।"

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ এই ঘরগুলো দেখে চাষিরা নিজেরা এমন মডেল ঘর তৈরি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৯-২০ সালে হঠাৎই পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা হয়ে যায়। দেশব্যাপী মানুষের মুখে মুখে সমালোচনার জন্ম দেয় পেঁয়াজ ইস্যু। কর্মকর্তারা সিরিজ মিটিং করেন। সমাধানের পথ খোঁজেন। তখন সামনে আসে পেঁয়াজ সংরক্ষণের এই মডেল ঘর।

back to top