alt

সারাদেশ

মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প : হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র্য

জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, কক্সবাজার : মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ সাবরাং অংশসহ প্রায় ১৫টি অংশে তীব্র ভাঙ্গনের ফলে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সৈকতের বালি দিয়ে জিও ব্যাগ সিস্টেম দ্বারা ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পূর্বপাশে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি জমি কিনেছেন। সে জমি ভরাট করতে সড়কের পাশের সৈকত থেকে অবাধে বালু তুলছে এক শ্রেণি। এতে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে ইতোপূর্বে ভাঙ্গন রোধে মেরিন ড্রাইভ রোড আরও প্রশস্ত করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। গত বছরের জুনে এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে প্রকল্প এলাকায় আরও গাছ ও পাহাড়ি বন কাটা পড়বে বলে জানিয়েছেন মেরিন ড্রাইভের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%283%29.jpg

তাদের দাবি, মেরিন ড্রাইভ প্রশস্তকরণ এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে সামুদ্রিক কাছিম ও লাল কাঁকড়ার আবাস। ব্যাহত হবে এ অঞ্চলের প্রাণ জৈববৈচিত্র্য। সড়ক প্রশস্ত করে নয় বরং ভাঙ্গন রোধে বিজ্ঞানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য তারা আহবান জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ২০০৮ সালে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। প্রথম পর্বে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হয়। দ্বিতীয় পর্বে ২০১৬ সালে ইনানী থেকে টেকনাফের শিলখালি পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এবং তৃতীয় পর্বে শিলখালি থেকে টেকনাফ সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয় ২০১৮ সালে। ইতিমধ্যেই সড়কটি ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠে।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%285%29.jpg

কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই সড়কটিতে ভাঙ্গন শুরু হয়, চলতি বছরে যা তীব্র আকার ধারণ করে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের ভাঙ্গন রোধে গত বছর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক বিভাগ। প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হবে।

এছাড়া রেজুখালের ওপর নির্মাণ করা হবে ৩০৫ মিটারের দুই লেনের সেতু। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্ত করতে গেলে কক্সবাজার, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি প্রাণ প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উভয় পাশে কয়েক লাখ প্রজাতির গাছ রয়েছে। সাথে রয়েছে প্রাকৃতিক প্যারেকখ্যাত পরিবেশ বান্ধব পাহাড়।

অন্যদিকে মেরিন ড্রাইভের তীরঘেঁষেই রয়েছে সমুদ্র সৈকতের লাল কাঁকড়া, কাছিম, ডলফিন ও সাগরলতাসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষার একাধিক স্থান। সড়কটি প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ ও প্রাণীদের আবাসস্থল ক্ষতির মুখে পড়বে। সড়ক প্রশস্ত করে নয় বরং ভাঙ্গন রোধে বিজ্ঞানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ করার জন্য তিনি আহবান জানান।

সরেজমিন দেখা যায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত রাস্তার গা ঘেঁষেই দুই পাশে রয়েছে ছোট-বড় পাহাড় ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। সড়কটি প্রশস্ত করতে গেলে কক্সবাজার থেকে ইনানী পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছ কেটে ফেলতে হবে। এখানকার বেশ কয়েকটি স্থানে রয়েছে লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক কাছিমের অবাধ বিচরণস্থল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব প্রাণের আবাস।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক ঢেউয়ে সড়কের ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা কোনো সমাধান নয়, বরং সড়কের ডিজাইন এমনভাবে করা উচিত যাতে ঢেউয়ের কারণে সড়ক না ভাঙ্গে। সড়ক নির্মাণে কোনোভাবেই পাহাড়ি বন বা পাহাড় কাটা সমর্থনযোগ্য নয় বলে তারা জানান।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%286%29.jpg

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজাররের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম জানান, এখন নতুন করে যদি আবারও মেরিন ড্রাইভ সড়কটি প্রশস্তকরণ করা হয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে একদিকে পাহাড় কাটা পড়বে,অন্যদিকে সমুদ্র পাড় ভরাট হবে। কাছিমসহ সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস হুমকিতে পড়বে। ব্যাহত হবে সামুদ্রিক কাছিমের প্রজননও। তাই মেরিন ড্রাইভ সড়কটির ভাঙ্গনরোধে বনভুমি, পাহাড় ও জৈব বৈচিত্র্য ধ্বংস করে প্রশস্তকরণ করে নয়, বিজ্ঞানসম্মতভাবে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের পছন্দের সড়কটিকে ঢেলে সাজানোর কথা সবার মুখে।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের নয়নাভিরাম নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকনে প্রাকৃতিক বাঁধা হিসেবে এর মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়ানো পাহাড় শ্রেণি। এই অবস্থায় কক্সবাজার তথা সারা দেশের পর্যটন শিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের সৈকত ঘেঁষে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সড়কটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি

ডেঙ্গুতে বছরে মোট আক্রান্তের ৪০ শতাংশই সেপ্টেম্বরে

ছবি

মেঘনায় জলদস্যুদের হামলায় গুলিবিদ্ধ আরেক জেলের মৃত্যু

ছবি

আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন ২ শতাধিক পর্যটক

ছবি

ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরে ৩৯৬ জনের রেকর্ড মৃত্যু

ছবি

১৭ মিনিটের ব্যবধানে মারা গেলেন দুই সংসদ সদস্য

সভাপতি ফজলুল হক সম্পাদক কাজী দুলাল

ছবি

নড়াইলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ১২ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা

ছবি

ছোট যমুনা নদী খনন না করায় প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রবিশস্য

নৌকায় নয়, ডাঙায় হবে বেদে সম্প্রদায়ের স্থায়ী ঠিকানা : প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি

দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

ছবি

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব শৈলকুপার তিন পরিবার

কিশোরগঞ্জে হাতুড়ির আঘাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক

ছবি

রাতের আঁধারে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়

ছবি

গণপরিবহনে ইয়াবা পাচার, যুবক গ্রেফতার

ছবি

বাবার সঙ্গে হালতি বিলে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

ছবি

আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের মাঝে পড়ে কিশোর নিহত

ছবি

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছালো ইউরেনিয়াম

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দুই লাখ ছাড়ালো

নারায়নগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

ছবি

৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢল

ছবি

মিঠাপুকুরে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশ সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক

বিএস জরিপ বাতিল ঘোষণায় খুশি রাঙ্গাবালীর মানুষ

মানুষের ভালো বাসাই আমার সম্পদ

সালথায় মৎস্য অফিসের বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ

ছবি

বালিয়াকান্দি হাসপাতালে স্যালাইন সংকট, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে দোকান থেকে

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত কুবি শিক্ষার্থীরা

মুন্সীগঞ্জে বসতঘর থেকে দুই মাসের শিশু চুরি

সোনাইমুড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার

ছবি

দেয়ানগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ

ছবি

সেন্টমার্টিনে যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবি, নারী ইউপি সদস্য নিহত

একদফায় আমরা আতঙ্কে আছি : জাপা মহাসচিব

ছবি

মেঘনায় গুলিতে ২ জেলে নিহত: জলদস্যুদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে উত্তাল নোয়াখালীর উপকূল

ছবি

ঘোড়াঘাটে করতোয়ায় পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন : নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ব্যাপক আয়োজনে উদযাপন

ছবি

‘ঘুষ নির্ধারণ’ করে দেয়া এসিল্যান্ডকে বরখাস্তের পর এবার তহশিলদারদের বদলি

tab

সারাদেশ

মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প : হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র্য

জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, কক্সবাজার

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ সাবরাং অংশসহ প্রায় ১৫টি অংশে তীব্র ভাঙ্গনের ফলে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সৈকতের বালি দিয়ে জিও ব্যাগ সিস্টেম দ্বারা ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পূর্বপাশে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি জমি কিনেছেন। সে জমি ভরাট করতে সড়কের পাশের সৈকত থেকে অবাধে বালু তুলছে এক শ্রেণি। এতে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে ইতোপূর্বে ভাঙ্গন রোধে মেরিন ড্রাইভ রোড আরও প্রশস্ত করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। গত বছরের জুনে এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে প্রকল্প এলাকায় আরও গাছ ও পাহাড়ি বন কাটা পড়বে বলে জানিয়েছেন মেরিন ড্রাইভের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%283%29.jpg

তাদের দাবি, মেরিন ড্রাইভ প্রশস্তকরণ এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে সামুদ্রিক কাছিম ও লাল কাঁকড়ার আবাস। ব্যাহত হবে এ অঞ্চলের প্রাণ জৈববৈচিত্র্য। সড়ক প্রশস্ত করে নয় বরং ভাঙ্গন রোধে বিজ্ঞানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য তারা আহবান জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ২০০৮ সালে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। প্রথম পর্বে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হয়। দ্বিতীয় পর্বে ২০১৬ সালে ইনানী থেকে টেকনাফের শিলখালি পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এবং তৃতীয় পর্বে শিলখালি থেকে টেকনাফ সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয় ২০১৮ সালে। ইতিমধ্যেই সড়কটি ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠে।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%285%29.jpg

কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই সড়কটিতে ভাঙ্গন শুরু হয়, চলতি বছরে যা তীব্র আকার ধারণ করে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের ভাঙ্গন রোধে গত বছর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক বিভাগ। প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হবে।

এছাড়া রেজুখালের ওপর নির্মাণ করা হবে ৩০৫ মিটারের দুই লেনের সেতু। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্ত করতে গেলে কক্সবাজার, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি প্রাণ প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উভয় পাশে কয়েক লাখ প্রজাতির গাছ রয়েছে। সাথে রয়েছে প্রাকৃতিক প্যারেকখ্যাত পরিবেশ বান্ধব পাহাড়।

অন্যদিকে মেরিন ড্রাইভের তীরঘেঁষেই রয়েছে সমুদ্র সৈকতের লাল কাঁকড়া, কাছিম, ডলফিন ও সাগরলতাসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষার একাধিক স্থান। সড়কটি প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ ও প্রাণীদের আবাসস্থল ক্ষতির মুখে পড়বে। সড়ক প্রশস্ত করে নয় বরং ভাঙ্গন রোধে বিজ্ঞানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ করার জন্য তিনি আহবান জানান।

সরেজমিন দেখা যায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত রাস্তার গা ঘেঁষেই দুই পাশে রয়েছে ছোট-বড় পাহাড় ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। সড়কটি প্রশস্ত করতে গেলে কক্সবাজার থেকে ইনানী পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছ কেটে ফেলতে হবে। এখানকার বেশ কয়েকটি স্থানে রয়েছে লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক কাছিমের অবাধ বিচরণস্থল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব প্রাণের আবাস।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক ঢেউয়ে সড়কের ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা কোনো সমাধান নয়, বরং সড়কের ডিজাইন এমনভাবে করা উচিত যাতে ঢেউয়ের কারণে সড়ক না ভাঙ্গে। সড়ক নির্মাণে কোনোভাবেই পাহাড়ি বন বা পাহাড় কাটা সমর্থনযোগ্য নয় বলে তারা জানান।

https://sangbad.net.bd/images/2023/September/19Sep23/news/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%20%286%29.jpg

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজাররের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম জানান, এখন নতুন করে যদি আবারও মেরিন ড্রাইভ সড়কটি প্রশস্তকরণ করা হয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে একদিকে পাহাড় কাটা পড়বে,অন্যদিকে সমুদ্র পাড় ভরাট হবে। কাছিমসহ সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস হুমকিতে পড়বে। ব্যাহত হবে সামুদ্রিক কাছিমের প্রজননও। তাই মেরিন ড্রাইভ সড়কটির ভাঙ্গনরোধে বনভুমি, পাহাড় ও জৈব বৈচিত্র্য ধ্বংস করে প্রশস্তকরণ করে নয়, বিজ্ঞানসম্মতভাবে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের পছন্দের সড়কটিকে ঢেলে সাজানোর কথা সবার মুখে।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের নয়নাভিরাম নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকনে প্রাকৃতিক বাঁধা হিসেবে এর মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়ানো পাহাড় শ্রেণি। এই অবস্থায় কক্সবাজার তথা সারা দেশের পর্যটন শিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের সৈকত ঘেঁষে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সড়কটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

back to top